সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে শহীদতনয় হাসান জামিল

বিচারের নামে হত্যার বিচার চাই

প্রিন্ট ভার্সন
১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৫২

শহীদতনয় হাসান জামিল

শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার পুত্র হাসান জামিল সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আমার বাবাসহ যাদের প্রহসনের বিচারে হত্যা করা হয়েছে, সেই ক্ষতি কোনোদিন কারো পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই ক্ষতিপূরণ নয়, ন্যায়বিচার চাই।
১২ ডিসেম্বর শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ১২তম শাহাদাতবাষির্কী। ২০১৩ সালের এদিনে নির্বাহী আদেশে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শহীদ সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সাপ্তাহিক সোনার বাংলা শহীদতনয় হাসান জামিলের মুখোমুখি হয়েছিল।
এ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হারুন ইবনে শাহাদাত
সোনার বাংলা : শহীদ আবদুল কাদের মোল্লা ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবনদান করেছেন। তারই সন্তান হিসেবে বিষয়টি আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
হাসান জামিল : প্রথমেই আপনার মাধ্যমে আমি সবাইকে সালাম ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমার ভাই-বোন আমরা সবাই ছোটবেলা থেকেই আব্বুকে সংগঠনের এবং ইসলামী আন্দোলনের জন্য সময় দিতে দেখেছি। উনি সবসময়ই শাহাদাতের তামান্না পোষণ করতেন। উনি দিনরাত সংগঠন ও ইসলামী আন্দোলনের জন্য পরিশ্রম করে গেছেন। উনার ধ্যান-জ্ঞান-পরিশ্রম সবকিছুই ছিল একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আমরা যতবারই উনার সাথে জেলে দেখা করতে গিয়েছি, উনি বার বার আমাদের বলেছেন, জেল-জুলুম, ফাঁসিÑ এগুলো ইসলামী আন্দোলনের পাওনা। উনার জীবনে অসংখ্য বক্তৃতা, সভা, সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে উনি ইসলামী আন্দোলন জেল-জুলুম ও শহীদের উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে কথা বলেছেন। অসংখ্যবার উনি গলার কাছে হাত নিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে শহীদ হওয়ার কথা বলেছেন। উনি যে সময়ে শহীদ হয়েছেন, সেই সময়ে সারা দেশে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছিল। আন্দোলনের জন্য সময়টা অত্যন্ত কঠিন ছিল। কিন্তু উনি বার বার আমাদের সাহস জুগিয়েছেন। বলেছেন, এই কঠিন সময় থাকবে না, শহীদের রক্তের মাধ্যমে একদিন ইসলাম এদেশে বিজয়ী হবে। উনার সারা জীবনের ইচ্ছে ছিল ইসলামী আন্দোলনের কাজ করতে করতেই উনি শাহাদাতবরণ করবেন। আল্লাহ তায়ালার কাছে আমাদের শুকরিয়া আদায় করার ভাষা নাই যে, আমার সম্মানিত পিতা শহীদ আবদুল কাদের মোল্লা। আমার পিতার হৃদয়ে লালিত সারা জীবনের স্বপ্ন মহান রাব্বুল আলামিন অত্যন্ত সুন্দরভাবে পূরণ করেছেন।
সোনার বাংলা : পুত্র হিসেবে তাঁর শূন্যতা আপনাকে কতটা কাঁদায়। শহীদের সন্তান হিসেবে আপনি কতটা গর্বিত এবং নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন?
হাসান জামিল : আসলে প্রিয়জন একবার যখন হারিয়ে যায়, তখন তার শূন্যস্থান কেউই পূরণ করতে পারে না। বিশেষ করে বাবার শূন্যস্থান পূরণ করা কারো দ্বারাই সম্ভব না। আর আমার বাবা ছিলেন একজন আদর্শ পিতা। তাকে এ দুনিয়ার জীবনে কখনো পাবোই না। তবে তাঁর আদর্শ আমাদের পথচলার আলোকবর্তিকা হয়ে আছে এবং থাকবে আজীবন।
আমার পিতা শহীদ আবদুল কাদের মোল্লা একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল বাবা ছিলেন। তিনি নিয়মিত আমি ও আমার ভাই-বোনসহ আমাদের সবার খোঁজখবর রাখতেন। তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাতেন, কিন্তু এর মাঝেও তিনি আমাদের পড়াশোনা, শরীর-স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য খোঁজখবর রাখতেন। এটা আল্লাহরই ফয়সালা যে, উনাকে এভাবে আল্লাহ তুলে নিয়ে গেছেন। এরকম একজন শহীদের সন্তান হিসেবে আমি গর্বিত এবং আল্লাহ তায়ালা উনাকে যেভাবে সম্মানের সাথে শাহাদাতের মর্যাদা দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ, সবাই আমরা গর্বিত। আমি অবশ্যই নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি যে, আমি এরকম একজন মর্যাদাবান শহীদের ছেলে এবং উনার এই মর্যাদাপূর্ণ শাহাদাতের সাক্ষী। উনার অবর্তমানে উনার শূন্যতায় আমি অনেক কেঁদেছি, আমার পরিবারের সকল সদস্যই অনেক কেঁদেছে। কিন্তু দিন শেষে তো আর উনাকে আমরা ফেরত পাব না, এই বাস্তবতা আমরা মেনে নিয়েছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমার বাবা এবং অন্য শীর্ষনেতাদের শাহাদাতের মাধ্যমে এদেশের মানুষের প্রিয় সংগঠনে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এজন্য রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।
সোনার বাংলা : শহীদ আবদুল কাদের মোল্লা ছিলেন একজন দাঈ, জননেতা এবং একজন পিতা। তার অবদান সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন তুলে ধরার অনুরোধ করছি?
হাসান জামিল : আমি আগেই বলেছি যে, উনি দিন-রাত সংগঠনের জন্য পরিশ্রম করে গেছেন, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা উনার চিন্তা-চেতনাই ছিল ইসলামী আন্দোলন, সারাক্ষণই চিন্তা করতেন কীভাবে ইসলামী আন্দোলন সামনের দিকে অগ্রসর হবে, সমস্যা কোথায় এবং কীভাবে তার সমাধান হবে। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার কোণায় কোণায় বিভিন্ন প্রোগ্রামে উনি বক্তৃতা দিয়েছেন, কথা বলেছেন, দেশের বাইরে সফর করেছেন, উনার ব্যস্ততার কোনো সীমা-পরিসীমা ছিল না। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যা থেকে শুরু করে দেশের নানা সমস্যা নিয়েও উনি চিন্তা করতেন। এর ফাঁকে ফাঁকে একজন পিতা হিসেবে উনি সবসময় আমাদের খোঁজখবর রাখতেন, মাসিক পারিবারিক বৈঠক করেও ইসলামের বিধিবিধানসমূহ মানার ব্যাপারে উনি আমাদের সবসময়ই তাগিদ দিতেন, আমাদের পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার জন্য উনি সবসময়ই বলতেন।
সোনার বাংলা : শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার গ্রেফতার, প্রহসনের বিচার; এককথায় তার শাহাদাতের পরের এবং পরের দুঃসময়ের স্মৃতিগুলো বলার অনুরোধ করছি?
হাসান জামিল : আমি আগেও অসংখ্য ইন্টারভিউতে বলেছি যে, এই বিচার ছিল পুরোটাই একটা প্রহসন। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়ার সাজানো একটি মঞ্চ ছিল এটা। ইন্ডিয়া বাংলাদেশে যেভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, তার জন্য সবচেয়ে বড় বাধা ছিলেন শহীদ আবদুল কাদের মোল্লাসহ জামায়াতের অন্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তাদের কোনোভাবেই সরাতে না পেরে এভাবে তথাকথিত আইন-আদালতের মাধ্যমে একটি বিতর্কিত বিচার করে তাদের দুনিয়া থেকে বিদায় করা হয়েছে। তারা মনে করেছিল, এদের বিদায় করলেই বুঝি আন্দোলন শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তারা এটা বুঝতে অক্ষম ছিল এভাবে কোনো আদর্শকে ধ্বংস করা যায় না। বরং শহীদের রক্তে ইসলামী আন্দোলন আরো বেগবান হয়। আমরা শাহাদাতের আগে ও পরে যে দুঃসহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এত অল্প পরিসরে তো সম্ভব নয়ই। আমরা বাবার জানাজা পর্যন্ত পড়তে যেতে পারিনি। শাহাদাতের রাতে আমাদের বাসায় আটকে রাখা হয়েছিল। আমাদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় আমরা অবরুদ্ধ ছিলাম। বাবার সাথে আমাদের শেষ সাক্ষাৎ ১০ ও ১২ ডিসেম্বর হয়েছিল। এই দুই শীতের রাতের কথা আমি কখনোই ভুলবো না। নানা বাধা-বিঘ্ন পেরিয়ে উনার সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল। বাবা ফাঁসির সেলে মেঝেতে বসেছিলেন। বাবা আমাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের খোঁজ নিচ্ছিলেন। ১২ ডিসেম্বর শেষ সাক্ষাতে আমাদের কাছে মনে হচ্ছিল উনি যেন আমাদের সাথে আর নেই, উনি যেন মহান রাব্বুল আলামিনের সাথে এক হয়ে মিশে গেছেন। এ কারণে উনি আমাদের সাথে ঐদিন ঠিকমতো কথাও বলেননি। শুধুমাত্র বার বার করে উনি আমাদের ইসলামী আন্দোলনের ওপর অটল থাকার জন্য বলছিলেন এবং আমাদের ধৈর্যধারণ করার উপদেশ দিচ্ছিলেন। বলছিলেন, মহান রাব্বুল আলামিন ইনশাআল্লাহ একদিন সবকিছু পরিবর্তন করে দেবেন এবং উনার রক্তের বিনিময়ে একদিন বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলন বিজয়ী হবে, বার বার করে এই কথাগুলো বলছিলেন। আমি আসলে কখনোই এই দুই রাতের কথা ভুলতে পারবো না। এখনো আমার কাছে মনে হয়, শীতের রাতে আব্বু কত কষ্টে ওই ফাঁসির সেলে ছিলেন!
সোনার বাংলা : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিপ্লবের পর একটি নতুন বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি। এখন আপনারা কেমন আছেন?
হাসান জামিল : আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে আমরা অনেক ভালো আছি। যে বিশাল ত্যাগের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেলাম, যেভাবে তরুণ-যুবকরা, ছাত্ররা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারকে বিদায় করলÑ এটা আশা করি, ভবিষ্যতের সকল শাসকের জন্য হয়ে থাকবে, ডাইনি হাসিনা-পরবর্তী ইসলামী আন্দোলনের নতুন জাগরণের সময়ে মহান রাব্বুল আলামিনের শুকরিয়া আদায় করছি যে, উনি আমাদের এই সময় দেখার জন্য বাঁচিয়ে রেখেছেন, সকল প্রশংসা একমাত্র মহান রব্বুল আলামিনের জন্য।
সোনার বাংলা : রাজনৈতিক এ পটপরিবর্তনের পর রাজনীতিতে আপনার এবং আপনার পরিবারের অবস্থান কী?
হাসান জামিল : আমরা এবং আমাদের পরিবার সবসময়ই সংগঠনের সাথে সংযুক্ত ছিলাম, আমরা সবাই সংগঠনের ছোট-খাটো কিছু খেদমত করার চেষ্টা করেছি, সংগঠনও আলহামদুলিল্লাহ সবসময়ই আমাদের খোঁজখবর রেখেছে। আমরা ইসলামী জাগরণের এই নতুন সময়ে সংগঠনের সাথে সংযুক্ত থেকেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চাই। এ ব্যাপারে আমরা কাজ করে চলেছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে কাজ অব্যাহত রাখব।
সোনার বাংলা : আপনি কি মনে করেন দেশের রাজনৈতিক অস্বচ্ছতা ও অসহিষ্ণুতার কারণেই আপনার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে?
হাসান জামিল : আমি আগেই বলেছি, আওয়ামী শাসন ও ইন্ডিয়ান আধিপত্যবাদকে দীর্ঘস্থায়ী করার প্রতিবাদ করার জন্যই উনাদের হত্যা করা হয়েছে। এদেশে আল্লাহর আইনের সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠা করে জনগণের মৌলিক সমস্যাগুলো দূর করে একটি আদর্শ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য উনারা কাজ করছিলেন। আর ইন্ডিয়াসহ আওয়ামী লীগ এদেশকে তাদের নিজস্ব স্বার্থে কাজে লাগানোর জন্য কাজ করছিল, তাই উনাদের এভাবে বিদায় করে দেওয়া ছাড়া ইন্ডিয়া ও আওয়ামী লীগের সামনে আর কোনো রাস্তা ছিল না। কারণ বাংলাদেশের আর সব দলের নেতাদের মতো উনাদের কেনা যেত না, বাংলাদেশকে ইন্ডিয়ার দালাল বানানোর জন্য উনাদের এভাবে হত্যা করা হয়েছে
সোনার বাংলা : আপনার বাবার কোন স্মৃতি আপনার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে?
হাসান জামিল : আমি আগেই বলেছি যে, শেষ দুই সাক্ষাতের স্মৃতি আমাদের পরিবারের সদস্যদের মনে সবসময়ই জাগ্রত আছে। শীতের রাতে সংকীর্ণ রাস্তা পেরিয়ে জেলে উনার সেলের সামনে যাওয়া, উনার কথা শোনা, উনাকে শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরা, মেঝেতে উনার বসে থাকা, শক্ত লোহার গ্রিল ধরে উনার দাঁড়িয়ে থাকাÑ এগুলো কোনোদিনই আমরা ভুলতে পারবো না। আমার এখনো মনে আছে, উনি আমাকে বলেছিলেন, তোমার চোখে যেন অশ্রু না আসে, তুমি শক্ত থাকবে ও সবাইকে সান্ত্বনা দেবে। শেষ সাক্ষাতেও উনি অত্যন্ত ধীরস্থির ও অটল ছিল। উনার সেই দৃঢ় সাহসী চেহারা আমি কখনোই ভুলবো না। মনে হচ্ছিল উনি যেন হিমালয়ের মতো অটল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, আজীবন দাঁড়িয়ে থাকবেন।
সোনার বাংলা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে আপনার ও আপনার পরিবারের সম্পর্ক কেমন?
হাসান জামিল : আমি আগেই বলেছি যে, আমরা সবসময় সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে কাজ করার চেষ্টা করেছি এবং সংগঠন সবসময়ই আমাদের খোঁজখবর রেখেছে, ভালো-মন্দ সমস্ত খোঁজখবরই তারা রেখেছেন, নানা বিপদে তারা সবসময় ছায়ার মতো আমাদের পাশে ছিলেন এবং এখনো আছেন।
সোনার বাংলা : বিচারের নাটক সাজিয়ে আপনার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। এটিএম আজহারুল ইসলাম খালাস পাওয়ার পর এ নিয়ে আর কোনো বিতর্ক নেই? আপনি কি এর প্রতিকার কিংবা ক্ষতিপূরণ মামলা করবেন?
হাসান জামিল : আমার আগে আপনার সাথে এক সাক্ষাৎকারে এ সম্পর্কে শহীদ সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের পুত্র আমাদের প্রিয় ভাই মাবরুর বিস্তারিত বলেছেন। আসলে ক্ষতিপূরণের মতো স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু নয়, আমিও মনে করি আমার বাবাকে যে অন্যায়ভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হত্যা করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিলো, তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তা প্রমাণ করার জন্য এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে অবশ্যই পুনর্বিচার জরুরি।
এখন আপনি যে রেফারেন্স দিলেন, এটিএম আজহারুল ইসলামেরÑ কিন্তু সমস্যায় হলো এর পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি। ওনার সংক্ষিপ্ত রায়ে যে পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলোকে আমরা ইতিবাচক মনে করছি। সেখানে ইতিবাচক অনেক কিছু আছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রায় না আসার কারণে আমরা আসলে বুঝতে পারছি না, কোন কোন প্রেক্ষাপটে আমাদের আসলে কাজ করার সুযোগ আছে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আইনগত এই দিক বিবেচনায় কিছু করার সুযোগ থাকে, তাহলে অবশ্যই আমরা চাইবো, ন্যায়বিচার হোক, আমাদের মামলাগুলো আবার চালু করা হোক।
মাবরুরে ভাইয়ের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমারও দাবি, মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে যে ক্যাঙ্গারু ট্রায়ালের মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ বিচারে আমার বাবাসহ যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বিচারগুলো যেন ন্যায়বিচার পান, তা নিশ্চিত করুন। আমিও ক্ষতিপূরণ নয়, ন্যায়বিচার চাই।
সোনার বাংলা : কষ্ট করে সোনার বাংলাকে সময় দেয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ।
হাসান জামিল : আমার ইন্টারভিউ নেওয়ার জন্য সোনার বাংলাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে শহীদতনয় হাসান জামিল