বুলডোজার অভিযানে আসামে বাস্তুচ্যুত শত শত মুসলিম পরিবার


১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:১১

আসামের গোয়ালপাড়া জেলায় মুসলিমদের টার্গেট করে চলছে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান। এক হাজার ১৪৩ বিঘা বনভূমি থেকে কথিত দখলদারদের সরিয়ে দিতে রাজ্য বিজেপি সরকার পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী এবং বনরক্ষীসহ ৯ শতাধিক কর্মী মোতায়েন করে বুলডোজার ও খনন যন্ত্র ব্যবহার করে এ অভিযান চালাচ্ছে। এ এলাকাটিকে দহিকটা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করা হয়। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে ৯ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানটি দুদিন ধরে চলবে। পরিবারগুলোর চোখের সামনেই তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। এতে এলাকাজুড়ে চরম দুর্দশার দৃশ্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন মতে, ধ্বংসস্তূপের মাঝে নিজের সন্তানকে কোলে নিয়ে একজন নারী বলেন, ‘আমরা মুসলিম বলেই আমাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে।’ কণ্ঠস্বর কান্নায় রুদ্ধ হয়ে আসা আরেকজন নারী বলেন, ‘আমরা এখানে জন্মেছি। আমাদের বাবা-দাদারা এখানে থাকতেন। এখন আমাদের ঘর চলে গেছে, আমরা কোথায় যাব?’ জানা গেছে, বুলডোজার আসার আগেই বেশ কিছু বাসিন্দা তাদের টিনের ছাদের ঘরগুলি নিজেরাই ভেঙে ফেলেন। অনেকে জানান, সরকার তাদের জন্য কোনো পুনর্বাসন বা স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেনি, ফলে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিসহ শত শত মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। একজন বয়স্ক ব্যক্তি বলেন, ‘এ জমিটুকুই আমাদের একমাত্র বাড়ি। যদি অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকত, তাহলে আমরা সেখানেই চলে যেতাম।’
গোয়ালপাড়ার ডেপুটি কমিশনার প্রদীপ টিমুং বলেন, প্রায় ৫৮০টি পরিবারকে দুই সপ্তাহেরও বেশি আগে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এর প্রায় ৭০% স্বেচ্ছায় এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন এবং বাকিরা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। টিমুং দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘সম্পূর্ণ এলাকাটি দহিকটা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আওতাভুক্ত এবং এ লোকজন এটি দখল করেছিল।’ এ অভিযান গৌহাটি হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিশেষ মুখ্য সচিব (বন) এম.কে. যাদব বলেন, উচ্ছেদ হওয়া এলাকাটি হাতির চলাচলের করিডোরের মধ্যে পড়ে এবং মানব বসতি সরিয়ে দিলে মানুষ-প্রাণীর সংঘাত কমাতে সাহায্য হবে। তবে বাসিন্দারা সরকারের দখলের দাবি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর একজন আব্দুল করিম প্রশ্ন করেন, ‘যদি আমরা দখলদারই হতাম, তবে সরকার কেন আমাদের বিদ্যুৎ, শৌচাগার এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিল?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আধার কার্ড এবং জমির কাগজপত্র আছে, তবুও আমাদের বহিরাগত হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।’ অল আসাম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন এ অভিযানের নিন্দা জানিয়ে এটিকে বৈষম্যমূলক এবং অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনটির সভাপতি রেজাউল করিম সরকার প্রশ্ন করেন, ‘সরকার আর কতদিন এ নিপীড়ন চালাবে… মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, এবং আশ্রয় কেড়ে নেবে?’ তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। মানুষ যদি শান্তিতে বসবাস করতে না পারে, তবে শাসকও শান্তিতে থাকতে পারবেন না।’ দ্য অবজারভার পোস্ট।