কৃত্রিম চিনি ক্যান্সারসহ হৃৎপিণ্ড ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

প্রিন্ট ভার্সন
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:৫৬

॥ হামিম উল কবির ॥
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শুরু করতে চাইলে খাদ্যতালিকা থেকে চিনি বাদ দিতে হয়। কৃত্রিম মিষ্টি অ্যাসপারটাম, সুক্রোজ, সুক্রালোজ, স্যাকারিন দিয়ে তৈরি হয়। সুস্বাস্থ্যের জন্য মিষ্টিজাতীয় এ উপাদানগুলো মোটেও ভালো নয়, তা বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বের বড় বড় করপোরেট কোম্পানিগুলোর নানাবিধ প্রচারণায় বিশ্বাস করে আমরা চিনির পরিবর্তে মিষ্টির স্বাদ নিতে কৃত্রিম চিনি খাওয়া শুরু করেছি। প্রচারণায় বিশ্বাস করে শুধু চা-কফি নয়, কেক, দই, পায়েসসহ অন্যান্য মিষ্টির মধ্যে কৃত্রিম চিনি ব্যবহার শুরু করে দিয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন জাঙ্কফুড ও ডায়েট পানীয়ের মধ্যে এ চিনি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতি বছরই প্রচুর গবেষণা বিশ্বের বিভিন্ন বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে হচ্ছে যেখানে বলা হচ্ছে, কৃত্রিম চিনি ক্যান্সারসহ শরীরের আরো অনেক ক্ষতির কারণ। কৃত্রিম চিনি কয়েকটি উপাদান দিয়ে তৈরি হলেও অ্যাসপারটাম নামক একটি উপাদান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। এ চিনি স্বাভাবিক চিনির চেয়ে ৩০০ গুণ বেশি মিষ্টি। ব্যবসায়িক কারণে সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মিষ্টিজাতীয় খাবারে কৃত্রিম চিনি ব্যবহার করে নিজেরা লাভবান হচ্ছে ভোক্তার সীমাহীন ক্ষতি করে। ডায়াবেটিসের রোগীসহ অনেক স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ বর্তমানে চিনির বিকল্প হিসেবে কৃত্রিম চিনি বা আর্টিফিসিয়াল সুইটনার ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে মিষ্টিপ্রিয় ডায়াবেটিক মানুষ কমপক্ষে চায়ের মধ্যে একটু মিষ্টি নিতেই চান। এভাবে কৃত্রিম চিনি ব্যবহারে স্বল্পসময়ের মধ্যে শরীরের ওজন কমানো বা বডিমাস ইনডেক্স হ্রাস পায় তা ঠিক। কারণ কৃত্রিম চিনি খাওয়ার কারণে শরীরে ক্যালরিযুক্ত প্রাকৃতিক চিনি যায় না। এ আর্টিফিসিয়াল সুইটনারের কারণে কিছু সময়ের জন্য ওজন বাড়ে না কিন্তু বেড়ে যেতে পারে মেদ বা চর্বি। গবেষকরা দেখিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদে গবেষণায় তৈরি মিষ্টি ব্যবহার করলে শরীরের ওজন বেড়ে যায় এবং ক্যান্সারসহ আরো অনেক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
অতিরিক্ত অ্যাসপার্টামে কী ক্ষতি হয়
চিকিৎসকরা বলছেন, কৃত্রিম চিনির ব্যবহারে ক্যান্সার ছাড়াও টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিকেল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মুহাম্মদ আকরাম হোসেন এ ব্যাপারে আরো বলেন, ক্যান্সারের পাশাপাশি উচ্চরক্তচাপ, লিপিডের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে কৃত্রিম চিনি। এটা পেটের ভেতর অন্ত্রে থাকা ভালো ও খারাপ ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যও নষ্ট করে দেয়। অন্ত্রের ভেতর এ ব্যাকটেরিয়া গাট ব্যাকটেরিয়া নামে পরিচিত। এই ক্ষুদ্রজীবগুলো শুধু যে হজমে সহায়তা করে তা নয়, এগুলো মস্তিষ্কের সাথে পেটের যোগাযোগ রক্ষায়ও কাজ করে। আর্টিফিসিয়াল সুইটনার অন্ত্রের মাইক্রোবসের পরিবর্তন করে ফেলে বলে সেটা পেটে প্রাকৃতিক শর্করার মতো বিপাক হয় না। এজন্য পেটে অতিরিক্ত গ্যাস, ফোলাভাব, ডায়রিয়াসহ গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনালে নানা ধরনের রোগ বাঁধাতে কৃত্রিম চিনি ভূমিকা রাখে। কৃত্রিম মিষ্টি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের মেজাজকেও প্রভাবিত করে। এছাড়া মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের মাত্রা ও রক্ত সঞ্চালনকে প্রভাবিত করে। এ কারণে মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম চিনি লিভারে অতিরিক্ত ট্রাইগ্লিসারাইড (ক্ষতিকর চর্বি) উৎপাদন করে লিভার বা যকৃতে জমা করে। এতে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারও করে থাকে এই উপাদান।
আর্টিফিসিয়াল সুইটনার পরোক্ষভাবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়
কৃত্রিম চিনি বা নন-ক্যালরিক আর্টিফিশিয়াল সুইটনার (এনএসএস) প্রকৃত ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আরো বাড়াতে পারে। বার্তা সংস্থার এএফপির একটি রিপোর্টে একটি গবেষণা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রি-ডায়াবেটিস কন্ডিশনের ক্ষেত্রে কৃত্রিম চিনি খাওয়ার পরমর্শ দিয়ে থাকেন অনেক চিকিৎসক। শরীরে ক্যালোরির পরিমাণ বাড়বে না বলে ডায়েট সোডা, বিভিন্ন ধরনের সেরিয়াল খাবারে এ কৃত্রিম চিনি ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত একটি গবেষণা ২০২৩ সালে নেচার সাময়িকীতে ছাপা হয়েছে। এরান এলিয়ানভ ও এরান সেগানের গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘রক্তে শর্করার পরিমাণ না বাড়িয়ে মিষ্টি স্বাদ বজায় রাখার উদ্দেশ্যে খাবারে কৃত্রিম চিনি ব্যবহার শুরু হয়।’ এ দুজন বিজ্ঞানী দেখিয়েছেন, ডায়াবেটিস নামক যে রোগটির প্রকোপ কমানোর জন্য কৃত্রিম চিনি ব্যবহার শুরু হয়, বাস্তবে সেই রোগের ঝুঁকিই বাড়িয়ে দিতে পারে এনএএস বা কৃত্রিম চিনি। গবেষকরা বলেন, জিহ্বায় মিষ্টি স্বাদ রাখতে গিয়ে এনএনএস অনুগুলো শোষিত না হয়ে সরাসরি অন্ত্রে চলে যায়। এতে পরিপাক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ গাট ব্যাকটেরিয়ার বিন্যাস ও কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়। এর ফলে শরীরে গ্লুকোজ সহিষ্ণুতা বেড়ে যায়। গবেষণায় ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে এ প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নেচার সাময়িকীতে এ সম্পর্কিত তথ্যে বিজ্ঞানীরা মানুষের ওপরও পরীক্ষা চালিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা ৩৮১ জন ব্যক্তির স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য পরীক্ষা করে বেশি পরিমাণে চিনি খাওয়ার সাথে শরীরে গ্লুকোজ সংশ্লিষ্টতা তৈরি হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছেন। ওইসব ব্যক্তির চিনি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পর সাতজন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর সাত দিন ধরে সরাসরি কৃত্রিম চিনির পরীক্ষা চালান তারা। স্বাভাবিকভাবে কৃত্রিম চিনি খান না এমন ব্যক্তিদেরই এ পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। এ স্বেচ্ছাসেবকদের যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এফডিএ’র নির্ধারিত চিনি গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রায় পুরো সাত দিন নানা ধরনের খাবার খাওয়ানো হয়। পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে তাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ফলে গাট ব্যাকটেরিয়ার স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। বিজ্ঞানীরা উপসংহারে পৌঁছেন এভাবে যে, ইঁদুরের মতোই কাছাকাছি প্রতিক্রিয়া হয় মানবশরীরেও। কৃত্রিম চিনি নিয়ে আগের গবেষণাগুলোয় মিশ্র ফল দেখতে পেয়েছিলেন নানা দেশের বিজ্ঞানীরা। কোনো কোনো গবেষণায় এটা ওজন কমানো এবং গ্লুকোজ সহিষ্ণুতার জন্য ভালো হিসেবে দেখা গেলেও অন্যান্য গবেষণায় বিপরীত ফলই পেয়েছেন তারা। বিজ্ঞানীরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম চিনি নয়, নিয়মিত হাঁটা বা অন্যান্য শারীরিক ব্যায়াম করতে উৎসাহ দিয়েছেন।
কৃত্রিম চিনি নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা
কৃত্রিম মিষ্টি মেশানো ফিজি পানীয় (বহুল ব্যবহৃত কোমল পানীয়) নিয়মিত পান করলে হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। ডায়েট কোক, পেপসি ম্যাক্স ও স্প্রাইটের মতো পানীয় ছাড়াও চুইংগামের মতো পণ্যে অ্যাসপার্টাম ব্যবহৃত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন। এটা ক্যান্সার, উচ্চরক্তচাপ ও স্ট্রোকসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আলোচনা রয়েছে। স্পেনের গবেষকরা বলছেন, এ উপাদানটি বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে মস্তিষ্কের বয়স দ্রুত বাড়তে পারে এবং হৃদযন্ত্র শক্ত হয়ে যেতে পারে। ইঁদুরের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, তুলনামূলকভাবে বেশি অ্যাসপারটাম গ্রহণে আনুমানিক প্রতি দুই সপ্তাহে তিনবার গ্রহণের সমতুল্য হৃদযন্ত্রের হালকা হাইপারট্রফি বা পেশি পুরু হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা হ্রাসের লক্ষণও দেখা গেছে। গবেষণায় আরও দেখা যায়, ইঁদুরগুলোর শরীরের চর্বির পরিমাণ প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমে গেছে। বায়োমেডিসিন অ্যান্ড ফার্মাকোথেরাপি সাময়িকীতে প্রকাশিত এ গবেষণায় স্পেনের সান সেবাস্তিয়ানে অবস্থিত সেন্টার ফর কো-অপারেটিভ রিসার্চ ইন বায়োমেটেরিয়ালসের গবেষকরা কর্তৃপক্ষকে অ্যাসপারটাম গ্রহণসংক্রান্ত বর্তমান নির্দেশিকা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, অ্যাসপারটাম ইঁদুরের শরীরে চর্বি জমা প্রায় ২০ শতাংশ কমালেও এর বিনিময়ে হৃদযন্ত্রের হালকা হাইপারট্রফি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা হ্রাস পায়। তাদের মতে, এ কৃত্রিম মিষ্টিকারকটি ইঁদুরের ক্ষেত্রে ওজন কমাতে সহায়ক হলেও এর সঙ্গে হৃদযন্ত্রে এবং সম্ভবত মস্তিষ্কেও রোগজনিত পরিবর্তন দেখা যায়। ডেইলি মেইলে এ সংক্রান্ত গবেষণাটি গত ১৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়েছে।
কী পরিমাণ হাঁটলে কী পরিমাণ ক্যালোরি খরচ হয়?
৩০ মিনিটে ধরে স্বাভাবিকভাবে হাঁটায় বা নরমাল ওয়াক করলে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার পদক্ষেপ বা স্টেপস ফেলা যায়। আরেক ধরনের হাঁটা আছে যেটাকে ব্রিস্ক ওয়াক বলে। এ ধরনের হাঁটা বা ওয়াকের সময় অন্যজনের সাথে কথা বলা যায় কিন্তু গান গাওয়া যায় না। গান গাইলে দম থাকে না। এ ব্রিস্ক ওয়াকে আধাঘণ্টায় যাওয়া যায় সাড়ে চার হাজার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার পদক্ষেপ। এছাড়া খুব দ্রুত হাঁটায় ৩০ মিনিটে যাওয়া যায় ছয় হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার পদক্ষেপ। নরমাল হাঁটায় আধাঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৮০ কিলোক্যালরি শক্তি বার্ন করা যায়। আর ব্রিস্ক হাঁটায় আধাঘণ্টায় পোড়ানো যায় ১৮০ থেকে ২৫০ কিলোক্যালোরি। আরেক ধরনের হাঁটা যায়, যেটাকে ভেরি ফাস্ট ওয়াক বলা হয়। এ ধরনের হাঁটায় আধা ঘণ্টায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার পদক্ষেপ যাওয়া যায়। এবার আরেকটা হিসাব দিই, সেটা হলো কী পরিমাণ ক্যালোরি খরচ হবে কতটুকু হাঁটলে। নরমাল হাঁটায় ৩০ মিনিটে যে ক্যালোরি পোড়ানো যায়, তা পাওয়া যায় এক কাপ মিষ্টি চা থেকে অথবা একটি ছোট প্যাস্ট্রি থেকে। এক স্লাইস কেক খেলে ৩৫০ কিলোক্যালোরি পাওয়া যায়, এজন্য সাত হাজার থেকে সাড়ে আট হাজার স্টেপস বা পদক্ষেপ লাগে এ শক্তি পোড়াতে। দুটি সমোচা খেলে ৩০০ কিলোক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায় এবং এ শক্তি পোড়াতে ছয় হাজার থেকে সাড়ে সাত হাজার স্টেপস লাগে। এক প্লেট বিরিয়ানি খেলে ৬০০ কিলোক্যালোরি শক্তি শরীরে জমে এবং এটা পোড়াতে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার স্টেপস লাগে। এক পিস ফ্রায়েড চিকিন খেলে ৩২০ কিলোক্যালোরি পাওয়া যায় এবং এটা বার্ন করতে সাড়ে ছয় থেকে আট হাজার স্টেপস লাগে। আবার চিনি দেয়া এক কাপ দুধ চা থেকে পাওয়া যায় ১৮০ কিলোক্যালোরি এবং এটা পোড়াতে সাড়ে তিন হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার স্টেপস। ৩৩০ এমএল’র একটি সফট ড্রিঙ্কস পান করলে পাওয়া যায় ১৪০ কিলোক্যালোরি। এটা বার্ন করতে লাগে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার স্টেপস। প্রতিদিন নিয়ম করে ৩০ মিনিট হাঁটলে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, ব্লাড সুগার কনট্রোল হয়, স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কমে, সর্বোপরি শরীরের ওজন বাড়ে না, কিন্তু ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে।
আর্টিফিসিয়াল চিনি নিয়ে আমেরিকার মায়ো ক্লিনিকের বক্তব্য
কৃত্রিম চিনি বা মিষ্টি কিছু মানুষের স্বল্প মেয়াদে চিনি কমাতে এবং ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে চিনির বিকল্প আপনার খাবার ও পানীয় নির্বাচনে কি প্রভাব ফেলছে, সে বিষয়ে সচেতন থাকাটা খুবই জরুরি। এসব উপাদান জিহ্বাকে অতিরিক্ত মিষ্টি স্বাদের সাথে অভ্যস্ত করে তুলতে পারে, এর ফলে পর্যাপ্ত পানি পান করাও কঠিন হয়ে যেতে পারে। চিনি বিকল্প দিয়ে তৈরি পণ্য প্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পর্কে ভুল ধারণা দিতে পারে। ‘লো সুগার’ ‘নো সুগার’ লেখা খাবার সবসময় সবচেয়ে পুষ্টিকর হয় না। ফল ও সবজির মতো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার সাধারণত শরীরের জন্য উপকারী বা ভালো পুষ্টির সরবরাহ করে। তবে কৃত্রিম মিষ্টি অতিরিক্ত ক্যালোরি ছাড়াই মিষ্টি স্বাদ উপভোগ করতে কিছু মানুষকে সাহায্য করতে পারে, তবে অবশ্যই পরিমিতভাবে ব্যবহার করতে হবে।