দাউদকান্দিতে ভাঙা সেতুতে পাঁচ বছর ঝুঁকি নিয়ে এলাকাবাসীর চলাচল


২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩৯

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের হরিনা বাজার-ভবানীপুর এলাকায় বাজারখোলা শাখা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝের অংশের পিলার দেবে গিয়ে সেতুটিতে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনেও সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি ব্যবহার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরেজমিন দেখা যায়, সেতুটির মাঝের অংশসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ধরেছে। কোথাও পিলার দেবে গেছে, আবার কোথাও সেতুর অংশ ভেঙে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেই প্রতিদিন শিক্ষার্থী, পথচারী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সেতু দিয়ে চলাচল করছেন। সেতুর ওপর দিয়ে সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলও চলাচল করতে দেখা যায়। অনেকেই অভিযোগ করেন, বিকল্প সড়ক না থাকায় জীবনের ঝুঁকি জেনেও তাদের এ সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে যাতায়াতের সময় ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। এলাকাবাসীর ভাষ্য, গুচ্ছগ্রাম, ভবানীপুর, টেটালিয়া, তুষাভাটি, শনচক, নয়াচর, পাঁচগাছিয়া, বাজারখোলা উত্তর, বাজারখোলা দক্ষিণ ও বৈঠারদিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত এ সেতু ব্যবহার করেন। দুর্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রাসেল বলেন, ‘সেতুতে উঠলেই বুক ধরফড় করে। মনে হয়, যেকোনো সময় ভাঙা অংশের বাকি অংশও ভেঙে পানিতে পড়ে যাব। এই সেতু ছাড়া আমাদের বিকল্প কোনো রাস্তা নেই।’ স্থানীয় বাসিন্দা সরকার আরিফ ও মো. শাকিল আহমেদ বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেতুটি এভাবেই পড়ে আছে। দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানান তারা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দাউদকান্দি উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি পুরোনো। মাঝের অংশের পিলার দেবে যাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দেয়। বর্তমানে এটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারখোলা সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এ সেতুসহ উপজেলায় প্রায় সাত থেকে আটটি সেতু মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া মেরামতের উপযোগী আরও প্রায় ৭০টি সেতুর তালিকা করে সদর দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
অনুমোদন পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে এসব সেতুর মেরামত করা হবে। তবে স্থানীয়দের দাবি, নতুন সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা হোক। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দুর্বল সেতুটিতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভাঙা সেতুটি এখন শুধু যোগাযোগের দুর্ভোগই নয়, স্থানীয়দের জন্য নিরাপত্তাঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দ্রুত সেতুটি পুনর্নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।