মাওলানা রফিউদ্দিন আহমেদ: আমি ছোটবেলা থেকেই তাকে দেখেছি
অতিথি লেখক
৮ জুলাই ২০২৫ ১৮:২৮
৮ জুলাই ২০২৫ ১৮:২৮
।। আলী আহমাদ মাবরুর ।।
মাওলানা রফিউদ্দিন আহমেদ চাচা সংগঠনের প্রবীণ দায়িত্বশীল ছিলেন। তবে আমি ছোটবেলা থেকেই তাকে প্রতিবেশি হিসেবেই দেখেছি। যেহেতু আমরা সব দায়িত্বশীলের পরিবার তখন একসাথে একই এলাকায় থেকেছি, বড়ো হয়েছি, একই স্কুলে পড়েছি তাই আমাদের সবার মধ্যকার বন্ধনগুলো অনেকটা আত্মীয়ের মতো।
ইন্তেকালের দুদিন আগে হাসপাতালে রফিউদ্দিন চাচাকে দেখতে গেলাম। চাচা তো লাইফ সাপোর্টে। তার পরিবার ছিলেন কেবিনে। সেখানে গিয়ে দেখলাম চাচী আছেন। তার দুই মেয়ে আছে। মেয়ের জামাইরা আছেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে এমন আড্ডায় মেতে উঠলাম, যেন শৈশবে ফিরে গেলাম। বাইরে থেকে এই দৃশ্য দেখলে যে কেউ মনে করবে আমরা সবাই বোধহয় আত্মীয়। এই ঘটনাটি শেয়ার করলাম এটুকু বোঝানোর জন্য যে, আমাদের এই পরিবারগুলোর পারস্পরিক বন্ধন কতটা উন্নত ছিল।
চাচার ছেলেরা আমার ভাইদের বন্ধু ছিল। আবার অন্য দুই ছেলে আমার জুনিয়র ছিল। আবার এক ছেলে আমার ছোট মামার সাথে চাঁদপুরের আল আমীন একাডেমিতে পড়তেন। তাই নানা দিক দিয়ে আমাদের সম্পর্ক।
চাচা সংগঠনের প্রবীণ দায়িত্বশীল ছিলেন। অধ্যাপক গোলাম আযম রহ,, আব্বাস আলী খান রহ., মাওলানা নিজামী রহ. থেকে শুরু করে মকবুল আহমাদ, ডা. শফিকুর রহমানের প্রথম মেয়াদ পর্যন্ত সার্ভিস দিয়েছেন। ১১-১৭ সালের কঠিন সময়গুলোতে অফিস বিভাগ সামলানোসহ গুরুত্বপূর্ন সব কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। শহীদ আমীরে জামায়াতকে আমীর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তিনি শপথও পাঠ করিয়েছিলেন।
আমার আব্বা তার তুলণায় সব দিক থেকে জুনিয়র ছিলেন। বয়সে, দায়িত্বে। আব্বারা ছাত্র সংগঠন করে আসা লোক, আর চাচা আগাগোড়াই মুরুব্বি। রফিউদ্দিন চাচা নোয়াখালীর মানুষ। তবে তার জীবন অনেকটাই ছিল সংগ্রামমুখর। অনেকেই হয়তো জানেন না, বাংলাদেশ হওয়ার পর তিনি আমাদের জেলা অর্থাৎ ফরিদপুরের প্রথম জেলা আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার আমীর হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
ফরিদপুরে তখন আমীর হিসেবে কাজ করার মতো লোক ছিল না। তাই তিনি অনেকটা মুহাজির হিসেবে নোয়াখালী থেকে ফরিদপুরে যান। সেখানে তিনি জামায়াত ও ছাত্রশিবিরকে সংগঠিত করেন। মানসম্মত জনশক্তি না থাকায় ছাত্রশিবিরেও প্রথম কয়েকটি সেশনে জেলা সভাপতি বাহির থেকে নিয়ে এসে করতে হয়েছিল। এই কাজটিও মাওলানা রফিউদ্দিন চাচার হাত ধরেই শুরু হয়েছিল।
এর আসলে সংগঠন গড়ার ও প্রতিষ্ঠা করার কারিগর। অন্য সবার মতো তাদের কাজ দেখা যায় না। কিন্তু অন্তরালে তারা সবচেয়ে জটিল ও প্রয়োজনীয় কাজগুলোই করে যান। কয়েক বছর ধরে আমরা আবার প্রতিবেশি হিসেবে বাস করছি। আমি কয়েকবার তার বাসায় গিয়েছি। চাচা মাঝে কয়েক বছরে নানাবিধ জটিলতা নিয়ে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রতিবারই যাওয়ার চেষ্টা করেছি।
এবার তিনি হার্টে রিং পরানো কেন্দ্র করে হাসপাতালে যান। সেখান থেকে কিডনি ফেইল করে। তাই ডায়ালাইসিস করার প্রয়োজন হয়। এরপর নেয়া হয় আইসিইউতে। সেখান থেকে লাইফ সাপোর্টে। লাস্ট যে রাতে গেলাম সেদিন জানলাম তার ইন্টারনাল ব্লিডিংও শুরু হয়েছে। তাই আমি নিজে ধরে নিয়েছিলাম যে কোনো সময় খারাপ খবর আসতে পারে। রাত না পেরুতেই তাই হয়।
মাওলানার বড়ো মেয়ে জামাই নোয়াখালী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা নিজামউদ্দিন ফারুক। ছোট জামাই আয়াজ ভাইও নোয়াখালী ও ফেনি জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি। আমৃত্যু মানুষটি সংগঠন করেছেন এবং সংগঠনের ওপরই আস্থা রেখে গেছেন। আল্লাহ তাআলা সংগঠন প্রিয় এই মানুষটির যাবতীয় খেদমত কবুল করে তাকে জান্নাত নসীব করুন। আমিন। (চাচার সাথে বছর কয়েক আগে বাসায় দেখা করে এই ছবিটি তুলেছিলাম। অনেকেই চাচার ছবি দেখতে চেয়েছিলেন তাই তার সুস্থ থাকাকালীন এই ছবিটিই দিলাম)। আলী আহমদ মাররুরের ফেসবুক থেকে