সৈয়দপুর পৌরসভায় দুর্গন্ধ-ভোগান্তি নিত্যদিনের সাথী
৫ জুলাই ২০২৫ ০৮:২৮
মো. জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারীর): সৈয়দপুর শহরের ফল আড়তসংলগ্ন এলাকায় রাস্তার পাশেই সদ্য তৈরি করা ডাস্টবিন পরিষ্কার না করায় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দিনের পর দিন ফেলা আবর্জনা উপচে রাস্তায় পড়ে ময়লা আর কাদা-পানিতে একাকার হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। দুর্গন্ধে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে আড়তের ফল ব্যবসায়ীদের। সেই পথে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। পাশাপাশি এখান থেকে রোগ জীবাণু ছড়াচ্ছে ব্যাপকভাবে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শহরের প্রাণকেন্দ্র পুলিশ বক্স থেকে ফল আড়তের মাঝ দিয়ে হাতিখানা এলাকায় গেছে সড়কটি। পাশেই সৈয়দপুর-পার্বতীপুর রেললাইন। ফল আড়তের নষ্ট পচা ফলসহ বিভিন্ন আবর্জনা ফেলায় এ পথে চলাচল করা দুরূহ হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘদিন থেকে অসহনীয় ভোগান্তিতে পেরেশান হতে হয়েছে।
এমতাবস্থায় পৌর কর্তৃপক্ষ রাস্তার পাশে স্থায়ী ডাস্টবিন তৈরির উদ্যোগ নেয়। রেলওয়ের জায়গা দখল করে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬ ফুট প্রস্থ ও ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যরে ছাউনিযুক্ত ডাস্টবিন নির্মাণ করে। তিন মাস হলো এটি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। কিন্তু এখানে ফেলা ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়না। যে কারণে এটির সুবিধা পাওয়া যাচ্ছেনা বরং আগের দুর্ভোগ এখনো বিদ্যমান।
আহনাফ ফল ভাণ্ডারের মালিক জানে আলম চৌধুরী বলেন, ফল আড়তসহ বাজারের বিভিন্ন স্থানের ময়লা-আবর্জনা এখানে ফেলা হচ্ছে। একদিনেই প্রচুর স্তূপ জমে যাচ্ছে। প্রতিদিন নিয়মিত এ ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হলে অনেক ভালো হতো। কিন্তু সপ্তাহেও পরিষ্কার করা হয় না। ফলে পচে গলে ডাস্টবিন ও রাস্তা একাকার হয়ে পড়েছে। উৎকট গন্ধে এলাকায় থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
আমান ফল দোকান মালিক রইস উদ্দিন বলেন, ডাস্টবিন হওয়ায় ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থান রেখে দিনকে দিন তা সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু নিয়মিত দূরের কথা, ২-৪ দিন পরও ময়লা সরানো হয়না। বরং পৌর কর্মচারীরাই ফল আড়তের বাইরে থেকে ভ্যানে করে ময়লা-আবর্জনা এনে ডাস্টবিনের বাইরে রাস্তায় ফেলছে। এতে এখানকার পুরো পরিবেশ চরমভাবে নোংরা হয়ে পড়েছে। গন্ধে দোকানে থাকাই যাচ্ছে না।
পথচারী আরমান আলী বলেন, এ রাস্তাটা এখনো আগের মতোই চলাচল অযোগ্য। এপথে প্রয়োজনে যাতায়াত করলে গোসল করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। নাক চেপে না ধরে কেউ যেতেই পারবে না। কারণ ডাস্টবিন উপচে পচা গলা ময়লা আবর্জনা রাস্তায় পড়ে থাকলেও পরিষ্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। সামান্য ৫০ গজ সড়কে এমন দুর্বিষহ অবস্থা বিরাজ করায় অনেক পথ ঘুরে বাজারে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে হাতিখানা এলাকার লোকজনকে। অনেকে বাধ্য হয়ে রেললাইন দিয়ে আসলেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই মিলছে না।
গত সোমবার (২৩ জুন) বেলা দেড়টায় সরেজমিন গেলে দেখা যায় এলাকাজুড়ে দুর্গন্ধময় ময়লায় আচ্ছন্ন। ডাস্টবিন ভরে গেছে অনেক আগেই। প্রবেশ মুখসহ সামনের রাস্তাতেও স্তূপাকারে গলা পচা ময়লা রাখা। তার ওপরই পৌর পরিচ্ছন্নতাকর্মী হৃদয় ও সাবির ভ্যানে করে ময়লা-আবর্জনা এনে ফেলছে। তারা বলেন, ডাস্টবিন পূর্ণ, ভেতরে জায়গা নাই। ঢোকাও যাচ্ছে না। তাই এখানেই ফেলছি।
এ ব্যাপারে পৌরসভার কনজারভেটিভ ইন্সপেক্টর মোমিনুল ইসলাম বলেন, ফিসকেল রিসাইকল প্লান্ট সংলগ্ন ডাম্পিং এরিয়ায় ধারণক্ষমতার বেশি ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়েছে। এতে অনেক উঁচু স্তূপের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে নতুন করে ময়লা ফেলা যাচ্ছেনা। যে কারণে আমরা খুবই সমস্যায় আছি। আর ডাস্টবিনে ৩-৪ দিন ময়লা আবর্জনা থাকলে কী সমস্যা? প্রতিদিন পরিষ্কার করার মতো জনবল নেই। প্রতিদিন একই ডাস্টবিনে কাজ করা সম্ভব নয়। একারণে বিলম্ব হচ্ছে আর এজন্য একটু দুর্গন্ধ তো হবেই।
সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর ই আলম সিদ্দিকী ওই ডাস্টবিনের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে বলেন, সত্যই অবস্থা খুবই ভয়াবহ। আমি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি। এখন থেকে দিনে দিনেই ডাস্টবিন থেকে ময়লা-আবর্জনা সরানো হবে। এক্ষেত্রে কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবেনা। প্রয়োজনে বিশেষভাবে লোক নিয়োজিত করা হবে।