ভোট দেয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে বিদেশে পলাতক ফ্যাসিস্টদের
২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:২৬
॥ হাসনাইন জাবেদ॥
প্রথমবারের মতো বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এজন্য নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। পোস্টাল ভোট বিডি নামে অ্যাপে নিবন্ধন করলে তাদের নামে ডাকযোগে বিদেশে চলে যাবে ব্যালট পেপার। সেই ব্যালট পেপারে ভোট দেওয়ার পর তা নিকটস্থ ডাকবাক্সে ফেলে দিলে তা চলে আসবে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে। ব্যালট পেপার পাঠানো ও দেশে ফিরিয়ে আনার সব খরচ পরিশোধ করবে নির্বাচন কমিশন। এতে প্রতিটি ব্যালটের পেছনে ৭০০ টাকা খরচ হবে। বিশাল এ অঙ্ক খরচ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটের ব্যবস্থা করা হলেও কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারা কারা ভোট দিতে পারবে, তার কোনো সুরক্ষা না নেওয়ায় বিদেশে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কর্মীদেরও ভোট দেয়ার সুযোগ থাকছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও অনেকে মামলা মাথায় নিয়ে কর্মকর্তার কাছে। ব্যালট পেপার পাঠানো ও দেশে ফিরিয়ে আনার সব খরচ পরিশোধ করবে নির্বাচন কমিশন। এতে প্রতিটি ব্যালটের পেছনে ৭০০ টাকা খরচ হবে। বিশাল এ অঙ্ক খরচ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটের ব্যবস্থা করা হলেও কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারা কারা ভোট দিতে পারবে, তার কোনো সুরক্ষা না নেওয়ায় বিদেশে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কর্মীদেরও ভোট দেয়ার সুযোগ থাকছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও অনেকে মামলা মাথায় নিয়ে গোপনে বিদেশে পালিয়ে গেছে। এ পদ্ধতিতে তারাও ভোট দিতে পারবে। ব্যালট পেপার আগেভাগে যাওয়ায় তাতে ভোট-বাণিজ্যর সুযোগ থাকছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো দল চাইলে অর্থের বিনিময়ে ব্যালট পেপার কিনে তা ডাকবাক্সে জমা দিতে পারে। এতে এক কোটির বেশি ভোটারের পেছনে যে অর্থ খরচ করা হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
জাল ভোট প্রতিরোধ, ভোট নিয়ে দলাদলি ও মারামারি রোধে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর বদলে প্রবাসীদের ভোটগ্রহণের জন্য বিদেশের বড় শহর ও দূতাবাসগুলোয় একদিনের জন্য বুথ খোলা যেতে পারে। সেখানে গিয়ে প্রবাসীরা ভোট দিতে পারবেন। অর্থ পাচারকারী, দুর্নীতিগ্রস্ত, যাদের নামে মামলা রয়েছে ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা ব্যক্তিরা যাতে ভোট দিতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
পোস্টাল ভোট কী : এবার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ভোট দিতে ইচ্ছুকদের জন্য একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ভোট দিতে হলে আগামী ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের এই অ্যাপ ডাউনলোড করে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য ন্যাশনাল আইডি কার্ড, সংশ্লিষ্ট দেশের মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক লাগবে। এ দুটি বিষয় বাধ্যতামূলক থাকতে হবে।
এছাড়া বিদেশে একটি বৈধ ডাক যোগাযোগ ঠিকানা থাকতে হবে। এ ঠিকানায় আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট চলে যাবে ডাকযোগে। নিবন্ধন করার সময়ে ভোটারের সব তথ্য দেয়ার পরে ফেস রিকগনিশন বা মুখোচ্ছবি নেয়া হবে অ্যাপে। তার মোবাইলে একটি ওটিপি যাবে, ওটিপি দিয়ে মোবাইল নম্বর নিশ্চিত করতে হবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির ছবি তুলে আপলোড করতে হবে। পরবর্তীতে দিতে হবে ভোটারের ছবি।
এভাবে নিবন্ধনের সময় এনআইডির সাথে ওই ভোটারের ফেসিয়াল রিকগনিশনও যাচাই করতে হবে। অর্থাৎ এনআইডি সার্ভারে ওই ভোটারের যে ছবি আছে ফেস রিকগনিশনের সময় চেহারার সাথে মিনিমাম ৭০ শতাংশ মিল থাকতে হবে।
ব্যালট পেপার যাওয়ার পর ভোটার তার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে ব্যালট পেপার ফিরতি খামে ভরে নিকটস্থ ডাকবাক্সে ফেলে দেবেন। সেই ব্যালট চলে যাবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আসনে। নির্বাচনের দিনে বিকেল ৪টার মধ্যে ডাকযোগে ব্যালট পেপার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছালে তা ভোট হিসেবে গণনা করা হবে। এরপর গেলে তা ভোট হিসেবে ধরা হবে না।
নিবন্ধনের জন্য অ্যাপটি ডাউনলোড করে এই প্রক্রিয়া অনুরসরণ করা লাগবে। অ্যাপ ডাইনলোড> লগইন ও রেজিস্ট্রেশন পেজ> এনরুলমেন্টের জন্য একাউন্ট তৈরি> মোবাইল, ইমেইল অ্যাড্রেস, ওটিপি, ভেরিফিকেশন, পাসওয়ার্ড> লগইন উইথ ইউজারনেম (মোবাইল নম্বর) ও পাসওয়ার্ড>এনআইডি ভেরিফিকেশন>ফেসিয়াল রেকগনিশন, লাইভলিনেস চেক>সেলফি>প্রবাসের ঠিকানা, পাসপোর্টসহ আনষঙ্গিক তথ্য>তালিকাভুক্ত ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন।
জিওলজিক্যাল ব্লক সিস্টেম থাকায় কোনো ভোটার যে স্থানে থেকে নিবন্ধন করেছেন, সে এলাকার বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। ব্যালট পেপার হাতে পৌঁছালেও প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ভোট দেয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। ব্যালট পেপার পাওয়ার পরে পুনরায় অ্যাপ চালু করতে হবে। অ্যাপে প্রবেশ করার পর নির্দেশিকা দেখে মোবাইল নম্বর নিশ্চিত করবেন।
পরের ধাপে খামের ওপর থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই ভোটার তার আসনের সব প্রার্থীর নাম দেখতে পাবেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব ও প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের পরিচালক কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও প্রত্যাহারের পর যখন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। তারপরই অ্যাপ থেকে স্ব-স্ব আসনের প্রার্থী তালিকা জানতে পারবেন প্রবাসী ভোটাররা। এর আগে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এর আগে অ্যাপ ভোট দেয়ার জন্য সচল হবে না।
ওই আসনে কোনো রাজনৈতিক দল বা তার পছন্দের প্রার্থীর প্রতীক ভোটার নিজেই দেখতে পারবেন অ্যাপে। ভিন্ন ভিন্ন আসনের ভোটার থাকলেও সব ভোটারের কাছে যাবে একই ব্যালট পেপার। যেখানে সবগুলো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ১১৯টি প্রতীক থাকবে ব্যালটে।
যদি কোনো ভোটার ভোট দেওয়ার পর দেখলেন তিনি যে প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন সেই সেই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, তখন ওই আসনের প্রবাসী ভোটও বাতিল হবে। একই সাথে যদি ওই আসনে বাদ পড়া কোনো প্রার্থী যদি উচ্চ আদালতে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান, সেক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট আসনের প্রবাসী ভোট বাতিল হিসেবে ধরা হবে।
সেখান থেকে প্রবাসী ভোটার ১১৯টি প্রতীকের মধ্যে তার পছন্দের প্রতীকের ব্যালটের পাশে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেবেন। ভোট প্রদান শেষে সেটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ পর্যন্ত পৌঁছাতে সর্বনিম্ন ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন বা ইসি।
এ কারণে বিদেশে যে ব্যালট পাঠানো হবে, সেখানে থাকবে নিবন্ধিত সবগুলো রাজনৈতিক দল ও জাতীয় নির্বাচনের জন্য ইসির নির্ধারিত প্রতীক। প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানো থেকে শুরু ভোট প্রদান শেষে সেগুলো রিটার্নিং অফিসে পাঠানো পর্যন্ত পুরো দায়িত্ব থাকবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের হাতে। এজন্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।
সময়মতো না পৌঁছালে বাতিল হবে ভোট : ব্যালট পেপার যে খামে পাঠানো হবে, তার সাথে থাকবে একটি ঘোষণাপত্র। ব্যালট পেপারে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ওই ঘোষণাপত্রেও স্বাক্ষর করতে হবে ভোটারকে। যে খামে ব্যালট পেপার থাকবে সে খামের বাইরে আলাদা একটি খামে থাকবে ঘোষণাপত্র। ভোটার যে নিজে ভোট দিয়েছেন, সেটি উনি ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করবেন এবং সেটিতে সাক্ষর করবেন।
যদি কোনো ভোটার শুধু ভোট দিয়ে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর ছাড়াই ব্যালট পেপার বাংলাদেশে পাঠান, সেক্ষেত্রে ওই ভোটটি বাতিল ভোট হিসেবেই গণ্য করবে রিটার্নিং কর্মকর্তা। ডাক বিভাগের সাথে নির্বাচন কমিশনের চুক্তি অনুযায়ী ব্যালট ট্র্যাকিং সিস্টেম যুক্ত থাকবে। কোন ব্যালট কোথায় আছে, সেটি যেমন ভোটারও জানতে পারবে, তেমনি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসও সেই তথ্য জানতে পারবে।
প্রবাসী কারা : অর্থ আয়ের জন্য বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো অফিস থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মূলত প্রবাসী হিসেবে বা ওয়েজ আর্নার হিসেবে ধরা হয়। এর বাইরেও অনেকে বিদেশে অবৈধ থাকার পর বৈধ হওয়া ব্যক্তিরাও পাসপোর্ট দেখিয়ে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে পারেন, তারাও প্রবাসী হিসেবে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন। এছাড়া অনিবাসি হিসেবে দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে স্থায়ী হয়ে গিয়েছেন। তারাও এবার ভোট দিতে পারবেন।
তবে তাদের প্রত্যেকের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি থাকা মানে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। এ প্রক্রিয়ায় এবার নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করার সুযোগ রেখেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগারদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা নিয়েও লুকিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে বিদেশে। যার বেশিরভাগই গিয়ে উঠেছে ভারতে। তাদেরও এনআইডি কার্ড রয়েছে। বর্তমান নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় তারাও ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে পারবেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কেনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কমিশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তালিকায় রয়েছে ভারতের নাম : বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত করেনি ভারত। এ কারণে বাংলাদেশ থেকে কোনো কর্মী কাজের জন্য ভারতে যেতে পারে না। বাংলাদেশিদের জন্য তারা চাকরি বা জব ভিসাও ইস্যু করে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ভারত থেকে কোনো প্রকার রেমিট্যান্স আসে না দেশে। এবারের ভোটার অ্যাপে ভারতের নাম রয়েছে। গত ২৬ নভেম্বর বুধবার পর্যন্ত ভোটার অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৩৭ হাজার প্রবাসী নিবন্ধন করেছে ভোট দিতে। এর মধ্যে আসন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ভোটার নিবন্ধন হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে। আর জেলা অনুযায়ী ঢাকা সর্বোচ্চ। আর ঢাকার আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকা-১৮ আসনে (উত্তরা ও আর আশপাশের এলাকা) সবচেয়ে বেশি ভোটার নিবন্ধন হয়েছে।
জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ : সরাসরি খামে ব্যালট পেপার যাওয়ার তা অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ভোটারদের সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। নইলে বিদ্যমান ব্যবস্থায় ভোট বিক্রি হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, খামের কিউআর কোড স্ক্যান হওয়ার পর আর কিছুর প্রয়োজন হবে না। ভোটাররা ভোট দেয়ার পর দেখাতে পারবেন ভোট কোথায় দিয়েছেন। দেশে তো ভোটার টাকা নিলেও গোপন বুথে নিজের মতো ভোট দিতে পারেন। সেখানে কেউ থাকে না। কিন্তু এখানে তো ভোট প্রকাশ্যে হয়ে যাচ্ছে।
একজন আরেক জনের ভোট দিতে পারেন বা সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে এসে ভোট দেওয়ার পর টাকার বিনিময়ে ব্যালট পেপার নিয়ে নেয়ার সুযোগ থাকছে। অথবা একই ঠিকানা ব্যবহার করার সুযোগ থাকছে একাধিক ভোটারের বলেও অভিযোগ করেছেন সৌদি আরব প্রবাসী মুসা সাত্তার। তিনি বলেন, প্রবাসীরা তো মেস করে একসঙ্গে অনেকে থাকেন। সেখানে এসে কেউ টাকা দিয়ে ভোট কিনে নিতে পারেন কোনো দলের পক্ষে। এতে ভোট বিক্রি হওয়াটা সহজ হবে দেশের তুলনায়। তখন মারামারি পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।
মালয়েশিয়া প্রবাসী খোকন সরদার বলেন, ভোট কেনাবেচা তখন ওপেন হয়ে যাবে। একজনের ব্যালটে আরেকজন ভোট দিয়ে যাবে। এটা ঠেকানো যাবে না। এমনকি ভোট দেয়া-না দেওয়া নিয়ে মারামারি হলে বাংলাদেশ কমিউনিটির বদনাম হবে। এমনিতেই দল নিয়ে ভাগাভাগি আছে সব খানে।
বিদেশে একদিনে ভোট নেয়ার আহ্বান : জাল ভোট, আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ রক্ষা, বিদেশে বাংলাদেশের মর্যদা রক্ষা ও ভোটারের নিরাপত্তার স্বার্থে একদিনে ভোট গ্রহণ করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি অধ্যুষিত বড় শহরগুলো ও দূতাবাসগুলোয় একদিনের জন্য ভোট বুথ স্থাপন করা যেতে পারে। কোনো কমিউনিটি সেন্টারে ভোট বুথ স্থাপন করে গোপন ব্যালটে ভোটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
সেখানে ভোট ও ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়ানো যাবে। সেক্ষেত্রে প্রবাসীদের যাতায়াতে কোনো প্রকার সাবসিডি দেওয়া যায় কি না, তা ভাবা যেতে পারে বলেও পরামর্শ দেন জয়নুল আবেদীন। সাবসিডি হিসেবে রেমিট্যান্স পাঠানোর সময়ে এক মাসের জন্য ইনসেনটিভ বাড়িয়ে দেয়া যেতে পারে। এখন ভোট নেওয়ার জন্য ব্যালট প্রতি যে খরচ হচ্ছে, তা প্রবাসীদের দিয়ে দেয়া যেতে পারে। তাহলে বাংলাদেশের বাড়তি ডলারও খরচ হবে না।
বিশ্লেষক ও সাংবাদিকরা বলছেন, ভোটের গোপনীয়তা ও ভোটারের নিরাপত্তা রক্ষা করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশই তাদের প্রবাসী ভোটারদের জন্য হাইকমিশনগুলোয় ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে। পোস্টাল ভোট আমাদের মতো দেশের জন্য অতটা নিরাপদ না। বর্তমানে বিদেশে থাকা বাংলাদেশির সংখ্যা এক কোটির ওপরে। অর্ধেক প্রবাসীও যদি নিবন্ধন করেন, তাহলে বাংলাদেশের সাড়ে ৩০০ কোটি টাকা খরচ হয়ে যাবে। ভোট সংগ্রহে যা খরচ হবে তার পুরোটাই হবে বৈদেশিক মুদ্রায়।
এজন্য ব্যালট প্রতি খরচের বদলে শহরে শহরে বুথ স্থাপন করে কোনো একদিন ভোট নেওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশে যেভাবে ভোট হয় বিদেশেও একই পদ্ধতিতে ভোট নেওয়া যেতে পারে। একইভাবে যাদের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে তাদের ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে আদালতের নির্দেশনা নিতে পারে নির্বাচন কমিশন।