জনগণের ভোটাধিকার ফেরাতে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই
৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৩
৩৬ জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আয়োজনে ব্যস্ত। কিন্তু ফ্যাসিস্ট শক্তি এবং তার দোসররাও বসে নেই। তারা শুধু দেশের ভেতরে নয়, দেশের বাইরের উন্নয়ন সহযোগীদেরও বিভ্রান্ত করতে বহুমুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। এমন অবস্থায় দেশপ্রেমিক শক্তি; বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো বহুদলীয় ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। সবাই দেশ ও জনগণ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে থাকবে সিসাঢালা প্রাচীরের মতো ঐক্যবদ্ধ। জনগণ যাকে বা যে দলকে ভোট দিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে, তারা বিরোধীদলকে তাদের সহায়কশক্তি মনে করবে। সরকারের ভালো কাজের সহযোগিতা এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থবিরোধী বিষয়গুলো যুক্তির সাথে তুলে ধরবে। যৌক্তিক বিষয়গুলো সরকারি দল পুনর্বিবেচনা করবে, তারপর সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে তা বাস্তবায়ন করবে। বিরোধীদল মানে সরকারবিরোধী নয়, ছায়া সরকার। উভয়ই সরকারের অংশÑ অনেকটা দুই চাকার সাইকেলের মতো। যতক্ষণ সাইকেলের দুই চাকার ভারসাম্য বজায় থাকে, ততক্ষণ সাইকেল সোজাপথে চলে। ভারসাম্য নষ্ট হলে দুর্ঘটনা ঘটে। সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যেও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক দেশের উন্নতির জন্য অপরিহার্য।
৩৬ জুলাই বিপ্লবের পর ফ্যাসিস্ট মতবাদে বিশ্বাসীরা পালিয়েছে। এখন দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় গণতন্ত্র, ইসলামী মূল্যবোধ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো। ফ্যাসিস্ট শক্তি ইসলামী মূল্যবোধের সাথে অন্য রং লাগিয়ে বিভেদের দেয়াল তোলার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু আধুনিক দুনিয়ার রাজনৈতিক সচেতন প্রত্যেক বিজ্ঞজনই বিশ্বাস করেন, ইসলামের সাথে অন্য কোনো রং লাগানোর অপচেষ্টা বাংলাদেশবিরোধী অপশক্তির নীলনকশা ছাড়া আর কিছু নয়। কারণ ইসলামী মূল্যবোধ কোনো সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক বিষয় নয়, উদার গণতান্ত্রিক এবং আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সর্বোত্তম আদর্শ।
গত ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের মাতৃবিয়োগের শোকে সান্ত্বনা দিতে। এ সময় তারা সংক্ষিপ্ত অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। বৈঠক শেষে ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘রাজনৈতিক সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে আমরা মিলেমিশে কাজ করা যায় কি না, সে ব্যাপারে কথা বলেছি। বিএনপি নেতারাও একই কথা বলেছেন। নির্বাচনের পর ও সরকার গঠনের আগে আমরা আবারও বসতে চাই। আমরা দেশের স্বার্থে মিলেমিশে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। বেগম জিয়া যেই ঐক্যের জায়গা তৈরি করে গেছেন, সেখানে দাঁড়িয়ে আমরা আগামীতে চলতে চাই।’
বিষয়টি জাতীয় ঐক্য ও সংহতির জন্য নিঃসন্দেহে একটি মহতি উদ্যোগ। রাজনীতি বিশ্লেষক ও সচেতন নাগরিকরা ডা. শফিকুর রহমানের এ উদ্যোগ এবং বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, বাংলাদেশে টেকসই গণতন্ত্রের জন্য দেশের দুই বড় দলের শীর্ষনেতার এ ইতিবাচক উদ্যোগ দেশবাসীর মনে আশা জাগিয়েছে। বিএনপির মিডিয়া বিভাগ পরিচালিত সূত্রে প্রকাশ, ২০২৪ এর ৩৬ জুলাইয়ের বিজয় অন্ধকার থেকে আলোর পথে আসার সাথে তুলনা করে তারেক রহমান বলেন, পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের আমলে দেশে অন্ধকারের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। গণতন্ত্র না থাকলে কেউই আমরা নিরাপদ নই। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল, আমাদের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রকামী জনগণের জন্য সমগ্র বাংলাদেশটাকেই বর্বর বন্দিখানা, আয়নাঘর বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকারগুলোর সুষ্ঠু চর্চার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।
আমরা মনে করি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনীসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব। এ দায়িত্ব নিঃসন্দেহে একটি চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা ব্যর্থ হলে পালিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট অপশক্তির ক্রুর হাসি অট্টহাসি হয়ে ফিরে আসবে, যা আমাদের কারো কাম্য নয়। তাই আমরা মনে করি, জাতীয় ঐক্য ও সংহতি জোরদার করতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল একসাথে কাজ করতে হবে।