চাঁদনী ও চন্দ্রগ্রহণ
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:৩৫
॥ রফিক মুহাম্মদ ॥
(এক)
চাঁদটাকে ধীরে ধীরে গিলে খাচ্ছে এক রাক্ষস। পৃথিবীর বুক থেকে একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছে মায়াবী জোছনার ছোঁয়া। অমানিশার অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে সব। রাক্ষসে যেদিন পুরো চাঁদকে গিলে খাবে, সেদিন কিয়ামত হবে অর্থাৎ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।
চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে তাহসিন ছোটবেলায় এরকম গল্প শুনেছে দাদির কাছে। মনে পড়ে এক শ্রাবণের চাঁদনী রাতে গ্রামের বাড়িতে উঠোনে বসে দাদির কোলে মাথা রেখে চন্দ্রগ্রহণ দেখছিলো। কালো ছায়ায় চাঁদটা যখন ধীরে ধীরে ঢেকে যাচ্ছিল, তখন সে খুব ভয় পেয়েছিল। কালো ছায়ায় পুরো চাঁদ যখন প্রায় ঢেকে যাচ্ছিল, তখন দাদিকে জড়িয়ে ধরে সে কান্না শুরু করে ছিল। কিন্তু না, সেদিন দাদির গল্পের সেই রাক্ষস পুরো চাঁদটাকে গিলে ফেলতে পারেনি। সামান্য কিছুটা বাকি ছিল। এরপর চাঁদটা আবার একটু একটু করে রাক্ষসের পেট থেকে বেরিয়ে এসেছিল।
এখনো পূর্ণিমার রাতে মাঝে মাঝে একাকী যখন বাসার ছাদে বসে চাঁদ দেখে, তখন ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। তখন একা একাই মুচকি হাসে। এ অধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও কী সব আজগুবি মিথ গ্রামবাংলায় এখনো প্রচলিত রয়েছে। চন্দ্রগ্রহণের সময় পোয়াতিদের মানে গর্ভবতীদের কিছু খাওয়া যাবে না। ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। চন্দ্রগ্রহণের সময় কিছু খেলে বাচ্চা বিকলাঙ্গ হবে। এ ধরনের আরও কত মিথ গ্রামাঞ্চলে এখনো প্রচলতি। অথচ চন্দ্রগ্রহণ হলো জ্যোর্তিবিদ্যাগত বিষয়। যেখানে সূর্যের আলোয় আলোকিত চাঁদকে পৃথিবী আংশিকভাবে বা সম্পূর্ণরূপে ঢেকে দেয়। এটি ঘটে চাঁদ যখন পৃথিবীর ছায়া পথের মধ্য দিয়ে যায়। পৃখিবী, চাঁদ এবং সূর্য যখন একই সরলরেখায় আসে, তখন চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। এতে কিছু সময়ের জন্য পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদ আংশিক বা সম্পূর্ণ ঢেকে যায় এবং পৃথিবী অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। এ জোতির্বিদ্যার বিষয়টি গ্রামবাংলার মানুষের কাছে এখনো নানাভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। তাহসিনের মনে ইদানীং সেই ছোট্টবেলায় দাদির কোলে মাথা রেখে চন্দ্রগ্রহণ দেখার দৃশ্য মনে পড়ে। বিশেষ করে চাঁদনীর কথা যখনই ভাবে, তখনই তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই চন্দ্রগ্রহণের দৃশ্য, অর্থাৎ চাঁদটাকে যেন একটু একটু করে রাক্ষসে গিলে খাচ্ছে এমন দৃশ্য।
(দুই)
ছাদে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে তাহসিন। শ্রাবণের আকাশে কালচে সাদা মেঘগুলো ভেসে যাচ্ছে কোন দূর অজানায়। মেঘে ঢাকা আকাশে আধখানা চাঁদ মৃত মাছের চোখের মতো ম্রিয়মাণ হয়ে আছে। গত সপ্তাহে তো পূর্ণিমার রাত চলে গেছে। ক্ষয়িষ্ণু চাঁদটা এখন মেঘের সাথে কেমন লুকোচুরি খেলছে। আজতো চন্দ্রগ্রহণ নয়। তাহসিনের আজ তবুও মনে হচ্ছে একটা রাক্ষস চাঁদটাকে ধীরে ধীরে গিলে খাচ্ছে। এই বুঝি পুরো চাঁদটাকে গিলে ফেলবে আর পৃথিবী আঁধারে ঢেকে যাবে। না তা হতে পারে না, এ সুন্দর পৃথিবীটা এভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে না। অসুন্দরের কালো ছায়া কিছুতেই এ পৃথিবীর সুন্দরকে গ্রাস করে নিতে পারে না। এটা কিছুতেই হতে দেওয়া যাবে না। একা একাই নিজের সাথে কথাগুলো বলতে থাকে তাহসিন।
ভেতরে ভেতরে সে তীব্র প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। কিন্তু এ অসুন্দরের গ্রাস থেকে সুন্দরকে সে কীভাবে রক্ষা করবে? বিদেশি এক এনজিওর কর্মকর্তা হয়ে চাঁদনী যা করছে, তা তো পরিবারের কারো পছন্দ নয়। চাঁদনীর পরিবারের লোকজন কত অমায়িক, কত ভদ্র। তাদের চলন-বলন কত মার্জিত আর শালীন। আর সে হয়েছে তাদের উল্টো। চাঁদনীর বাবা মীর সোলায়মান হাসান অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক। নেত্রকোনা জেলা শহরের কলেজ পাড়ায় সোলায়মান স্যারকে সবাই কত সম্মান করে শ্রদ্ধা করে। অবসর জীবনে তিনি মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন আর বই পড়ে কুরআন পড়ে সময় কাটান। চাঁদনীর ছোট বোন জুঁই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়ে। সেও কত শালীনভাবে চলা ফেরা করে। বোরকা না পরলেও বড় ওড়না দিয়ে মাথায় হিজাবের মতো পরে কি সুন্দর শালীন ও মার্জিতভাবে চলা ফেরা করে। ওর বড় বোন চামেলী আপা বিদেশ থেকে পিএইচডি করে এসে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। তিনিও শাড়ি পরে মাথায় হিজাব পরে অত্যন্ত সুন্দর ও শালীনতার সাথে চলাফেরা করেন। অথচ চাঁদনী তাদের পুরো উল্টো। জিন্স আর টি-শার্ট পরে ঘুরে বেড়ায়। মাঝে মাঝে কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য শাড়ি পরলেও হাতাকাটা ব্লাউজ, উদোম পিঠ আর পেটে নিজেকে খোলামেলাভাবে মেলে ধরার একটা আপ্রাণ চেষ্টা লক্ষ করা যায়। তাহসিন জামান একটি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। বিয়ের পর চাঁদের মতো সুন্দরী বউ পেয়ে তাকে নিয়ে ইচ্ছেমতো বেপরোয়াভাবে সেও চলাফেরা করছে। বউকে প্যান্ট-শার্ট পরিয়ে আধুনিকা বানিয়ে নিজেকেও খুব স্মার্ট ও আধুনিক মনে করছে। তার আদরে-প্রশ্রয়ে বউ আজ এ পর্যায়ে চলে গেছে যে এখন সে নিজেও আর কন্ট্রোল করতে পারছে না। চাঁদনী জামান এখন নারী স্বাধীনতা আন্দোলনের শীর্ষ নেত্রী। উগ্র খোলামেলা টাইপের চলা ফেরা এটাই যেন নারী স্বাধীনতার মূল বিষয়। বউয়ের এমন কর্মকাণ্ডে তাহসিনও এখন খুব বিরক্ত। কিন্তু চাঁদনীকে এখন আর সে কন্ট্রোল করতে পারছে না। বিয়ে হয়েছে আজ আট বছর হতে চলেছে। তারপরও সন্তানের মুখ এখনো দেখতে পারেনি। চাঁদনীকে বললেই বলে, এখনো সে সন্তান নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। সামনে তার বড় ক্যারিয়ারের হাতছানি। আগামী বছরের শুরুতে কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে এশিয়ার দায়িত্ব পাবে। তখন সে সারা এশিয়া মহাদেশ ঘুরে বেড়াবে। সিঙ্গাপুর নয়তো মালয়েশিয়ায় হবে তার অফিস। তাই এ সময়ে বাচ্চা নিয়ে সে তার সামনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে চায় না। তাহসিন অনেক বুঝিয়েছে, কিন্তু চাঁদনী তার সিদ্ধান্তে অটল। তার কথা ‘শরীর আমার, সিদ্ধান্ত আমার।’ তাই এ ব্যাপারে কারো পরামর্শই শুনতে রাজি নয় চাঁদনী। এ নিয়ে তাহসিনের সাথে ঝগড়া-ঝাঁটি পর্যন্ত হয়েছে। বিষয়টি এমন পর্যায় পৌঁছেছিল যে দুজনে আলাদা হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়েছে তাহসিন। আলাদা হয়ে যাওয়ার মধ্যে হয়তো এক ধরনের সমাধান হবে, তবে সেটা চায় না তাহসিন। সে আরও চেষ্টা করতে চায়। চাঁদনীকে ভালোর দিকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে চায়। তাহসিন যখন অনার্সে পড়ে, তখন তার বাবা মারা যায়। এরপর দু-তিন বছর কষ্ট করে অনার্স শেষ করেই ব্যাংকের চাকরিতে জয়েন করে তাহসিন সংসারের হাল ধরে। বিয়ের পর চাঁদনীকে নিয়ে সে বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করে ওকে এ বিপথে ঠেলে দিয়েছে। তাই এজন্য তাহসিন নিজেকেও কিছুটা দায়ী বলে মনে করে। তাই এ পথ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও তার। আজ চাঁদনীর এই যে বেপরোয়া চলাফেরা, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। এতদিনেও সে বাবা হতে পারেনি। এই কষ্টের কথাও সে কারো কাছে বলতে পারছে না। বৃদ্ধ মা নাতি-নাতনির মুখ দেখার জন্য অধীর হয়ে আছেন। সেই মায়ের সামনে পড়তেও তাহসিন এখন লজ্জা পায়। সন্তান নেওয়ার কথা বললেই চাঁদনী বলে, সে এখনো মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়। তার আরও কিছুটা সময় লাগবে। এসব বিষয় নিয়ে সংসারে চরম অশান্তি। তারপরও তাহসিন ধৈর্য ধরে আছে। আলাদা হয়ে যাওয়াটা তো সমাধান নয়। একসাথে থেকে শুধরানোর চেষ্টা করতে হবে। তাহসিন তো চাঁদনীকে খুব ভালোবাসে। তাই তার বিশ্বাস এ হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসাই চাঁদনীকে একদিন এ অশালীন ও অসুন্দরের পথ থেকে সুন্দরের পথে শান্তির পথে ফিরে আনবে।
(তিন)
ধৈর্যের সীমা এবার ছাড়িয়ে গেছে। চাঁদনী এবার ‘যৌনকর্মীদের পেশার স্বীকৃতি ও অধিকার আদায় আন্দোলন পরিষদের’ সভানেত্রী হয়েছে। তাহসিন এ বিষয়টিকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। এ নিয়ে চাঁদনীর সাথে আবারও শুরু হয় তর্কাতর্কি, মনোমালিন্য। তাহসিন নিজের রাগকে অনেকটা সংবরণ করে শান্ত গলায় বলেন, আচ্ছা চাঁদনী তোমরা নারী স্বাধীনতার নামে যা করতে চাচ্ছো তা কি কোনো সভ্য মানবসমাজের কাজ? এই অধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের যুগে এটা কি কোনো সুস্থ বিবেকবান মানুষের চিন্তা হতে পারে? তোমাদের ভাষায় তথাকথিত যৌনকর্মীদের পেশার স্বীকৃতি, অধিকার চাইছো তা কি কোনো সভ্য সমাজের চাওয়া হতে পারে? কোনো সভ্যতাই তো পতিতাবৃত্তিকে সুশীল বা সুস্থ কোনো বিষয় বলে দাবি করেনি। তোমরা যারা নিজেদের উন্নয়নকর্মী বলে দাবি করো তোমাদের উচিত ওইসব মেয়েদের অর্থাৎ যৌনকর্মীদের উন্নয়নে কাজ করা। তাদের ওই অন্ধকার যুগের, আদিম সমাজের বর্বর কাজ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। তাদের কুটির শিল্প, সেলাই কাজসহ নানা কাজে প্রশিক্ষণ দিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। হাতে-কলমে কাজ শিখিয়ে তাদের অন্ধকার জীবন থেকে আলোর পথে নিয়ে আসা। ওদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সামাজিক কাজ কর্মে নিয়োজিত করা। ওরা তো তোমাদের মতো মানুষ। ওদেরকে এ ঘৃণ্য ও কদর্য ও আদিম যুগের বর্বর পেশা নির্বাচন করে দিতে কে তোমাদের দায়িত্ব দিয়েছে? এ মেয়েগুলো তো তোমার বোনের মতো। তোমার বোন উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে তার যোগ্যতা অনুযায়ী অফিসে কাজ করবে। আর এ মেয়েগুলোকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী গার্মেন্টসে বা অন্য কোথাও কোনো কোম্পানিতে কাজ দিতে পারো। তা না করে ওই পাপ ও পঙ্কিলতার পথে ওদের আরও ঠেলে দেওয়ার জন্য তোমরা কাজ করছো? তাহসিন নিজেকে আর সামলাতে পারছে না। সে উত্তেজিত হয়ে বলে ফেলে, আচ্ছা তুমি নিজে কি এ পেশা বেছে নিতে পারবে? যদি তুমি নিজে এ পেশাকে সম্মানের মনে না করো, তাহলে অন্যের জন্য এটাকে কি করে সম্মানের মনে করছো। ছি! তোমরা নিজেদের মানবতার সেবক, এনজিও কর্মী, উন্নয়নকর্মী বলে দাবি কর কীভাবে? কথাগুলো বলে রাগে-ক্ষোভে ফুঁসতে থাকে তাহসিন।
চাঁদনীও নিজে এবার খুব ধৈর্যের পরিচয় দেয়। সে নীরবে তাহসিনের এতগুলো কথা চুপচাপ শুনে হজম করে নেয়। অন্য সময় হলে তাহসিনকে এক হাত নিয়ে নিতো। বলতো তুমি এখনো সেই পুরনো যুগে রয়ে গেছে। সময় অনেক পাল্টেছে। এ আধুনিক যুগে মানুষের মানসিকতারও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মেয়েরাও আজ অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু তোমার মতো পশ্চাদপদ মানসিকতার যারা ধর্মীয় গোঁড়ামিকে আঁকড়ে আছে, তারাই মেয়েদের এখনো বন্দি করে রাখতে চায়। কিন্তু না চাঁদনী আজ আর সে পথে হাঁটেনি। কারণ আর দুদিন পরে সুইজারল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে একটি ডেলিগেটস আসছে। হোটেল সোনারগাঁওয়ে তাদের সাথে চারজন যৌনকর্মীসহ চাঁদনী তিনদিনের একটি ওয়ার্কশপ করবে। এরপর আগামী মাসে এদের নিয়ে সুইজারল্যান্ড যাবে চাঁদনী। সেখানে যৌনকর্মীদের পেশার স্বীকৃতি ও অধিকারের বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন করা হবে এবং আলোচনা করা হবে। এমন একটি গ্রেট অপরচুনেটি কিছুতেই হাতছাড়া করতে চায় না চাঁদনী। তাই তাহসিনের উপদেশ সে নীরবে হজম করেছে। তারপর চুপচাপ উঠে চলে গেছে।
(চার)
হোটেল সোনারগাঁওয়ের লবিতে বসে চা খাচ্ছে চাঁদনী। যৌনকর্মীরা যে যার রুমে বেশ আনন্দেই সময় কাটাচ্ছে। চাঁদনীর সাথে আছে সুইজারল্যান্ড থেকে আসা ডেলিগেটস প্রধান মি. ডেনিয়েল। চল্লিশ-পঁতাল্লিশ বছর বয়সের এক শেতাঙ্গ পুরুষ ডেনিয়েল। সে কপি খাচ্ছে। কপির কাপে চুমুক দিতে দিতে চাঁদনীর সাথে টুকটাক কথা বলছে। চাঁদনীও বেশ সাবলীলভাবেই তার সাথে কথা বলে যাচ্ছে। কপির কাপে শেষ চমুক দিয়ে ডেনিয়েল উঠে যাচ্ছে। সে এখন জিমে যাবে। জিম শেষ করে ডিনার করবে। তবে উঠে যাওয়া সময় চাঁদনীকে যে কথাটা বললো, তা শুনে তো চাঁদনীর দু’কান গরম হয়ে গেল। সে স্তম্ভিত ও হতবাক হয়ে বসে রইলো। চায়ের কাপটা তার হাতে ধরা, কিন্তু তাতে সে চুমুক দিতেও ভুলে গেল। এ কি শুনছে সে? তাহলে কি তাকেও ওরা যৌনকর্মী বলে মনে করছে? ডেনিয়েল তো বেশ স্পষ্টভাবেই বলে গেল আজ রাতটি তার সাথে কটাতে। লজ্জায়-ঘৃণায় এবার নিজের ওপরই রাগ হতে লাগল। কী করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। কিছুক্ষণ থ হয়ে বসে রইল। তারপর উঠে সোজা হোটেল থেকে বেরিয়ে রিকশায় উঠলো। এ মুহূর্তে তাহসিনের কথা খুব মনে পড়ছে। তাহসিনের সেদিনের বলা কথাগুলো তার কানে বাজতে থাকে ‘তুমি নিজে কি এ পেশা বেছে নিতে পারবে…। মেয়েগুলোকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী গার্মেন্টসে বা অন্য কোথাও কোনো কোম্পানিতে কাজ দিতে পারো। তা না করে ওই পাপ ও পঙ্কিলতার পথে ওদের আরও ঠেলে দেওয়ার জন্য তোমরা কাজ করছো? ছি!…।’ চাঁদনীর দু’গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রুধারা। হাতের টিস্যু দিয়ে বার বার মুছেও সে তা থামাতে পারছে না।