দিল্লির পর ইসলামাবাদে বিস্ফোরণ, নিহত ১২


১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:০৪

সোনার বাংলা ডেস্ক : গত ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি আদালত ভবনের বাইরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত ও দুই ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে একটি ক্যাডেট কলেজে হামলার ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। দুটি ঘটনার জন্য ভারতকে দায়ী করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। এর আগে গত ১০ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে গাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি গত ১১ নভেম্বর মঙ্গলবার আদালতের বাইরে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, দুপুর ১২টা ৩৯ মিনিটে একটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে ১২ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
বিস্ফোরণটি ঘটেছে ইসলামাবাদ জেলা আদালতের প্রবেশদ্বারের কাছে। সাধারণত মামলাসংক্রান্ত কাজে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষ ও দর্শনার্থীর ভিড় থাকে সেখানে। এছাড়া দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে একটি ক্যাডেট কলেজে হামলার ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মহসিন নাকভি।
দুই হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, ‘দুটি হামলাই এ অঞ্চলে ভারতের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের নিকৃষ্টতম উদাহরণ।’ তবে নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ দেননি তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সরকারি একটি অ্যাকাউন্টে দেয়া পোস্টে শাহবাজ শরীফ বলেন, ‘বিশ্বের এখন সময় এসেছে ভারতের এ ধরনের জঘন্য ষড়যন্ত্রের নিন্দা জানানোর।’ তিনি আরো বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের অভিশাপকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল না করা পর্যন্ত আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাব।’
এদিকে নয়াদিল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন ভুটান সফরে থাকা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। থিম্পুতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘তদন্তকারী সংস্থাগুলো এ ষড়যন্ত্রের গোড়া পর্যন্ত যাবে। অপরাধীদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’ পুলিশ বলছে, সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা নাশকতা ছাড়া অন্য কিছু নয়। কিন্তু কে বা কারা এর জন্য দায়ী, তা সরকার এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। এখন পর্যন্ত কেউ দায়ও স্বীকার করেনি।
এদিকে লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ফরিদাবাদের আল ফালাহ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক মোহাম্মদ উমরের নাম উঠে এসেছে। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে দাবি করেছে, ওমর ফরিদাবাদ সন্ত্রাসী মডিউলের সদস্য এবং গত সোমবার রাতে লালকেল্লার কাছে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারী সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরণের জন্য ব্যবহৃত হুন্দাই আই২০ গাড়িটি ওমর নিজেই চালাচ্ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগে গাড়ির চালকের আসনে ওমরকে দেখা গেছে। বিস্ফোরণের আগে প্রায় ৩ ঘণ্টা সুনেহরি মসজিদের কাছে গাড়িটি পার্ক করা ছিল।