আবু হাসান তাহের-এর কবিতা

রাজার দরবার


১৫ মে ২০২৬ ২১:১৩

সেকাল ছিলো আলাদা ভাই, জেদ ছিল এক রত্তি,
রাজা মশাই বুঝতেন ঠিক নিজের যে ভাবমূর্তি।
সিংহাসনে বসলে পরে গাম্ভীর্যটাই মূল,
রাজ্য শাসনে দিতেন না ছাড়, করতেন না তো ভুল।

হাসি-ঠাট্টা আমোদ-প্রমোদ, দরকার হতো যখন,
বেতন দিয়ে ‘ভাঁড়’ পুষতেন বুদ্ধি করে তখন।
নিজের কাজটা নিজেই করতেন, ধরতেন না তো তালি,
রাজার মুখে মানাতো না কো জোকারগিরির গালি।

ভাঁড়ামি আর রাজকার্যে রাখতেন বড় ফারাক,
নিজের সম্মান বাঁচিয়ে চলতেন, বুদ্ধি থাকুক সজাগ।
হাসাতো যেজন, বেতন পেতো- বিনোদন তার পেশা,
রাজার চোখে থাকতো কেবল রাজ্য গড়ার নেশা।

কাল বদলেছে, এখন দেখি উল্টো রথের টান,
সবাই এখন ভাঁড় সেজেছে, খুইয়ে নিজের মান।
দরবার জোড়া বিদূষক নেই, অভাব পড়েছে তার,
কথায় কাজে সস্তা ঢঙে রাজা নিজেই এখন ভাঁড়!

আভিজাত্যের সেই শিকলটা ছিঁড়েছে আজ তবে,
গাম্ভীর্য আর সস্তা হাসির পার্থক্য কে কবে?
রাজা যদি ভাঁড়ামিটা কাঁধে তুলে নেয় নিজে,
প্রজারা তবে কাঁদবে হাসবে, কোন সে চোখের ভিজে?