স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গড়িমসি
২ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৩৪
॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রচ্ছদ উল্টালেই প্রথম পৃষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবির ওপর, ‘করব কাজ গড়ব দেশ’ এবং নিচে- ‘১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে জনগণের দিন, ইনশাআল্লাহ’ স্লোগান লেখা। কিন্তু সরকার গঠনের পর জনগণের প্রত্যাশার দিন শুরু হচ্ছে না। বরং গণভোট, জুলাই সনদ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি জনগণ কবে পাবে, সেই প্রত্যাশা মেঘে ঢাকা পড়েছে। আশার আলোর দেখা কবে মিলবে, কেউ জানে না।
তাই জনমনে প্রশ্ন- তাহলে কি বিএনপিকে কেউ পথহারা করেছে? কিন্তু কে সেই শক্তিমান? এমন প্রশ্ন উঠলেই অঙ্গুলি চলে যায় দেশের সবচেয়ে বড় কেরানীদের উঁচু দালালের দিকে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ঐ কিসিমের দালালগুলোর অফিসিয়াল নাম, ‘মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংস’ মানে বড় কেরানীদের আলয়। অবশ্য বাংলাদেশের ঐ ভবনসমষ্টির নাম বেশ জোশ- ‘সচিবালয় বা সেক্রেটারিয়েট’। ওখানে যারা বসেন, তাদের অনেকেই নিজেদের মনে করেন, তারাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের ‘ভাগ্যবিধাতা’। মানে তারা যা চাইবেন, তাই হতে হবে। জনগণের সরকার নির্বাচন এবং নির্বাচিত সরকারকে তাদের হাতের পুতুল বানিয়ে খেলতে ঐ বিল্ডিংয়ের কেরানীদের একটি ধুরন্ধর অংশ পাক্কা খেলোয়াড়- এ মন্তব্য প্রতিবেদকের নয়, অনেক সাবেক সজ্জন আমলা এবং মন্ত্রীর। এদেশের ইতিহাসের একজন প্রখ্যাত আমলা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খানের ভাষায়, ঐ ধুরন্ধররা দুপ্রকার- ১. বজ্জাত, ২. শয়তানের বাচ্চা। যেহেতু তারা সবাইকে সেই কাতারে ফেলেননি, তাই আশা করা যায়, সজ্জন আমলা ও সচিবগণ বিষয়টি তার পূর্বসূরি মন্তব্যকারীর মতোই উদার মনে গ্রহণ করবেন। কারণ তারাও দেশের উন্নয়নপ্রত্যাশী জনগণের মতোই ঐ ধুরন্ধর চক্রের হাতে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। ইচ্ছে থাকলেও হাত-পা বাঁধা থাকায় অনেক কিছুই করতে পারেন না। চাকরি বাঁচাতে আইন, আদালত ও চাকরিবিধি ভুলে যান। ঐ সুযোগে ধুরন্ধর চক্র জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভুলিয়ে সরকারকে বিপথগামী করে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, তাদের কারণেই সরকার তার প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে ১১টি সিটি করপোরেশনে এবং ৫৬টি জেলা পরিষদে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত অথবা নির্বাচনে পরাজিত দলীয় নেতাদের বিনা ভোটে এমন পুনর্বাসনের এ সিদ্ধান্ত সংবিধান ও আদালতের নির্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থী বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
এমন সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারের নীতিনির্ধারকদের নীতিনির্ধারণে সহযোগিতা করা আমলারা সংবিধান ও আদালতের বিষয়টি তুলে ধরলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটতো না। এ প্রসঙ্গে দুটি উদাহরণ তুলে ধরতে একটু পেছনে ফিরতে হচ্ছে। একটি উদাহরণ তুলে ধরা হলো সাবেক আমলা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খানের ‘পরার্থপরতার অর্থনীতি’ বইয়ের “শুয়োরের বাচ্চাদের অর্থনীতি” নিবন্ধ থেকে। অন্যটি সাবেক ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের স্মৃতিচারণ থেকে।
স্মৃতিচারণ ও আতাউর রহমান খান
প্রথমে আশা যাক স্মৃতিচারণ প্রসঙ্গে। জাতীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন দৈনিক ইত্তেফাকের এক সিনিয়র সাংবাদিকের কাছে স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, একজন বিখ্যাত রাজনীতিবিদ (পরে জাতীয় নেতা হয়েছিলেন) প্রবীণ জননেতা আতাউর রহমানকে অনুরোধ করেছিলেন- ‘ভাই, আমলাদের সব কথা শুনবেন না। ওদের দিয়ে কাজ করাতে হবে, সেটা তো অপরিহার্য ব্যাপার; কিন্তু তাদের পরামর্শ একদম শুনবেন না। কারণ ওরা রাজনীতিকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালান সবসময় (সম্ভবত ঘটনাটি আতাউর রহমান খানের প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সময়কার)।’ আতাউর রহমান খান আফসোস করেছিলেন- ‘আমরা কেউই হয়তো সেই অভিমত সমর্থন করে সিদ্ধান্ত নিইনি; এমনকি যিনি আমাকে এ পরামর্শ দিয়েছিলেন, তিনি নিজেও তা অনুসরণ করতে পারেননি।’
এত গেল পুরানকালের কথা। বর্তমানের অবস্থা প্রসঙ্গে খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করছে গণমানুষের অর্থনৈতিক শোষণমুক্তির কর্মসূচিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে। কিন্তু বাধা দেবে ও দিচ্ছে সেই আমলাতন্ত্র। এখন উপায়টা কী? আমাদের দেশের আমলাদের প্রায় নব্বই ভাগ বা তারও বেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা শিক্ষার্থী হিসেবে সুপরিচিত (ছিলেন বা আছেন)। কিন্তু ব্রিটিশ রাজের যে উপনিবেশবাদী লক্ষ্যার্জনের ভাবনা থেকে এ আমলাতন্ত্র সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা থেকে এরা কখনো বেরোতে চান না। তারা গাছের আগারটা-তলারটা সবটাই খেতে অভ্যস্ত। তারা নিজ দায়িত্বের প্রতিদিনকার কাজ করেন স্বল্পমাত্রায়, ঘুষ খান বেশি মাত্রায় (যতটা গিলতে পারেন গলা দিয়ে), রাষ্ট্রের সব বৈধ-অবৈধ সুবিধা ভোগ করেন গোগ্রাসে। এতটুকু মানবিকতা, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রপ্রেম তাদের থাকে না- দেশবাসীর কষ্ট-বেদনা, অসহায় মর্মবেদনার জীবন, অবিরাম আহাজারির দিনকাল, তাদের চোখের জল কখনো এ আমলাগোষ্ঠীর হৃদয় স্পর্শ করে না।’ অবশ্য শুধু ‘শুয়োরের বাচ্চারাই’ এমন পাষাণ, এর বাইরে অনেক সজ্জন ও সৎ আমলা আছেন, এ প্রতিবেদকের কাছে এমন অনেক তথ্য-প্রমাণ আছে।
সজ্জন আমলাদের চোখেও পাষাণরা ‘শুয়োরের বাচ্চা’
আমলারা সবাই এমন পাষাণ হৃদয়ের নন। উদার মনের সজ্জন আমলাদের চোখেও ঐ পাষাণরা ‘শুয়োরের বাচ্চা’। এ কথা প্রমাণ করতে বাংলাদেশ সচিবালয়ের সর্বোচ্চ পদের আমলা সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আকবর আলি খান তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘পরার্থপরতার অর্থনীতি’-এ “শুয়োরের বাচ্চাদের অর্থনীতি” শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। এতে তিনি মন্তব্য করেছেন, সরকার অন্য কোনো কাজ না করলেও চলবে, শুধু যদি ‘শুয়োরের বাচ্চা’দের কবল থেকে জনগণকে রক্ষা করতে পারে, তাহলেই দেশের উন্নয়ন হবে, দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। এজন্য তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন।
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। কারণ ঐ ‘শুয়োরের বাচ্চারা’দের কালো হাতের প্রভাবে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কাও অমূলক নয়। এক্ষেত্রে আমলাদের সহযোগী হিসেবে শামিল থাকেন রাজনীতি বা অন্য কারণে সমাজের প্রভাবশালী ‘শুয়োরের বাচ্চারা’। আকবর আলি খান সমাজের তিন ধরনের মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি তার উল্লেখিত নিবন্ধে ব্রিটিশ আমলা ক্যারিটের স্মৃতিকথা থেকে তুলে ধরে এমন শ্রেণিবিন্যাস করেছেন। ক্যারিট এ উপমহাদেশে তার চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন চাকরি ছেড়ে নিজ দেশে চলে যাওয়ার পঞ্চাশ বছর পর। স্মৃতিকথার উপসংহারে ক্যারিট লিখেছেন, তিনি তাঁর দীর্ঘ জীবনে সজ্জন, বজ্জাত ও শুয়োরের বাচ্চা তিন কিসিমের লোকই দেখেছেন।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, ক্ষমতা যত বেশি কেন্দ্রীভূত হয়, গণতন্ত্র ও জবাবদিহি তত বেশি হুমকির মুখে পড়ে এবং ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচারী প্রবণতা বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে এটি সাধারণত এক বা দুজন ব্যক্তির হাতে পুরো রাষ্ট্র বা দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য (Balance of Power) নষ্ট করে। ফলে সজ্জনরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এ প্রবণতা দূর করতে বিএনপির উচিত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তির বদলে স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ের ক্ষমতা জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে দেয়া এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
বিএনপি তার নির্বাচনী ইশতেহারের ১১ নম্বর পৃষ্ঠার ‘স্থানীয় সরকার (Local Government)’ শিরোনামের উপশিরোনাম জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করাতে উল্লেখ করেছে, ‘স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে জনগণের সরাসরি ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারে জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
উপশিরোনাম বছরে ন্যূনতম একবার উন্নয়নকাজের উন্মুক্ত সভা আয়োজন: ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে বছরে অন্তত একবার উন্নয়নকাজের উন্মুক্ত সভা আয়োজন করা হবে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও তৃণমূল জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার আওতায় আসবেন।
উপশিরোনাম বিলবোর্ডের মাধ্যমে স্থানীয় সেবার উন্মুক্ত তথ্য প্রদান: স্থানীয় সরকার ও সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতাধীন সকল সেবা (যেমন: ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ, ভিজিডি ইত্যাদি) সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উন্মুক্ত স্থানে বিলবোর্ড আকারে জনগণকে অবহিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলবাজি কমবে।’
স্থানীয় সরকার শিরোনামের ভূমিকায় উল্লেখ করেছে, ‘বিএনপি বিশ্বাস করে, স্থানীয় সরকার হলো গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রবেশপথ। ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুধুমাত্র রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে গ্রাম ও শহরের স্থানীয় নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব প্রদান করা হলে জনমুখী, কার্যকর ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। উন্নয়ন কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কার্যক্রমসহ জনগণের জনসেবা প্রদানে স্থানীয় সরকারকে যথাযথভাবে ক্ষমতায়িত করে স্থানীয় সমস্যা স্থানীয় পর্যায়েই সমাধান করা এবং জনগণকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা প্রদানই বিএনপির লক্ষ্য।’ উপশিরোনাম স্থানীয় সমস্যা স্থানীয় পর্যায়েই সমাধান নিশ্চিতকরণে বলা হয়েছে, “ঢাকার সচিবালয় থেকে দেশ শাসন করা হবে না। দেশ চলবে তৃণমূলের জনগণের ইচ্ছায় ও মতামতের ভিত্তিতে। যেখানে সমস্যা সেখানেই সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। ‘স্থানীয় নেতৃত্বেই স্থানীয় সমাধান সম্ভব’ -এ নীতির ভিত্তিতে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষমতায়িত করা হবে। ক্ষমতা ও উন্নয়নের ভরকেন্দ্র হবে গ্রামমুখী।”
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, জনগণকে দেয়া এ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে বিএনপি যত বিলম্ব করবে, জটিলতা তত বাড়বে। সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের অনির্বাচিতদের দ্রুত বিদায় করে নির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে গড়িমসির কারণে বিএনপির তৃণমূলে ক্ষোভ বাড়ছে। অন্যদিকে ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভার পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় জনভোগান্তি বাড়ছে। এতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে শুধু জনগণ নয়, জাতীয় সংসদ সদস্যদের অনেক ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারি দলের ব্যানার ব্যবহার করে নেতা-পাতিনেতারা প্রশাসনে থাকা আকবর আলি খানের উল্লেখিত ঐ বিশেষ প্রাণীর বাচ্চারা ধরাকে সরা জ্ঞান করছে। তাই এ জটিলতা নিরসনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। তৃণমূল পর্যায়ে ইতোমধ্যে নির্বাচনের পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন দাবি করেছিলো। কিন্তু বিএনপির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাই সরকারের আচরণে জনমনে সন্দেহ সংশয় বাড়ছে, যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হয়ে ক্ষোভে পরিণত হতে পারে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।