ধরাছোঁয়ার বাইরে ইলিশ, অন্যান্য মাছের মূল্যও বেশি, মুরগি ও সবজিতে স্বস্তি, হাতের নাগালে দেশীয় ফল


২৬ জুন ২০২৫ ১০:৫৪

স্টাফ রিপোর্টার : সবজি, মুদিপণ্য, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামে স্বস্তি অব্যাহত থাকলেও স্বল্প আয়ের মানুষের পাতে উঠছে না ইলিশ মাছ ও গরুর গোশত। এছাড়া মানুষের নাগালের বাইরে প্রায় সব প্রজাতির মাছ। দেশি রুই, কাতল আর চিংড়ি মাছ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। ঢাকার বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ কিনতে গুনতে হবে ২৫শ’ থেকে ২৬শ’ টাকা, যা তিন কেজি গরুর গোশতের চাইতেও বেশি। তেলাপিয়া, চাষের পাঙাশ মাছ আর নলা মাছ ছাড়া বাকি প্রায় সব মাছের মূল্যই আকাশছোঁয়া।
জানা গেছে, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। মাঝারি ও ছোট আকারের প্রতি কেজি ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এটি অন্যান্য বছরের এ সময়ের চেয়ে এক থেকে দেড়গুণ বেশি। দাম বেশি থাকায় বেচাবিক্রি খুব কম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মূল্য নির্ধারিত না থাকায় একেক দিন একেক সময় একেক দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। অন্যান্য মাছের দামও বেশি। বাজারে দুই কেজির বেশি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, চাষের শিং ৫০০ টাকা, চাষের মাগুর ৫০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, কোরাল ৭৫০ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা ও তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ২২০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি বোয়াল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, পোয়া ৪০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, দেশি কৈ ৮০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা ও দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঢাকার বাজারে গরুর গোশতের দাম চড়া। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়, যা অনেক মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য অনেকটাই নাগালের বাইরে। তবে ব্রয়লারসহ অন্যান্য জাতের মুরগির দাম কম। ফলে ক্রেতারা সস্তা মুরগির দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। জানা গেছে, রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৩০-২৪০ টাকায়। দেশি মুরগি ৫০০-৫৫০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৩০ টাকা ও লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। আর জাতভেদে প্রতি পিস হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকায়। ক্রেতারা স্বস্তি প্রকাশ করে বলছেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে মুরগির মূল্য এতটা কমেনি, এখন বাজারে যতটা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।
রাজধানীর সবজির বাজারগুলোয় বেগুন, লাউ, ঢ্যাঁড়স, পটোল, ঝিঙা, পেঁপে ইত্যাদি বিক্রি হয় ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। কারওয়ান বাজারে আলুর দাম ১৮ থেকে ২০ টাকা। অন্যান্য বাজারে ২০ থেকে ২৫ টাকা। কাঁচামরিচ অন্যান্য বাজারের তুলনায় পাইকারি বাজারে বিক্রি হয় ১০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কমে। পাইকারি বাজার থেকে সবজি কিনে বিক্রেতারা অন্যান্য বাজারে তা বিক্রি করেন বেশি দামে। শীত মৌসুম না হলেও বাজারে মিলছে বিভিন্ন ধরনের শাক। দামও কম।
ঢাকার বাজারে দেশীয় ফলের মূল্যও যথেষ্ট কম। এবার ফলের মৌসুমে ফলের সরবরাহ বেড়েছে। একই সঙ্গে পরিবহনে চাঁদাবাজি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমল থেকে কম হওয়ায় ফলের বাজারে স্বস্তির ছোঁয়া লেগেছে। আম, কাঁঠাল, লিচু, লটকন, পেয়ারা, আনারস, ড্রাগনের মতো ফলের দাম কমেছে। আগের চেয়ে আমদানিকৃত আপেল, মাল্টা, আঙুরের মূল্যও কিছুটা কমেছে।
এখন রাজধানীতে ২০-২৫ ধরনের মৌসুমি ফল পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে আমের বৈচিত্র্য সবচেয়ে বেশি। বাজারে এখন ল্যাংড়া, আম্রপালি, বারি-৪, হাঁড়িভাঙাসহ ৮-১০ প্রজাতির আম পাওয়া যাচ্ছে। খুচরায় এসব আম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ১০০ টাকায়। ঈদের পর থেকে কাঁঠালের দামও কমেছে। আগে যেখানে ১০০ টাকার নিচে কাঁঠাল পাওয়া যেত না। এখন ছোট থেকে মাঝারি আকারের কাঁঠাল মিলছে ৫০ থেকে ৮০ টাকায়। বড় কাঁঠালের দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে আনারস, ড্রাগন, লটকন, জাম, লিচু, পেয়ারা, আমড়াসহ প্রায় ১৫-২০ ধরনের দেশীয় ফল বাজারে সহজলভ্য। ছোট আকারের আনারস প্রতি হালি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় এবং বড়গুলো ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লটকন উঠতে শুরু করেছে; বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১২০-১৪০ টাকায়। দেশী ড্রাগনের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে ১০০-১২০ টাকায় নেমে এসেছে, যা মাসখানেক আগেও ২০০-৩০০ টাকা ছিল।