দাঁড়িপাল্লায় ভোটের জোয়ার বইছে সারা দেশে : মিয়া গোলাম পরওয়ার


২৪ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:৪৭

আবু সাইদ বিশ্বাস ও নূর ইসলাম, সাতক্ষীরা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সারা দেশের মানুষ এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে প্রস্তুত হয়ে আছে। নতুন বাংলাদেশে যে ঢেউ শুরু হয়েছে, তা সারা দেশে পৌঁছে দিতে হবে। জামায়াত গুম, খুন, লুটপাট ও দুর্নীতিমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চায়।
গত সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে সাতক্ষীরার তালা ফুটবল মাঠে এক ছাত্র-যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘১৯৯১ সালে কোনো জোট ছাড়া তালা-কলারোয়ায় জামায়াতের প্রার্থী শেখ আনছার আলী বিজয়ী হয়েছিলেন। জামায়াত এখন আলাদাভাবে ভোট করছে। তাই বলে জামায়াতে ইসলামীর ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা কিংবা পোস্টারের ওপর পোস্টার মারা, এটা তো বন্ধুসুলভ কাজ হয় না। দেশের চারটি শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের মেধাবী ছেলেরা পরিবর্তন চায়, সেই বার্তা দিয়েছে।’ বিএনপির এক নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতো জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কথা বলে, তবে এটি ফ্যাসিস্ট মনোভাবের প্রকাশ। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তারা কখনো অন্য দলের রাজনীতি নিষিদ্ধের কথা বলতে পারে না।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছরে তিনটি দল আওয়ামী লীগ ২১ বছর, বিএনপি ১৫ বছর আর জাতীয় পার্টি ৯ বছর ক্ষমতায় ছিল। তারা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। করেছে নিজেদের পরিবর্তন। ক্ষমতায় যায়নি শুধু জামায়াতে ইসলামী। এবার জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিয়ে পরীক্ষা করুন। এ কথা বলতে পারি, জামায়াত ঘুষ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস করে না। দেশে দুর্নীতি ও লুটপাট থাকবে না। দেশের মানুষকে ভালো রাখবে।’
কোনো উসকানিতে উত্তেজিত না হয়ে তালা-কলারোয়ার মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো উসকানির ফাঁদে পা দেবেন না। একটি পক্ষ আমাদের গণজোয়ার রুখে দিতে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। জামায়াত ঘের দখল, জমি দখল করে না, বালু উত্তোলন করে না। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে বেকার থাকবে না, দুর্নীতি থাকবে না, লুটপাট থাকবে না। তাই এবার সকলকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, একজন বিএনপি নেতা, যার বাড়ি নোয়াখালী, তিনি বলেছেন, বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে আওয়ামী লীগের মতো জামায়াতকেও নিষিদ্ধ করতে হবে। বিএনপির কোনো কেন্দ্রীয় নেতা যদি এমন কথা বলেন, তাহলে তো বিএনপির কণ্ঠে আওয়ামী লীগের সুর শুনতে পাচ্ছি। বিএনপির কণ্ঠে ফ্যাসিবাদের সুর শোনা যায়। তাই আমাদের শান্ত থাকতে হবে। তারা পাঁয়তারা করবে, গণ্ডগোল করবে, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলবে, হামলা করবে- আমরা আমাদের প্রিয়নবীর শ্রেষ্ঠ উম্মতের মতো অসীম ধৈর্য নিয়ে নির্বাচন পর্যন্ত স্থির থাকব। ধৈর্যের বিনিময়ে বিজয় আমরা অর্জন করব, ইনশাআল্লাহ।
এনসিপির উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার বলেন, তোমরা নতুন ছাত্রদের দল। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে পাল্লা দিতে গেলে তোমাদের আরও বহুদূর যেতে হবে। জন্ম নিয়েই বাপের সঙ্গে পাল্লা দিও না। নতুন গঠিত ছাত্রদের একটি দলের নেতা দুঃখজনক একটি স্ট্যাটাস দিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী সংস্কার চায় না, জামায়াতে ইসলামী সংস্কার ও নতুন সংবিধান সংলাপে ভূমিকা রাখেনি। অথচ ঐকমত্য কমিশনে লিখিতভাবে ছয়টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে আমরাই প্রথম পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিয়েছি। তারা চাচ্ছেন আমরা যেন তাদের সমালোচনা করি- কিন্তু কেউ তো তাদের নামই নিচ্ছে না।
অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, একটা ধারণা আছে হিন্দু মানেই আওয়ামী লীগ, হিন্দু মানেই নৌকা। আমি বলি, না, এবার হিন্দুরা দেখিয়ে দেবে- হিন্দু মানে নৌকা নয়, হিন্দু মানেই দাঁড়িপাল্লা। তালা ও কলারোয়ার হিন্দুরা যদি দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন, তাহলে তারা অতীতের সব দুঃশাসন থেকে নিরাপদে থাকবেন, ইনশাআল্লাহ।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ওপর ছাত্ররা আস্থা রেখেছেন। অতীতে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা জয়লাভ করে, জাতীয় নির্বাচনেও তারা সফল হয়। আগামী পরিবর্তনশীল বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর ওপর মানুষকে আস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তালা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মফিদুল্লার সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, জামায়াতে ইসলামীর খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমীর ডা. মাহমুদুল হক, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজায়েত আলী, সাতক্ষীরা শহর শিবিরের সভাপতি আল মামুন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের হোসেন প্রমুখ।