সৌদির নিরাপত্তায় দ্রুত সেনা পাঠাবে তুরস্ক-পাকিস্তান
৭ অক্টোবর ২০২৬ ২২:০৩
সোনার বাংলা রিপোর্ট : ইয়েমেনের হুথিদের হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন মক্কা প্রতিরক্ষা জোটকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। জোটের আওতায় সৌদি আরবে সম্মত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
গত ৫ অক্টোবর সোমবার রিয়াদে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, তিন দেশ সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন অবিলম্বে শুরু করবে এবং অনুমোদিত ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশের আইনের আওতায় সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করবে। বৈঠকে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ করে হামলার প্রচেষ্টার পাশাপাশি সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, বেসামরিক স্থাপনা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলার নিন্দা জানানো হয়। সৌদি সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও সক্ষমতারও প্রশংসা করেছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। একই বৈঠকে পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নওমান মাহমুদকে জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কেন এখন সক্রিয় হলো জোট?
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল গত ৭ আগস্ট। চুক্তির মূল নীতি হলো— তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এটি ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে তুলনীয়। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এতদিন সামরিক প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।
পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে ইয়েমেনের হুথিদের সৌদি ভূখণ্ডে ধারাবাহিক হামলার পর। এরই মধ্যে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা পুনর্দখলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত এখন কেবল অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ নয়; তা সৌদি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে।
নতুন সামরিক সমীকরণ
মক্কা জোটের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো— এতে একদিকে রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তি তুরস্ক; অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি সৌদি আরব। আল-জাজিরার হিসাবে তিন দেশের সম্মিলিত সক্রিয় সামরিক সদস্য প্রায় ১৪ লাখ, সামরিক বিমান প্রায় ৩,৪০০, ট্যাংক ৬,০০০ এবং নৌযান ৩৪০-এর বেশি।
এ কারণে এই জোটের সক্রিয়তা কেবল সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করার ঘটনা নয়; এটি পশ্চিম এশিয়ায় একটি নতুন মুসলিম নিরাপত্তা কাঠামোর বাস্তব পরীক্ষাও।
বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের যুদ্ধ তীব্র হলে তেহরানের সঙ্গে পাকিস্তান ও তুরস্কের সম্পর্কও নতুন পরীক্ষার মুখে পড়বে। কারণ দুই দেশই একই সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষণ : মক্কা জোটের সামরিক মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে তাই শুধু ‘সৌদি প্রতিরক্ষা’ হিসেবে দেখলে এর কৌশলগত গুরুত্ব কম করে দেখা হবে। এর মাধ্যমে আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ রিয়াদের নিরাপত্তার গ্যারান্টিদাতা হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করছে। একইসঙ্গে সৌদি আরব মার্কিন নিরাপত্তা ছাতার পাশাপাশি একটি আঞ্চলিক মুসলিম প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে এই জোট সরাসরি ইয়েমেনে স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।