মা-বাবা বোঝা নন সম্পদ

সোনার বাংলা অনলাইন
১০ জুন ২০২৬ ২০:৪৭

॥ আবু জায়েদ আনসারী ॥
আধুনিক সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন, নগরায়ণ, ব্যস্ত জীবনযাপন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সম্পর্কের কারণে পারিবারিক বন্ধন আজ ক্ষয়িষ্ণু। পারিবারিক ক্ষেত্রে দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের সংকট। ভেঙে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন। অনেক ক্ষেত্রে পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধ ও কর্তব্য পালনের চিত্র আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে। কোথাও বৃদ্ধ পিতা-মাতা অবহেলার শিকার হচ্ছেন, কোথাও আবার পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয় তাদের একাকিত্ব ও মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অথচ একটি সন্তানের শৈশব, কৈশর থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত বাবা-মা কতই না ত্যাগ ও কুরবানি করেন। সন্তানের সুখ, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ গড়তে তারা নিজের আরাম-আয়েশ, সময় ও জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো উৎসর্গ করেন। আর এ কারণে ইসলাম পিতা-মাতার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা, সেবা ও আনুগত্যকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। কুরআন ও হাদীসে তাদের অধিকার আদায়ের বিষয়ে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বস্তুবাদী সভ্যতার বিকাশে মানবিকবোধ হারিয়ে সমাজের কিছু মানুষ বস্তু তথা অমানুষ হচ্ছে। তারা মা-বাবাকে বোঝা মনে করে। কিন্তু তারা বোঝা নন সম্পদ।
ইসলামের এমন স্পষ্ট বার্তা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সমাজে এখন এমন সব ঘটনা ঘটছে, যা গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে বারবার প্রশ্ন সামনে আসছে পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য কতটা পালিত হচ্ছে, কেন মানুষের মূল্যবোধের এই ইউটার্ন হচ্ছে, সন্তানরা কেন বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালন করছেন না, বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় আইন পারিবারিক বন্ধনের কতটা সুরক্ষা দিতে পারছে, কতটা দায়িত্ব কর্তব্য পালনে উৎসাহিত করতে পারছে, কেন অবহেলায় দিন কাটাচ্ছেন এবং মৃত্যু হচ্ছে বয়োজ্যেষ্ঠ পিতা-মাতার? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এখন সময়ের অনিবার্য দাবি। পদক্ষেপ গ্রহণে কালক্ষেপণের সময় নেই।
গত মে মাসে রাজধানীর মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটে বৃদ্ধা মায়ের পচাগলা লাশ উদ্ধারের ঘটনা দেশবাসীর বিবেককে চরমভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। উঠে এসেছে নানা ভয়ংকর সব কাণ্ড। গণমাধ্যমের খবর ও পুলিশের তদন্তে জানা যায়, হতভাগা সেই মা নুরজাহাজন সন্তানদের বড় করেছেন, তাদের প্রতিষ্ঠিত করতে জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে সন্তানদের সচিব, বুয়েটের মতো শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বানিয়েছেন, মেয়েকেও বিয়ে দিয়েছেন বুয়েটের শিক্ষকের সাথে। অথচ একই বাসায় মেয়ের সঙ্গে বসবাস করেও নোংরা ঘরে চরম অবহেলায় জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো কেটেছে, পচে গেছে নিজের দেহ! আহ! কী অমানবিকতা।
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ ও বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ

বাংলাদেশের সংবিধানেও পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের জন্য বিধান রাখা হয়েছে। পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩ অনুযায়ী একজন সন্তানকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ দিতে বলা হয়েছে। এমনকি পিতা-মাতার অবর্তমানে দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানিকেও ভরণ-পোষণ করতে হবে সন্তানদের। ব্যত্যয় হলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো এই আইন কতটা কার্যকর? এ আইন কি মানবিক সুরক্ষা দিতে পারছে? পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধকে জাগিয়ে তুলতে পারছে? বাস্তবতা হলো- বাংলাদেশের আর্থসামাজিক চিত্র অনুযায়ী তা পারছে না। আইনটি কেবল কাগুজে হয়ে আছে।
হতভাগা নুরজাহানের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তা ছেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা ঘোষণা করেছে সরকার। তবে বিদ্যমান আইনে এবং সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী বাস্তবিক অর্থে তার কতটুকু শাস্তি হবে সেই প্রশ্নও রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনা কতদিন থাকবে আলোচনায় এবং সমাজের রূপ কতটুকু বদলাতে পারবে, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। বরং এসব ক্ষেত্রে মূলত নৈতিক ও মানবিক শিক্ষাই কেবল সমাজকে বদলাতে পারে।
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা

পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হিসেবে ইসলাম মানুষের প্রতিটি মুহূর্তের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। সন্তানের জন্য পিতা-মাতার করণীয় ও পিতা-মাতার জন্য সন্তানের করণীয় ঠিক করে দিয়েছে। সবকিছুর মূলে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। আর এসবের মধ্য দিয়ে দুনিয়ায় মানুষের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং যার মাধ্যমে আখিরাতে পুরস্কার ও শাস্তি নিশ্চিত হবে।
ইসলামে পিতা-মাতার সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয়া হয়েছে। পিতা-মাতাকে অসম্মান না করতে কঠোর নির্দেশ প্রদান ও তাদের সাথে কোমল ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। সূরা আন নিসা:৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আর তোমরা সবাই আল্লাহর বন্দেগী করো। তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না। বাপ-মার সাথে ভালো ব্যবহার করো। নিকট আত্মীয় ও এতিম-মিসকিনদের সাথে সদ্ব্যবহার করো। আত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, পার্শ্বসাথী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাধীন বাদী ও গোলামদের প্রতি সদয় ব্যবহার করো। নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, আল্লাহ এমন কোনো ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না যে, আত্মাহংকারে ধরাকে সরা জ্ঞান করে এবং নিজের বড়াই করে।’
এখানে স্পষ্টত বান্দাদের দায়িত্ব কর্তব্যকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। শুধু বাবা-মা নন বরং ত্মীয় ও এতিম-মিসকিনসহ আরও বড় পরিসরের লোকদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে বলেছেন। সদ্ব্যবহার শব্দটি এখানে ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন আল্লাহর সীমালঙ্ঘন করলে তার পরিণতি সম্পর্কে। আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বকে প্রকাশ করা হয়েছে। তাছাড়া মানবিকতার মহান শিক্ষাও দেয়া হয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবীকে (সা.) জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল কী? তিনি বলেন, ওয়াক্তমত নামাজ পড়া। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেন, পিতা-মাতার সাথে সদাচার। আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বলেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ। রাবী বলেন, তিনি আমাকে এসব বিষয়ে বললেন। আমি আরো জিজ্ঞেস করলে তিনি অবশ্যই আমাকে আরো বলতেন। (বুখারী, মুসলিম, দারেমী, তিরমিযী, নাসাঈ)।
সূরা বনি ইসরাইলের ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমার রব ফয়সালা করে দিয়েছেনÑ তোমরা কারোর ইবাদত করো না, একমাত্র তাঁরই (আল্লাহর) ইবাদত করো। পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করো। যদি তোমাদের কাছে তাদের কোনো একজন বা উভয় বৃদ্ধ অবস্থায় থাকে, তাহলে তাদের ‘উহ্’ পর্যন্তও বলো না এবং তাদের ধমকের সুরে জবাব দিও না, বরং তাদের সাথে মর্যাদা সহকারে কথা বলো।’
আল্লাহ তায়ালা বয়োবৃদ্ধদের প্রতি কতটা সম্মান প্রদর্শনের তাগিদ দিয়েছেন, তা এই আয়াত আমাদের শেখায়। তাদের সাথে স্বাভাবিক কথা বলার ক্ষেত্রে শিষ্টাচারও জানিয়ে দিয়েছেন। অথচ বর্তমান সমাজের বৃহৎ অংশ বয়োবৃদ্ধদের বোঝা মনে করে, অগ্রাহ্য করে। এ আয়াতের শিক্ষার বড়ই অভাব আজকের প্রজন্মের, সমাজের। ফলত সন্তানরা ক্যারিয়ারের শীর্ষে আরোহণ করে ভুলে যায় পিতা-মাতাকে। সম্মান ও শ্রদ্ধার পরিবর্তে পিতা-মাতাকে অনেকে মুখাপ্রেক্ষী করে রাখেন। সন্তানের আলিশান বাসায় জায়গা হয় না অনেক পিতা-মাতার, যেতে হয় বৃদ্ধাশ্রমে। অনেক প্রবাসী সন্তানের মা-বাবাদের মানবেতর ও নানা কষ্টের গল্প আজ চাউর। এই তো কয়েকদিন আগেও পল্লবী থেকে ৫৫ বছর বয়সী এক মহিলার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। যার স্বামী ও সন্তানরা প্রবাসে থাকায় একাকী থাকতেন বাসায়। আধুনিক সভ্যতা ও নৈতিক শিক্ষার কুফল এসব ঘটনা। বয়োজ্যেষ্ঠ বাবা-মায়েদের প্রতি অবহেলায় পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নানা বিপর্যয় ঘটছে এমনি বলা অসঙ্গত নয়।
সূরা বনি ইসরাইলের ২৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পিতা-মাতার জন্য সন্তানকে দোয়া করতে বলেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আর দয়া ও কোমলতা সহকারে তাদের সামনে বিনম্র থাকো এবং দোয়া করতে থাকো এই বলে, ‘হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া করো, যেমনÑ তারা দয়া, মায়া, মমতা সহকারে শৈশবে আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।’
এ আয়াতে সন্তানদের প্রতি পিতা-মাতার ত্যাগকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে, একটি সন্তান কতটা নির্ভরশীল থাকে পিতা-মাতার ওপর। কতটা মায়া মমতায় তাকে বড় করেন পিতা-মাতা। পড়ন্ত বয়সে পিতা-মাতার সাথে সন্তানের আচরণ কেমন হওয়া উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আজ আমরা কোমলতার পরিবর্তে কর্কশ, বদমেজাজ, রূঢ় আচরণ, অবহেলা, অযত্ন; এমনকি পচাগলা লাশের পরিণতি উপহার দিচ্ছি বয়োজ্যেষ্ঠ বাবা-মায়েদের, যা ক্ষমার অযোগ্য। আমরা ব্যর্থ হচ্ছি আল্লাহর দেয়া পরীক্ষায়।
সূরা বাকারার ২১৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ আমাদের করণীয় উল্লেখ করে বলেছেন, ‘লোকেরা জিজ্ঞেস করছে, আমরা কী ব্যয় করবো? জবাব দাও, যে অর্থই তোমরা ব্যয় কর না কেন তা নিজেদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য ব্যয় করো। আর যে সৎকাজই তোমরা করবে সে সম্পর্কে আল্লাহ অবগত হবেন।’
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বাবার সন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি এবং বাবার অসন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহ্ তায়ালার অসন্তুষ্টি রয়েছে। (জামে’ আত-তিরমিযী ১৮৯৯)। হাকীম ইবনে হিযাম (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সদ্ব্যবহার পেতে কে অগ্রগণ্য? তিনি বলেন, তোমার মা। আমি বললাম, তারপর কে? তিনি বলেন, তোমার মা। আমি বললাম, তারপর কে? তিনি বলেন, তোমার মা। আমি বললাম, তারপর কে? তিনি বলেন, তোমার পিতা, তারপর ক্রমান্বয়ে আত্মীয়ের সম্পর্কের নৈকট্যের ভিত্তিতে। (দারিমী, তিরমিযী, হাকিম)।
কেন আজকের এ পরিণতি

আজকের সামাজিক এই পরিণতির জন্য মূলত পরিবার, সমাজ রাষ্ট্র, শিক্ষা ও সভ্যতা দায়ী বলে সামাজিক বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আধুনিক সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে এর নেতিবাচক দিকও ডালপালা ছড়িয়েছে। কিন্তু সেই নেতিবাচক জিনিসকে নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ না থাকলে ইতিবাচক পদক্ষেপটিও অনেক সময় অভিশাপ হয়ে ফিরে আসে। আজ আধুনিক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে। কিন্তু সুসন্তান, নৈতিক ও সুশিক্ষা অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হচ্ছে। এজন্য এমন সব বিপর্যয়ের মুখে আজকের পরিবার ও সমাজ। অনেক পিতা-মাতা সন্তানের উন্নত ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি ইসলামী নৈতিকতার শিক্ষা দেয়না। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় সেটির স্থান নেই, থাকলেও তা অপ্রতুল এবং অন্যান্য কারিকুলাম ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে ছেয়ে যায়।
উত্তরণের পথ

গতিশীল সমাজে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। জীবনধারায় নানা বিষয় সংযুক্ত হচ্ছে। পারিবারিক সংস্কৃতি ও বন্ধন, শিক্ষা শিশুর মন, মনন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, প্রভাবিত করে। এছাড়া পারিপার্শ্বিক পরিবেশ জীবনকে প্রভাবিত করে। কাঠামোগত শিক্ষাও জীবনবোধ গঠনে ভূমিকা রাখে। এসব কিছুতে যদি মানবিকতা, ইসলামী নীতির মূল্যবোধের সম্মিলন থাকে, তাহলে প্রজন্ম ভ্রষ্টতায় পতিত হবে না। এজন্য পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পিতা-মাতার সচেতনতা ও শিক্ষার সামগ্রিক সংস্কার, সামাজিক সচেতনতা ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কঠোর নিয়মনীতির প্রয়োগ জরুরি। ইসলামের আলোয় সমাজকে আলোকিত করতে পারলে এসব অনাচার দূরীভূত করা সম্ভব।
সূরা আল-আনআমের ১২২ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মৃত ছিল অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে এমন এক আলো দিয়েছি, যার সাহায্যে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে, সে কি ওই ব্যক্তির সমতুল্য হতে পারে যে অন্ধকারে রয়েছে, যেখান থেকে সে আর বের হতে পারে না?’
সূরা আল-বাকারার ২৫৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছ, ‘আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। আর যারা কাফের, তাদের অভিভাবক হলো তাগুত (শয়তান ও বাতিল শক্তি), তারা তাদের আলো থেকে অন্ধকারের দিকে বের করে নিয়ে যায়। তারাই হলো দোযখের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।’ এছাড়া সূরা আত-তালাকের দ্বিতীয় আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তিই আল্লাহকে ভয় করে চলবে, আল্লাহ তার জন্য কঠিন অবস্থা থেকে মুক্তির বা উত্তরণের পথ তৈরি করে দেবেন।’

আবু জায়েদ আনসারী মহিলা অঙ্গন

সম্পর্কিত খবর