সংবাদ শিরোনামঃ

জাতীয় ঐক্য! ** ন্যায়ের পক্ষে তুরস্ক সাথে আছে মজলুমের দোয়া : জাতির উদ্দেশ্যে এরদোগান ** সন্ত্রাস ও হতাশাগ্রস্ত যুব সমাজ ** জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন খালেদা জিয়া : মির্জা ফখরুল ** জঙ্গিবাদী কার্ড ও ক্ষমতাসীনদের রাজত্বের মেয়াদ ** সুন্দরবন বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ চায় জনগণ ** দলীয় সরকারের অধীনেই আগাম নির্বাচন! ** যারা জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত তারা ইসলাম ও মানবতার দুশমন ** টার্গেট না থাকায় কর্মসূচিতে স্থবিরতা ** পার্শ্ববর্তী দেশ পানি দিলে আমাদের নদীগুলো ভেসে যায়, না দিলে শুকিয়ে যায় ** জঙ্গিবাদ : মুসলমানরা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার ** দল মত নির্বিশেষে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান ** বন্যায় ভাসছে দেশ, খবর নেই তেনাদের ** ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার ধর্ম ** আইবিসিএফ এর সভা ** বন্যায় ভাসছে শাহজাদপুর॥ পানিবন্দী লাখো মানুষের দুর্ভোগ ** কুষ্টিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কার্যক্রম ** হরিপুরে গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশা ** সত্যের সৈনিক মুজাদ্দিদে আলফেসানী **

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৩, ১ জিলকদ ১৪৩৭, ৫ আগস্ট ২০১৬

দ্বীন মাহমুদ
‘এই বিশ্ব মানচিত্রে আমি ছাড়া আর একটা মানুষও খুঁজে পাওয়া যাবে না। ইয়ে মানে.. আমি সেরা বিজ্ঞানীর আলোকে কথাটা বললাম আর কি!’উত্তেজনার বশে নিতাই কি থেকে কি বলবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। তার হাতে একটা প্যারাসুটের মতো যন্ত্র। সেই যন্ত্র দিয়ে উড়ে উড়ে এক মাইল পর্যন্ত দিক ঠিক করা যায়। সেখানে একটা লম্বা পাইপের মত নলাকৃতি বন্ধুক ঝুঁলিয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন করলে বলে দেশ থেকে শত অন্যায় দূর করার জন্য সেই পাইপটা ব্যবহার করা হয়েছে। পুরু যন্ত্রটা প্রায় নয় বছর ধ্যানমগ্ন থেকে শেষমেষ আবিষ্কার করেছে নিতাই। কখনও না খেয়ে, দু’তিন মাস ¯œানের কথা ভুলে গিয়ে অতি কষ্টে যন্ত্রটা তার আবিষ্কৃত হয়েছে ঠিকই কিন্তু তার নামটা তেমন জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি এই হংঢং গ্রামে। কেননা জন্মের পর থেকেই ‘আম চুর’ বলে বিখ্যাত যে ব্যক্তি তার হাতে এমন একটা যন্ত্র তৈরি হতে পারে তা এক ধরনের আকাশ কুসুম কল্পনা বৈ আর কিছু নয়। গ্রামের মানুষ ‘হতচ্ছড়া’, ‘হতচ্ছড়া’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে সব। কেউ কেউ বলছে ‘ঐ মূর্খের হাড্ডিগুড্ডি ভেঙ্গে ফুটবল খেলব’। আবার কেউ কেউ...নিতাইয়ের সামনে এসব কথা বললে প্রচণ্ড রকমের ক্ষেপে যায়। তার বিশ্বাস শুধু এই হংঢং গ্রামে না একদিন সারা পৃথিবী তার নামে জয়গান গাইবে। তাই সে বাইরেন কথায় কোন কান দেয় না।সকালে নিতাইয়ের বাড়ি গিয়ে দেখি তার রুমটাকে পুরো ল্যাবরেটরি বানিয়ে ফেলছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় রুমের সর্বস্থানে জুতার মালা পড়ে আছে। ব্যাপারটা বুঝে উঠতে না পেরে নিতাইকে প্রশ্ন করে বসলাম। সে খিলখিল করে হেসে দিয়ে বলল, ‘আমার জীবনটা কি তোর মত রে? কিছুদিন পরেই বিশ্বের প্রত্যেকটা দেশ যখন আমাকে আমন্ত্রণ জানাবে এবং স্বর্ণের মালা গলায় পরিয়ে দিয়ে বরণ করে নিবে তখন আমি সবার সামনে থেকে কিভাবে সেই মালা গলায় পড়ে নিব সেটাই দেখার জন্য আমি প্রতিদিন এই জুতার মালাগুলো গলায় পড়ে প্র্যাকটিস করি।’স্বর্ণের মালা দিয়ে বরণ! যাক জীবনে একটা আজব স্মৃতিময় কথা শুনলাম। নিতাইয়ের টাক মাথায় একটা টোকা দিয়ে আবার বললাম, কিন্তু বাবা নিতাই জুতার মালার বদলে ফুলের মালাও তো গলায় পড়ে নাচতে পার এতে সেলফিটা অন্তত তুলতে পারি।’নিতাই বলল, ‘গোবর গণেশের মতো লোকদেরকে আমি একদম পছন্দ করি না। ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ি যাওয়ার আমার একদম ইচ্ছা নেই। ওটা রবি ঠাকুর করেছে। তাই আমি ভেবে বানিয়েছি জুতার মালা। মানে জুতার মালা গলায় দিয়ে দেশ বিদেশে যাই। কিছু বুঝলি রে?’‘শুনার ভেতর ভুল হতে পারে কিন্তু বুঝার ভেতর একদমই নেই।’ কপালের ঘাম মুছতে মুছতে আজব ল্যাবরেটরী থেকে বের হয়েই এক দৌড়ে বাড়ি চলে আসলাম। যাক এবারের মতো বাঁচা গেছে।নিতাইয়ের মাথার চুলগুলো কিছুদিন পরে যে মাটি ছুঁবে সে বিষয়ে কারও কোন সন্দেহ নেই। তার মাথা ভরা জ্ঞান পোকারা দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা দাঁত বের করে রবীন্দ্র সংগীত গায়।নিতাইয়ের মাথায় নতুন এক বুদ্ধি এসে ভর করেছে। পেরাসুটের মত যন্ত্রটাকে এবার কাজে লাগাবেই। আর সেই কাজ হচ্ছে অন্যায়কে দূর করা। মানে যেকোন অন্যায় দেখলেই অন্যায়কারীকে উপর থেকে গুলিবর্ষণ করবে। এতে সমাজ থেকে যেমন অন্যায় দূর হবে তেমনি শুধু দেশ নয় পুরু দুনিয়াটাকেই শুদ্ধ করা যাবে। নিতাই সাতদিন এই সম্পর্কে গবেষণা করে অবশেষে একদিন তার দিক ঠিক করল। খুব গভীর রাতে একদিন প্যারাসুটের মতো যন্ত্রটাকে আকাশে ভাসানোর সময় সেও সেখানে উঠে বসল। যথারীতি যন্ত্রটা ঠিকঠাক মতো কাজ করতে লাগল। নিতাই মাটি ছেড়ে বেশ খানিক উপর থেকে হাতির মতো চোখ দু’টাকে বড় বড় করে দেখতে লাগল কোথায় কি কাণ্ড ঘটছে। হঠাৎ সে লক্ষ্য করল একটা বাড়ির ভেতর মুখোশ পড়া পাঁচ কিবা সাত জন লোক চুপিচুপি কি যেন করতে যাচ্ছে। নিতাইয়ের বুঝতে আর বাকি রইল না যে এই লোকগুলা হচ্ছে সব ডাকাত। তৎক্ষণাৎ সে তার যন্ত্রটার পাইপ দিয়ে একটা একটা করে বোমা সেইদিকে ছুঁড়ে মারল। ব্যাস। ডাকাতগুলো ভয়ে চিৎকার করতে করতে সেই জায়গাতেই হুশ হারিয়ে ফেলল। তারপর সোজা রিমান্ড বরাদ্ধকৃত থানায়!নিতাই তার যন্ত্রটাকে এবার অন্য একটা দিকে ভাসতে ভাসতে নিয়ে গেল। হঠাৎ সেখানেও সে দেখতে পেল দুই জন লোক একটা লোককে ধরে টানাটানি করছে। নিতাই সেটা দেখে আর সহ্য করতে পারল না। তৎক্ষণাৎ সে পরপর পাঁচটা বোমা সেইদিকে চালনা করে দিল।নিতাই সারা গ্রামে এক রাতেই অনেক অন্যায়কে রুখে দিয়েছে। ভাবতেই তার বুকটা গর্বে ভরে উঠছে। সকালের সূর্যটা পূব কোণে উঁকি দিচ্ছে। কিন্তু নিতাই থামছে না। মনে মনে ভাবল শুরুটা করেছে কেবল। সারা দুনিয়ার মানুষকে এবার দিনের আলোতে তার কর্মকাণ্ড দেখাতে হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। প্যারাসুটের মতো যন্ত্রটার উপর ভাসতে ভাসতে নিতাই সোজা চলে আসল অন্য একটা শহরে। দিনের আলোয় তার স্পষ্ট চোখে পড়ল একটা বাড়ির ভেতর ছোট্ট একটা শিশু আগুন নিয়ে কি যেন করছে। নিতাই বুকটা ধড়াৎ করে উঠল। আজ বোধহয় পুরো বাড়িটাই পুড়ে ভষ্ম হয়ে যাবে। কিছু আর ভাবতে না পেরে শিশুটার দিকেই উপর থেকে একটা বোমা ছুঁড়ে দিল। একটা শিশুর জন্য এখন পুরো বাড়িটাই নিরাপদ হলো।নিতাই সারা শহর এভাবেই বোমার আঘাতে আঘাতে অসংখ্য অসাধ্য কাজকে সমাধান করেছে। শত অন্যায়কারীকে উপর্যুক্ত শাস্তি দিয়ে সে এবার নোবেলের স্বপ্ন দেখতে শুরু করল। প্যারাসুট আকৃতির যন্ত্রটাকে উপর থেকে সোজা নিচে নামিয়ে এনে দু’হাত আকাশের দিকে মুখ করে গর্জন করতে লাগল, ‘হে নোবেল, কোথায় তুমি? কোথায়... কোথায়?নিতাইয়ের মুখের গর্জন আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার আগেই চারদিকে মানুষের তুমুল ভিড় শুরু হয়ে গেল। কিন্তু একি! সবার হাতেই লাঠি কেন? নিতাইয়ের মুখ থেকে আর একটা কথা বের হবার আগেই আচ্ছামত ঠেঙ্গানি। যে ঠেঙ্গানি এই দশকে কেউ খেয়েছে কি না কে জানে! তার পর কি হয়েছে বলার উপায় নেই।খুব সকালে নিতাইকে থানায় দেখতে গিয়ে দেখি এখনও সে নোবেল নোবেল করে একটানা জপ করছে। আসলে সেদিন রাতের বেলায় ডাকাত বলে যে লোকগুলোকে সে পলিথিন দিয়ে বানানো বোমা দিয়ে আঘাত করেছিল তারা আসলে কেউই ডাকাত না। সবাই অভিনেতা। পাগলু সিনেমার রিহার্সেল করছিল। পরবর্তীতে যতগুলো বোমা দিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছিল নিতাই একটাও অন্যায় তো দূরের কথা সবগুলোই ন্যায়কেই সে টুকরা টুকরা করে দিয়েছে। ভাগ্য ভালো এখনও যমরাজ্যে গমন করে নাই।নিতাইকে একবার থানায় দেখতে গিয়ে বাহির থেকে একটা স্যালুট দিয়ে বললাম, চিন্তা করিস না নিতাই, তোর জন্য জুতার নোবেল বানিয়ে রেখেছি। জেলখানা থেকে ছাড়া পেলেই তোর হাতে তুলে দিব!

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com