বায়তুল মোকাররমে আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলা
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০০
ইসলামী জ্ঞান ও সাহিত্যচর্চায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ
স্টাফ রিপোর্টার : ইসলামী জ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা বই একসঙ্গে দেখার ও সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়েছে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা. ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে শুরু হওয়া মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামী বইমেলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রকাশনার বই নিয়ে সাজানো হয়েছে ১৪৪টি স্টল। দুপুরে মেলা প্রাঙ্গণে তুলনামূলকভাবে দর্শনার্থী ও ক্রেতা কম থাকলেও বিকেলের পর পাঠকের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায় বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। গত ১২ সেপ্টেম্বর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব ও দক্ষিণ প্রাঙ্গণে এ মেলার উদ্বোধন হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ ও প্রকাশকদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির যৌথ আয়োজনে মেলা চলবে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। এবারের আয়োজনে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, মিশর ও লেবাননের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
মেলায় রয়েছে পবিত্র কুরআনের অনুবাদ, তাফসির, হাদিস, সিরাত, ইসলামী দর্শন, ইতিহাস, গবেষণা ও ইসলামী সাহিত্যের বিভিন্ন বই। শিশু-কিশোরদের উপযোগী ইসলামী ও শিক্ষামূলক বইও পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি নারী কর্নার, শিশু কর্নার, সিরাত কর্নার ও ম্যাগাজিন কর্নার রাখা হয়েছে। মেলা ঘিরে আলোচনা সভা, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনসহ বিভিন্ন আয়োজনও চলছে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, দুপুরের দিকে মেলার বেশিরভাগ স্টল খোলা থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। অনেক স্টলেই বিক্রয়কর্মীরা বই সাজিয়ে পাঠকের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে বিকেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলা প্রাঙ্গণে পাঠকের আনাগোনা বাড়তে দেখা যায়।
নোঙর প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী রিয়াদের সঙ্গে আলাপকালে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বিকেলের দিকে ইসলামী বইয়ের ক্রেতা তুলনামূলক বেশি আসেন। ওই সময়ে বই বিক্রিও ভালো হয়। তার আশা, মেলার দিন যত গড়াবে; বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে পাঠকের উপস্থিতি আরও বাড়বে।
মেলার আরেক বিক্রেতা জানান, এখনো সব দিন সমানভাবে ক্রেতা আসছেন না। তবে মেলার শেষ সপ্তাহে বিক্রি বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী। তার মতে, অনেক পাঠক মেলা ঘুরে বই পছন্দ করে পরে কিনতে আসেন। ফলে শেষদিকে বিক্রির চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মেলা পরিচালনা কমিটির তথ্যানুযায়ী, এবারের আয়োজনে ১৪৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব স্টলে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ২০৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও মিশর, লেবানন, পাকিস্তান ও ভারতের সাতটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেলায় রয়েছে।
মেলায় বিভিন্ন স্টলে বইয়ের ওপর ছাড়ও দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, স্টলভেদে বইয়ে ১০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় রয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব প্রকাশনার বইও বিশেষ কমিশনে পাওয়া যাচ্ছে।
মেলার আয়োজন শুধু বই কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পাঠাভ্যাস ও জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা বইয়ের ব্যবস্থা থাকায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেলায় আসছেন অনেকে। একজন স্কুলশিক্ষিকা তার সন্তানকে নিয়ে মেলায় এসে শিশুদের উপযোগী ইসলামী গল্পের বই কেনার কথা জানিয়েছেন।
আয়োজকদের ভাষ্য, দেশি-বিদেশি প্রকাশনার সমন্বয়ে এই মেলায় ইসলামী জ্ঞান, সাহিত্য ও গবেষণার বিভিন্ন ধারার বই এক জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে। পাঠকরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বই বেছে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন লেখক ও প্রকাশনার সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
বায়তুল মোকাররমের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই বইমেলা তাই শুধু বই কেনার স্থান নয়, ইসলামী জ্ঞান ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে পাঠকদের নতুন করে যুক্ত হওয়ারও একটি সুযোগ। বিকেলের পর মেলা যখন পাঠকের পদচারণায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে, তখন আগামী দিনগুলোয়; বিশেষ করে ছুটির দিন ও মেলার শেষ সপ্তাহে আরও বেশি মানুষ বইমুখী হবেন— এমন প্রত্যাশা করছেন প্রকাশক ও বিক্রেতারা।