মানবতার সেবায় এক মহান উদ্যোগ : মুসলিম ওয়েলফেয়ার কানাডা
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৩০

মেজর আব্বাস আলীর সাথে পাকিস্তানের ইদি ট্রাষ্টের চেয়ারম্যান আবদুল সাত্তার ইদিকে কানাডাতে দেখা যাচ্ছে। ইদি ট্রাষ্টের এই সুজুকি গাড়ী চালিয়ে মেজর আব্বাস আলী পাকিস্তান থেকে কানাডা আসেন।
মুসলিম ওয়েলফেয়ার কানাডার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল আলী এক একান্ত সাক্ষাতকারে বলেছেন, মুসলিম ওয়েলফেয়ার কানাডা মানবতার সেবায় এক ব্যতিক্রমী যাইল ফলক। আমাদের প্রধান লক্ষ্য Service to Humanity : Service to Allah. আমাদের মরহুম পিতা মেজর মোহাম্মদ আব্বাস আলী এবং আমাদের মাতা সারওয়ার জাহান বেগম ১৯৯৩ সালে মাত্র দশ ফুট বাই দশ ফুট ভাড়া করা রুমে টরন্টোতে মূলত একটি ছোট্ট ফুড ব্যাংক চালু করেন। টাকা পয়সা ছিল না, ধার কর্জ করে দশ হাজার ডলারের খাদ্য কিনে এই মুসলিম ওয়েলফেয়ার কানাডা উনারা চালু করেন। প্রাথমিক কালে এই সংস্থার নাম ছিল মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার। আমি যখন জনাব ইকবাল আলীকে আমার মুসলিম মাইনরিটি পুস্তক রচনার উদ্দেশ্য বলি এবং ঢাকার খবরের কাগজে এই সাক্ষাতকার ছাপা হবে তখন ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল আলী আবেগ আপ্লুত হয়ে যান এবং উনার শৈশবের স্মৃতি কথা মনে করেন। উল্লেখ্য যে উনার পিতা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর ছিলেন এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে দুই দফা উনার পিতার পোষ্টিং ছিল। জনাব ইকবাল আলী ১৯৬৯ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ইষ্ট পাকিস্তান প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় দুই বছর পড়াশুনা করেন। যাহা বর্তমানে বুয়েট নামে পরিচিত। ইকবাল আলী ক্যামিকেল ইন্জিনিয়ারিং পড়াশুনা কালে যুদ্ধের কারণে এপ্রিল ১৯৭১ সালে উনার পরিবার সহ করাচী চলে যান। আমার সাথে সাক্ষাতকার দেবার সময়ে জনাব ইকবাল আলী আবেগ ধরে রাখতে পারেন নি। উনি, উনার মরহুম পিতার ঢাকার কর্মস্থলের কথা অকপটে বলতে লাগলেন। তিনি বলেছেন “আমার পিতা মেজর আব্বাস আলী পাকিস্তান আর্মির গোয়েন্দা বিভাগের অফিসার ছিলেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে কী ঘটতে যাচ্ছে উনি উহা ১৯৬৯ সালেই টের পেয়েছিলেন। এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাইকমান্ডকে অবহিত করে ছিলেন। কিন্তু সেনা বাহিনী উনার রিপোর্টে কোন কর্ণপাত করেননি বিধায়, আমার পিতা মেজর আব্বাস আলী ১৯৬৯ সালেই পাকিস্তান সেনা বাহিনী থেকে ইস্তফা দেন। এবং উনার ব্যাক্তিগত অভিমত নামে “SALVATION OF EAST PAKISTAN” নামে ১০৭ পৃষ্ঠার একটি ছোট বই লিখেন। ঐ পুস্তকখানা জুলাই ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ করা হয় এবং দ্বিতীয় বার জুন ১৯৭১ সালে লাহোরের ইলমী পাবলিকেশন থেকে ছাপানো হয়। পূর্ব পাকিস্তানের এক সময়ের নামজাদা জনাব নেতা নুরুল আমিনের একটি চিঠিও ঐ পুস্তকে ছাপা হয়েছে। সাক্ষাতকারের সময়ে ইকবাল আলী উনাদের পারবারিক ইতিহাস তুলে ধরেন এবং বলেন, আমাদের নানা ও নানী পিওর আফগান ছিলেন।আমার নানীর পিতা (মানে আমাদের যাতামহ ছিলেন ) ছিলেন গুল মুহাম্মদ খান। যিনি ১৭/১৮ বছর বয়সে (গুল মুহাম্মদ খান) আফগানিস্তান থেকে এসে বাংলা এলাকার একজমিদার মহারাজার অধীনে সৈনিক চাকুরী শুরু করেন। তখন পুরো হিন্দুস্তান ছিল বৃটিশ কলোনী। বৃটিশরাজ তখন খবর রটনা করলো যে ক্যারিবিয়ান বৃটিশ গায়ানাতে সোনার খনি পাওয়া গেছে।যখন ঐ খবর কলকাতার সংবাদ জগতে চাউর হয়ে গেল তখন কলকাতার হুগলী বন্দর দিয়ে হাজার হাজার মুসলিম-হিন্দু যুবকেরা জাহাজ যোগে বৃটিশ গায়ানাতে পাড়ি জমালো। গুল মুহাম্মদ খানও গায়ানাতে গেলেন । তিনি ঐখানে ছিলেন, পচিশ বছর। মূলতঃ গায়ানাতে কোন সোনার খনি পাওয়া যায়নি। বৃটিশরাজ ইচ্ছে করেই ভূয়া খবর প্রকাশ করে হিন্দুস্তান থেকে সস্তা শ্রমিক নেওয়ার কৌশলে ঐ মিথ্যা সোনার খনির খবর রটিয়েছিল। মূলতঃ বৃটিশ গায়ানার ইক্ষু ক্ষেতে অধিক শ্রমের দরকার ছিল এবং বৃটিশ কোম্পানি গুলো হিন্দুস্তানের সস্তা যজদুর দিয়ে আখ মাড়াই করে চিনি উৎপাদন করতো লাগলো।আর অপর দিকে খৃষ্টান মিশনারী পাদ্রীগণ, গরীব মজদুরদের খৃষ্ট ধর্মে দীক্ষা দিতে নানান প্রলোভণ দিতে লাগলো। এমতাবস্থায় আযাদের নানীর পিতা গুল মুহাম্মদ খান খৃষ্টান মিশনারীদের মুকাবিলা করতে ইসলামের উপর গভীর পড়াশুনা শুরু করেন। এবং ইসলামী জ্ঞান অর্জন করেন। খৃষ্টান পাদ্রীদের জবাবে গুল মুহাম্মদ বই লিখলেন, শিরোনাম দিলেন “ইউনিটি বনাম ট্রিনিটি।
বৃটিশ গায়ানার রাজধানী ব্রীজ টাউনে প্রথম মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন আমার নানীর পিতা গুল মুহাম্মদ খান সেই ১৮৯৫ সালে। যাহা বৃটিশ গায়ানাতে কুইনস টাউন মসজিদ নামে পরিচিত ছিল। আমার নানীর অনেক ভাই ও বোন বৃটিশ গায়ানায় জন্ম গ্রহণ করেন এবং তেজারতি বাণিজ্য করে গুল মুহাম্মদ অনেক ধন দৌলত রোজাগার করেন। এবং পচিশ বছর পর তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন এবং বসতি স্থাপন করেন। আমার নানীর স্বামী ছিলেন ডাক্তার আবদুল ওয়াহাব। উনিও একজন আফগানী। আমার নানীর আরেক বোন কলকাতাতে আরেক আফগানীকে বিয়ে করেন। ১৯৪০ সালের ভয়াবহ অভাবে; কলকাতার পথে ঘাটে অনেক ইয়াতীম ও অনাথ শিশুর সন্ধান পাওয়া যেতে লাগলো। তখন ঐসব শিশুদের জন্য আমাদের যা আর খালারা কলকাতাতে ইয়াতীম খানা চালু করেন। এরপর ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান হলে আমাদের নানার পরিবার ও আমার দাদার পরিবার হিজরত করে পূর্ব পাকিস্তানের যোগল প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকাতে চলে আসেন। আর অন্যদিকে ঢাকার তেজগাঁও এলাকাতে কলকাতার ঐ ইয়াতীম খানার কার্যক্রম নিয়ে আসেন। ঢাকাতে ইয়াতীম খানার নাম ছিল “বাইতুল আকফাল সাবিহা। আমার মায়ের আপন বড় বোন আখতার জাহান বেগম আট থেকে দশ বছর ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের এম এল এ। আমার নানী ও খালাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন নিয়ে একটি বই প্রকাশ করা হয়েছে। শিরোনাম “Portraits of Two Legendary Women ”. প্রকাশক হলেন সাইয়েদ মোহাম্মদ মাহমুদ। করাচীর সাউথ এশিয়া পাবলিকেশন ঐ পুস্তকটি প্রকাশ করে ২০০৪ সালে। আমার যামু ঢাকার তৎকালীন একমাত্র “আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ার কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। উনার নাম ছিলো ড. ওয়াকার আহমদ খান। যিনি ঐ সময়ে ইউএসএর স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ পিএইচডি করেছেন। পরে পাকিস্তান সরকার আমার মামাকে সাড়া পাকিস্তানের কারীগরী বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে। অন্যদিকে আমার দাদা কলকাতাতে আদমজী কোম্পানীতে একাউন্টেন ছিলেন। আমার পিতাও কলকাতাতে বড় হয়ে উঠেন। উনি বাংলা জানতেন, বলতে পারতেন। আমাদের পিতা ১৫ই নভেম্বর ১৯২১ সালে বোম্বে শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৪৩ সালে জনাব আব্বাস আলী বৃটিশ ইন্ডিয়ান আর্মি থেকে কমিশনড লাভ করেন এবং হিন্দুস্তানের ধনী স্বাধীন রাজ্য হায়দারবাদ নিজামের সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪৮ কায়েদে আযমের মৃত্যুর সালে জওহার লাল নেহেরু যখন জোর করে হায়দারাবাদ দখলে নিয়ে যায়, তখন মেজর আব্বাস আলী আরেক মুসলিম রাজ্য ভাওয়াল পুর আর্মিতে জয়েন করেন। পরিশেষে ভাওয়াল পুর রাজ্য পাকিস্তানে যোগদান করলে অটোমেটিক ভাবেই আমার পিতা আব্বাস আলীকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে আত্নীকরণ করা হয়েছিল। আমার জন্ম লাহোরে। আমি লেফটেন্ট জেনারেল আজম খানের সাথে মোলাকাত করি। যিনি পূর্ব পাকিস্তানে ১৫ ই এপ্রিল ১৯৬০ থেকে ১০ ই যে ১৯৬২ সাল অবধি জেনারেল আউয়ুব খানের অধীনে সামরিক শাসক ছিলেন এবং ঐ জেনারেল আজম খান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের কাছে অনেক জনপ্রিয় ছিলেন। অবশ্য তখন আমি অনেক ছোট্ট বালক ছিলাম এবং আমার পিতার চাকুরীর সুবাদে ঢাকাতেই থাকতাম। ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৬৩ সালে ঢাকায়। এরপর আবার ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৯ সালে ঢাকায় ছিলাম। আমার পিতা পাক মিলিটারী গোয়েন্দা বাহিনিতে ছিলেন।
মুসলিম ওয়েলফেয়ার কানাডা (MWC) ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর ধীরে ধীরে ২৫ টি সেবার খাতে কাজ করে যাচ্ছে। টরন্টো স্কারভোরো, মিসিসাগা এবং কানাডার একদম উত্তরের ঐ বরফ আবৃত আর্টিক এলাকাতে তিনটি ফুড ব্যাংক চালু রেখেছে।টরন্টো থেকে ঐ আর্টিক এলাকার দূরত্ব প্রায় সাত হাজার কিলো মিটার। ঐখানে নর্থ ওয়েষ্ট টেরিটোরিতে,এডমন্ডসিটি থেকে তিন চার যাস পরপর বিশাল চালানের মাধ্যমে ফুড পাঠানো হয়।
আর অন্যদিকে আমাদের আরেকটি ফুড ব্যাংক কানাডার বরফ আবৃত শহর Fort McPherson আইল্যান্ডে আছে। যেখানে শুধু যাত্র সামার সময়ে জাহাজে করে এক বছরের খাদ্য একবার পাঠানো হয়। কারণ শীতে বরফের কারণে জাহাজ যেতে পারে না। শুধুমাত্র সামার মৌসুমে যখন বরফ গলে যায়,তখন কানাডার একদম উত্তর সীমানার ঐ শহরে খাদ্য বোঝাই করা জাহাজ পাঠানো হয়ে থাকে। বর্তমানে MWC এর উল্লেখ যোগ্য কাজ গুলো হচ্ছে গরীব দেশে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করার গভীর নলকূপ স্থাপন, ইয়াতীম অনাথ শিশুদের জরুরী সহযোগিতা, বিধবাদের সহযোগিতা, প্রাকৃতিক দূর্যোগে সাহায্য পাঠানো, কানাডার সিনিয়র সিটিজেনদের জন্যে মিল অন হুইল যানে গাড়ীতে করে ফুড ডেলিভারী করা, পাচটি ফুড ব্যাংক শাখা এখন চলমান। আমরা সকল মানুষের জন্যে আমাদের সেবার দরজা খোলা রেখেছি। তবে সবাইকে আমরা হালাল ফুড সরবরাহ করি। এমনকি অমুসলিম নাগরিকদেরও হালাল গোশত প্রদান করে থাকি। জরুরী শেল্টার তথা আশ্রয় কেন্দ্রে সেবা দেওয়া। ট্রানজেশন হোম যেখান নারীদের দুই বছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ দিয়ে কেরিয়ার ডেভেলামেন্ট করে চাকুরী দেওয়া হয়ে থাকে।কানাডার Ontario প্রদেশের Courtice শহরে MWC এর ১৯২ বেডের লং ট্রাম কেয়ার হোম নির্মাণ কাজ চলেতেছে। আমাদের নিজস্ব পাচ একর জায়গার তিন একর জমিতে একশত মিলিয়ন ডলারের এই নির্মাণ কাজ চলেছে।আমরা আশা করছি ২০২৭ সালের নভেম্বরে এই কেয়ার হোম চালু হবে। এটা হবে শত ভাগ ইসলামী পরিবেশের কানাডার প্রথম লং ট্রাম কেয়ার হোম। যেখানে একমাত্র হালাল ফুড সরবরাহ করা হবে ইনশাআল্লাহ। কার্টেজ সিটির প্রজেক্টের জন্যে আমরা লোন করেছি এবং অন্টারিও প্রাদেশিক সরকার আর্থিক সহযোগিতা করছে। ঐখানে বেসিক রুম মাসিক দুই হাজার ডলার এবং আপগ্রেড রুমে তিন হাজার ডলার দিয়ে খাবার দাবার সহ সকল ফেসিলিটি ভোগ করতে পারবে। বাকী দুই একর জমিতে এফরডেবোল হাউজ নির্মাণ করা হবে। এই কাজের তহবিল যোগাড় শুরু করা হয়েছে।১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে MWC ৩২১৪০০ তিন লাখ একুশ হাজার চারশত মানুষের জন্যে পরিস্কার সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছে। এই খাতে ৩.৩ মিলিয়ন ডলার ডোনেশন করেছে। এছাড়াও কানাডার বাইরে ১২০০০ বারো হাজার গরীব শিশুদের সহযোগিতা করেছে। মুহাম্মদ ইকবাল আলী বিগত পচিশ বছর যাবত গডঈ তে ভলান্টিয়ার হিসেবে আছেন। এবং বর্তমানে এই সংস্থার প্রেসিডেন্ট। জনাব ইকবাল আলীর গডঈ এর সকল বোর্ড অব ডিরেক্টর জনাব ফারুখ শাহাবর, আদিল আসিফ, ডাক্তার নাবিলা ইসলাম, আদনান আহমদ, গওহার বাংগাস এবং ওয়াসীফুর রহমান সবাই উচ্চ শিক্ষিত এবং দক্ষ পেশাদারীত্বে অনেক অভিজ্ঞ। নির্বাহী পরিচালক শহীদ এ খান ও একজন পেশাদার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মানুষ। পেশাদার ক্যামিকেল ইন্জিনিয়ার ইকবাল আলী ১৯৯১ সালে UNIVERSITY OF TORONTO থেকে এম এস সি ডিগ্রী অর্জন করে কানাডার নিউক্লিয়ার পাওয়ার অন্টারিও ঈঅঘউট তে কর্মরত আছেন। তিনি একজন ফুল টাইম পেশাদার ইন্জিনিয়ার। অন্টারিও পাওয়ার হাউজে উনি এখন একজন উপদেষ্টা । তিনি,ইকবাল আলী বলেন আমি বিগত ৩৫ বছর যাবত চাকুরী করতেছি এবং এখনো করছি।
সাব টাইটেল : মেজর আব্বাস গাড়ী চালিয়ে পাকিস্তান থেকে কানাডা আসেন :
আমার সাথে সাক্ষাতকারের এই পর্যায়ে জনাব ইকবাল আলী উনার পিতার একটি অসাধারণ ঐতিহাসিক সফরের কথা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন আমার পিতা মেজর আব্বাস আলী পাকিস্তান থেকে গাড়ী চালিয়ে কানাডা আসেন ঐ সেই ১৯৯১ সালে। আপনিতো নিশ্চয় জানেন যে পাকিস্তানের ইদি ট্রাষ্ট ফাউন্ডেশনের কথা। ইদি ট্রাষ্টের চেয়ারম্যান জনাব আবদুস সাত্তার ইদিকে আমার আব্বা বললেন, “আমি কানাডা যাব আপনার সংস্থা থেকে একটি গাড়ী দেন। আমি গাড়ী চালিয়ে আরব, ইউরোপ দেশে দেশে ঘুরে ঘুরে কানাডা যাব এবং পথে পথে আপনার ইদি ট্রাষ্টের জন্যে তহবিল সংগ্রহ করবো। আমার আব্বার অনুরোধে জনাব আবদুস সাত্তার ইদি উনার ট্রাষ্টের লোগো সাইনবোর্ড লাগানো একটি ছোট সুজুকি যিনি ভ্যান এম্বুলেন্স জাতীয় গাড়ী আব্বাকে দেন। গাড়ী চালিয়ে মেজর আব্বাস বিভিন্ন দেশ সফর করে বিলাতের মেইন চেষ্টারে গমণ করেন এবং পথে পথে ইদি ট্রাষ্টের জন্যে তহবিল ডোনেশন সংগ্রহ করেন। এবং ফাইনালী মেজর আব্বাস জাহাজ যোগে সাগর পাড়ি দিয়ে ঐ একই সুজুকি গাড়ী চালিয়ে ১৯৯১ সালে কানাডা আগমণ করেন। মেজর আব্বাস গাড়ী চালিয়ে কানাডা পৌছেছেন এই খবর পেয়ে পাকিস্তান থেকে ইদি ট্রাষ্টের চেয়ারম্যান জনাব আবদুস সাত্তার ইদি কানাডা এসে আমার পিতার সাথে দেখা করেন এবং কানাডার মারখাম শহরে ঐ সুজুকি গাড়ীর সামনে দাড়িয়ে ছবি তুলেন। এই পর্যায়ে ইকবালী আলী আমাকে উনার পিতার ডিজিটাল ছবি প্রদান করেন। যেখান দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানের বিশ্ববিখ্যাত সমাজ সেবক আবদুস সাত্তার ইদি কানাডার রাজপথে ইদি ফাউন্ডেশন লোগো লাগানো এম্বুলেন্স সুজুকি গাড়ীর সামনে মেজর আব্বাসের সাথে দাড়িয়ে আছেন। ইকবাল আলী বলেন, গডঈ ছাড়াও আমাদের পিতা মেজর আব্বাস কানাডার অনেক চ্যারিটেবল সংস্থার জন্যে ফান্ড রেইজিং করেছেন। যেমন কানাডার ডায়াবেটিক সোসাইটি। Canadian Arthritis Societyমেজর মোহাম্মদ আব্বাস আলী তহবিল সংগ্রহে পায়ে হেটে টরন্টো টু অটোয়ার ৪৪৯ কিলো মিটার পথ এবং টরন্টো টু নায়াগ্রার ১২৮ কিলো মিটার পথ অতিক্রম করেন এবং ডোনেশন কালেকশন করেন। আমার পিতা মেজর আব্বাস যখন ১৯৯৩ সালে গডঈ প্রতিষ্ঠা করেন তখন উনার বয়স ৭২ বছর। আর উনার বিবি বেগম সারওয়ার জাহান যানে আমার যায়ের বয়স ৬৫। আমার মায়ের জন্ম ১৯২৮ সাল কলকাতায় এবং ১৯৪৭ সালে উনার সাথে মেজর আব্বাস আলীর বিয়ে হয়। আমার পিতা ২০০৯ সালে টরন্টোতে ইন্তেকাল করেন। আর আমার যা মৃত্যু বরণ করেন ২০১৩ সাল টরন্টোতে। উনারা স্বামী-স্ত্রী মিলে যৌথ ভাবে এটা গডঈ প্রতিষ্ঠা করেন। যার টাইটেল “Service to Humanity is Service to Allah.” মেজর আব্বাস ১৯৯৬ সালে কানাডার Whitby শহর, অন্টারিও প্রদেশে “Muslim Welfare Home for Needz Women and Children.” চালু করে। ২০০০ সালে আন্তর্জাতিক রিলিফ উইং চালু করেন। যেমন বিশুদ্ধ পানির টিউব ওয়েল। হালাল মিল ফর সিনিয়র সিটিজেন। স্যুপ কিচেন। ২০০৫ সালে একাধিক ফুড ব্যাংক চালু করা হয়।২০০৯ সালে ফ্রি মেডিক্যাল চালু হয় MWC এর অধীনে। ২০০৯ সালে মেজর আব্বাসের মৃত্যুর পর সিটি অব টরন্টো উনার সম্মানে একটি পার্কের নামকরণ করেন “মেজর আব্বাস পার্ক”।

সিটি অব টরন্টো ১৮০ নাম্বার McLevin Avenue তে Major Abbas Ali Park স্থায়ী সাইনবোর্ড লাগিয়েছে
১৯৯৩ সালে মেজর আব্বাস এবং উনার বিবি সারওয়ার জাহান বেগম Toronto Scarborough এলাকার ১০০ McLevin Avenueএ র যে দালানে সর্ব প্রথম MWC এর ফুড ব্যাংক চালু করেন উহার খুব কাছাকাছিতে সিটি অব টরন্টো ১৮০ নাম্বার McLevin Avenue তে Major Abbas Ali Park স্থায়ী সাইনবোর্ড লাগিয়েছে। আমি লেখক কানাডাতে আছি ঐ সেই ২০০০ সালের ২১ শে জুন থেকে। এক সময়ে কানাডার মাটিতে মুসলিম জনসংখ্যা ছিলো খুবই কম। আজ দিনে দিনে সপ্তাহ মাস বছর ঘুরিয়ে সারা কানাডাতে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় আঠারো লাখ। যাদের শতকরা সত্তুর ভাগের জন্ম এই কানাডার মাটিতে। মুসলিম মাইনরিটি অব কানাডার পুস্তক লিখার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আমরা প্রতি দিনই অনেক আজানা ইতিহাসের সন্ধান পাচ্ছি। আমরা আশা করছি পাঠকের কাছে কানাডার মুসলিম ইতিহাস ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরতে পারব। ইনশাআল্লাহ। আগস্ট ৩১,২০২৬। টরন্টো। কানাডা