‘হ্যাঁ’ ভোট রাষ্ট্র নির্মাণের ভিত্তি
২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৫
॥ ফারাহ মাসুম ॥
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, এটি কার্যত ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রশ্নে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অবস্থান নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ গণভোটকে কেন্দ্র করে একদিকে ‘না’ জয়ী করার অপচেষ্টা অন্যদিকে বিএনপির কৌশলগত নিরপেক্ষতা এবং আওয়ামী লীগের নীরব রাজনৈতিক হিসাব সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মাঠে এক জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জুলাই বিপ্লবের পক্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোর সক্রিয় ভূমিকা, যারা এ গণভোটকে বিপ্লবের ন্যায্য ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
‘না’ জয়ী করার অপচেষ্টা : ফলের চেয়ে বৈধতা প্রশ্নই মুখ্য : গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে যে প্রচারণা ও রাজনৈতিক তৎপরতার কথা শোনা যাচ্ছে, তা এখনো কোনো একক বৃহৎ জোটে রূপ নেয়নি। বরং এটি একটি বিক্ষিপ্ত, কিন্তু কৌশলগত অবস্থান। ‘না’ পক্ষের রাজনৈতিক লক্ষ্য মূলত তিনটি স্তরে কাজ করছে- গণভোটের টার্নআউট কমানো; বড় দলগুলোর অংশগ্রহণ না থাকার যুক্তি তুলে ধরে ফলাফলের নৈতিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং ভবিষ্যতে এ গণভোটের ভিত্তিতে নেওয়া যেকোনো সংস্কার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জযোগ্য করে রাখা।
এই কৌশলে গণভোটে ‘না’ সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে- এমন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে গণভোটকে বিতর্কিত রাখা।
বিএনপির নিরপেক্ষতা : রাজনৈতিক নিরাপত্তা না ঐতিহাসিক সুযোগ হারানো?
এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির অবস্থান সবচেয়ে বেশি আলোচিত। দলটি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’- কোনো পক্ষেই না যায়, তাহলে এর প্রভাব হবে বহুমাত্রিক। দলের কোনো কোনো নেতা বলছেন, আমাদের ‘না’ ভোটের পক্ষে থাকা উচিত। আবার কোনো কোনো নেতা বলছেন, আমাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিপক্ষে যাবার সুযোগ নেই। এতে শেষ পর্যন্ত গণভোট প্রশ্নে বিএনপির নিরপেক্ষ বা নিষ্ক্রিয় থাকার একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বিএনপি নিরপেক্ষ থাকলে তাদের বড় ভোটব্যাঙ্কের একটি অংশ ভোটের বাইরে থাকতে পারে; এতে অংশগ্রহণ কমে গিয়ে গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা দুর্বল হতে পারে। কৌশলগতভাবে বিএনপি এতে লাভ দেখছে- গণভোট ব্যর্থ হলে দায় নিতে হবে না পাস হলেও তারা ভবিষ্যতে বলতে পারবে, ‘আমরা এই সিদ্ধান্তের অংশ ছিলাম না’।
কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এটি বিএনপিকে এমন একটি অবস্থানে দাঁড় করাতে পারে, যেখানে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে তারা স্পষ্ট নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ বলে বিবেচিত হবে।
আওয়ামী লীগের দৃষ্টিভঙ্গি : নীরবতায় লাভের হিসাব : আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেয়ার অবস্থায় নেই। দলটির ভেতরে এ গণভোটকে দেখা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত-পরবর্তী রাজনৈতিক পুনর্গঠনের লড়াইয়ের অংশ হিসেবে।
আওয়ামী লীগের কৌশলগত মূল্যায়নে এ গণভোট সফল হলে জুলাই বিপ্লবের রাজনৈতিক বয়ান সাংবিধানিক ভিত্তি পাবে, অন্তর্বর্তী সরকারের নৈতিক অবস্থান শক্ত হবে। তাই দলটির একাংশ মনে করছে, গণভোট যেন অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু সর্বদলীয় ও সর্বস্তরের অংশগ্রহণ ছাড়াই এটি হয়। এতে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ সহজেই বলতে পারবে ‘এই গণভোট ছিল একতরফা ও অসম্পূর্ণ।’
‘না’ জয়ী করার ষড়যন্ত্র : রাজনৈতিক অপকৌশল না, সাংবিধানিক আপত্তি?
গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে যে অপচেষ্টার কথা আলোচনায় আসছে, তা এখনো কোনো সর্বব্যাপী গণআন্দোলনে রূপ নেয়নি। তবে কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী এটিকে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক প্রকল্প’ বলে আখ্যা দিয়ে জনগণকে সতর্ক করার অপচেষ্টা করছে।
‘না’ ভোটের পক্ষে থাকা দলগুলো সাধারণত তিনটি যুক্তি সামনে আনছে- প্রথমত, গণভোটের সাংবিধানিক ভিত্তি প্রশ্নবিদ্ধ: তাদের মতে, নির্বাচিত সংসদ না থাকায় এই গণভোটের নৈতিক ও সাংবিধানিক বৈধতা দুর্বল। দ্বিতীয়ত, সংস্কারের নামে ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের আশঙ্কা: তাদের মতে, গণভোটের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের হাত বাঁধবে। তৃতীয়ত, তাদের মতে, এতে জনগণের প্রকৃত সম্মতি নেই: তারা বলছে, জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া এমন গণভোট রাষ্ট্রকে আরও বিভক্ত করবে।
রাজনৈতিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ‘না’ পক্ষ গণভোটকে সরাসরি ঠেকানোর বদলে টার্নআউট কমিয়ে বা অংশগ্রহণ প্রশ্নবিদ্ধ করে ফলাফলের রাজনৈতিক ওজন হ্রাস করতে আগ্রহী।
কোথায় ‘না’ ভোটে পক্ষে কাজ হচ্ছে?
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের দেশের গণভোটে ‘না’ ভোট দিতে জনগণকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, এটি ‘অবৈধ ও দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি’ হিসেবে তারা দেখছেন। তাদের বক্তব্য, বর্তমান গণভোটের আয়োজন সংবিধান লঙ্ঘন করেছে এবং এটি দেশের শাসনতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ডেইলি স্টারসহ কিছু সূত্রে বলা হচ্ছে যে, ‘একটি দল’ বা কিছু পক্ষ ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার চেষ্টা করছে। তবে তারা নির্দিষ্টভাবে বড় কোনো রাজনৈতিক দলের নাম সরাসরি না বললেও এমন প্রচারণার বিষয়ে অভিযোগ উঠছে।
জুলাইপন্থীদের গণভোটকে ‘বিপ্লবের ধারাবাহিকতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকার, প্রধান উপদেষ্টা ও বড় রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে এবং গণভোট ও নির্বাচনকে একত্রে সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করার প্রস্তুতি চলছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনগণকে উৎসাহিত করছেন। নির্বাচনী পরিবেশে সরকারি কর্মীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার করার সুযোগের বিষয়েও বিতর্ক উঠেছে এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে গণভোট সম্পর্কিত প্রচার কার্যক্রমও চলছে।
এই পুরো সমীকরণে সবচেয়ে সক্রিয় ও স্পষ্ট অবস্থানে রয়েছে জুলাই বিপ্লবের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি, ছাত্র-জনতার সংগঠন এবং নাগরিক প্ল্যাটফর্মগুলো। এই শক্তিগুলোর মতে, জুলাই বিপ্লব শুধু সরকার পতনের আন্দোলন ছিল না, এটি ছিল রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের গণআকাক্সক্ষা। তারা মনে করছে, এই গণভোট হলো সেই গণআকাক্সক্ষাকে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রথম ধাপ এবং জনগণের সরাসরি রায়ের মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ।
‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সাংবিধানিক যুক্তি
গণভোট প্রত্যাখ্যান কেন সংবিধানবিরোধী অবস্থান হিসেবে দেখা যেতে পারে- এ বিষয় নিয়ে নানা যুক্তি সামনে আসছে। বলা হচ্ছে, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান কেবল রাজনৈতিক অবস্থান নয়; এটি কিছু ক্ষেত্রে সাংবিধানিক দর্শন ও রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গণভোটের প্রক্রিয়া ও উদ্দেশ্য প্রত্যাখ্যান করা মানেই জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাকে অস্বীকার করার ঝুঁকি তৈরি করা।
প্রথমত, জনগণের সার্বভৌমত্বই সংবিধানের মূল উৎস : বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক দর্শন অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। গণভোট হলো জনগণের সেই ক্ষমতা প্রয়োগের সর্বোচ্চ ও সরাসরি মাধ্যম। এখানে সংসদ, সরকার বা দলীয় কাঠামোর মধ্যস্থতা নেই, জনগণ সরাসরি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে গণভোটকে ‘না’ বলে প্রত্যাখ্যান করা মানে জনগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে অস্বীকার করা, প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার সাংবিধানিক সুযোগকে নাকচ করা
দ্বিতীয়ত, অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোট আহ্বান সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণের উপায় : ‘না’ পক্ষের একটি প্রধান যুক্তি হলো- নির্বাচিত সংসদ না থাকায় গণভোট অবৈধ। তবে সাংবিধানিক বিশ্লেষণে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদ ভেঙে যায়, রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হয় আর সেই শূন্যতা পূরণে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত গ্রহণই সবচেয়ে শক্তিশালী বৈধতার উৎস। এই প্রেক্ষাপটে গণভোট সংসদের বিকল্প নয়, বরং সংসদ অনুপস্থিত থাকাকালে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা সক্রিয় করার একটি সাংবিধানিক পদ্ধতি। এ কারণে গণভোটকে ‘না’ বলা মানে সংকটকালে জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগের পথ রুদ্ধ করা।
তৃতীয়ত, গণভোট প্রত্যাখ্যান মানে ভবিষ্যৎ সংস্কার প্রক্রিয়া অস্বীকার : এই গণভোটের সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্ন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ‘না’ ভোটের মাধ্যমে শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর নয়, বরং সংস্কার প্রক্রিয়ার গণভিত্তিক বৈধতাই প্রত্যাখ্যাত হয়। সাংবিধানিক দৃষ্টিতে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার জনগণের প্রত্যক্ষ সম্মতি ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হয় না, গণভোট সেই সম্মতির পথ তৈরি করছে। অতএব ‘না’ ভোট মানে সংবিধানের গতিশীল ও বিকাশমান চরিত্রকে অস্বীকার করা।
চতুর্থত, গণভোট বর্জন বা প্রত্যাখ্যান সংবিধানের গণতান্ত্রিক চেতনাবিরোধী : সংবিধান কেবল একটি লিখিত দলিল নয়; এটি একটি গণতান্ত্রিক নৈতিকতা বহন করে। গণতান্ত্রিক নৈতিকতার মূল কথায় মতভেদ থাকলেও জনগণের অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা, সিদ্ধান্তের জায়গায় জনগণকে রাখা।
গণভোটের প্রশ্ন বা সময় নিয়ে আপত্তি থাকলে অংশ নিয়ে ‘না’ বলা একটি রাজনৈতিক অধিকার, কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলে আখ্যা দেওয়া গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী এবং সাংবিধানিক নৈতিকতার বিরোধী।
পঞ্চমত, আন্তর্জাতিক সাংবিধানিক চর্চায় গণভোট একটি স্বীকৃত মাধ্যম : বিশ্বের বহু দেশে রাজনৈতিক সংকট, ক্ষমতার রূপান্তর বা বড় সংস্কারের সময় গণভোট ব্যবহৃত হয়েছে সাংবিধানিক বৈধতা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে। এটি প্রমাণ করে গণভোট কোনো ব্যতিক্রমী বা অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া নয়, বরং সংকটকালে জনগণের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি স্বীকৃত পদ্ধতি। এই বাস্তবতায় গণভোটকে ‘না’ বলে নাকচ করা মানে আধুনিক সাংবিধানিক চর্চার বিরোধিতা করা।
ষষ্ঠত, ‘না’ ভোট রাষ্ট্রীয় অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত করতে পারে : সাংবিধানিক বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটের মাধ্যমে একটি স্পষ্ট গণরায় রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতার পথে নেয়, ‘না’ ভোট সেই অনিশ্চয়তাকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। রাষ্ট্র যখন একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন সিদ্ধান্তহীনতা সংবিধানকে দুর্বল করে এবং শক্তিশালী গণরায় সংবিধানকে শক্ত করে এই দৃষ্টিকোণ থেকে ‘না’ ভোট রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার বিপক্ষে অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে সাংবিধানিক যুক্তিতে বলা যায়, গণভোট জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার সরাসরি প্রয়োগ, এটি অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থায় সবচেয়ে শক্তিশালী বৈধতার উৎস এবং ‘না’ ভোট সেই ক্ষমতাকে সীমিত বা অস্বীকার করার ঝুঁকি তৈরি করে। এ কারণে অনেক সাংবিধানিক বিশ্লেষক মনে করছেন ‘না’ ভোট রাজনৈতিকভাবে বৈধ হলেও সাংবিধানিক দর্শনের দিক থেকে এটি একটি প্রতিক্রিয়াশীল ও রক্ষণশীল অবস্থান।’
মাঠপর্যায়ে ভূমিকা
জুলাই বিপ্লবের পক্ষের শক্তিগুলো গণভোটকে কেন্দ্র করে জনসংযোগ, আলোচনা সভা ও নাগরিক প্রচারণা চালাচ্ছে, ‘হ্যাঁ’ ভোটকে তারা উপস্থাপন করছে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিক বিজয় হিসেবে এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলকে আহ্বান জানাচ্ছে ‘নিরপেক্ষ দর্শক না হয়ে ইতিহাসের পাশে দাঁড়াতে’।
এর রাজনৈতিক তাৎপর্য হলো, এই শক্তিগুলো যদি গণভোটে উল্লেখযোগ্য জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে ‘না’ পক্ষের বৈধতা-সংকটের কৌশল দুর্বল হবে, বিএনপির নিরপেক্ষতার রাজনৈতিক মূল্য বাড়বে এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ বয়ান নির্মাণ কঠিন হয়ে পড়বে।
গণভোট মানেই ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ
সব মিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ নয়, এটি জুলাই বিপ্লবের অর্জন টিকিয়ে রাখা বনাম প্রশ্নবিদ্ধ করার রাজনৈতিক লড়াই। এখানে ‘না’ পক্ষ চায় বিতর্ক, বিএনপি চায় কৌশলগত নিরাপত্তা, আওয়ামী লীগ চায় ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পুনরুত্থানের জায়গা আর জুলাই বিপ্লবের পক্ষের শক্তিগুলো চায় এই গণভোটকে একটি ঐতিহাসিক গণরায় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে।
গণভোটের ফল যাই হোক, এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নির্ধারিত হবে অংশগ্রহণ, অবস্থান ও বয়ানের লড়াই দিয়ে। জুলাই বিপ্লবের পক্ষের শক্তিগুলো যদি মাঠে প্রভাব রাখতে পারে, তবে এই গণভোট হয়ে উঠবে বিপ্লব-পরবর্তী রাষ্ট্র নির্মাণের ভিত্তি। অন্যথায় এটি পরিণত হতে পারে আরেকটি দীর্ঘ রাজনৈতিক বিতর্কের উৎসে।