সাংবিধানিক ৩ অঙ্গকে ঠিক রাখতে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে – ডা. শফিকুর রহমান
১৪ মার্চ ২০২৬ ২২:১৩
শনিবার (১৪ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, সাংবিধানিক ৩ অঙ্গকে ঠিক রাখতে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। এই চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যম ঠিক থাকলে অন্য তিন স্তম্ভ সোজা পথে চলতে বাধ্য হবে। কিন্তু চতুর্থ স্তম্ভ ব্যর্থ হলে ভঙ্গুর হয়ে যায় বাকি তিন স্তম্ভ অটোমেটিক ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা সেই ব্যর্থতা আর দেখতে চাই না। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যম সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার মাধ্যমে গণমাধ্যম একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গণমাধ্যমে যারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরতে কাজ করেছে তাদের কন্ঠরোধ করা এবং তারা সফলও হয়েছিল। সেই সফলতার রেশ এখনো চলছে বলে মাঝে মাঝে যেন মনে হয়। আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে আংশিক নয় পূর্ণ মুক্তি চাই। এটা যার আমলেই হোক, যখনই হোক। ফ্যাসিবাদ কখনো জাতিকে ভালো কিছু দিতে পারেনি, পারবে না।
শনিবার (১৪ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনারা জাতির বিবেক। আপনারা বিবেক অনুযায়ী চলবেন। জন্ম যেহেতু হয়েছে মৃত্যুও একদিন হবে এবং একবারই হবে। তাই চলতে হবে বীরের মতো। মাঝখানে আর কোনো আপোস নাই। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিরোধীদলে থেকেও সাংবাদিকদের কন্ঠের পাহারাদারির দায়িত্ব পালন করবে। কিন্তু সাংবাদিকদের নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা দিতে হবে সরকারি দলকে। আমরা এক ঐক্যবদ্ধ জাতি দেখতে চাই। এবং জাতীয় ইস্যুতে, জাতীয় স্বার্থে কারো সাথে আমরা কোনো আপোস করব না। সরকারি দল যদি সেই ক্ষেত্রে অনড় থাকে আমরা তাদের পাশে থেকে শক্তি জোগাবো, একসাথে লড়াই করবো। কিন্তু সরকারি দল যদি এখান থেকে বিচ্যুত হলে তাদেরকে সোজা রাস্তায় আনার চেষ্টা করবো, না হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। এটাই হবে জামায়াতে ইসলামীর নীতি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর জননেতা মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি’র সভাপতিত্বে ঢাকা লেডিস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, রমজান মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে এবং এই রমজান মাসেই কুরআনের বিজয় হয়েছে। আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে রমজানের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নিজেকে পরিচালিত করার মাধ্যমে আলোকিত সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, কুরআনের আদর্শে বাংলাদেশ পরিচালিত হলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ হবে এক মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ পালিয়ে গেলেও ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্র থেমে নেই। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা চিরতরে বন্ধ করতে হবে। এজন্য সাংবাদিক সমাজকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে ভূমিকা রাখতে তিনি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব এম. এ আজিজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি’র পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে ড. আব্দুল মান্নান ও মুহাম্মদ শামছুর রহমান, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আজম মীর শাহিদুল আহসান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম. আব্দুল্লাহ্ ও এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমেদ ও বাকের হোসাইন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, দ্য নিউ নেশন পত্রিকার সম্পাদক মোকাররম হোসেন, বাংলা নিউজ ডট কম এর সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা মেইল এর নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা সাব-এডিটর কাউন্সিলের সভাপতি মুক্তাদির অনিক এবং সেক্রেটারি জাওহার ইকবাল, এটিএন নিউজের সিএনই মাসুদুল হক, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ফাহিমা বাহাউদ্দীন, সাপ্তাহিক সোনার বাংলার বার্তা সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ ভূঁইয়া সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, কলামিস্ট ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সভাপতির বক্তব্যে জননেতা মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে। আমরা জুলাই শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং গণভোটে জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহন করেছি। আমরা আশা করেছি সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরাও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেবেন। কিন্তু তারা শপথ না নিয়ে জনগণের রায় উপেক্ষা করেছে। তিনি সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, চলতি অধিবেশনেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহন করুন।-১৪ মার্চ ২০২৬
প্রেস বিজ্ঞপ্তি