চতুর্থ অর্থনৈতিক সম্মেলনে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব

দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে দেশের আগামীর ভিত্তি নির্মাণে : ডা. শফিকুর রহমান

সোনার বাংলা অনলাইন
৩০ নভেম্বর ২০২৫ ০৯:৩১

চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের চেয়ার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তৃতীয় অধিবেশনের চেয়ার জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, চতুর্থ অধিবেশনের সম্মানিত আলোচক এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম 

নীতিভ্রষ্ট অগণতান্ত্রিক নয়, সব নাগরিকের অর্থনীতি দাঁড় করানোর অঙ্গীকার

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। সরকার গঠন করলে বিএনপি ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। সরকার গঠন করলে বিএনপি ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি অর্থনীতিতে গণতান্ত্রিকীকরণ ঘটাবেন। অন্যদিকে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হবে জামায়াতে ইসলামীর মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। অর্থনৈতিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় জোর দেবে দলটি। সরকারের অংশ হয়ে কিংবা বাইরে থেকে, যে ভূমিকাতেই হোক না কেন, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা ও পাচারকারীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য নতুন শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালনের কথা বলেছে গণসংহতি আন্দোলন। গত দেড় দশকে অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুণ্ঠনে দেশের ব্যাংক খাতসহ অর্থনীতি পর্যুদস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সৃষ্ট অলিগার্করা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে। সামনের বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে বিজয়ী কিংবা পরাজিত হলেও বিগত দিনের নীতিভ্রষ্ট অগণতান্ত্রিক নয়, বরং সব নাগরিকের অর্থনীতি দাঁড় করানোর অঙ্গীকার করেছেন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা। গত শনিবার  বণিক বার্তা আয়োজিত ‘‌চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫’-এ এসব প্রতিশ্রুতি দেন রাজনৈতিক নেতারা। বণিক বার্তা সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় চারটি অধিবেশনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে।
দেশের ব্যবসার পরিবেশ টেকসই করতে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এই তিন জায়গা ঠিক হলে দেশ পাল্টে যাবে। এক নম্বর শিক্ষা; তবে সনদ দেওয়া শিক্ষা নয়; প্রফেশনাল এডুকেশন দিতে হবে। কৃষক থেকে শুরু করে সবাই হবে একেক জন রিসোর্স ও দক্ষ পারসন। দুই নম্বর বিষয় হলো দুর্নীতি প্রতিরোধ: দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে গিয়ে আমরা ডাল বা পাতা ধরে টান দিই কিন্তু মূল থেকেই যায়। আমাদের তৃতীয় বিষয় হলো ন্যায়বিচার সর্বত্র এবং সবার জন্য। এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের ব্যবসায় হবে টেকসই। জাতি হবে প্রগ্রেসিভ ও ডায়নামিক। এটা নিশ্চিত করতে না পারলে সমাজ ভালোর দিকে আগাবে না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজে চাঁদা ও দুর্নীতি ব্যবসায়ীদের এমনভাবে নিরুৎসাহিত করছে যে, তারা সামর্থ্য থাকার স্বত্বেও অনেকে ব্যবসায় স্থাপনের চিন্তা করে না। তিনি বলেন, রাজনীতির জায়গা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আমরা ব্যবসায়ীদের জন্য কাক্সিক্ষত কমফোর্ট জোন তৈরি করতে পারিনি। এ জন্য রাজনীতিবিদদের দায় রয়েছে বলে মনে করেন জামায়াত আমীর। অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ দেশের অর্থনীতিতে গরিব-দুঃখী সবাই অবদান রেখে যাচ্ছে। আমাদের টোটাল ডেভেলপমেন্ট দুটো বড় খাত থেকে আসে; একটা বিভিন্ন পর্যায়ের ট্যাক্স, আরেকটা রেমিট্যান্স। ভিক্ষুক ও শিল্পপতি উভয়ই ট্যাক্স দেন। যেহেতু সমাজের দায়িত্ব সবাই সমানভাবে নিচ্ছে, তাই অর্থনৈতিক বিষয়টিও ন্যায্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। তা না হলে এই ক্ষেত্রে অবিচার হবে, সেই অবিচার এরই মধ্যে সমাজে চলছে। এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই; কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।’

জামায়াত আমীর বলেন, অর্থনীতি নিয়ে আপনি আগাবেন কীভাবে ? এই অর্থনীতিতে যেমন বিভিন্ন সরকারি মার-প্যাঁচ, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য আছে, তেমননিভাবে সেখানে অনেক দুর্বৃত্তপনাও আছে। ক্ষেত্রবিশেষে এই দুর্বৃত্তপনাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে রাষ্ট্র। ফলে যে উদ্যোক্তার পাঁচ বছরের মধ্যে সফলতার মুখ দেখার কথা ছিল সেটা ১০ বছর গড়িয়ে চলে যাচ্ছে।

চাঁদা ও দুর্নীতি ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করছে মন্তব্য করে জামায়াত আমীর বলেন, সামর্থ্য থাকা স্বত্বেও অনেকে ব্যবসায় স্থাপনের চিন্তা করে না। উল্টো যে ব্যবসাটা আছে সেটাকে বাঁচাবে কীভাবে তা নিয়েই ত্রাহি অবস্থা। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানালে তারা জবাব দেয়, আমাদের দেশ স্ট্যাবল না, অনেক বেশি লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, জীবন ও মূলধনের হুমকি বিদ্যমান। বিপরীতে অনেক দেশ আছে যারা আমাদের উপযুক্ত পরিবেশ দেবে। (তারা বলে) তোমরা ভালো পরিবেশ দাও, আমরা আসব।’

ব্যবসায়ীদের রাজনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘অনেক সময় ব্যবসায়ীদের বলা হয় সুবিধাবাদী। যখন যে দল ক্ষমতায় যায়, তখন সে দলের পেছনে লাইন দেয়। আমি মনে করি কেউ লাইন দেয় নিজের আগ্রহে কেউ লাইন দেয় বাধ্য হয়ে। আর লাইন দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না; ব্যবসাকে বাঁচাতে পারে না। এটা তাদের দায় নয়; এই দায় আমার; আমাদের রাজনীতিবিদদের। রাজনীতির বাইরে কোনো অর্থনীতি নেই। ব্যবসায়ীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ আখ্যায়িত করে জামায়াতে ইসলামীর এই শীর্ষ নেতা বলেন, রাজনীতির জায়গা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আমরা কাক্সিক্ষত কমফোর্ট জোন ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি করতে পারিনি। তবে কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতে হবে।

দেশের মেধা পাচারের বিষয়ে জামায়াত আমীর বলেন, ‘আমাদের মেধাগুলো দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে। সেখানে তারা চমৎকার ভূমিকা রাখছে, নিজেদের মেলে ধরছে। আমার দেশে তারা পারে না কেন? কারণ, আমরা সেই পরিবেশ তাদের দিতে পারিনি। ফলে আমাদের মেধা পাচার হয়ে যাচ্ছে। তাদের যদি একটু সম্মানের জায়গা তৈরি করে দিতে পারি তাহলে তারা আসবে। এই দেশকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্ষেত্রবিশেষে তারা নেতৃত্ব দিতে পারবে।

জামায়াতের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে জামায়াত আমীর বলেন, আমাদের ফোকাস তিনটা জায়গায়। আমরা বিশ্বাস করি এই তিন জায়গা ঠিক হলে দেশ পাল্টে যাবে। এক নম্বর শিক্ষা; তবে সনদ দেওয়া শিক্ষা নয়; প্রফেশনাল এডুকেশন দিতে হবে। কৃষক থেকে শুরু করে সবাই হবে একেক জন রিসোর্স ও দক্ষ পারসন। দুই নম্বর বিষয় হলো দুর্নীতি প্রতিরোধ। দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে গিয়ে আমরা ঢাল বা পাতা ধরে টান দিই কিন্তু মূল থেকেই যায়। আমাদের তৃতীয় বিষয় হলো ন্যায়বিচার সর্বত্র এবং সবার জন্য। এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের ব্যবসায় হবে টেকসই। জাতি হবে প্রগ্রেসিভ ও ডায়নামিক। এটা নিশ্চিত করতে না পারলে সমাজ ভালোর দিকে আগাবে না।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এই জায়গা ঠিক হলে সমাজ ঠিক হবে; তবে একদিনে না। প্রথমে শুরু করতে হবে। তারপর ক্রমান্বয়ে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা বিপ্লবী পরিবর্তনের দিকে নয়, বরং যৌক্তিক পরিবর্তনের দিকে যেন দেশটাকে এগিয়ে নিতে পারি সে দিকে নজর দিতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে এ লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। অতীতে যা হওয়ার হয়েছে আগামীটাকে বিনির্মাণ করতে হবে।

দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে রাজনীতির সদিচ্ছা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন, শিক্ষার আধুনিকায়ন, দুর্নীতি দমন এবং ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। এছাড়া মেধাবী প্রজন্মকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যও প্রয়োজন উপযুক্ত নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ।’

শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ছোট একটি জমি, যেখানে ১৮ কোটি মানুষ বাস করছে। এত বেশি জনসংখ্যা এত ছোট জায়গায় পৃথিবীর আর কোথাও নেই। জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে হলে পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। যদি পরিকল্পনা না থাকে, ১৮ কোটি মানুষকে জনসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব নয়।

জামায়াত আমীর উল্লেখ করেন, ২৫ ভাগ মানুষ প্রাথমিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে ড্রপআউট হয়ে যায়। প্রান্তিক মানুষদের সন্তান স্কুলে বা মাদরাসায় যায় না, দুই-একটি ক্লাস পড়ার পর জীবিকার তাগিদে কাজে যুক্ত হয়। এতে তাদের মেধা দেশের কাজে লাগেনি। তবে তাদের মধ্যেও ভবিষ্যতের অর্থনীতির বড় অবদান রাখতে পারার সম্ভাবনা থাকে।

জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বা চিফ এক্সিকিউটিভ হতে পারে এমন মানুষও ড্রপআউট হয়ে যাচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধান করা সরকারের ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব। তবে তা হচ্ছে না, ফলে অর্থনীতির অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত। উদ্যোক্তা নতুন কোনো ইন্ডাস্ট্রি শুরু করতে গেলে প্রথমে জমি নিতে হয়। কিন্তু সে হাজারো জটিলতায় বাধাপ্রাপ্ত হয়। এক মাসে সব ক্লিয়ার করতে চাইলেও এক বছরও সময় লাগে। কিছু ক্ষেত্রে দুর্বৃত্ত সহযোগিতা করে, রাষ্ট্রও নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করে। এতে উদ্যোক্তার পরিকল্পনা দেরিতে বাস্তবায়িত হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, উদ্যোক্তারা ব্যাংক লোন নিয়েছে, কিন্তু যদি লোনের যথাযথ ব্যবহার না হয়, তা নন-পারফর্মিং হয়ে যাবে। সমাজের পক্ষ থেকে দুর্নীতি ও লালফিতার হুমকি ব্যবসায়ীদের প্ররোচিত করছে না। তাই আমাদের ব্যবসায়িক পরিবেশকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা করতে পারে। তিনি বলেন, এটি শুধু বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য নয়, দেশের সকল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর জন্য প্রয়োজন।

জামায়াত আমীর বলেন, অনেক সময় ব্যবসায়ীদের সুবিধাবাদী বলে মনে করা হয়। কেউ সরকারের সঙ্গে লাইন দেয় নিজের ইচ্ছায়, কেউ বাধ্য হয়ে। কিন্তু লাইন ছাড়া ব্যবসা এগোতে পারছে না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতিবিদ ছাড়া কোনো অর্থনীতি ঠিকভাবে চলতে পারে না। রাজনীতি যদি ঠিক থাকে, ব্যবসা ও অর্থনীতি উন্নতি করতে পারে। দেশে কাক্সিক্ষত সুবিধা ও সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এখন তা তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি দেশকে এগিয়ে নিতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। আগামী প্রজন্মের জন্য ভালো কিছু করার দায়িত্ব এখনই নিতে হবে। শফিকুর রহমান আরও বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশি মেধা সফলভাবে অবদান রাখছে। আমাদের দেশে জন্ম নেওয়া শিশু বিদেশে গিয়ে নিজেকে প্রকাশ করছে। দেশে কেন তা সম্ভব হচ্ছে না? দেশে পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে মেধাবীরা দেশে ফিরে আসতে পারে। তারা দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারবে। শফিকুর রহমান বলেন, অনেক ছাত্র বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে, কিন্তু ফিরে আসে না। এর কারণ হলো দেশ তাদের যথাযথ সম্মান ও নিরাপত্তা দিতে পারছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশের বেশি বর্তমানে খেলাপি। ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া এ খেলাপি ঋণের সংকট কাটিয়ে উঠতে অন্তত ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগবে। আহসান এইচ মনসুর বলেন, এটি (খেলাপি ঋণ) ছোটখাটো কোনো সমস্যা নয়। খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি পুরো আর্থিক খাতকে চাপের মুখে ফেলে দিয়েছে। আমদানির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ডলার রয়েছে।

দেশের খেলাপি ঋণ বাড়ছে জানিয়ে অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, ‘প্রতি প্রান্তিকে যখন নতুন তথ্য পাই, খেলাপি ঋণের নতুন নিয়ম কার্যকর হয়। তখনই দেখা যাচ্ছে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। দুই বছর আগে আমার ধারণা ছিল ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ২৫ শতাংশের মতো হবে। তখন সরকার বলেছিল তা ৮ শতাংশ। এখন দেখছি এটি ইতিমধ্যে ৩৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। গভর্নর মনে করেন, এ পরিস্থিতি রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে বহুদিন এই সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। ধাপে ধাপে এগোতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অর্থনৈতিক পথরেখার পাশাপাশি রাজনৈতিক পথরেখাও থাকা জরুরি। রাজনীতি ও অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও স্থায়িত্ব থাকতে হবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

 ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন সাবেক সিনিয়র সচিব মো. সফিউল্লাহ, যিনি দলটির নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি আজ খাদের কিনারায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য হলো এ ধসে যাওয়া অর্থনীতিকে দুর্নীতি দমনের মাধ্যমে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে পুনরুদ্ধার এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। যাতে করে এ অর্থনীতি আগামী ২০৪০ সাল তথা ১৫ বছরের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারে রূপান্তরিত হয়।’

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য বিপ্লবী ঝাঁকুনি নয়, বরং যৌক্তিক ও ধাপে ধাপে টেকসই অগ্রগতি। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে দেশের আগামীর ভিত্তি নির্মাণে। অতীতের ভুলে আটকে না থেকে ভবিষ্যৎকে গড়ে তোলা—এটাই আমাদের দায়িত্ব।’

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা সরকারের অংশ হই বা সরকারের বাইরে থাকি, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার জোরালো দাবি জানাব। এটা দেশের টাকা। এ টাকা দেশে ফেরত আনতে হবে। এর জন্য যারা দায়ী, যারা বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দেশের মানুষকে শোষণ করেছে, জাতীয় স্বার্থবিরোধী কাজ করেছে, সেই লুটেরা-মাফিয়া শ্রেণীর বিচার আমরা করব।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ব্যাংক, আর্থিক খাত ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করাই আগামী রাজনৈতিক শক্তির চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিকভাবে ধারণ করা এবং জনগণের স্বার্থকে সবার আগে রাখা। সেজন্য নতুন শক্তি দরকার। আমরা সে চেষ্টাই করছি।’

অর্থনৈতিক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের শিরোনাম ছিল ‘‌ব্যবসা, বিনিয়োগ ও সামষ্টিক অর্থনীতি’। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ছিলেন এ অধিবেশনের চেয়ার। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এ কে এনামুল হক, হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি (বিএসএমএ) ও জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মাসরুর আরেফিন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতি এখন ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের। প্রত্যাশা করছি, ২০৩৫ সালে এ অর্থনীতি ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। এমন একটি অর্থনীতি যদি প্রত্যাশা করি, তার পেছনে কিছু পরিবর্তন দরকার। মনে রাখতে হবে, ২০২৪ সালে আমাদের আন্দোলনের মূল কারণ ছিল কর্মসংস্থান। আমাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ছিল জবলেস প্রবৃদ্ধি। সুতরাং কর্মসংস্থান সৃষ্টি স্ট্র্যাটেজির প্রধান উপজীব্য হতে হবে।’

ব্যাংক খাতে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ নিয়ে কথা বলেন হা-মীম গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কে আজাদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের হার ৩৫ শতাংশ। এ বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় গেল এবং কারা নিল? বিষয়টি এরই মধ্যে গণমাধ্যমেও প্রকাশ পাচ্ছে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তারা অবশ্যই এ অর্থের উৎস অনুসন্ধান করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনবেন।’

জিপিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত সংকটময় সময় অতিবাহিত করছি। আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর একটি নীতিসহায়তা দিয়েছেন। আমরা কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে পারছি না। কারখানাগুলো লোকসানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গভর্নর আমাদের যে সহায়তা দিয়েছেন তা হয়তো সাময়িক ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা দেবে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি অনেক কিছু করা প্রয়োজন। আমরা প্রত্যাশা করছি বর্তমান সরকার বা ভবিষ্যৎ যে রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করবে তাদের কাছে।’

সিটি ব্যাংক পিএলসির এমডি ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘দেশের ব্যাংক খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি এখন মাত্র ৬ শতাংশ, এটি গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। কিন্তু এটিও দেখতে হবে, সিটি ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি ২১ শতাংশ হয়েছে। ডাচ্-বাংলা, ব্র্যাক, ইবিএল, ট্রাস্টসহ ভালো ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধিও ভালো। দুর্বল ১০-১২টি ব্যাংকের ঋণ বিতরণ বন্ধ থাকলেও অর্থনীতির খুব বেশি সমস্যা হবে না। ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরেছে। পর্ষদ সভায় এখন ঋণ বিক্রি বন্ধ। এ কারণে ঋণ প্রবৃদ্ধিও কম। ব্যাংক খাতে অনেক ধরনের শৃঙ্খলা এসেছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ব্যাংক খাতে অনেক বেশি সুপারভিশন হচ্ছে। আশা করছি, বেসরকারি খাতে ঋণের গতি বাড়ার পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধিও বাড়বে।’

দেশের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মাসরুর আরেফিন আরো বলেন, ‘বৈশ্বিক জায়ান্ট ব্যাংক জেপি মরগান গত সপ্তাহে বাংলাদেশের ১১টি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীকে সিঙ্গাপুরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। বাংলাদেশ সাধারণত মাশরেক ব্যাংক ও কমার্জ ব্যাংক থেকে ক্রডিট লাইন পায়। কিন্তু সিঙ্গাপুরের ওই সম্মেলনে গিয়ে দেখলাম, জেপি মরগানের মূল ফোকাস এখন বাংলাদেশ। তারা বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্রেডিট লাইন দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। বিশ্ববাসী এখনো আমাদের বিশ্বাস করে, কারণ আমরা একদিনের জন্যও তাদের কাছে খেলাপি হইনি। আমি বলব, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন রানওয়েতে আছে, এটি অবশ্যই উড়বে।’

অধিবেশনে চেয়ারের বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমাদের অনেক সমস্যা আছে। এগুলো রাতারাতি সমাধান হবে না। কিছু সমস্যা এখনো শনাক্ত করে যাচ্ছি। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ একটি বড় সমস্যা। নতুন নীতি ও প্রতি প্রান্তিকে হালনাগাদ তথ্য আসার কারণে আমরা এনপিএলের প্রকৃত পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছি। গত সরকার যখন এনপিএল ৮ শতাংশ বলেছিল, আমি অনুমান করেছিলাম এটা আসলে তার তিন গুণ অর্থাৎ ২৫ শতাংশ হবে। বাস্তবে সেটা এখন ৩৫ শতাংশ। এটা কোনো ছোট সমস্যা নয়। এক-তৃতীয়াংশের বেশি ঋণ অকার্যকর হলে বাকি দুই-তৃতীয়াংশের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংক চালানো অনেক বড় চাপ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কমপক্ষে ৫-১০ বছর সময় লাগবে।’

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ’। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অধিবেশনে চেয়ার ছিলেন। এতে আলোচনায় অংশ নেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছেনি; বরং তা একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে, যার ফলে একটি সুবিধাভোগী রাজনীতি ও অর্থনীতি তৈরি হয়েছে। দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ একটি মৌলিক বিষয় এবং রাজনীতি ও অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ একত্রে হওয়া প্রয়োজন। অর্থনীতিকে অবশ্যই গণতন্ত্রের অংশ হতে হবে এবং এর প্রধান উদ্দেশ্য হতে হবে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতি গুটিকয়েক গোষ্ঠীর হাতে সীমাবদ্ধ থাকবে, ততক্ষণ সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুবিধা ভোগ করতে পারবে না।’

দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এনার্জি সেক্টরকে গুরুত্ব দিতে এবং সবার কাছে শক্তিশালী ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। টেকসই অর্থনীতির জন্য তিনি বেশকিছু প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কথা বলেন, যেমন ক্যাপিটাল মার্কেট উন্নয়ন (যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আনা হবে), বিটিআরসি রিফর্ম, স্টক মার্কেট রিফর্ম ও ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে জনবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। তিনি প্রতিটি জেলায় ডিজিটাল স্কিল সেন্টার গড়ে তুলে যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন ও পণ্যের ভ্যালু অ্যাড করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক সম্মেলনে রাজনীতিবিদদের মধ্যে অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। দুটি অধিবেশনে চেয়ার ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। রাজনীতিবিদ ছাড়াও দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, আমলা, ব্যাংকার, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ এ সম্মেলনে অংশ নেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অধিবেশনে চেয়ারের বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘২০১৬ সালে আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভিশন-২০৩০ দিয়েছিলেন। এখন আমরা যেসব বিষয়ে একমত হয়েছি তার অনেকগুলোই কিন্তু সেখানে ছিল। এছাড়া ২০২৩ সালে আমরা যে ৩১ দফা দিয়েছি সেখানে অর্থনৈতিক সংস্কার, রাজনৈতিক সংস্কার—প্রায় সবগুলোই রয়েছে। আমরা সবসময় শুধু নতুন বাংলাদেশ নয়, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছি। যেখানে প্রতিটি মানুষ ভালোভাবে জীবনযাপন করবেন। ভালো গভর্ন্যান্স থাকবে এবং গণতন্ত্রকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালনা করতে চাই।’

তৃতীয় অধিবেশনে আলোচনার বিষয় ছিল ‘অর্থনীতিতে ন্যায্যতা’। এতে চেয়ার ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ বিষয়ে সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সিনিয়র সচিব মো. সফিউল্লাহ। দেশের অর্থনীতি নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আমরা দুটি বিষয়কে শনাক্ত করেছি। একটি হচ্ছে খাতভিত্তিক। আমরা সৃজনশীলতা কৌশল, ফোকাস গ্রুপ আলোচনা ও অভিজ্ঞ পরামর্শকের মাধ্যমে কোন সেক্টরে কী করব তার একটি পথরেখা তৈরি করছি। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে তার বিস্তারিত এখানে তুলে ধরতে পারছি না। আমরা তৈরি পোশাক শিল্প, রেমিট্যান্স ও কৃষি খাতে বৈচিত্র্য তৈরি করতে চাই। কারণ আমাদের জিডিপি আসে এ তিনটি খাত থেকে। এ তিনটা বড় খুঁটি। যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় তাহলে এ খুঁটিকে রেখে বৈচিত্র্যের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে রূপান্তর করতে পারব।’

তিনি আরো বলেন, ‘একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার দরকার। আমাদের তরুণদের কাজে লাগাতে হবে। তা নাহলে ২০৩৫ সালের পর এ তরুণরা সম্পদ না হয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। জামায়াতে ইসলামী মনে করে শুধু জেলা-উপজেলা নয়, ইউনিয়ন পর্যায়েও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা দরকার। দেশকে একার পক্ষে বা কোনো দলের পক্ষে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। আমাদেরকে দল-মত নির্বিশেষে একত্রে, কর্মক্ষম জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এ কাজটিই করবে।’

বাংলাদেশে উদ্যোক্তারা শিল্প স্থাপন করতে গিয়ে নানা দুর্নীতি, লালফিতার দৌরাত্ম্য ও দুর্বৃত্তপনার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তৃতীয় অধিবেশনে চেয়ারের বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জমি কেনা থেকে শুরু করে অনুমোদনের প্রতিটি ধাপে বাধা আসে। যে শিল্প এক বছরে চালু হওয়ার কথা, তা বছরের পর বছর বিলম্বিত হয়। ফলে উদ্যোক্তাদের নেয়া ব্যাংক ঋণ নন-পারফর্মিং হয়ে পড়ে। চাঁদাবাজি ও অনিরাপত্তা ব্যবসায়ীদের এমনভাবে নিরুৎসাহিত করে যে অনেকেই সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান না। বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও একই কারণে পিছিয়ে থাকেন। তারা স্পষ্টই জানিয়ে দেন, পরিবেশ নিরাপদ ও স্থিতিশীল না হলে কোনো বিনিয়োগ সম্ভব নয়। এ অবস্থায় দেশের ব্যবসায়ীদের বাধ্য হয়ে ক্ষমতাসীন দলের পেছনে দাঁড়াতে হয়, যা প্রকৃতপক্ষে তাদের নয়, বরং আমাদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার পরিচায়ক। রাজনীতি সঠিকভাবে কাজ না করলে অর্থনীতিও স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না।’

সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘‌অভ্যুত্থানের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা’। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এ অধিবেশনে চেয়ার ছিলেন। আলোচনায় অংশ নেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র বিস্তৃত করার কথা বলছি, এসব অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আরেকটি বিষয়ও মনে রাখতে হবে অর্থনীতিতে যেমন পুঁজি আছে, তেমনি শ্রমও আছে। উৎপাদনের আসল কারিগর শ্রমিকদের উন্নতি না হলে ব্যবসা-বাণিজ্য নিজে নিজেই বিকশিত হয় না। বৈষম্য কমানো ছাড়া অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই।’

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মেট্রোপলিটন শহরগুলোর উঠতি মধ্যবিত্তের জীবন-জীবিকার সুরাহা। এছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক সেবার ন্যায্য চাহিদা পূরণ করা অপরিহার্য। নগরের গণপরিবহন, তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। প্রবাসীরা দেশের উন্নয়নে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত হতে চান, যা বিবেচনা করে ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা উচিত।’

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা সংস্কারের পর গণভোটে যাচ্ছি। গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকলেও প্যাকেজ একটাই। এটার মূল কথা হলো আপনি সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে? পক্ষে হলে ‘হ্যাঁ’, বিপক্ষে হলে ‘না’ ভোট দেবেন। তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনারা কী পরিবর্তন চান? শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে কিন্তু স্বৈরতন্ত্রের পথ খোলা রয়েছে। আপনারা যদি পরিবর্তন না করেন তাহলে আবারো কেউ সেই চেয়ারে বসে সেই পথ ধরে একই কাজ করতে পারে।’

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান বলেন, ‘প্রবৃদ্ধি ও ভোক্তা ব্যয়ের দিক থেকে আমাদের অর্থনীতি কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি এবং উচ্চ সুদহারের প্রভাবে অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে আমরা টাকার অবমূল্যায়নজনিত যে সমস্যায় পড়েছিলাম সেটি বর্তমানে স্থিতিশীল হয়ে এসেছে। ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে এক-দুই বছর আগে কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়লেও এখন তেমন কোনো সমস্যা দেখছি না। সার্বিকভাবে আমরা একটি বড় ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। একটি ট্রানজিশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের যে চ্যালেঞ্জগুলো ছিল তার অনেকগুলো সমাধানের দিকে নজর দেয়া হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আমি আশাবাদী।’

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরো সহজ করতে হবে। তাহলে আমাদের ক্যাপিটাল মার্কেটও ভালো হবে। ব্যবসায়ীরা যদি ঋণ নিয়ে তা শোধ করতে না পারেন, তার থেকে হৃদয়বিদারক আর কিছু থাকবে না। তাই সামগ্রিক ব্যবসাটাকে যদি আরো ইতিবাচক করা যায় তাহলে ভালো হয়। এজন্য দরকার প্রোপার থিংকিং, সুসজ্জিত ও উন্নত কৃষি ব্যবস্থা। এসবের সঙ্গে আমাদের অর্থনীতিকে আরো বেশি চাঙ্গা করে তুলতে হবে।’

মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা (ব্যবসায়ীরা) প্রতিনিয়ত অনেক কষ্ট করছি। আমাদের মূল কথা হলো ব্যবসাকে আরো সহজ করে দেন। এখানে আমলাতন্ত্র অনেক বেশি কাজ করছে। এসব জায়গা ঠিক করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরো সহজ না করলে নতুন উদ্যোক্তারা আসার আগ্রহ পাবেন না।’

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের কর ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেন নাসির সিনটেক্স গ্রুপের এমডি নাসিম বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘ভ্যাটের কোনো টার্গেট থাকা উচিত না। এটি হবে সেলস ওরিয়েন্টেড। একই সময়ে আমি আমাদের বিজনেস কমিউনিটিকে বলব আমাদের সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটিকেও (সামাজিক দায়দায়িত্ব) মাথায় রাখা। শুধু মুনাফাভিত্তিক চিন্তা না করা। আমাদের কর্মীদের কথাও চিন্তা করতে হবে।’

ডিজিটাল ইকোনমির গুরুত্ব তুলে ধরে মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মো. কামাল বলেন, ‘ডিজিটাল ইকোনমি যদি বড় হয় তাহলে দুর্নীতি কমবে, স্বচ্ছতা বাড়বে সর্বোপরি আমাদের জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে।’

এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে দেশে যে রেমিট্যান্স আসে সেটি মূলত আমাদের কম দক্ষতাসম্পন্ন মানুষরাই পাঠাচ্ছে। অনিবাসী বাংলাদেশীরা (এনআরবি) এখানে যেসব বিনিয়োগ করেছে তা সেভাবে আলোচনায় আসে না। আমি সবার কাছে অনুরোধ করব আপনারা এনআরবিদের অর্জনগুলো তুলে ধরুন।’

ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এগ্রোকেমিক্যালস খাতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নানা জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এ বিষয়গুলো যদি সমাধান করা যায় তাহলে কৃষকরা এখন যে ১৫ হাজার কোটি টাকার বালাইনাশক ক্রয় করছেন এটা অন্তত ৪ হাজার কোটি টাকা কম মূল্যে ক্রয় করবেন এবং ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো এসব পণ্যও বিদেশে রফতানি করা সম্ভব হবে।’

উন্মুক্ত আলোচনায় খেলাপি ঋণ নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্রে দেখলাম এরই মধ্যে সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকার নন-পারফর্মিং লোন আছে। আমাদের ধারণা সামনে এটা আরো বাড়বে। আমরা খুব আশাবাদী যে গভর্নর মহোদয়ের নেতৃত্বে যে সংস্কারগুলো হয়েছে সে জায়গা থেকে আমরা আরো ভালো কিছু পাব। তবে নন-পারফর্মিং লোন যেন আর না বাড়ে এবং যেসব ইন্ডাস্ট্রি চলমান আছে সেগুলো যাতে চলমান থাকে সে বিষয়ে যেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, ‘সংবাদপত্রে দেখলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন চিফ ইকোনমিস্ট জানিয়েছেন খেলাপি ঋণ হয়তো সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ হারে যদি আমাদের খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে তবে অর্থনীতি হয়তো খুব শিগগির বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে।’

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তানভীর মোহাম্মদ দীপু বলেন, ‘চাঁদাবাজি যে হারে বেড়েছে তার কারণে আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা খুব বিপদে আছি। চাঁদাবাজি বন্ধ হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অর্থনীতিতে আরো বেশি অবদান রাখার সুযোগ পাবে।’

বণিক বার্তা আয়োজিত ‘‌চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫’-এ দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম, ইইউ বাংলাদেশ ডেলিগেশনের ডেপুটি হেড অব মিশন বাইবা যারিনা, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়ে ও ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রেস স্পেশালিস্ট রিকি সালমিনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আক্তার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক মো. সরোয়ার হোসেন, বিএফআইইউর উপপ্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও শীর্ষ নির্বাহীরা অংশ নেন। এর মধ্যে এনসিসি ব্যাংক পিএলসি ও ইলেক্ট্রো মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান একেএম সাহিদ রেজা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, গ্লোবাল ইলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া, বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ ও ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক মুখলেসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

শীর্ষ নির্বাহীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির এমডি মো. ওমর ফারুক খান, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) এমডি মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের এমডি মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ, ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি আহসান জামান চৌধুরী, এনসিসি ব্যাংকের এমডি এম শামসুল আরেফিন, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এমডি (ভারপ্রাপ্ত) মো. রেফাত উল্লা খান, ঢাকা ব্যাংকের এমডি (চলতি দায়িত্ব) একেএম শাহনেওয়াজ, মিডল্যান্ড ব্যাংকের এমডি মো. আহসান-উজ জামান, মধুমতি ব্যাংকের এমডি মো. সফিউল আজম, এবি ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মিজানুর রহমান, সিটিজেনস ব্যাংকের এমডি আলমগীর হোসেন, সিটি ব্যাংকের এএমডি মো. মাহবুবুর রহমান, ডিএমডি মেসবাউল আসীফ সিদ্দিকী ও নুরুল আজম মজুমদার, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এসবিএসি) ডিএমডি মো. আলতাফ হোসেন ভূঁইয়া, পদ্মা ব্যাংকের ডিএমডি মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন। সাবেক এমডিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংকের সাবেক এমডি আহমেদ কামাল খান চৌধুরী, পূবালী ব্যাংকের সাবেক এমডি শফিউল আলম খান চৌধুরী ও ব্যাংক এশিয়ার সাবেক এমডি মো. আরফান আলী।

উদ্যোক্তা ও শীর্ষ নির্বাহীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এক্সপো গ্রুপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল আনাম, আবদুল মোনেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম মঈনউদ্দীন মোনেম, ক্রাউন সিমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলমগীর কবীর, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হুমায়ুন রশীদ, আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফছিউল মাওলা, আকিজ ইস্পাত লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব মোহাম্মদ, থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেডের সিইও বাসব বাগচী, বেস্ট হোল্ডিংস পিএলসির চেয়ারম্যান আমিন আহমদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান আহমদ, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) পরিচালক তানভীর মোস্তফা ও তাসনিম মোস্তফা, রাজা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এমডি নজরুল ইসলাম রাজা, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা পারভেজ সাইফুল ইসলাম, সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. রিয়াজ উদ্দীন, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহজাহান চৌধুরী ও এমইউসি ফুডস লিমিটেডের এমডি শ্যামল দাস।

অর্থনৈতিক সম্মেলনে অংশ নেন বিভিন্ন চেম্বার ও ব্যবসায়ী নেতারাও। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসিআই) প্রেসিডেন্ট সাব্বির এ খান, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান, সহসভাপতি সিমিন রহমান, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) সহসভাপতি আনোয়ার শহীদ, ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ, অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ডিজাইনার্স বাংলাদেশের (এএফডিবি) প্রেসিডেন্ট মানতাসা আহমেদ।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, ডিএসইর পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, লংকাবাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের উপদেষ্টা খন্দকার আসাদ উল্লাহ, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সাবেক প্রেসিডেন্ট ও হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের পার্টনার এএফ নেসারউদ্দিন, আইসিএবির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ও কেপিএমজি বাংলাদেশের পার্টনার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, বিশ্বব্যাংকের লিড গভর্ন্যান্স স্পেশালিস্ট (ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট) ও আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট সুরাইয়া জান্নাত খান, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের সিইও খন্দকার সাফফাত রেজা, প্রাইম ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পরিচালক ও লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর মোরশেদ, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স পিএলসির এমডি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বিএলএফসিএর সাবেক সভাপতি মো. গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়া, অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স পিএলসির সিইও কান্তি কুমার সাহা, ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের এমডি মো. মামুনুর রশিদ মোল্লা, ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের এমডি শাহ মো. আবদুল বারী, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স কো. লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুরুল আলম চৌধুরী।

লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া, আইইউবিএটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব নবী খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কার্ডিওলজির অধ্যাপক ডা. এমএ রশীদ উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক সচিব সিকদার আনোয়ার, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ খান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মো. আলমগীর হোসেন, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সাধারণ সম্পাদক ও মুসপানার চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান সরকার রোজেল, মুসপানার সিইও আতিকুর রহমান সরকার সোহেল, ব্যুরো বাংলাদেশের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ড. ইউসুফ খান, ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (এফএসডিএস) সেক্রেটারি জেনারেল ড. ইশারফ হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. জুলহাস উদ্দিন, কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, জাবির সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পরিচালক অধ্যাপক আইরিন আখতার, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের প্রাধ্যক্ষ ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক খো. লুৎফুল এলাহী, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন সহযোগী অধ্যাপক আবু সাঈফ মো. মোন্তাকিমুল বারী চৌধুরী, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাহাদাত হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) এজিএস ফেরদৌস আল হাসান, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. মাইন উদ্দিন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ও ব্যুরো অব বিজনেস রিসার্চের চেয়ারম্যান ড. শহীদুল জাহীদ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, মেরিটাইম পরামর্শদাতা ও ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া তেরেঙ্গানুর ফ্যাকাল্টি ক্যাপ্টেন ড. রেজাউল করিম চৌধুরী, নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাজ্জাদুল কিবরিয়া দীপু, বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি ডিভিশনের পলিসি অ্যানালিস্ট মো. আজাহার উদ্দিন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক (অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি) ড. শায়খ আহমদ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শামিম এহসানুল হক, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক তানজিলা আমির, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক প্রমা পারমিতা চৌধুরী, বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের (বিডিএসএফ) সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান ও মুখপাত্র সৈয়দ রাইয়ান আমীর। সম্মেলনে অংশ নেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের (ইউআরপি) অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সচিব মনদীপ ঘরাই, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল ১০-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উন নেছা শিউলী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক আইনজীবী ফাহিমা নাসরীন মুন্নী, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ-আল-মামুন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর এসএম তাসমিরুল ইসলাম, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ডাটা অ্যান্ড সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক (ডাক) কবির আহমেদ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন, সাবেক সহসভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই, ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, সহসাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নওরীন ঊর্মি, ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসী উদ্দিন তামী। এনসিপির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, যুগ্ম সদস্য সচিব ফরিদুল হক, মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আবদুল্ল্যাহ আল মামুন ফয়সাল ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম।

উপস্থিত ছিলেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) নারীবিষয়ক সম্পাদক ফারাহ নাজ সাত্তার বন্যা, এবি পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হাজরা মেহজাবিন, এবি পার্টির শিক্ষাবিষয়ক সহসম্পাদক অধ্যাপক ফয়সল মুনীর, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আরমানুল হক।