রাসূল (সা.)-এর যুগে মদিনায় ঈদুল ফিতর উদযাপন


১৭ মার্চ ২০২৬ ১১:৩৩

॥ আবু জায়েদ আনসারী ॥
মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ও প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলো ঈদ। ইসলামের আবির্ভাবের গোড়ার দিকেই ধর্মীয় উৎসব হিসেবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার প্রচলন শুরু হয়। উৎসব দুটি মুসলিমদের ঈমান ও আখলাকের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং রোজা ও হজ দুটি ফরজের সাথেও সম্পৃক্ত। আর সে কারণে আল্লাহ প্রদত্ত সীমারেখার মধ্যে থেকে ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে হয়। রাসূল সা.-এর যুুগে এমন নজিরই পাওয়া যায়, যা জাহেলি যুগের সংস্কৃতি থেকে মুসলিমদের বের করে এনে শিরকমুক্ত জীবনধারায় ফিরিয়ে আনে।
নবী কারীম (সা.) মদিনায় হিজরতের পর মূলত ৬২৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন শুরু করা হয়। হিজরি প্রথম বছরের অষ্টম মাস অর্থাৎ শাবান মাসে রোজা বাধ্যতামূলক করার আয়াত নাজিল হয় এবং তখন নবম মাস অর্থাৎ রমজান মাসে এক মাস সিয়াম-সাধনাকে ফরজ করা হয়। এরপর হিজরি দ্বিতীয় সালে এসে বিধান দেয়া হয় যে রমজান মাস- চাঁদের হিসাবে যা ২৯ দিনেও শেষ হতে পারে বা কখনো ৩০ দিনেও শেষ হতে পারে। পরবর্তী শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদ উদযাপন করা হবে।
সেসময় ইহুদিরা নওরোজ ও মেহেরজান নামে দুটি উৎসব পালন করত, যেখানে মদিনার নওমুসলিমরাসহ সকল মানুষ যোগদান করত। এর পরিবর্তে উত্তম উৎসব হিসেবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের নির্দেশ দেন আল্লাহ তায়ালা।
আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূল সা. মাদীনায় এসে দেখেন মাদীনাবাসীরা নির্দিষ্ট দুটি দিনে খেলাধুলা ও আনন্দ করে থাকে। রাসূল সা. তাদের জিজ্ঞেস করলেন, এ দুটি দিন কীসের? সকলেই বললো, জাহেলি যুগে আমরা এ দুই দিন খেলাধূলা করতাম। রাসূল (সা.) বললেন, মহান আল্লাহ তোমাদের এ দুই দিনের পরিবর্তে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন। তা হলো, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন। (আবু দাউদ)।
মদিনায় ঈদুল ফিতর উদযাপন শুরু করা থেকে পরবর্তী সময়ে নবী কারীম সা. ও সাহাবীরা কীভাবে ঈদ উদযাপন করতেন, সেটিই এখন আলোচ্য বিষয়। কারণ একটি জাহেলি ব্যবস্থার মূলোৎপাটন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার দ্বার উন্মোচন করা হয়েছিল।
সময় গড়ার সাথে সাথে ইসলামের যেমন ব্যাপক প্রসার হয়েছে। ঈদ উদযাপনেও যোগ হয়েছে নানা মাত্রা। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এমন কিছু বিষয় যা ঈমানের ঘাটতি ঘটিয়েছে। মুসলিমদের বড় একটি অংশ ঈদকে শুধু আনন্দফুর্তি ও খাওয়া দাওয়ার মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলেছেন। আবার অনৈসলামিক নানা সংস্কৃতিকে যুুক্ত করেছেন নিজের ঈদ উদযাপন আয়োজনে। যেসবে থাকে না আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, কিংবা মানা হচ্ছে না শরীয় মাপকাঠি। ঈদের আয়োজন কেমন হওয়া উচিত তা নবী কারীম সা.-এর জীবনী ও পবিত্র কুরআন থেকে জানা যায়।
ঈদের অর্থ এমন নয় যে শুধু ঈদের নামাজেই কেবল ধনী-গরিবকে এক কাতারে দাঁড় করানো। বরং এর অর্থ হলো তাদের মধ্যে বৈষম্য দূর করা ঈদের অন্যতম উদ্দেশ্য। সূরা বাকারায় স্পষ্টত বলা হয়েছে যে, ‘আর যেন তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করতে পারো এবং তোমাদের যে সুপথ দেখিয়েছেন, তার জন্য তোমরা আল্লাহর মহত্ত-বড়ত্ব প্রকাশ করো এবং তার কৃতজ্ঞ হও।’ অর্থাৎ, পবিত্র মাহে রমাদানে ধনী ও দরিদ্রের জন্য সাওম পালনের নিয়ম একই। প্রত্যেককে একই নিয়মে একই সংখ্যায় সাওম পালন করতে হয়। তিনি বৈষম্যমুক্ত নিয়ম করে দিয়েছেন।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং সাহাবীদের জীবনীতে ঈদুল ফিতরের উৎসব পালনের দিক নির্দেশিকা পাওয়া যায়। ঈদের দিন গোসলের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করাকেও নবীজি (সা.) গুরুত্ব দিয়েছেন। হযরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসূল (স.) ঈদুল ফিতরের দিনে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল করতেন।’ নবীজি (সা.) ঈদের দিনে বের হয়ে দুই রাকাত ঈদের সালাত আদায় করেছেন। (বুখারি)।
ঈদুল ফিতরের নামাজ সম্পর্কে সূরা আ’লায় বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় সেই ব্যক্তি সাফল্য অর্জন করেছে যে, আত্মিক পরিশুদ্ধতা অর্জন করেছে এবং তার পালনকর্তার নাম স্মরণ করেছে। এরপর নামাজ আদায় করেছে।’ এখানেও আল্লাহর নির্দেশ সর্বজনীন।
ঈদ একদিকে যেমন আনন্দের তেমনি দায়িত্ব পালনেরও দিন। রাসূল (সা.) ঈদের দিন কেবল ইবাদতও করেননি, বরং তিনি বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নিয়েছেন। এতে করে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর ও মজবুত হয়েছে। পৃথিবীতে জীবন পরিচালনা করতে গিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কারো কারো সাথে পারস্পরিক বোঝাপড়ায় কমবেশি হতে পারে। ঈদেও সময়ে সেটি মিটিয়ে নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বুখারি শরীফের একটি হাদিসে এসেছে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে আখিরাতে বিশ্বাস করে, সে যেন আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে।’ মুসলিম শরীফের আরেকটি হাদিসে এসেছে, ‘কোনো মুসলিমের জন্য বৈধ নয় যে, তার ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সময় সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে। তাদের অবস্থা এমন যে দেখা সাক্ষাৎ হলে একজন অন্য জনকে এড়িয়ে চলে। এ দুজনের মাঝে ওই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ যে প্রথম সালাম দেয়।’
রাসূল সা. মদিনায় ঈদের দিন ছোট-বড় সবার আনন্দের প্রতি খেয়াল করতেন। তিনি ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে শিশু, কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সীদের জন্য উপভোগ্য করতে গান, খেলাধুলা ও অন্যান্য প্রতিযোগিতার আয়োজনকে শরীয় সীমার মধ্যে থেকে নিরুৎসাহিত করতেন না। বালিকা বয়সী আয়েশা রা.-এর মনের বাসনাও রাসূল (সা.) পূরণ করতেন। কারণ আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী রমাদানে সিয়াম সাধনাকারীর জন্যই তো ঈদের আনন্দ। ছোট ছোট শিশু-কিশোরের সঙ্গে মহানবী সা. আনন্দ করতেন। হযরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিন আমার ঘরে আগমন করলেন। তখন আমার নিকট দুটি ছোট মেয়ে গান গাইতেছিল বুয়াস যুদ্ধের বীরদের স্মরণে। তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না। ইতোমধ্যে আবু বকর (রা.) ঘরে প্রবেশ করে এই বলে আমাকে ধমকাতে লাগলেন যে, নবীজির ঘরে শয়তানের বাঁশি? রাাসূল (সা.) তার কথা শুনে বললেন, ‘মেয়ে দুটিকে গাইতে দাও হে আবু বকর! প্রত্যেক জাতির ঈদ আছে, আর এটি আমাদের ঈদের দিন।’ (সহিহ বুখারি)
ঈদের দিনের এক স্মৃতি সম্পর্কে হযরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, ঈদের দিন আবিসিনিয়ার কিছু লোক লাঠি নিয়ে খেলা করছিল। মহানবী (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আয়েশা! তুমি কি লাঠিখেলা দেখতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তখন আমাকে তার পেছনে দাঁড় করান, আমি আমার গাল তার গালের ওপর রেখে লাঠিখেলা দেখতে লাগলাম। তিনি তাদের উৎসাহ দিয়ে বললেন, হে বনি আরফেদা! লাঠি শক্ত করে ধরো। আমি দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। তিনি তখন বলেন, তোমার দেখা হয়েছে? আমি বললাম, জ্বি না। এরপরে নবী (সা.) হযরত আয়শা (রা.) তৃপ্ত হওয়া পর্যন্ত খেলা দেখান।
মদিনায় প্রথম ঈদের দিন সকাল বেলায় মদিনাজুড়ে আনন্দ আর খুশির জোয়ার দেখা যেত। সব আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে ঘিরে। প্রত্যেকেই ঈদ উৎসবে নিজ নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করছিল। তারা সকলেই তাদের নিজ নিজ অনুষ্ঠান যেন মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের খাতিরেই করেছিল।
ঈদের দিন মহানবী (সা.) সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গোসল করে উত্তম পোশাক পরতেন ও সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার বা খেজুর খেতেন। তিনি ঈদের দিন সাওম পালন করতেন না, কারণ এদিন রোজা রাখা হারাম করা হয়েছে। হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূল (সা.) খেজুর না খেয়ে ঈদগাহে যেতেন না।’ (বুখারি)।
আল্লাহ রাসূল (সা.) সেসময় ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে সাদকাতুল ফিতর আদায় করতেন। তিনি এটি করতেন এজন্য যে, যাতে রমজান মাসে সিয়ামের ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণ করা যায়। তিনি অভাবগ্রস্তদের খাবার দেয়ার উদ্দেশ্যে ঈদের সালাতের আগে নির্ধারিত পরিমাণের খাদ্যসামগ্রী সাদকাতুল ফিতর হিসেবে দান করতেন। এটিকেই শরিয়তের পরিভাষায় সাদকাতুল ফিতর বা ফিতরা বলা হয়। বুখারি শরীফের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সা.) ঈদের নামাজে যাওয়ার পূর্বে ফিতরা আদায় করার আদেশ দিয়েছেন।
উম্মু আত্বিয়্যাহ (রা.) হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, রাসূল (সা.) ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার জন্য গৃহিণীদের নির্দেশ দেন। বলা হলো, ঋতুবর্তী মেয়েরা কী করবে? তিনি (রাসূল সা.) বললেন, কল্যাণমূলক কাজ ও মুসলিমদের দোয়ায় তাদের শরিক হওয়া উচিত। এক মহিলা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! কারো (শরীর ঢাকার মতো) কাপড় না থাকলে সে কী করবে? নবী (সা.) বললেন, তার বান্ধবীর (সঙ্গীর) কাপড়ের কিছু অংশে জড়িয়ে যাবে। (আবু দাউদ)।
রাসূলে কারীম (সা.) কীভাবে ঈদগাহে যেতেন তারও বর্ণনা পাওয়া যায় বিভিন্ন হাদিস থেকে। ঈদগাহে আসা যাওয়ার পথে তিনি ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ তাকবির বলতেন। জনগণের সাথে সালাম ও ‘তাকাব্বাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ বলে কুশল বিনিময় করতেন। তিনি আসা যাওয়ার পথে একাধিক রাস্তা ব্যবহার করতেন, যাতে বেশি মানুষের সাথে সালাম ও কুশল বিনিময়ের সুযোগ হয়। যার মাধ্যমে উম্মাহর বন্ধনকে দৃঢ় করার নজির পাওয়া যায়। হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত ‘সুন্নত হলো ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া’ পথে যাদের সাথে দেখা হবে, তাদের সালাম দেয়া ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য যে পথে যাবে, সে পথে না ফিরে অন্য পথে ফিরে আসা। (তিরমিযী)।
নবী কারীম (সা.) ঈদের দিন সাহাবীদের নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন। ঈদের নামাজের আগে ও পরে কোনো প্রকার অতিরিক্ত নফল আদায় করতেন না।
ঈদের দিন ঈদের নামাজের আগে অন্য কোনো নামাজ আদায় করা ঠিক নয়। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসূল (সা.) ঈদের দিন বের হয়ে শুধু ঈদের দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। ঈদের নামাজের আগে বা পরে (সঙ্গে সঙ্গে) নফল বা অতিরিক্ত কোনো নামাজ আদায় করতেন না।’ [বুখারি, মুসলিম ও তিরমিযী]।
ঈদের নামাজের পর ইমাম খুতবা প্রদান করবেন এবং মুসলিমরা তা মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। এটি পালন করা ওয়াজিব।
সাহাবীদের ঈদ উদযাপন
ঈদের দিন খুশির ও আনন্দের। সাহাবীদের ঈদ উদযাপন নিয়ে নানা ঘটনা রয়েছে। তাঁরা নিজেদের সিয়াম সাধনা সার্থক হয়েছে কিনা কিংবা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছি কিনা, তা নিয়ে অস্থির থাকতেন। মুমিনরা তো এমনই হওয়ার কথা-যেকোনো অবস্থায় আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের তৃপ্তি অনুসন্ধান করা। সাহাবীদের জীবনধারায় দেখা যায়- সিয়াম সাধনার মাধ্যমে পাপমুক্ত হলেই কেবল ঈদ আনন্দের স্বাদ পাওয়া সম্ভব। আর তা না হলে ঈদ অর্থহীন। সেই উপলব্ধি সাহাবীদের মাঝে ছিল। সাহাবীরা ঈদের দিন আনন্দের চেয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন বেশি। কারণ রমজানে তাদের গুনাহ মাফ হয়েছে কি না, সেই চিন্তা তাড়া করতো তাদের। এক ঈদের দিন আমিরুল মুমিনিন হযরত ওমর (রা.) ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতি করতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে ঘরের দরজা বন্ধ করে বলতে থাকেন, আমার গুনাহ মাফ না হলে আমি ঈদগাহে গিয়ে কিভাবে ইমামতি করতে পারি? এক ঈদুল ফিতরের দিনে হযরত ওমর (রা.) অঝোরে কাঁদছেন। সবাই যার যার মতো করে আনন্দ করছেন। হঠাৎ সাহাবারা খেয়াল করলেন ওমর (রা.) কাঁদছেন। অবাক হয়ে সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এই ঈদের দিনেও কাঁদছেন? এ খুশির দিনেও আপনি কান্না করছেন? তখন ওমর (রা.) জবাব দিলেন, আমি রাসূল (সা.)কে বলতে শুনেছি, যেব্যক্তি রমজান মাস পেল কিন্তু ইবাদত করে গুনাহ মাফ করে নিতে পারল না, সে ধ্বংস হোক। এখন রোজা শেষ হয়ে আজ ঈদের দিন। আমি এখনো জানি না আমার গুনাহ মাফ হয়েছে কি না? আমি কীভাবে নিশ্চিত হয়ে ঈদের আনন্দ করি?
জামানার ঈদ এবং বিজাতীয় আগ্রাসন
একবিংশ শতাব্দীতেও পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা ও হাদীসে রাসূল অক্ষুণ্ন রয়েছে। সভ্যতার অনেক বির্বতন হয়েছে। ইসলামেরও বিকাশ ও বিস্তৃতি হয়েছে দুনিয়াব্যাপী। সময়ের সাথে সাথে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিকসহ নানা ব্যবস্থাপনার কারণে মুসলিমদের চরিত্রে অনেক কালিমা লেপন হয়েছে। বিজাতীয় সংস্কৃতি এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে, মুসলিমদের বড় একটি অংশ আজ গাফেল হয়ে গেছে। ধর্মীয় অনুশাসনকে না মানার কারণে বিজাতীয় আগ্রাসী পোশাক-পরিচ্ছেদ, রীতি-নীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ সব অঙ্গণে হাবুডুবু খাচ্ছে মুসলিমরা। যার কারণে অনেক মুসলিম শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী অবলীলায় ঈদের আয়োজনে নাচ-গান, অশ্লীল পোশাককে ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করছে-যা ঈমান বিধ্বংসী। ঈদের সময় অনেকে রাতভর বেহুদা কাজে নিজেকে জড়িয়ে রাখে, যা সামাজিক অবক্ষয়কে টেনে আনে। ঈদের আনন্দে অনেকে এমনভাবে উদাসীন থাকেন যে, ফরজ নামাজ আদায়ে অলসতা করেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
সূরা মুমিনুনে আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন, নিশ্চিতভাবে সফলকাম হয়েছে মুমিনরা। যারা নিজেদের নামাজে বিনয়াবনত হয় এবং বাজে কাজ থেকে দূরে থাকে। নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।
লেখক: সাংবাদিক।