এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে : ইসিতে জামায়াতের দাবি
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:৫৮
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়েছে প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠকে এ দাবি জানিয়েছে দলটি।
বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি জনাব মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় করেছে। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে নয় দফা দাবি লিখিতভাবে হস্তান্তর করেছি এবং সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে; দেশে এ ধরনের ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষক রয়েছেন। তাঁরা অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে ও প্রার্থী হতে পেরেছেন। অথচ তাঁদের স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য করার যে সুপারিশ করা হয়েছে, আমরা তার তীব্র ও প্রতিবাদ জানিয়েছি। একজন ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন, কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না- এটি বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা এই সুপারিশ বাতিলের দাবি জানিয়েছি।
দ্বিতীয়ত, যেসব রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ, সেই দলের কোনো নেতা বা পদধারী ব্যক্তি স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে সেটিকে রাজনৈতিক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তাই নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছি।
তৃতীয়ত, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আমরা উদ্বেগ জানিয়েছি। তিনি অতীতে একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনবিষয়ক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এমন নিয়োগ থাকা উচিত নয়, যা প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করে। কমিশন জানিয়েছে, আমাদের উদ্বেগের বিষয়টি তারা সরকারকে জানাবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ছাড়া সম্প্রতি বিভিন্ন জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের বিষয়েও আমরা আপত্তি জানিয়েছি। আমাদের আশঙ্কা, এসব নিয়োগের মাধ্যমে তাঁদের স্থানীয় নির্বাচনের মাঠ প্রস্তুতের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাই যারা এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছি-তফসিল ঘোষণার পর পদত্যাগ করলেও নয়।
আমরা আরও দাবি জানিয়েছি, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিরা যেন স্থানীয় নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নতুন আচরণবিধিতে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
আমাদের নয় দফা দাবির কিছু বিষয় নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে বিবেচনায় নিয়েছে এবং কিছু বিষয়ে তারা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। আবার কিছু বিষয় সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানিয়েছে।
সেক্রেটারি জেনারেল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এই মুহূর্তে নির্বাচন বর্জনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আমরা এখনো আশাবাদী। তবে নির্বাচন কমিশনের ওপর দলীয় সরকারের চাপ রয়েছে কি না- এমন একটি বিষয় তাদের কথাবার্তা ও আচরণ থেকে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করুক এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করুক।
স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হয় না। তাই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার প্রশ্ন নেই। তবে আমরা স্থানীয় শাখাগুলোকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে এবং সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়নের কাজ করতে বলেছি। ১১ দলীয় ঐক্য কেবল জাতীয় নির্বাচনের জন্য ছিল; স্থানীয় নির্বাচনে প্রত্যেক দল নিজ নিজভাবে প্রার্থী দিতে পারবে।
আমাদের নয় দফা দাবির মূল লক্ষ্য হলো- নির্বাচনের মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং জনগণের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
জামায়াত প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, আবদুর রব ও মোবারক হোসাইন, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত।