মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে বিএনপি নেতাদের ভাঙচুরের প্রতিবাদ সেলিম উদ্দিনের
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৫২
রাজধানীর মিরপুর-১-এর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গত মধ্যরাতে বিএনপি নেতারা গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিএনপির নেতারা। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর এবং ডিএনসিসি মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
এক যৌথ প্রতিবাদ বিবৃতিতে নেতারা বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও স্থানীয় ভাষ্যমতে, সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির একজন এমপি ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের বিএনপি নেতার পরিকল্পনা ও ইন্ধনে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দুই শতাধিক লোক রাড্ডা এমসিএইচ- এফপি সেন্টারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মিরপুরের নিম্নআয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য মাতৃ ও শিশুসেবা, টিকাদান,পরিবার পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক,গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে দুঃখজনক।
তারা আরও বলেন, জমি নিয়ে কোনো বিরোধ বা মালিকানার দাবি থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য আইন, প্রশাসন ও আদালতের পথ খোলা রয়েছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে রাতের আঁধারে একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা, চিকিৎসা সামগ্রী ও সরকারি টিকাদান কর্মসূচির সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতারা বলেন, ঘটনাটির পেছনে কারা রয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক কিংবা প্রভাবশালী পরিচয় যেন তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে।
তারা আরও বলেন, অতীতেও রাজধানীতে সরকারি বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে যে, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কোনো স্থাপনা দখল, ভাঙচুর কিংবা ধ্বংস করার সুযোগ দেশে আর দেওয়া হবে না। মব-তৎপরতার মাধ্যমে কোনো সম্পত্তির মালিকানা বা দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা রাষ্ট্রের আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
রাড্ডা এমসিএইচ- এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে,লুট হওয়া চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সরকারি সামগ্রী উদ্ধারের উদ্যোগ নিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় চালুর ব্যবস্থার দাবি জানান নেতারা।