রূপগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রের পানিতে ডুবে মৃত্যু, হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ
১৯ আগস্ট ২০২৬ ১৫:১৬
নারায়ণগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদরাসাতুত তাকওয়া আল ইসলামিয়া এতিমখানার ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওমর ফারুক পানিতে ডুবে মারা গেছে। গত ১৫ আগস্ট শনিবার বিকেলে গোলাকান্দাইল নতুন বাজারের ৫ নম্বর ক্যানালে খেলাধুলা শেষে অজু ও গোসলের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ১৫ আগস্ট সারাদিন বিদ্যুৎ থাকবে না—এমন ঘোষণা থাকায় শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সেদিন তাদের খেলাধুলার জন্য গোলাকান্দাইল নতুন বাজারের ৫ নম্বর ক্যানালে নেওয়া হয়। সেখানে ২৪ শিক্ষার্থীর সঙ্গে তিনজন শিক্ষক ছিলেন। একপর্যায়ে ওমর ফারুক ও আব্দুর রহমান শিক্ষকদের অজান্তে পানিতে নেমে যায়। আব্দুর রহমানকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ওমর ফারুক নিখোঁজ থাকে। পরে ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে রূপগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার লাশ উদ্ধার করে।
নিহত ওমর ফারুক তারাবো পৌরসভার তেতলাব/খালপার এলাকার মোহাম্মদ সবুজ মিয়া ও মোছাম্মদ ফারজানা বেগমের ছেলে। প্রায় দুই বছর ধরে সে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও তদন্তের ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট এসআই ওয়াসিম মন্ডল জানিয়েছেন। মামলার নম্বর ১৬/২৬, তারিখ ১৬ আগস্ট ২০২৬। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন করেছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এবং সাবেক পরিচালককে মামলায় আসামি করার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন না বলেও জানান। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
বর্তমান পরিচালক হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ রমজান বিন আজিজ জানান, তিনি প্রায় দেড় মাস আগে মাদরাসা পরিচালনার দায়িত্ব নেন। তাঁর দাবি, ওমর ফারুকের মৃত্যুর পর মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে এবং এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মাদরাসার সাবেক পরিচালক হাফেজ ক্বারী মাওলানা মো. তাজুল ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে মাদরাসার সঙ্গে কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট নন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুন তিনি পরিচালনার দায়িত্ব বর্তমান পরিচালক রমজান বিন আজিজের কাছে হস্তান্তর করেন। ফলে ঘটনার সময় মাদরাসার পরিচালনার দায়িত্ব তার কাছে ছিল না।