সামনে কঠিন সময় : তারেক রহমান
১ জুন ২০২৬ ০৯:৪১
রোববার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ এ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যেরোববার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ এ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সামনে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। কঠিন সময়ে হেসেখেলে চললে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক বড় ক্ষতি হবে। যখন দেশের প্রতিটি নেতা-কর্মী সরকারের কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে মাঠে নেমে কাজ করবেন, তখনই এই সরকারের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব। দেশে বর্তমানে সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এসব মূল্যবোধ কীভাবে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দেশের জনগণের সকল প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারের বিভিন্ন গণমুখী উদ্যোগ ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি তুলে ধরতে আজ সোমবার প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আজ সোমবার দুপুর ১২টায় এই সাংবাদিক সম্মেলন শুরু হবে।
৩১ মে রোববার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ এ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ধীরে ধীরে পরিকল্পনা করে দেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। একইভাবে সেই পথনির্দেশিকা মেনেই কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। সরকার তখনই সফল হবে যখন দলের লোকজন সরকারকে সহযোগিতা করবে। শুধু সরকারের মন্ত্রীরা পরিশ্রম করলেই সফলতা আসবে না। এক্ষেত্রে সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। যেভাবে নির্বাচনে সহযোগিতা করে জয় এসেছে, তেমনি সহযোগিতা করতে হবে। তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা তা আর পূরণ হয়নি। গত ১৭ বছর বাংলাদেশে কী চলেছে সবাই তা জানে। এই সময়ে বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতসহ গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে, জাতি তার সাক্ষী। অনেকটা একই রকম পরিস্থিতির মধ্যে এই বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের ইশতেহার ১২ ফেব্রুয়ারির আগে ছিল বিএনপির, এখন সেটি জনগণের। যারা এটির পক্ষে রায় দিয়েছেন তাদের আশা-ভরসা পূরণ করতে হবে। বিএনপি সরকার জিয়াউর রহমানের দর্শন থেকেই দেশ পরিচালনা করছে এবং করবে। আর ইশতেহারেও সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়েছে। আমরা মনে করি—জনগণের দৃষ্টিতে সফল হতে হলে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, শহীদ জিয়া যেভাবে দেশকে গঠন করতে চেয়েছিলেন, শহীদ জিয়া যেভাবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, আমরা সে ধারায় চেষ্টা করছি দেশকে আজকে পরিচালনা করতে। বর্তমান সরকার একটি রাজনৈতিক সরকার অর্থাৎ একটি রাজনৈতিক দল যার নীতি আছে, যার আদর্শ আছে, যার পরিকল্পনা বা ম্যানিফেস্টো আছে। যে পরিকল্পনা বা ম্যানিফেস্টো আমরা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরেছিলাম ১২ তারিখের নির্বাচনের আগে এবং দেশের মানুষ এ ম্যানিফেস্টো বা পরিকল্পনা দেখেছে, শুনেছে, বুঝেছে এবং ১২ তারিখে তারা তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধানের শীষে ভোট দিয়ে সেই দায়িত্ব দিয়েছে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য। পিতার স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শৈশবে একদিন তিনি (তারেক রহমান) বাড়ির একজন কর্মচারীকে অপমানজনক ভাষায় সম্বোধন করলে শহীদ জিয়া বিষয়টি জানতে পারেন এবং তাকে কান ধরে সেই কর্মচারীর কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন। এই ঘটনাটি আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক শিক্ষার একটি বিষয়।
দেশে ফেরার পরে এ রকম মূল্যবোধের অভাব অনুভব করেছি। মুরব্বিদের শ্রদ্ধা করা, অসহায়কে সহযোগিতা করা, মানুষের সঙ্গে বিনয়ীভাবে কথা বলা এই মূল্যবোধ গুলো আগামী প্রজন্মের মধ্যে কীভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আমি তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছি। শহীদ জিয়ার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ১৯৮৬ সালে সউদি আরবে ওমরা পালনকালে এক ইন্দোনেশীয় ব্যক্তি বাংলাদেশ পরিচয় শুনে সঙ্গে সঙ্গে জিয়াউর রহমান বলে ওঠেন। মানুষ শহীদ জিয়া বা বাংলাদেশ বললে দুটোকে একসঙ্গেই বুঝতো। সন্তান হিসেবে পিতার জন্য সেদিন আমি গর্ব অনুভব করেছিলাম। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের ৫২ শতাংশ ভোটার ধানের শীষে ভোট দিয়ে যে ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেটি আর শুধু বিএনপির ইশতেহার নয়, এটি এখন জনগণের ইশতেহার। খাল খনন কর্মসূচি, শিক্ষার প্রসার, গার্মেন্ট শিল্পের আদলে নতুন শিল্প বিপ্লব, বন্ধ কল-কারখানা চালু, নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড শহীদ জিয়ার প্রতিটি পথনির্দেশিকা আমাদের ইশতেহারে গ্রহণ করা হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ২১৪ জন এমপি বা ৫০ জন মন্ত্রী একা পরিশ্রম করলেই কার্যক্রম সফল হবে না। সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যখন মাঠে নেমে কাজ করবেন তখনই সফলতা আসবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সফল আন্দোলন করেছিলাম। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সফল নির্বাচন পার হয়ে এসেছি। এখন আমাদের ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে সফল সরকারের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারলেই শহীদ জিয়ার প্রতি পরিপূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে সক্ষম হবো।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভায় সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন,দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মনি এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। এছাড়া অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমান এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন জিয়াউর রহমানের জীবন ও অবদান নিয়ে আলোচনা করেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়।