বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহার প্রকাশ

নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়া আমাদের অঙ্গীকার : ডা. শফিকুর রহমান


৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৭

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা কোনো দলীয় নয়, ১৮ কোটি জনগণের ইশতেহার আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। নৌকার মাঝি, মাঠের কৃষক, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কুটিরশিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টজন, শ্রমিক-মালিক, সাধারণ নাগরিক সবার জন্য একটি নিরাপদ, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের সম্পদের অভাব নেই, অভাব দায়বদ্ধতা, সততা ও দেশপ্রেমের। আমাদের নাগরিকরা সৎ, সমস্যা মাথায় অর্থাৎ যারা দেশ পরিচালনার ককপিটে আছেন। আমাদের তরুণরা যে আকাক্সক্ষা নিয়ে ২৪-এ বিপ্লব করেছে, তা ছিল একটি ইনসাফভিত্তিক মানবিক দেশ গড়া। তাদের আছে সততা ও দেশপ্রেম। আমরা তাদের দক্ষ করে দেশ পরিচালনার ককপিটে বসাতে চাই। আমাদের অঙ্গীকার নিরাপদ, ইনসাফভিত্তিক ও মানবিক একটি বাংলাদেশ গঠন করা, যার নেতৃত্বে থাকবে তরুণরা।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জনতার ইশতেহার’ শীর্ষক এ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রকাশ অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমীর ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আ ন ম শামছুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজার রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আফিস মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মানারাত ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর আব্দুর রব, মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন, সাংস্কৃতিককর্মী তোফাজ্জাল হোসেন খান, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর শীর্ষনেতৃবৃন্দ এবং মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীলরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারের মোড়ক উন্মোচন করেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এরপর প্রজেক্টর প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহার তুলে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, জুলাই বিপ্লবের আকাক্সক্ষা পূরণের লক্ষে জনপ্রত্যাশা বাস্তবায়নে বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে তৈরি করা ইশতেহারে মোট আটটি ভাগে মোট ৪১টি বিষয় উল্লেখ করা হলেও ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। ইশতেহার প্রণয়নে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পেশার ২৫০-এর বেশি বিশেষজ্ঞের সমন্বয় তৈরি করা জনগণের মতামতকেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ‘জনতার ইশতেহার’ নামের একটি ওয়েবসাইটে সাধারণ মানুষের মতামত চাওয়া হলে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৪০ হাজার মতামত দেন ও তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। ওয়েবসাইটে দেয়া মানুষের প্রত্যাশা ও মতামতকে ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী পাঁচ বছরের সরকার পরিচালনায় ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। ‘একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে ‘চলো সবাই একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’- এ সেøাগান সামনে রেখে ইশতেহারে ১০টি মৌলিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে ৫টি হ্যাঁ এবং ৫টি না রয়েছে। হ্যাঁ-এর মধ্যে রয়েছে সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান। না-এর মধ্যে আছে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজি। ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’- এ সেøাগান সামনে রেখে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিসহ ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও যুবকের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে ইশতেহারে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন করাই জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য।
আল্লাহর ইচ্ছায় এবং জনগণের সমর্থনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশকে আমরা একটা নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে আমাদের নারীরা থাকবে নিরাপদ, আমাদের পুরুষরা থাকবে নিরাপদ, শিশুরা থাকবে নিরাপদ; এমনকি আমাদের পরিবেশও থাকবে নিরাপদ। আমাদের কৃষক, শ্রমিক, কুলি-মজুর, ফুটপাতের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সকল পেশা ও শ্রেণির মানুষ বাঁচবে মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের কৃষকরা যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমাদের জন্য খাবার উৎপাদন করেন, তারা আমাদের মাথার তাজ। তারা ভালো থাকলেই আমাদের দেশ ভালো থাকবে, আমাদের শিশুরা পুষ্টি পাবে, আমাদের মায়েরা ভালো থাকবে। মৌসুমের শুরুতে কৃষিতে বিনিয়োগের জন্য মহাজনের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে ঋণ নিয়ে কিংবা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের ঋণ নিয়ে উৎপাদন করে ন্যায্যমূল্য পায় না। আমরা কৃষকদের জন্য মৌসুমের শুরুতে বিনাসুদে ঋণের ব্যবস্থা করবো।
আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের শ্রমিকরা পরিশ্রমী। আমাদের গার্মেন্টস শিল্প যে সারা দুনিয়ায় সুনাম অর্জন করেছে, তার কৃতিত্ব আমাদের নারী শ্রমিকদের। আমাদের শ্রমিকরা যেন মর্যাদার জীবনযাপন করতে পারে এবং এক্সপ্লয়টেড না হয়, সেরকম একটা অর্থনীতি আমরা গড়ে তুলতে চাই। আমাদের অর্থনীতি হবে ব্যবসাবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে হ্যাসেলমুক্ত পরিবেশে, নিরাপদে। সর্বপর্যায়ে আমরা একটি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বো। আমরা নিজেরাও দুর্নীতি করবো না, কাউকে দুর্নীতি করবো না। চাঁদাবাজরা যেন চাঁদাবাজি ছেড়ে সম্মানজনক জীবনে ফেরত আসতে পারে, আমরা তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই।
ইশতেহারের ভূমিকায় বলা হয়েছে, উর্বর ভূমি, বিপুল তরুণ জনশক্তি, সহনশীল ও উদার জনগোষ্ঠী এবং সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে এক অপার সম্ভাবনার দেশ। জনসংখ্যার দিক থেকে এটি বিশ্বের অষ্টম এবং মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আগমনের আগে মুঘল সাম্রাজ্য ছিল বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি। আর বাংলা ছিল সেই সাম্রাজ্যে সবচেয়ে সমৃদ্ধ প্রদেশ।
১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে বাংলার মানুষ পরপর দুবার স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অসৎ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অগণতান্ত্রিক নেতৃত্বের কারণে সেই স্বাধীনতা অর্থবহ হয়ে ওঠেনি। নব্বইয়ের গণআন্দোলনের মাধ্যমে যে সংসদীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল, গত পনেরো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় তা সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিনটি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের নির্বাচনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এই সময়ের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষনেতৃত্বকে হত্যা করা হয়েছে। দেশের ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে সার্বিকভাবে দেশকে এক বিভীষিকাময় টর্চার সেলে পরিণত করা হয়েছিল। হাজার হাজার মা তাদের সন্তান হারিয়েছেন। অসংখ্য পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিযেছে। লাখো হামলা-মামলায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের জীবন চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছিল। প্রায় সব বিরোধী রাজনৈতিক দল, মত ও সংগঠন জুলুমের শিকার হয়েছে। এই সময়েই দেশের অর্থনৈতিক খাত গভীর সংকটে নিপতিত হয়। লুটপাট ও অর্থ পাচার বাড়তে থাকে। ব্যাংক খাত ধ্বংসের পথে যায়। দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দ্রুত বিস্তৃত হয়। সব মিলিয়ে আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশ একটি ভয়াবহ অর্থনৈতিক পতনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। এর ফলশ্রুতিতে আজ দেশের তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
সেই নিকষ অন্ধকার কেটে জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত জুলাই বিপ্লব এক নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে। শহীদ আবু সাঈদ থেকে শহীদ শরীফ ওসমান হাদিসহ হাজারো তরুণ জীবন উৎসর্গ করেছে একটি ফ্যাসিবাদবিহীন, স্বাধীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে। তাদের আত্মত্যাগ দেশের গণতন্ত্র, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথে এক নতুন সকালের ইঙ্গিত দিয়েছে।
বহু দশক ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে সৎ, যোগা ও সুশৃঙ্খল মানুষ গড়ে তুলতে। আওয়ামী শাসনের ১৫ বছরে জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে নিপীড়িত রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। দলের শীর্ষনেতৃত্বসহ অগণিত কর্মী ও সমর্থক ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবুও জামায়াত নেতৃত্ব কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতির পথে যায়নি। বরং তারা সবসময় দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সংযম, ধৈর্য ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম তারা অব্যাহত রেখেছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী পাঁচ বছরের সরকার পরিচালনায় ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবে, তা হলো- ১. ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’- এই সেøাগানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন (National Interest)। ২. বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন (Social Justice)। ৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের প্রাধান্য দেওয়া (Youth First)। ৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন (Women Participation)। ৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ (Public Safety and Security)। ৬. সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন (Zero Corruption)। ৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন (Tech-based Society)। ৮. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্পসহ নানা সেক্টরে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও সকল ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ (widespread Employment)। ৯. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ (Robust and Sustainable Economy)। ১০. সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির নির্বাচনসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা (Strong and Functional Democracy)| ১১. বিগত সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া খুন, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা (Justice and Human Rights)। ১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাইযোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে (July Charter)। ১৩. কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি করা (Agro-Revolution)। ১৪. ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূন্য ভিশন’ (পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বর্জ্যের শূন্যতা এবং বন্যাঝুঁকির শূন্যতা), বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ গড়া (Food Security and Environmental Sustainability)। ১৫. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপক ভিত্তিতে শিল্পায়ণ ও কর্মসংস্থান তৈরি (Industrialisation)। ১৬. শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ; বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ, সৃষ্টি করা (Reasonable Salary and Hassle-free Job Environment)। ১৭. প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দেশ গঠনে আনুপাতিক ও বাস্তবসম্মত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা(Pro-Expatriate Approach))। ১৮. সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু (মেজরিটি-মাইনরিটি) নয়; বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সকলের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা নাগরিক ও শ্রেণি-গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা (Inclusive Nation)। ১৯. আধুনিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান (Universal Healthcare System) এবং গরিব ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। ২০. সমসাময়িক বিশ্বের চাহিদাকে সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা (Educational Reform)। ২১. দ্রব্যমূল্য ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রেখে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার পূর্ণ সংস্থানের নিশ্চয়তা (Provision of Necessities)। ২২. যাতায়াতব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এবং রাজধানীর সাথে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোর সড়ক/রেলপথের দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা। দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ যাতায়াতব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা (Transport Revolution)। ২৩. নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা (Affordable Housing)। ২৪. ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে চলমান বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুনর্জন্ম রোধ করা (Reform Pro fascist System)। ২৫. সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে নিরাপদ কর্মজীবন ও পর্যায়ক্রমে সকল নাগরিকদের আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা (Social Security)। ২৬. সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা (Welfare State).