মোদির মসনদে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়া ককরোচরা কি থেমে যাবে?
৩০ জুলাই ২০২৬ ১০:১৭
ব্যঙ্গ থেকে গণআন্দোলন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ
ভারতের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখে বিজেপি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কয়েক সপ্তাহ আগেও ‘ককরোচ’ ছিল ব্যঙ্গের প্রতীক। এখন সেই নামই ভারতের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ আন্দোলনের পরিচয়। যে আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রী পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, সরকারকে শিক্ষা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে, আর লাখো তরুণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে সংগঠিত জনচাপ পরিবর্তন আনতে পারে। ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং লাখ লাখ তরুণ ও সাধারণ ভারতীয়দের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- ককরোচদের আন্দোলন কি থেমে যাবে?
টানা ৩৭ দিন আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আন্দোলনটি আপাতদৃষ্টিতে একটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তু আন্দোলনের উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করে বলছেন, তাদের লড়াই কোনো ব্যক্তি বা একটি পদকে ঘিরে নয়; বরং এমন একটি শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি, যেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি ও অনিয়মের কোনো স্থান থাকবে না। তাই প্রশ্ন উঠছে- এই বিজয়ের পর কি ককরোচদের আন্দোলন থেমে যাবে, নাকি এটি ভারতের তরুণদের দীর্ঘমেয়াদি নাগরিক আন্দোলনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু এমন একটি সংগঠন, যার নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়, পরে যার আন্দোলনে কেঁপে ওঠে দেশের প্রশাসন, এমন নজির খুব কমই আছে। ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party-CJP) সেই ব্যতিক্রমী উদাহরণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা হিসেবে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লাখো তরুণের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে। তাদের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতি, শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহি এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। আন্দোলনকারীরা এটিকে তাদের ঐতিহাসিক বিজয় বলে মনে করছেন।
ক্ষোভের জমাট বাঁধা
গত কয়েক বছরে ভারতের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। শিক্ষক নিয়োগ, পুলিশ নিয়োগ, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, প্রকৌশল ভর্তি পরীক্ষা প্রায় সব ক্ষেত্রেই অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি করে। ২০২৬ সালে NEET পরীক্ষা (NEET-National Eligibility cum Entrance Test অর্থাৎ ভারতের স্নাতক পর্যায়ের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষায় ভর্তি হওয়ার জন্য জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা) ঘিরে নতুন করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে এলে সেই ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে কিছু তরুণ ব্যঙ্গ করে নিজেদের পরিচয় দেন ‘ককরোচ’ হিসেবে। তাদের যুক্তি ছিল যেভাবে ককরোচকে সহজে ধ্বংস করা যায় না, তেমনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারাও লড়াই চালিয়ে যাবেন।
যেভাবে জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’
খুব বেশি আগের সময়কার কথা নয়, এই তো ২০২৬ সালের ১৫ মে’র ঘটনা। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘দেশে কিছু এমন তরুণ রয়েছে, যারা ককরোচের (আরশোলা) মতো; তারা না কোনো কর্মসংস্থান পায়; না নিজেদের কোনো পেশাগত অবস্থান তৈরি করতে পারে। তাদের কেউ কেউ মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়া কর্মী হয়ে ওঠে; কেউ হয় আরটিআই (RTI) অ্যাক্টিভিস্ট এবং এরপর তারা সবাইকেই আক্রমণ করা শুরু করে দেয়।’ তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর পরদিন ১৬ মে অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্সে’ (সাবেক টুইটার) দেশের সকল ‘আরশোলাদের’ জন্য একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি কৌতুকপূর্ণভাবে দলটিতে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা হিসেবে বেকার, অলস, দীর্ঘসময় অনলাইনে কাটানো এবং পেশাগতভাবে ক্ষোভ প্রকাশের ক্ষমতা থাকার শর্ত দেন। এসব শর্ত মাথায় রেখেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দলটির ফলোয়ার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কয়েক মিলিয়নে পৌঁছায়। দলে নাম নিবন্ধন করতে থাকেন হাজার হাজার সমর্থক, যা এখন দেশটির ক্ষমতাসীনদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের জেরেই নয়, ভারতের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। দেশটির ১৪০ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের বয়স ২৫ বছরের নিচে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরীক্ষায় নানা অসংগতি এই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সামনে আসে কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
ডিজিটাল আন্দোলনের নতুন ভাষা
সংগঠনটির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কোনো বিশাল দলীয় কাঠামো ছিল না, ছিল না প্রচলিত অর্থে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রাম ও ইউটিউবের মাধ্যমে আন্দোলনের কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হতো। তাদের পোস্টগুলোয় ছিল ব্যঙ্গ, কৌতুক, কার্টুন, মিম এবং তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ। প্রচলিত রাজনৈতিক ভাষার পরিবর্তে তরুণদের ভাষায় তৈরি কনটেন্ট দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এটাই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি। কারণ এটি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়নি, বরং তরুণদের হতাশা ও ক্ষোভকে সহজ ভাষায় প্রকাশ করেছে।
রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত
অনলাইন প্রচারণা দ্রুত বাস্তব আন্দোলনে রূপ নেয়। দিল্লির যন্তর-মন্তরে প্রথম বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী, গবেষক, শিক্ষক এবং অভিভাবকরা অংশ নেন। পরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে কলকাতা, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পুনে, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, লক্ষেèৗসহ বিভিন্ন শহরে। ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি শুরুতে গুরুত্ব না দিলেও পরে তারা সিরিয়াস হন, এজন্য যে আন্দোলনকারীরা স্লোগানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগও চাচ্ছিলেন। এ ইস্যু কঠোর ভাষাও প্রয়োগ করে শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের বিস্তার ও মূল দাবিগুলো ছিল
প্রশ্নপত্র ফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত, পরীক্ষা ব্যবস্থার পূর্ণ সংস্কার, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি, জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করা, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। প্রথমদিকে সরকার আন্দোলনকে গুরুত্ব দেয়নি। অনেক সরকারি নেতা এটিকে বিরোধীদলের প্ররোচনায় পরিচালিত কর্মসূচি বলেও মন্তব্য করেন। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই আন্দোলন দেশের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংহতি সমাবেশ, শিক্ষক সংগঠনের বিবৃতি, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের সমর্থন আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয়। বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় শিক্ষার্থীরাও অনলাইনে সংহতি প্রকাশ করেন।
পুলিশের হামলা ও সংঘর্ষ
দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে মিছিল করার সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। বহু আন্দোলনকারী আটক হন। লাঠিচার্জ ও ধস্তাধস্তির ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকের মতে, এই ঘটনাই আন্দোলনের প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি বাড়িয়ে দেয়। আন্দোলনে সব শ্রেণি-পেশার লোক যুক্ত হওয়া শুরু করছে সরকার তরুণদের কণ্ঠ দমনের পুলিশি অ্যাকশনে যায়, কিন্তু এতে কোনো কাজ না হওয়ায় সুর নরম করে সরকার। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে পদ ছাড়তেই হয়।
বিরোধীদলের ভূমিকা
শিক্ষাথীদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশে রাজপথে নামের প্রধান বিরোধীদলের শীর্ষনেতারা। বিশেষ করে কংগ্রসের শীর্ষনেতা নেতা রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাজপথে নেমে আসেন। পুলিশের গাড়িতেও তোলা হয় রাহুলকে। পরে সংসদ শুরু হলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সংসদে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করে। তারা প্রশ্ন তোলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় কে নেবে?
আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট
আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন কয়েকজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, অবসরপ্রাপ্ত আমলা এবং সমাজকর্মী প্রকাশ্যে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। আন্দোলন চলাকালে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #CockroachJantaParty Ges #ExamJustice হ্যাশট্যাগ কোটি কোটি বার ব্যবহৃত হয়।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ
ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। সরকার জানায়, শিক্ষা খাতে নতুন সংস্কারের পথ সুগম করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা বলেন, এটি জনগণের বিজয় এবং তরুণদের ঐক্যের ফল।
এরপর কী?
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সরকার উচ্চপর্যায়ের একটি টাস্কফোর্স গঠন করে। সরকার প্রতিশ্রুতি দেয়, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করা হবে, কঠোর আইন ও ডিজিটাল নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে। আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দেন, শুধু পদত্যাগে আন্দোলন শেষ হবে না। সংস্কার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবেন।
কেন সফল হলো এই আন্দোলন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি কারণে আন্দোলনটি সফল হয়েছে। প্রথমত, এটি তরুণদের বাস্তব সংকটকে সামনে এনেছে। দ্বিতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছে। তৃতীয়ত, আন্দোলনের ভাষা ছিল ব্যঙ্গাত্মক হলেও দাবিগুলো ছিল বাস্তবসম্মত। তরুণরা ঐক্যবদ্ধ থাকায় আন্দোলন দমন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ভবিষ্যতের ইঙ্গিত
ককরোচ জনতা পার্টি দেখিয়ে দিয়েছে, ডিজিটাল যুগে সংগঠিত নাগরিক আন্দোলন কত দ্রুত জাতীয় রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন এখন ভারতের রাজনীতিতে আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এই আন্দোলনের একটি বড় মাইলফলক হলেও, প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে প্রতিশ্রুত সংস্কার কতটা বাস্তবায়িত হয় তার ওপর। ভারতের গণতন্ত্রে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ইতোমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। এটি শুধু একটি আন্দোলনের গল্প নয়; এটি এমন এক প্রজন্মের গল্প, যারা মনে করে- ভবিষ্যৎ নিয়ে আপস করা যায় না, আর সংগঠিত নাগরিক চাপ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে।
ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ককরোচ পার্টির
ভারতজুড়ে টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের মুখে আটক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও তা লঙ্ঘন করেছে সরকার। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আন্দোলনকারীদের মুক্তি দেওয়া না হলে পুনরায় কঠোর আন্দোলন শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির তরুণদের আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজিপি)। গত ২৭ জুলাই সোমবার দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, মূল দাবির একটি বাস্তবায়িত হওয়ায় অর্থাৎ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর দিল্লির যন্তর-মন্তরে ৩৭ দিনের টানা অবস্থান কর্মসূচি ‘সম্মানের খাতিরে’ তুলে নিয়েছিল অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলন। কিন্তু সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বিজেপি নেতা ও দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জীতেন্দ্র সিংকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশন না নেওয়ার যে চুক্তি হয়েছিল, তা পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বিহার ও বাংলা থেকে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লির লজিস্টিক সহযোগিতাকারী স্বেচ্ছাসেবকদের আটক এবং বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি ও হেনস্তার একের পর এক খবর আসছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং চুক্তি অনুযায়ী দিল্লি পুলিশ বা কেন্দ্র ও বিজেপির মিত্র রাজ্যগুলোর পুলিশ যেন নতুন কোনো এফআইআর দায়ের না করে, সেই দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আমরা আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’ একইসঙ্গে আলোচনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মামলা বাতিলের লিখিত চুক্তি গত ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের হাতে হস্তান্তরেরও দাবি জানিয়েছেন সিজেপির এই মুখপাত্র। গত ২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির পর ভারতজুড়ে আন্দোলকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। সিজেপি শুরু থেকেই এসব মামলা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার শর্ত দিয়েছিল।