১৯৪৭ সালেই তার ফয়সালা হয়ে গেছে
১৮ জুন ২০২৬ ১০:০০
॥ জামশেদ মেহদী ॥
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে স্মার্ট নয়, বরং ওভার স্মার্টই বলা যায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বলা হচ্ছে যে, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর গত ৫৫ বছর ধরে ক্যারিয়ার ডিপ্লোমেটরাই বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার নিযুক্ত হয়েছেন। ৫৫ বছর পর এবারই সর্বপ্রথম একজন পলিটিশিয়ানকে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি হলেন দীনেশ ত্রিবেদী। বলা হয়েছে যে, শেখ হাসিনার ১৫ বছরে ভারত সরকার বাংলাদেশের জনগণকে নয়, বরং বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল এবং একজন রাজনৈতিক নেতার সাথে বন্ধুত্ব করতে চেয়েছিলো। রাজনৈতিক দলটি হলো আওয়ামী লীগ এবং নেতা হলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু শেখ হাসিনার লজ্জাজনক পতন এবং ভারতে বিতাড়নের পর দিল্লিতে সম্ভবত বোধোদয় হয়েছে যে, এক নেতা এবং এক দলের সাথে বন্ধুত্ব করলে সে বন্ধুত্ব টেকসই হয় না। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল এবং নেতার পতনের সাথে সাথে বন্ধুত্বও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। ধারণা করা হয়েছিলো যে, এবার আর ক্যারিয়ার ডিপ্লোমেট দিয়ে নয়, বরং একজন পরীক্ষিত রাজনীতিবিদকে হাইকমিশনার করে ভারত বাংলাদেশের জনগণের সাথে বন্ধুত্ব করবে। দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে নাকি ব্যক্তিগতভাবে ঘনিষ্ঠ। এছাড়া তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে রেলমন্ত্রীও ছিলেন। সুতরাং বলা যায় যে, নরেন্দ্র মোদি এবার একজন হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার করে পাঠিয়েছেন।
কিন্তু শুরুতেই দীনেশ ত্রিবেদী ওভার বাউন্ডারি করতে গিয়ে নিজেই আউট হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। তিনি প্রথমে স্ট্যান্ট দেওয়ার চেষ্টা করেন বাংলাদেশে প্রবেশ নিয়ে। তিনি একজন হাইকমিশনার। তিনি তো বিমানে করেই ঢাকা আসবেন। কিন্তু তা না করে তিনি স্থলপথে অর্থাৎ বেনাপোল বর্ডার দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। অতঃপর মোটরগাড়িযোগে স্থলপথে তিনি ঢাকা আগমন করেন।
বাংলাদেশে একশ্রেণির অন্ধ ভারতপ্রেমিক আছেন। এরা সবসময় তক্কে তক্কে থাকেন, কীভাবে ভারতের কোন অ্যাকশনকে সাপোর্ট করা যায়। বাংলাদেশের মূলধারা বলে দাবিদার একটি বাংলা দৈনিকে বলা হয়েছে যে, দীনেশ ত্রিবেদীর বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ নাকি কূটনৈতিক মহলে একটি প্রতীকী বার্তা দিয়েছে। বলা হয়েছে, সংযোগ ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের গুরুত্ব এতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বলে মনে হয়।
বাংলাদেশে ঢুকেই ভারতের নতুন হাইকমিশনার বেশকিছু চটকদার কথা বলেছেন। উনি ভেবেছিলেন যে, এই সমস্ত চটকদার কথা বলেই উনি বাংলাদেশের মানুষের মন জয় করবেন। তিনি বলেছেন, আমাদের পপুলেশন আছে ১৪০ কোটি। তার সাথে ২০ কোটি এ্যাড করছি (এই ২০ কোটি বাংলাদেশের)। মোট ১৬০ কোটি। আমি এখানে যা করতে চাই, তা সব একসঙ্গে হবে। আলাদাভাবে ভাবছি না যে, আমি ভারতে নই বাংলাদেশে আছি। দেখছেন না যে, আমি হেঁটে চলে এসেছি। আমরা ১৬০ কোটি মানুষ। আমাদের একই আকাশ, একই বাতাস।
তাকে প্রশ্ন করা হয় যে, ভারত তো বাংলাদেশিদের ভিসা দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা ভিসা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো একসঙ্গে মিলে সমাধান করবো। আমাদের শুধু অভিন্ন সীমান্ত নয়, অভিন্ন আকাশও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো এক। আমার একমাত্র অধিকার, ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের সম্পর্ক। আমরা সবাই ভাই-বোন। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ।
আমি প্রথমেই বলেছি যে, ওভার বাউন্ডারি মারতে গিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী প্রথমইে বোল্ডআউট হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। একটি ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন যে, আমাদের অভিন্ন সীমান্ত। আর বলেছেন, অভিন্ন আকাশ। এসব ছেলে ভোলানো কথা বলে কি কোনো লাভ আছে? আমাদের জমিন, আমাদের মানুষ ভারতের সাথে এক নয়। এনসিপির আহ্বায়ক এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘১৯৪৭ সালেই ভারত এবং বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। আমাদের দুই দেশের মাঝে একটি বাউন্ডারি আঁকা হয়েছে।’
নবাগত ভারতীয় হাইকমিশনারের এসব মিঠা মিঠা কিন্তু অবাস্তব কথাবার্তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গত ১৩ জুন শনিবার একটি বাংলা দৈনিকের সাথে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ‘ভারতের জনসংখ্যা আর বাংলাদেশের জনসংখ্যাকে এক করার কথা যারা বলেন, তাদের বলতে চাই- সার্কভুক্ত দেশগুলোর মোট জনগোষ্ঠী ২২০ কোটির বেশি। যারা সার্কের ঐক্য চায় না, তারা শুধু দুই দেশের ঐক্যের কথা বললে আমরা সন্দেহের চোখে দেখবো।’ তিনি আরো বলেন, ‘যারা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় কথা বলেন, আর যারা বাইরে কথা বলেন, তাদের ভাষা এক হলেও মনোজগতে পার্থক্য রয়েছে। এজন্য সীমান্তের ওপারে কিংবা কলকাতায় গিয়ে বাঙালির সার্টিফিকেট নিতে হবে না। আমরা নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশি। যদি ১৪০ কোটি আর ২০ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে চান, তাহলে সার্কের ২২০ কোটি মানুষকেও ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। যারা এটা চাইবে না, আমরা এটাকে সন্দেহের চোখে দেখবো। আঞ্চলিকতার জন্য সার্ক এবং আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ এভাবেই আমরা এগোতে চাই।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান। তারা মন্তব্য করেন, দুই দেশের জনগণকে এক জনসংখ্যার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রসত্তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। দ্রুত সরকারকে এ বক্তব্যের সুস্পষ্ট ও মর্যাদাপূর্ণ ব্যাখ্যা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ মন্তব্যকে অযৌক্তিক, অপ্রত্যাশিত এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করা হয়। এমন বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করবে উল্লেখ করে তারা ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করেছে।
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের আকাশ বা মাটি এক নয়, যা ১৯৪৭ সালেই মীমাংসিত হয়েছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, কাঁটাতারের বেড়া ও নদীর বাঁধ রেখে কেবল বন্ধুত্বের কথা বলা গ্রহণযোগ্য নয়।
দীনেশ ত্রিবেদীর মুখের কথায় চিড়া ভিজবে না। বরং তার কথার পেছনে সেই প্রবাদ বাক্যের মতো আস্তিনের ভেতরে লুকায়িত ছুরির আভাস পাওয়া যায়। ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আরএসএসের যে চূড়ান্ত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা ব্যক্ত করা হয়েছে, নবাগত ভারতীয় হাইকমিশনার মিষ্টি কথার আড়ালে সেই এজেন্ডাকেই এগিয়ে নিতে এসেছেন বলে তথ্যাভিজ্ঞমহল সংশয় প্রকাশ করেন।
তাই যদি না হবে, তাহলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ-উর রহমানকে নয়াদিল্লিতে হেনস্তা করা হলো কেন? শুধু হেনস্তা নয়, রীতিমতো অপমান করা হয়েছে, যে কারণে তিনি কলম্বো হয়ে তৎক্ষণাৎ ঢাকা ফিরে এসেছেন। এখানে আমরা বলতে চাই যে, আমরা বিএনপি বা ড. জাহেদের সমর্থক নই। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাজে যখন রাষ্ট্রের কোনো উচ্চস্তরের কর্মকর্তা দেশের বাইরে যান, তখন আমরা তাকে বাংলাদেশি হিসেবেই মনে করি এবং তার যথাযোগ্য মর্যাদা দাবি করি।
পত্রপত্রিকার খবর মোতাবেক, গত ১৫ জুন সোমবার থেকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা গত ১৪ জুন রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ওই বৈঠকে তার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। খবরে আরো প্রকাশ, কূটনৈতিক রীতিনীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের তথ্য উপদেষ্টার দিল্লি পৌঁছানোর খবর আগেভাগেই কূটনৈতিকপত্র মারফত ভারত সরকারকে জানানো হয়েছিলো। শুধু তাই নয়, টেলিফোনেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে জানানো হয়। সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, আগাম জানান দেওয়া সত্ত্বেও ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। তাকে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আটকে রাখা হয়। অতঃপর দিল্লির ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশ আসার পর তাকে ছাড়া হয়। ড. জাহেদ শুধু তথ্য উপদেষ্টা নন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিক বিষয়েরও উপদেষ্টা বটে। কিন্তু এই জিল্লতি বরদাশত করতে পারেননি ড. জাহেদ। তাই তিনি শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সে ঢাকা ফিরে আসেন।
ঢাকার একটি নেতৃস্থানীয় বাংলা দৈনিকের এক্সক্লুসিভ খবরে প্রকাশ, ভারতীয় গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ড. জাহেদ-উর রহমান নাকি ভারতের ইমিগ্রেশনের ওয়াচ লিস্টে ছিলেন। ড. জাহেদ তথ্য উপদেষ্টা হওয়ার পর নাকি ওয়াচ লিস্ট থেকে তার নাম অপসারণ করা হয়। কিন্তু এই অপসারণের সিদ্ধান্ত নাকি ইমিগ্রেশনকে জানানো হয়নি। ফলে তাকে দিল্লি আটকে দেয়।
আমরা আগেই বলেছি যে, তথ্য উপদেষ্টা অন্য দলের লোক হলে কী হবে, তিনি দিল্লি গিয়েছিলেন রাষ্ট্রীয় সফরে এবং একটি রাষ্ট্রীয় সম্মেলনে যোগ দিতে। সুতরাং ড. জাহেদ এখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি। ড. জাহেদের অসম্মান বাংলাদেশের অসম্মান। এটা কোনোভাবেই বাংলাদেশ মেনে নিতে পারে না।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেটি এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। যেটুকু জানা গেছে, সেটি হলো এই যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাকি ভারতীয় হাইকশিনারের একজন সিনিয়র অফিসারকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশের অসন্তোষ জানিয়েছেন। শুধু কি এই টুকুই যথেষ্ট? ভারতীয় হাইকমিশনের সিনিয়র একজন কূটনীতিককে তলব করা হবে কেন? এসব ক্ষেত্রে তো সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতকেই তলব করা হয়। আলোচ্য ক্ষেত্রে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে তলব করা হয়নি কেন?
সরকার বলেছে যে, তারা এ ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছে। বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়ার পর তারা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
জনগণের স্পষ্ট দাবি, সরকারের উপদেষ্টা পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার সাথে নিশ্চয়ই এমন অশোভন ব্যবহার করা হয়েছে, যার জন্য তিনি ঐ সম্মেলন বয়কট করে সাথে সাথেই দেশে ফিরে এসেছেন। এই বিষয়টিকে কোনো অবস্থাতেই হালকাভাবে গ্রহণ করা যায় না। জনগণের দাবি, বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে অপমান করার কারণে ভারতকে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় জনগণ ভাবতে বাধ্য হবেন যে, ভারতের প্রতি অতীতের নতজানু নীতি থেকে এখনো সরে আসা হয়নি।
ড. জাহেদের এ ঘটনার আগে বেশ কিছুদিন ধরে ভারত পুশইনের মতো আক্রমণাত্মক ঘটনা ঘটাচ্ছে। দীনেশ ত্রিবেদী এই পুশইন এবং ড. জাহেদের মতো আরো অনেক আপত্তিজনক ঘটনা সম্পর্কে কী বলবেন? এগুলোই কি বাংলাদেশ এবং ভারতের জনগণের সাথে বন্ধুত্ব করার নমুনা?
কথায় বলে, ইল্লত যায় না ধুলে আর খাসলত যায় না মলে। কথায় আরো বলে, মুখে শেখ ফরিদ আর বগলে ইট। এ ব্যাপারে বাংলা-ভারত বন্ধুত্বের ঢোল পেটানো দূত দীনেশ ত্রিবেদী কী বলেন?
E-mail:jamshedmehdi15@gmail.com