প্রিন্সিপাল মাওলানা মনিরুজ্জামান ফরিদীর ইন্তেকালে বিসিএ’র শোক

সোনার বাংলা অনলাইন
২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০০

প্রিন্সিপাল মাওলানা মনিরুজ্জামান ফরিদী

দেশের অন্যতম খ্যাতনামা আলেমে দ্বীন প্রিন্সিপাল মাওলানা মনিরুজ্জামান ফরিদী (৯৩) আজ ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃতুাকালে তিনি ৭পুত্র সন্তান এবং ৩ কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। উল্লেখ্য, তিনি প্রখ্যাত সাংবাদিক ও চিত্রশিল্পী ফরিদী নুমানের বাবা।
তার ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির সভাপতি আবেদুর রহমান ও সেক্রেটারি ইবরাহীম বাহারী। বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রিন্সিপাল মাওলানা মনিরুজ্জামান ফরিদী আজীবন ইসলামের দাওয়াত ও মানব কল্যাণে কাজ করেছে গেছেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার সকল নেক আমল কবুল করুন গুণাহখাতা মাফ করুন। তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। তার শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজনকে ধৈর্যধারণ করার তৌফিক দিন। আমীন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

  1. অধ্যক্ষ মাওলানা মনিরুজ্জামান ফরিদীর উজ্জ্বল জীবন
  2. দাওরায়ে হাদিস(লালবাগ), এম. এ (ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) •অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাতপাড় সরকারি নজরুল কলেজ, গোপালগঞ্জ। •সাবেক অধ্যাপক রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ফরিদপুর। •সাবেক অধ্যাপক সরকারি ফজলুল হক কলেজ, বরিশাল। * সাবেক ফ্যাকাল্টি, বরহামগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ, মাদারীপুর। * সাবেক নির্বাচিত জিএস বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদ, গোপালগঞ্জ। বৈচিত্র্যময় দীর্ঘ শিক্ষাজীবন ম্যাট্রিকুলেশন শেষ করেই দাদার ইচ্ছা ছিল আব্বাকে জর্জ ব্যারিস্টার বানাবেন। তাই খুলনার বিএল কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন। তখনকার দিনে গোপালগঞ্জের সঙ্গে খুলনার যোগাযোগটা বেশি ছিল। কিন্তু পথিমধ্যে যে লঞ্চে চড়ে তিনি খুলনায় যাচ্ছিলেন সেখানে দেখা হয় এক জবরদস্ত আলেমের সঙ্গে। মৌলানা সাহেব তার ছাত্রদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে তালিম দিচ্ছিলেন। তালিমের কিছু কথা আব্বার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি ওই তালবি আলেমদের সাথে ভর্তি হন গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসা। মাদ্রাসা শিক্ষা ৮ বছর কাটানোর পর গ্রামের বাড়ি শুকতাইল একটি হাইস্কুলে ধর্মীয় শিক্ষক পদে যোগদান করেন এবং আবার ভর্তি হন গোপালগঞ্জের সরকারি কলেজটিতে (তখন কলেজ টির নাম ছিল কায়েদে আজম কলেজ যা বর্তমানে বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ নামে পরিচিত)। সেখানে তিনি আই.এ এবং বি.এ কমপ্লিট করেন। বঙ্গবন্ধু কলেজে থাকা অবস্থায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ও অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচিত হন জিএস পদে। ১৯৬৫ সাল, আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। আইয়ুব খান এর বিরুদ্ধে নির্বাচন করেন ফাতেমা জিন্নাহ। তখন ছাত্রনেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আব্বাকে ডেকে নেন টুংগীপাড়া এবং বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এক অভিজ্ঞতা বর্ণনা আব্বা বলেছেন, “সভার সঞ্চালক একবার আব্বাকে সময় বেঁধে দিতে চাইলে শেখ মুজিবুর রহমান তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, হি ইজ ভেরি কনসিডারেট।” আব্বার বক্তব্যের বিষয়বস্তু এবং সময় জ্ঞান সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এরকমই মন্তব্য করেছিলেন। স্বৈরাচার আইয়ুব খা বিরোধী আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে এক মঞ্চে কাজ করলেও আব্বা কখনোই সেকুলারপন্থী ছিলেন না। বঙ্গবন্ধু কলেজে প্রতিষ্ঠিত মসজিদটির উদ্যোক্তা ছিলেন আমার আব্বা। বি.এ সমাপ্তির পর এম. এ পড়তে ভর্তি হন ঢাকা ইউনিভার্সিটি’তে। প্রথমে এরাবিক ডিপার্টমেন্ট এ। ভেবেছিলেন এ ডিপার্টমেন্ট বুঝি ইসলামের গভীর জ্ঞান গবেষণাপূর্ণ হবে। কিন্তু ইমরুল কায়েসের অশ্লীল আরবি সাহিত্য আব্বার মোটেও পছন্দ হয়নি তাই তিনি ডিপার্টমেন্ট পরিবর্তন করে ইসলামিক স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টে মাইগ্রেট করেন। কৃতিত্বের সাথে এম এ সমাপ্ত করেন। ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনের জন্য ব্রিটেনে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু চার সন্তানের জনক পরিবার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ মানুষ হবার চিন্তায় তিনি বিলেতের পথে পা বাড়ান নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থাকা অবস্থায় তিনি “জাহানের নও” নামক একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসাবে কাজ করতেন। পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রসংঘের মাদ্রাসা বিভাগের ঢাকা মহানগরী এর দায়িত্ব পালন করতেন। কর্মজীবনে প্রথমে ১৯৬৮ সালে যোগদান করেন, বরহামগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ, মাদারীপুর। এরপর ১৯৭৯ এ যোগদান সরকারি ফজলুল হক কলেজ বরিশাল। সেখানে প্রায় বছর শিক্ষকতায় কাটিয়ে দেন। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে চলে আসেন ফরিদপুর। সেখানে সরকারি রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে হাজার ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। এরপর সাতপাড় সরকারি নজরুল কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্বরত অবস্থায় ১৯৯৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ইসলামী আদর্শের আলোকে রাষ্ট্রের সংস্কার এবং ইসলামী সমাজ গঠন আব্বার আজীবন লালিত স্বপ্ন। এ প্রসঙ্গে সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী (রহ:), অধ্যাপক গোলাম আযম( রহ:), শামসুল হক ফরিদপুরী ( রহ:) প্রমুখ এর সঙ্গে পত্রালাপ ছিল।

অধ্যক্ষ মাওলানা মনিরুজ্জামান ফরিদী শোক সংবাদ

সম্পর্কিত খবর