ঘুরে ফিরে সেই গণভোট : সেই নথ তো খসালি, তবে কেন লোক হাসালি?
১ অক্টোবর ২০২৬ ১০:১১
॥ জামশেদ মেহদী ॥
আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি— যতই দিন যাচ্ছে, ততই বিএনপি সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া জটিল করে তুলছে। জটিল করার এই প্রক্রিয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার সংবিধান সংশোধনী কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংশোধনী কমিটি যেসব প্রস্তাব করবে, সেগুলো সাধারণ সাংবিধানিক নিয়মে জাতীয় সংসদ দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস করলে সেগুলোয় প্রেসিডেন্টের অনুমোদন গ্রহণ করতে হয়। প্রেসিডেন্ট অনুমোদন করলে তবেই সেটি আইনে পরিণত হয়। কিন্তু তিনি বলেন, সংসদীয় সংশোধনী কমিটি এমন কতগুলো সংশোধনী আনছে, যেগুলো মৌলিক বিষয়। এগুলো আইনে পরিণত করতে হলে অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পূর্বে গণভোটে পাস করতে হবে।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সংশোধনী কমিটি দেশের বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রের সম্পাদকসহ প্রায় ৩০ জন সিনিয়র সাংবাদিকের সাথে মতবিনিময় করে। মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তরফ থেকে একটি দৈনিকের সম্পাদক বলেন, তারা সরকারকে বলেছেন, মৌলিক বিষয়ে সংবিধান সংস্কারের জন্য শুধুমাত্র জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটির জোরে সংবিধান সংস্কার করা সমীচীন হবে না। এই সংশোধনীর সাথে বিরোধীদলকেও সম্পৃক্ত করতে হবে।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অন্যান্য দল পেয়েছে ১২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সরকারি দল ছাড়া অন্যরা মোট ৪৪ দশমিক ২৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। আসন সংখ্যার দিক দিয়ে সরকারি দল দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়েছে। কিন্তু ভোটের দিক দিয়ে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পায়নি। এক্ষেত্রে ৪৪ দশমিক ২৪ শতাংশ ভোটারকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র সংসদীয় মেজরিটির জোরে সংবিধানের সংস্কার করা বিজ্ঞজনোচিত কাজ হবে না বলে ঐ মতবিনিময় সভায় অনেকে মন্তব্য করেছেন। তখন কমিটির চেয়ারম্যান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পূর্বে গণভোটে প্রেরণ করা হবে।
যিনি বা যারা সংবিধান সংশোধন, সংবিধান সংস্কার বা গণভোটের পূর্বাপর সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখেন না, তার কাছে গণভোটে প্রেরণের সংবাদটি আপাতদৃষ্টে ভালোই মনে হতে পারে। কিন্তু যারা এ সম্পর্কে কিছুটা খবরাখবর রাখেন, তাদের কাছে একটি বিরাট প্রশ্ন— সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে গণভোট তো একবার হয়েই গেছে। আবার কেন গণভোট? আর অন্যরা রসিকতা করে বলছেন, ‘সেই নথ তো খসালি, তবে কেন লোক হাসালি?’ যদি গণভোটই করতে হয়, তাহলে আগের গণভোটকে কেন এমন অবজ্ঞাভরে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হলো? এ প্রসঙ্গে সংবিধান সংস্কার ও সংশোধন বিষয়ক জটিলতা বোঝার জন্য আমাদের সামান্য পেছনে ফিরে যেতে হবে।
জুলাই বিপ্লবের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে বিপ্লবের তরুণ কাণ্ডারিরা আওয়াজ তোলেন, যে সংবিধানটি দেশে রয়েছে, অর্থাৎ ৭২-এর সংবিধান, এটি হলো মুজিববাদী সংবিধান। তারা এই সংবিধান প্রত্যাখ্যান করেন। তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর দ্বিতীয় প্রোক্লামেশন জারি করতে হবে এবং বাংলাদেশকে দ্বিতীয় রিপাবলিক ঘোষণা করতে হবে। তারা আরো দাবি করেন, মুজিববাদী সংবিধানের পরিবর্তে নতুন সংবিধান রচনা করতে হবে। আর এটি করতে গেলে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণপরিষদ গঠন করতে হবে।
বিগত ২ বছর ২ মাসের ইতিহাসকে খুব সংক্ষেপে বর্ণনা করার জন্য আমি আরো সংক্ষেপে ঐসব কাহিনী বর্ণনা করবো। জুলাই বিপ্লবের কাণ্ডারিদের এসব দাবি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহানুভূতি থাকলেও তারা ঠিক তরুণ নেতাদের ভাষায় কথা বলেননি। তবে তারাও ঠিক গণপরিষদ শব্দটি ব্যবহার না করলেও একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ শব্দটিকে সমর্থন এবং ব্যবহার করেছেন।
কিন্তু এ ব্যাপারে দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি শুরু থেকেই সংস্কারের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকে। তারা বিপ্লবের শেষ দিন ৫ আগস্টের একদিন পর ৭ আগস্ট নয়াপল্টনে জনসভা করে। তারেক রহমান তখন লন্ডন ছিলেন। ঐ জনসভায় তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। তিনি ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন দাবি করেন। তার পর থেকে ইউনূস সরকার যতদিন ক্ষমতায় ছিলো, বিএনপির একটি মাত্রই দাবি ছিলো। আর সেটি হলো ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে।
বিএনপির এই একটি মাত্র দাবি শুনে নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বলতে শোনা যায়, এই যে ১৪ শত ছাত্র-জনতা প্রাণ দিলেন, ২৬ হাজার ব্যক্তি বুলেটের আঘাতে আহত হলেন, অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারালেন এবং অনেকেই চির পঙ্গু হয়ে গেলেন, সে কি কেবল শেখ হাসিনাকে সরিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার জন্য?
স্মরণ করা যেতে পারে, জুলাই বিপ্লবীদের দাবি মোতাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সমাজ ও রাজনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য মোট ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেন। এর মধ্যে ৬টি কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা হয়। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় সংবিধান সংস্কার কমিশন। এই কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. আলী রীয়াজ। তার রিপোর্ট দাখিলের পর সেই রিপোর্টের বেশকিছু অংশে বিএনপি আপত্তি তোলে। তখন ড. ইউনূস ঐকমত্য কমিশন নামে একটি কমিশন গঠন করেন। ড. ইউনূস স্বয়ং এই কমিটির চেয়ারম্যান হন এবং আলী রীয়াজকে ভাইস চেয়ারম্যান করেন। ড. ইউনূস সবসময় ব্যস্ত থাকায় ড. আলী রীয়াজই বাস্তবে কমিশনের ডি-ফ্যাক্টো চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেন।
যেহেতু পাকিস্তানের ২৪ বছরে সর্বজন গ্রহণযোগ্য কোনো শাসনতন্ত্র প্রণীত হয়নি, যেহেতু বাংলাদেশের ৫৪ বছরেও অবিতর্কিত এবং সর্বজন গ্রহণযোগ্য কোনো সংবিধান চালু হয়নি এবং যেহেতু ৭২ সালের মুজিববাদী সংগঠন দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি, তাই আলী রীয়াজ দেশের ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সাথে সংবিধান সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে ম্যারাথন বৈঠকে বসেন। এই ম্যারাথন বৈঠক ৯ মাস ধরে চলে।
৯ মাসব্যাপী বিরতিহীন বৈঠকের পর অবশেষে ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত ও স্বাক্ষরিত হয়। এই সনদে রয়েছে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব। তবে এই ৮৪টি প্রস্তাবে সব দল সহমত পোষণ করেনি। বিএনপিসহ কয়েকটি দল ৩৩টিরও ওপরে সংস্কার প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি উত্থাপন করে।
প্রধান আপত্তির বিষয় ছিলো, বিএনপি চেয়েছিলো আগে সংসদ নির্বাচন হোক। তার পর জাতীয় সংসদ সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে। পক্ষান্তরে জামায়াত ও এনসিপিসহ প্রায় সমস্ত ইসলামী দল দাবি করে, প্রথমে গণপরিষদ বা সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন হোক। ঐ পরিষদ নতুন সংবিধান রচনা বা বর্তমান সংবিধানের মাজাঘষা করবে। অবশেষে ড. ইউনূস বিএনপির দাবির কাছে নতি স্বীকার করেন। তবে তিনি বিরোধীদলের দাবিকে সাথে নিয়ে ব্যালান্স করেন এভাবে— একই দিন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এই সিদ্ধান্ত বিএনপির নিকট গ্রহণযোগ্য ছিলো না। কিন্তু এই প্রশ্নে জামায়াত-এনসিপি তথা ১১ দল অনড় ছিলো। এর আগে বিএনপির সাথে অন্যান্য দলের দূরত্বকে কমিয়ে আনার জন্য ড. আলী রীয়াজ অন্তত ৬ জন সংবিধান বিশেষজ্ঞের সাথে ৭-৮টি বৈঠক করেন। তারাও বলেন, সংবিধান সংস্কারের জন্য এবং সেই উদ্দেশ্যে গণভোটের জন্য একটি প্রেসিডেন্সিয়াল আদেশ জারি করতে হবে। তদনুসারে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ জারি করা হয়। এই আদেশের অধীনে চলতি বছর ১২ ফেব্রুয়ারি একইসাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
গণভোটের আদেশে ছিলো একটি প্রশ্ন। সেটি হলো গণভোটে বিধৃত ৪টি বিষয়ের সাথে আপনি একমত কিনা। অর্থাৎ একমত হলে হ্যাঁ এবং দ্বিমত হলে না ভোট দেবেন। ৪টি বিষয় হলো—
ক. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
খ. আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধীদল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
এই ৪টি মূল বিষয়ের সাথে অন্তর্ভুক্ত ছিলো জুলাই সনদের ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাব। এগুলোর ওপরেও গণভোটে হ্যাঁ বা না ভোট চাওয়া হয়। এই ৪৮ দফায় বিএনপির উত্থাপিত নোট অব ডিসেন্ট ছিলো না।
মোট প্রদত্ত ভোটের ৭০ শতাংশ ভোটার গণভোটের স্বপক্ষে হ্যাঁ ভোট দেন। অর্থাৎ একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। তারা ১৮০ দিনের মধ্যে নতুন সংবিধান প্রণয়ন বা বর্তমান সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে। জাতীয় সংসদে যে ৩০০ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন, তারা সংস্কার পরিষদেরও সদস্য হবেন। এজন্য ঐ ৩০০ জন সদস্যকে ২টি শপথ গ্রহণ করতে হবে। প্রথম শপথ অনুযায়ী তারা এমপি হবেন। আর দ্বিতীয় শপথ অনুযায়ী তারা সংস্কার পরিষদের সদস্য হবেন। সংস্কার পরিষদকে Constitutent Power দেওয়া হবে। তারা যুগপৎ সরকার পরিচালনা করবেন এবং সংবিধানেরও সংস্কার করবেন।
১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের দিন দেখা গেল, বিএনপি সদস্যরা এমপি হওয়ার শপথ নিলেন, কিন্তু সংস্কার পরিষদের সদস্য হওয়ার শপথ নিতে অস্বীকার করলেন। এভাবে সর্বপ্রথম এবং প্রকাশ্যে বিএনপি জুলাই সনদ তথা জুলাই বিপ্লবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। পক্ষান্তরে জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা এমপি এবং সংস্কার পরিষদ উভয়টির সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
বিগত সাড়ে ৭ মাস ধরে জামায়াতসহ বিরোধীদল তাদের প্রথম অবস্থানে অটল রয়েছে। পক্ষান্তরে শাসকদল বিএনপি সংবিধান সংশোধন কমিটির সদস্য হওয়ার জন্য বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান জানালে বিরোধীদল তা প্রত্যাখান করে।
এখন যখন বিএনপির সংবিধান সংশোধন একতরফা হতে যাচ্ছে, তখন সম্ভবত বিএনপির চৈতন্যদয় ঘটছে। এখন তারা বুঝতে পারছে, একতরফা সংবিধান সংশোধন কোনো দিন টেকসই হয় না। বর্তমানে সংসদে বিএনপির যে মেজরিটি রয়েছে, তার চেয়ে অনেক বড় মেজরিটি ছিলো শেখ হাসিনার। কিন্তু সেই মেজরিটি টেকসই হয়নি। জনগণের বিরুদ্ধে প্রণয়ন করা আইন যেমন টেকে না, তেমনি যে সরকার সেসব আইন করে সেই সরকারও টেকে না। শেখ হাসিনার পলায়ন তার জ্বলন্ত নজির।
এদিকে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেশ পরিচালনায় বালখিল্য আচরণ চলে না। কিন্তু বিএনপি সেই আচরণই দেখিয়ে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে না নিয়ে পিছিয়ে দিতে শুরু করেছে। জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য দল গণভোটের গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করে।
বিএনপি শপথ গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকে নিজের পাণ্ডিত্য দেখাতে চেয়েছিল, কিন্তু সেই পাণ্ডিত্য শেষাবধি টেকেনি। নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা ব্যক্তিবর্গ আমন্ত্রিত হয়ে এসে সরকারের ‘সংবিধান সংশোধন’ কমিটির কাছে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, ১১ দলের উপস্থাপিত যুক্তি ও পথই সঠিক ও যুক্তিপূর্ণ। বিএনপি ঠিক পথে নেই।
‘সবজান্তা’ বলে পরিচিত সংসদের একতরফা ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’র চেয়ারম্যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ কোনো কূলকিনারা না পেয়ে এখন গণভোটের আশ্রয় নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন।
এখন আবার বিএনপি গণভোটের ধোঁয়া তুলেছে। কিন্তু গণভোট তো হয়েই গেছে। জনগণও সংবিধান সংস্কারের জন্য গণভোটের মাধ্যমে তাদের রায় দিয়েছে। আবার কীসের গণভোট? জাগপার ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেছেন, ‘সংবিধান সংশোধনের নামে নতুন গণভোট আয়োজন জাতির সঙ্গে তামাশা।’
এরপরও যদি বিএনপি আরেকটি গণভোটের অপ্রয়োজনীয় হঠকারিতার পথে হাঁটে, তাহলে দেশ শুধুমাত্র বিরাট সাংবিধানিক জটিলতার মধ্যেই নিক্ষিপ্ত হবে না; বরং রাজনৈতিক অঙ্গনেও অশান্তি ও হানাহানি সৃষ্টির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘সেই নথ তো খসালি, তবে কেন লোক হাসালি?’
E-mail : jamshedmehdi15@gmail.com