শাহজাদপুরের চির অবহেলিত গ্রাম গাছবায়ড়া


১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৪৪

এমএ জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : গাছবায়ড়া। ২নং ওয়ার্ডের ছোট্ট এ গ্রামটির আড়াই কিলোমিটার পাকা সড়কের অভাবে নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত এ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। শত বছর ধরে এ গ্রামে বসতি স্থাপন হলেও রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে গ্রামটির আর্থসামাজিক উন্নয়ন থমকে আছে। ৯শত ভোটারের এই গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ, একটি ফোরকানিয়া মাদরাসা থাকলেও হাটবায়ড়া পাকা সড়ক থেকে একটি ক্যানেল গ্রামের অভ্যন্তরে চলে যাওয়ায় রিকশা, ভ্যানসহ কোনো যানবহন চলাচলের ব্যবস্থা নেই। বারো মাস গ্রামবাসীকে নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ও ভারী আসবাবপত্র দুই কিলোমিটার মাথায় করে নিয়ে আসতে হয়। পাকা সড়ক না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে গ্রামের ছোট-বড় সবাই। শুধু গাছবায়ড়া নয়, আশপাশের আরও কয়েক গ্রামের মানুষের এই গ্রামে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজন একটি পাকা সড়ক । গ্রামের মধ্য দিয়ে পায়ে হাঁটার কাঁচা সড়ক থাকলেও গ্রাম থেকে বের হওয়ার বা ঢোকার কোনো পাকা সড়ক নেই। তবে আপাতত হাটবায়ড়া পাকা রাস্তা হইতে গাছবায়ড়া নূর চাঁদ প্রামাণিকের বাড়ি ও খোকনের দোকান পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার সড়ক পাকা করণ হলেই গ্রামবাসী উপকৃত হবে। গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। এ গ্রামের শিশুদের স্কুল ,কলেজ ও মাদরাসায় যেতে অনেক কষ্ট হয়। বর্ষা মাসে নৌকায় চলাচল করলেও ১২ মাসই গ্রামবাসীকে কষ্ট করতে হয়। রাস্তা না থাকায় গাছবায়ড়া গ্রামে কেউ আত্মীয় করতে চায় না, ফলে বিবাহযোগ্য ছেলেমেয়েদের বিয়ে হচ্ছে না। সামান্য একটু রাস্তার জন্য গ্রামের অপমার জনসাধারণের সীমাহীন কষ্ট হয়। গ্রামের মানুষ অসুস্থ হলে, দ্রুত হাসপাতালে আনা নেওয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। কৃষকের ফসল মাথায় করে নিয়ে যেতে হয় হাটবাজারে। গ্রামের উল্টা পাশে রয়েছে বিশাল ফসলের মাঠ। সেখান থেকে ফসল সংগ্রহ করতে উৎপাদন খরচ ও ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাকা সড়ক না থাকায় গাছবায়ড়া গ্রামে পুলিশের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়িসহ জরুরি সেবার কোনো গাড়িই প্রবেশ করতে পারে না। গাড়ি তো দূরের কথা, বাইসাইকেল বা হাঁটার কোনো ব্যবস্থা নেই। গ্রামবাসী সরকারের কাছে রাস্তাটি করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গাছবায়ড়া গ্রামের ছাত্রনেতা ওলিউল ইসলাম মিন্টু বলেন, ‘রাস্তা না থাকায় গাছবায়ড়া গ্রামের বিবাহযোগ্য ছেলেমেয়েদের বিয়ে হচ্ছে না। সামান্য একটু রাস্তার জন্য গ্রামের অপমার জনসাধারণের সীমাহীন কষ্ট হয়। আমরা বেশ কয়েকবার পদক্ষেপ নিয়েছি। কিন্তু একটু সমস্যা থাকায় পারিনি। এবার জোর দিয়ে চেষ্টা করব।
গাছবায়ড়া গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী বলেন, শত বছর ধরে গাছ বায়ড়া গ্রামের মানুষ রাস্তাঘাট থেকে বঞ্চিত। আশপাশের সব গ্রামে পাকা সড়ক আছে, শুধু আমাদের নেই। দুই কিলো পায়ে হেঁটে আশপাশের হাট-বাজার যেতে হয়। বর্ষা মাসে কাদামাটি পেরিয়ে যেতে হয়।
গাছবায়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলাম বলেন, এ গ্রামে প্রবেশ করতে রাস্তা নেই, আছে নদীর ক্যানেল। সেখানে প্রায় বারো মাস পানি জমে থাকে। শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের আসা যাওয়ায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই গ্রামের সাথে একটি পাকা সড়ক তৈরি সময়ের দাবি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ দিয়ে গাছবায়ড়া গ্রামের কিছু অংশ পাকা করা দেওয়া হবে। তবে হগ্রাম পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার সড়ক তৈরি করতে হলে এলজিইডি বিভাগের মাধ্যমে করতে হবে।