বিচার ব্যর্থ হলে নির্বাক হয় সংবিধান
২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৬:১১
॥ মাহবুবুল হক ॥
গত ২২ নভেম্বর শনিবার ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশনে’ বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলেছেন, ‘বিচার বিভাগ ব্যর্থ হলে রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যায়। তখন সংবিধানও নির্বাক হয়ে যায়। আর এ কারণে মানুষের প্রত্যাশা ধ্বংস হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব সংবিধানকে উৎখাত করতে নয়, বরং এর সাথে সম্পর্ককে বিশুদ্ধ করতে উদ্ধৃত হয়েছিল। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসাড়া- এ তিন গুণ জনমানুষের প্রধান সুর হয়ে উঠেছিল।’
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বজুড়ে সংকট ও অস্থিরতার সময় বিচার বিভাগকে সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হবে। বিচার বিভাগের সংস্কার শুধু সৌন্দর্যবর্ধন নয়, এটি রাষ্ট্রের মতো গণতন্ত্রকেও টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের ‘সংস্কার রোডম্যাপ’ আদালতের প্রশাসনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে একটি আধুনিক, নৈতিক ও দক্ষ বিচার ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
এখানে উল্লেখ করা দরকার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজে (সিজিএস) আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশন’র আয়োজন করে। চতুর্থবারের মতো আয়োজিত তিনদিনব্যাপী এ সম্মেলনে ৮৫টি দেশের ২০০ আলোচক, ৩০০ ডেলিগেট এবং ১ হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগদান করেছেন।
যেকোনো দিক থেকে বিচার করলে খুব সহজভাবে অনুধাবন করা যায় যে, সম্মেলনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে ৮৫টি দেশের প্রায় ৫০০ আইনজ্ঞ ব্যক্তি এ বিশেষ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। যে দেশে মাত্র ১ বছর পূর্বে ‘রুল অব ল’ বলে কিছু ছিল না। সেই দুর্ভাগা দেশে এত বিশাল একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন সম্পন্ন হওয়ার খবর দারুণভাবে প্রণিধানযোগ্য। এর সোজাসুজি লক্ষ্য ও গন্তব্য যে ‘রুল অব ল’-এর দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়, তা অনুধাবন করা যায়। যারা এ সম্মেলনটি আয়োজন করেছেন, তাদের আজ আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই। বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত বিজ্ঞজন মতামত ব্যক্ত করেছেন যে, যথাযথ সময়ে যথাযোগ্য বিষয়ে আয়োজন করা হয়েছে।
এ কথা সত্য যে, দেশের চিন্তাশীল জনগণ ও বিদেশের বিদ্বজ্জন আমাদের দেশের ‘রুল অব ল’ প্রতিস্থাপনের বিষয়টি নিয়ে বহু বছর থেকে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সংবিধান প্রণীত হলেও বাংলাদেশে ‘রুল অব ল’ প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি। কারণ অনেক।
মূলত পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি সামনে রেখেই বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। কারণ এ সূত্রপাতও ছিল জনগণের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত করা। পূর্বের পটভূমি ছিল উপনিবেশবাদ দেশের শাসন দেশের মানুষের হাতে ছিল না। ছিল বিদেশিদের হাতে, তাদের সার্বভৌমত্ব এখানে বিদ্যমান ছিল। জনগণ ছিল এক ধরনের প্রজা। সে কারণে রাজা এবং প্রজা মিলিয়ে দেশটি পরিচালিত হতো। রাজারা ছিল শোষক ও শাসক। প্রজারা ছিল রাজাদের দাসানুদাস। অর্থাৎ শোষিত জনগোষ্ঠী। প্রায় ২০০ বছরের শোষণে প্রজারা ছিল মৃতপ্রায়। যারা ছিল এককালে রাজা, তারা প্রজায় পরিণত হয়। তাদের মধ্যে বিরাট একটি শ্রেণি আশাহীন-ভাষাহীন হয়ে পড়ে। তাদের দিগন্তে স্বপ্নরা তখন ভিড় করতো না। সে অবস্থায় ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীনতা লাভ করায় প্রথম যে স্বপ্ন বা গন্তব্য উদ্ভাসিত হয়, তা হলো জনগণের রাজত্ব জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া। সোজা কথায়, জনগণকে দেশের মালিক বানানো। স্বাধীনতা আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা বার বার একই কথা বলেছেন, ইংরেজরা যে বাদশাহী আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল, আমরা সেই বাদশাহী প্রতিষ্ঠিত করব না। আমরা জনগণের বাদশাহী প্রতিষ্ঠা করব। জনগণ হবে সর্বক্ষমতার মালিক। কিন্তু বাস্তবে সে কাজটি সেভাবে আর হয়নি। এই না হওয়ার দুঃখ, কষ্ট ও বেদনা থেকে স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রাম শুরু হয়। স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রাম উপেক্ষিত হলে নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করতে হয়।
আমরা এখানে স্বাধীনতার পটভূমি ও প্রেক্ষাপট লেখতে বসিনি। লেখতে বসেছি মানবাধিকার প্রসঙ্গে। প্রসঙ্গক্রমে অনিবার্য বিষয়গুলো ‘কান টানলে মাথা আসা’র মতো চলে আসছে।
মানুষ মানুষের মতো থাকবে। কিন্তু তা না হয়ে মানুষ হয়ে যাচ্ছে রাজা, প্রজা, দাস-দাসানুর অনুবর্তী। কখনো জন্তু-জানোয়ারের মতো কিছু একটা। কখনো গৃহপালিত পশুর মতো ভক্ত-অনুরক্ত। কখনো বন্যপ্রাণীর মতো হিংস্র। কখনো বানরের মতো রসিক। কখনো শেয়ালের মতো ধূর্ত। কখনো গাধার মতো ভারবাহী। কখনো কুকুরের মতো প্রভুভক্ত। মানুষের হওয়ার কথা ছিল পাহাড়-পর্বতের মতো উচ্চশীর, শক্ত দৃঢ় নদীর মতো বহমান, ঝর্ণার মতো চঞ্চল-প্রজনন, সাগরের মতো গভীর-অতল, আকাশের মতো উদার, মেঘের মতো কল্যাণময়ী, সূর্যের মতো উত্তাপ, চাঁদের মতো মায়াময়, স্নিগ্ধ, বনানীর মতো সবুজ, সতেজ ও প্রাণবন্ত, বাতাসের মতো মঙ্গলময়।
মানুষ শুধু অধিকারকামী জীব নয়, মানুষ দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতীক। যুগে যুগে, কালে কালে মানুষকে মানুষ রাখেনি একদিকে শয়তান; আরেকদিকে রাজা-বাদশাহ, প্রেসিডেন্ট, শাসক, শোষক ও প্রশাসক। যারা শুধু মানুষকে নয়, সৃষ্টিকেও ভয়ংকরভাবে পরিবর্তিত করেছে। তারা নিজেরা যেমন শোষকশ্রেণিতে পরিণত হয়েছে তেমনি অপরকেও শোষক বানিয়েছে। শোষকে শোষকে যুদ্ধ-বিবাদ, মারামারি, ধ্বংস পৃথিবীর ইতিহাসকে নানাভাবে বিভক্ত ও খণ্ডিত করেছে।
মানুষকে শুধু শাস্তি দেয়ার জন্য আইন প্রণীত হয়নি। আইন প্রণীত হয়েছে শাস্তি ও পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে মানুষকে মানুষের মতো রাখার জন্য। কবি বলেছেন, ‘বন্যরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।’ তাই মাতৃক্রোড়ই হলো আল্লাহর আইন এবং মানুষের তৈরি করা আইনকানুন, বিধিবিধান আরও কত কী।
রাসূল (সা.) যখন রাষ্ট্র গঠন করলেন, তখন যারা রাষ্ট্রের মূল স্টেকহোল্ডার ছিলেন তাদের সবাইকে নিয়ে চুক্তিপত্র সম্পাদন করে সংবিধান তৈরি করলেন, যার নাম ‘মদিনা সনদ’। যাকে বলা হয়, দুনিয়ার প্রথম লিখিত সংবিধান। বলা হয়ে থাকে, ৪২টি অথবা ৪৩টি গোত্রের সাথে চুক্তি করেই মদিনায় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। কারণ প্রতিটি গোত্রের মানুষের স্বপ্ন, পরিকল্পনা, আশা-আকাক্সক্ষা, চাওয়া-পাওয়া, সমস্যা-সম্ভাবনা, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ একরকম নয়। বিভিন্ন রকম। এই বিভিন্ন রকম মানুষকে একাট্টা করে এবং তাদের দায় ও দায়িত্ব লিপিবদ্ধ করে রাসূল (সা.) মদিনায় সেই রাষ্ট্রটি গঠন করেছিলেন। সেখানে যে মূল কথা উঠে এসেছিল, তাতেও ছিল মানুষের অধিকার ও দায়-দায়িত্ব। এরপর দুনিয়ায় যত সংবিধান তৈরি করা হয়েছে, তাতেও প্রায় একই কথা বিদ্যমান রয়েছে। এসবই হলো সংবিধানের পজিটিভ দিক। যেসব দেশ ও রাষ্ট্র মৌখিক বা লিখিতভাবে সংবিধান সংরক্ষণ করতে পেরেছে, তারা তাদের রাষ্ট্র গঠনের মৌলিক বিষয়গুলোকে অক্ষুণ্ন রাখতে পেরেছে। যেমনÑ বর্তমান যুগে আমরা যাকে বলি উন্নত রাষ্ট্র। আমরা উন্নত রাষ্ট্রের দিকে যেতে পারব, যদি আমাদের বিচার বিভাগ সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারে। প্রধান বিচারপতি কথাটিকে স্বীকার কর নিয়ে বলেছেন, বিচার বিভাগ ব্যর্থ হলে রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যায়, আর এ কারণে মানুষের প্রত্যাশা ধ্বংস হয়।
প্রধান বিচারপতি যা বলেছেন, একদম সত্য কথা বলেছেন। শুধু সত্য নয়, বাস্তব কথা বলেছেন। বাংলাদেশে একটি কথা সবসময় চালু ছিল, সেটা হলো- বিচার বিভাগ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। বিচার বিভাগ যদি ব্যর্থ হয়ে যায়, তাহলে মানুষের শেষ আশা-ভরসাও নস্যাৎ হয়ে যায়। এজন্যই বিচার বিভাগকে এক নম্বর বিভাগ গণ্য করা হতো এবং শিক্ষা বিভাগকে গণ্য করা হতো দুই নম্বরে। যাতে দেশের মানুষ সঠিক শিক্ষা পায়। সঠিক শিক্ষা পেলে মানুষ সঠিক মানুষে পরিণত হয়। আর সঠিক মানুষ মানেই সঠিক বিবেকবান মানুষ, সুবিচারপূর্ণ মানুষ, ন্যায়বিচারপূর্ণ মানুষ। সংক্ষেপে ন্যায়পরায়ণ মানুষ। ছেলেবেলায় যে কথাগুলো আমরা শুনেছিলাম বা শিক্ষকদের কাছ থেকে জেনেছিলাম, তারই প্রতিধ্বনি এখন আমরা শুনলাম আমাদের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের কাছে। তিনি অবশ্য আরো তিনটি বিষয়কে এখানে সংযোজন করেছেন। তা হলোÑ রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও সংবিধান। মানুষের কথা বলতে গিয়ে তিনি খুব শক্তভাবে বলেছেন, বিচার বিভাগ ব্যর্থ হলে মানুষের প্রত্যাশা ধ্বংস হয়ে যায়। এসব কথা থিউরিটিক্যাল নয়। আইনের বইয়ে এ কথাগুলো লেখা আছে বলে তিনি বলেছেন, তাও নয়। আসলে এ বিষয়গুলো গত ৫৪ বছরে আমাদের দেশে উপর্যুপরি ঘটেছে এবং ধীরে ধীরে অন্যান্য রাষ্ট্রীয় ইনস্টিটিউটের মতো বিচার বিভাগের মতো রাষ্ট্রের মহাগুরুত্পূর্ণ স্তম্ভটিও ধ্বংস হয়ে গেছে। সে কারণে দেশবাসী বহুদনি ধরে বিচার বিভাগের ওপর পূর্বেকার আস্থা ও বিশ্বাস নিদারুণভাবে হারিয়ে ফেলেছে। রাষ্ট্রের সমূহ স্তম্ভগুলো ধ্বংস হয়ে গেলেও বিচার বিভাগ যদি ‘রুল অব ল’ মেনে চলতো, তাহলে আমাদের রাষ্ট্রটি রাষ্ট্র হিসেবে টিকে যেত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বিচার বিভাগ নিয়ে গত প্রায় ১৬ বছর ধরে ‘রুল অব ল’ মানা হয়নি। সরকার মানেনি, রাষ্ট্র মানেনি, বিচার বিভাগ মানেনি এবং বিচার বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন মানেনি। এর জন্য দায়ী মূলত সরকার। বিচার বিভাগকে ইচ্ছাকৃতভাবে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেয়া হয়নি। সরকার থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করা হয়নি। তারপরও অনেক এলোমেলো অবস্থার মধ্যে উচ্চ আদালতে আংশিকভাবে হলেও ‘রুল অব ল’ কিছুটা বিদ্যমান ছিল। কিন্তু গত ১৬ বছরে সেটাও ধ্বংস করা হয়েছে।
এজন্য জনগণ কতটা দায়ী হবে জানি না। ‘রুল অব ল’ যারা বানিয়েছেন, তা তো বানানো হয়েছে মানার জন্য। তারা যদি নিজেরাই না মানেন, তাহলে জনগণের কী আর করার থাকে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে হতে জনগণের কোনো কোনো অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, কাবু হয়ে যায়, ধ্বংস হয়ে যায়। আবার কোনো কোনো অংশ জাগতিকভাব লাভবানও হয়ে যায়। লাভবানের ক্ষেত্রে দেখা যায় বাদী, বিবাদী, সাক্ষী এবং আসামি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নানারকম ওলট-পালটও হয়। জুলুমকারী, লুটপাটকারী, আত্মসাৎকারী আইনের মাধ্যমে বা বিচার বিভাগের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আমাদের দেশে তো বহু বছর যাবত এ সিলসিলা চলে আসছে। যিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সুবিচার না পেয়ে আদালতের আশ্রয়ে গিয়ে বাদী হয়েছেন, দেখা যায় অনেক সময় তিনি সঠিক বিচার পাচ্ছেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, দরিদ্র পুরুষ ও দরিদ্র নারী বিচার পায় না।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, রাজনীতিবিদ, প্রশাসক, চাকরিজীবী, সমাজের প্রতিপত্তিশালী অংশ, প্রভাবশালী অংশ, ধনী, জোতদার, ব্যবসায়ী আইন ও বিচারের মাধ্যমে লাভবান হয়ে আসছে। সমাজের শতভাগ লোকজনের মধ্যে একজন ব্যক্তি দুর্নীতিবাজ, কিন্তু তার বিরুদ্ধে সমাজের কিছুই করার থাকে না। সেই ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, অবারিতভাবে লাভবান হয়। সমাজের সবাই এ বিষয়ে একটি কথাই বলে থাকে, বিচার বিভাগে দুর্নীতি রয়েছে। সুতরাং দুর্নীতিবাজরা সেখানে আশ্রয় প্রাবে, পৃষ্ঠপোষকতা পাবে- এটাই তো স্বাভাবিক। এসব কারণে গত সরকার ভেঙে পড়েছে। কারণ তারা নিজেরাই নিজেদের স্ট্র্যাকচার বা অবকাঠামো ভেঙে ফেলেছে। তারা শুধু চেয়েছে নিজেদের লোকজনসহ অর্থ আত্মসাৎ করতে। সুতরাং সমস্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে তারা লুটপাট, অর্থ পাচার, অর্থ আত্মসাৎসহ যা কিছু করার, সবকিছু করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কোথাও কিছু করা যায়নি। উচ্চ আদালত দূরের কথা, নিম্ন আদালতেও নালিশ করা যায়নি। খুন, গুম, হত্যাসহ গত সরকার যা কিছু করেছে, তার সবই ছিল রাষ্ট্র, সরকার, গণতন্ত্র, সংবিধান এবং মানুষের প্রত্যাশার বিরুদ্ধে। পৃথকভাবে এ স্বীকৃতি আমরা পেলাম ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশন’র মাধ্যমে। এখন এর প্রতিবিধান শুরু করতে হবে বিচার বিভাগের মাধ্যমে।