সেবা মিলছে না বগুড়ার শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে
২৭ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৩
শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা : বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা। গুরুত্বপূর্ণ এ সরকারি দফতরটি চলছে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে। তিনি সপ্তাহে মাত্র দুই দিন দায়িত্ব পালন করায় প্রতিদিনের দলিল নিবন্ধনের হার কমে যাচ্ছে। ফলে কার্যালয়ে তৈরি হচ্ছে দলিলের দীর্ঘ জট। জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে না পারায় বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
শেরপুর দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি এম ফেরদৌস জানান, শেরপুর উপজেলার ২৩৬টি মৌজায় প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০টি জমির দলিল সম্পাদনের প্রয়োজন হয়। অথচ নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা সপ্তাহে মাত্র দুই দিন কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে প্রতিদিন নতুন করে দলিল জমা পড়লেও সে তুলনায় নিবন্ধন হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, গত ১৫ দিনে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি দলিল জমা পড়লেও রেজিস্ট্রি হয়েছে প্রায় ৪৫০টি। এর ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতাদের দিনের পর দিন কার্যালয়ে ঘুরতে হচ্ছে। কেউ চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে জমি বিক্রি করতে এসে দলিল রেজিস্ট্রি করতে পারছেন না, আবার কেউ জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে জমি বিক্রি করেও ক্রেতার কাছ থেকে অর্থ বুঝে নিতে পারছেন না। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ মানুষ এবং দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
জয়লা জুয়ান গ্রামের জমি বিক্রেতা আহসান উল্লাহ খান সবুজ জানান, দলিলের কাজ সম্পন্ন করতে একাধিকবার অফিসে আসতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটিই নষ্ট হচ্ছে। অনেকে ভোরে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাজ না হওয়ায় ফিরে যাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ভুক্তভোগী ও দলিল লেখকদের পক্ষ থেকে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, শুধু দলিলের জট নয়, দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে দালালচক্র ও অসাধু ব্যক্তিদের তৎপরতা দেখা দিয়েছে। আগে কাজ করিয়ে দেওয়ার নামে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগও উঠেছে।
জমিনে নিবন্ধন করতে না পারায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বগুড়া আজিজুল হক কলেজের সাবেক অধ্যাপক আব্দুল কাদের। তিনি জানান, জমি কেনাবেচা ও নিবন্ধন একটি সময়সাপেক্ষ এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা। এ সেবার সঙ্গে সরকারের বিপুল রাজস্ব আদায়ের বিষয়টিও জড়িত। অথচ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় দীর্ঘদিন সাব-রেজিস্ট্রারের পদ শূন্য থাকায় যদি সাধারণ মানুষকে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়, তাহলে এর দায় নেবে কে?
তিনি সাময়িকভাবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে সমস্যার সমাধান না করে শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দ্রুত একজন স্থায়ী ও পূর্ণকালীন সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবি জানান। একইসঙ্গে জমে থাকা দলিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ উদ্যোগ, স্বচ্ছ সিরিয়াল ব্যবস্থা এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করারও দাবি জানান।
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার নাইমা সিদ্দিকা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শেরপুর তার মূল কর্মস্থল নয়। বিপুলসংখ্যক দলিলের তথ্য ও কাগজপত্র নিখুঁতভাবে যাচাই করতে সময় প্রয়োজন হয়। তার মতে, এখানে একজন পূর্ণকালীন সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা হলে দলিলের জট ও সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু জানান, শেরপুর রেজিস্ট্রি অফিসের সমস্যাগুলো স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজকে জানানো হয়েছে। তিনি (সংসদ সদস্য) দ্রুত সময়ের মধ্যে একজন সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নের আশ্বাস দিয়েছেন।