১৮ জুলাই শহীদ মুগ্ধ স্মরণ: “পানি লাগবে পানি”

গল্প হলেও সত্যি

এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী
১৯ জুলাই ২০২৫ ০০:৪৪

শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ছিলেন একজন শিক্ষার্থী এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী

২০২৪ এর ১৮ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় স্বৈরাচারের পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান মুগ্ধ। মৃত্যুর পূর্বে জনতার মিছিলে পানি ও খাদ্য বিতরনরত অবস্হায়
“পানি লাগবে পানি”- এই শ্লোগানটি শুধু একটি শ্লোগানই ছিল না ,ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র সমাজের আত্মদর্শনের প্রতীক।এটি ছিল ন্যায়ের শাসনের জন্য তৃষ্ণার্ত জাতিকে তৃষ্ণা নিবারনের এক অনবদ্য শপথ! ন্যায্য অধিকার আর মজলুমের পক্ষে দাঁড়ানোর এক সাহসী উচ্চারন।আমাদের গনতন্ত্র , নৈতিকতা ও মানবিক চেতনা উন্নয়নে এক প্রেরনার নাম!
তরুন সমাজের এ আত্মত্যাগ কেবলমাত্র একটি রাজনৈতিক ঘটনার অংশ নয় ,অগনিত মানুষের কাছে সাহসিকতার প্রতিক। অগনিত ছাত্র যুবার এই মিছিলে
মীর মুগ্ধ ছিল সময়ের এক সাহসী মানবিক সন্তান!
▪️পৃথিবীর বৃহত্তম সী-বিচ কক্সবাজার ! ! পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে । সামনে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি ! পড়ন্ত বিকেলে সুনীল সাগরে সফেদ ফেনা রাশি ঢেউ এর তালে তালে প্রচন্ড শব্দে আছড়ে পড়ছে।তীরে বসে সাগরের উত্তাল ঢেউ অবলোকন করছেন উদাসভাবে ! কি এক অজানা আশংকায় শাহানা চৌধুরীর বিষন্ন মন! আজ কেমন যেন অস্হির অস্হির লাগছে!
– [ ] কক্সবাজারে বড় ছেলে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার *দীপ্তর* শ্বশুরবাড়ীতে ফ্যামিলি ট্যুরে এসেছেন তার পরিবার। ঢাকার বাসায় জমজ দুই ছেলে ছাড়া আর কেও নেই।বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দেলনে সারা দেশ উত্তাল! ছেলেদের ঢাকায় একা রেখে আসতে মন চায়নি তার। দেহটা এখানে এলেও মনটা যেন পরে আছে ছেলেদের কাছে।দেশের এ অশান্ত পরিবেশে অজানা আশংকাও পিছু ছাড়ছিলনা মিসেস শাহানা চৌধুরীর! ঢাকায় ফিরে যাবার জন্য মনটা কেমন আনচান করছিল।সৈকতে আর বেশীক্ষন দেরী করতে মন চাইছিলনা।
– [ ] – – – – – – – – –
– [ ] ▪️আশ্চর্য রকমভাবে আজ সকাল থেকেই ঘুরে ফিরে ছেলের মিষ্টি হাসির মুখচ্ছবিটা বার বার উঁকি দিচ্ছিল যেন শাহানা চৌধুরীর মানসপটে।ছেলে দুটোকে একটু ভরসা করে রেখে এসেছেন -কাছাকাছি থাকেন ছোট চাচা। আবার ওদের বাবার পর যে চাচা -চাচীর কোলে পিঠে করে ওরা বড় হয়েছে সেই বড় চাচা-চাচী গত ১৪ জুলাই আবুধাবি থেকে ঢাকায়এসেছেন।চাচার বাসায় যাতায়াতের ফাঁকে হোন্ডায় করে ছোট চাচাতো ভাইকে নিয়েও ঘোড়াঘুড়িতে মেতে থাকতে ভালোবাসে ছেলেরা!
– [ ] সন্তানের স্মৃতিচারন করতে করতে হঠাৎ নষ্টালজিক হয়ে পড়েন তিনি। প্রথম সন্তান দীপ্তের জন্মের পর দ্বিতীয় বারে যময শিশুর মা হয়েছিলেন (জন্ম ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮)।অনেক কম্প্লীকেশনের মধ্যদিয়ে একসাথে ঘর আলো করে দুইছেলের আগমন । তিন পুত্র সন্তানের গর্বিত পিতা হলেন মীর মোস্তাফিজুর রহমান।
– [ ] গ্রামের বাড়ী কুমিল্লার ব্রাম্মন বাড়িয়ায় হলেও চাকুরীর সুবাদে ঢাকায় উত্তরায় থাকতেন মীর মোস্তাফিজুর রহমান।যৌথ পরিবারে পিতা মাতার সাথে যুক্ত হয়েছিল দাদা-দাদী,চাচা-চাচীর সন্তানসম অসীম স্নেহ-ভালোবাসা! মমতাজড়ানো পারিবারিক পরিমন্ডলে যমজ দুটি শিশু -মুগ্ধ আর স্নিগ্ধকে বড় করতে শাহানা চৌধুরির খুব বেশী বেগ পেতে হয়নি।
– [ ] ▪️চোখের নিমিষেই যেন একটি একটি করে বছর পেরিয়ে সহসা ওরা বেশ বড় হয়ে উঠলো। তিন ছেলের মধ্যে জমজ দুজন মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ও মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ মানিকজোড় , একে অপরের যেন এপিঠ ওপিঠ , একই দেহের অংশ। আকৃতি অবয়ব এবং স্বভাবেও অনেকটা মিল!উল্লেখ্য -জন্মের পর ২৫ বছর ৯ মাস ১৪ দিন তাঁরা কমবেশি একসঙ্গে কাটিয়েছে।
– [ ] ▪️শাহানা চৌধুরীর বড় ছেলে দীপ্ত বিয়ে করেছে ডাঃ একটি মেয়েকে।কন্যাবিহীন সংসারে মিষ্টি মুখী একটি *পুত্র বধূ কাম মেয়ে* পেয়ে বাড়ীতে বয়ে যায় খুশীর হিল্লোল! সময় গড়িয়ে এবার নূতন করে শাহানা চৌধুরী স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করেন স্নিগ্ধ আর মুগ্ধকে নিয়ে ।যময দুটো ছেলের সাথে প্রায়ই খুসুটিতে মেতে থাকতেন মা।যখনই মা বিয়ের আলাপ তুলতেন ,তখনই মুগ্ধ লাজুকতার আবেশ নিয়ে বলতো- “মা ,আগে স্নিগ্ধের পালা,পরে আমার ! শত হলেও স্নিগ্ধ (১/২ মিনিট)আমার আগে পৃথিবীর আলো দেখেছে!
পরিপূর্নতার পরম প্রশান্তি আর পরিতৃপ্তিতে মায়ের হৃদয় মন ভরে উঠতো! স্বপ্নে বিভোর হয়ে যেতেন তিনি সন্তানের সুখময় ভবিষ্যত কল্পনায়।
▪️ছোট বেলা থেকেই মুদ্ধ ছিল আকর্ষনীয় ও এক্সটোভার্ট ব্যক্তিত্বের অধিকারী ।হাসি খুশী আর সকলের প্রিয়মুখ,মিশুক প্রকৃতির । পড়াশুনায় যেমন মনোযোগী তেমনি আত্মপ্রত্য্যয়ী ও ভিষণরকমের পরোপোকারী।মায়ের কোল ছাড়ার ভয়ে শাহানা চৌধুরী ছেলেদের বেশী দূরের স্কুলে দেননি॥উত্তরা বাসার কাছেই আই.ই.এস স্কুলে পড়িয়েছিলেন।কৃতিত্বের সাথে স্কুল কলেজ শেষ করেছে দু -ভাই একসাথে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষা বর্ষের ছাত্র হিসেবে মুগ্ধ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৩ সালে গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে।এরপর বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এ প্রফেশনাল এমবিএ করছিল।
▪️একটি ফোন কলে চিন্তায় ছেদ পড়ে শাহানা চৌধুরির! ঢাকা থেকে উত্তরা আযমপুর রবীন্দ্র সরনীতে মুগ্ধের মাথায় গুলি বিদ্ধ হবার খবর আসে।উৎকন্ঠিত মনে তাড়াহুড়ো করে ভীষণ খারাপ পরিস্হিতির মাঝে বিশেষ ফ্লাইটে সরাসরি ঢাকায় পৌঁছান তিনি! আহত হবার খবর পেলেও মাকে প্রথমে সরাসরি ছেলের মৃত্যুর খবর দেয়া হয়নি।হসপিটালে পৌঁছে ছেলের লাশ দেখে নির্বাক ও স্তদ্ধ হয়ে যান শাহানা চৌধুরী! তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয় সবকিছু! কোথা থেকে সব কি হয়ে গেল! আর কিছু ভাবতে পারেন না তিনি!মাথাটা যেন কেও প্রচন্ডভাবে চেপে ধরেছে । দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না তিনি।
▪️কারফিউর মাঝে সরকারের পেটোয়া বাহিনী আন্দোলনকারী ছাত্রদের উপর মুহূর্মুহু টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও গুলি নিক্ষেপ করে। তখন একটি গুলি কপাল ভেদ করে কানের পাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। মুগ্ধ লুটিয়ে পড়ে রাস্তায়।মুগ্ধ’র রক্তে যখন রাস্তা ভেসে যাচ্ছিল, হাতে পানির বোতলগুলো তার রক্তেই গড়াগড়ি খেতে থাকে। পাশে থাকা বন্ধুরা বহু সংগ্রাম করেও সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নিতে পারছিলনা। অসংখ্য পুলিশ অস্ত্র তাক করে এগিয়ে আসছিলো। কিছুক্ষণ পর রিকশায় করে মুগ্ধকে নিকটস্থ উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
▪️বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিল মুগ্ধ।আন্দোলনকারীদের সেবা দেয়া ছিল তার মূল টার্গেট।
আন্দোলনের সময় পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসের মাঝেই চোখ মুছতে মুছতে তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত মানুষের মাঝে খাবার পানি এবং বিস্কুট বিতরণ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে সে।
মা দেখছেন তার ছেলের গলায় এখনো বিইউপি আইডি কার্ডটি রক্তমাখা অবস্থায় ঝুলঝে !
রক্তাক্ত কার্ডটি যেন স্বাক্ষী দিচ্ছে- “মা ! তোমার ছেলে সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে পড়াশুনা করছে দেশ ও দশের দায়িত্ব পালন করতে, তাইতো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশকে বাঁচাতে ও জনতার ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের খেদমত করতে করতেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছি মা! তোমার কষ্ট বৃথা যেতে দেইনি , কেঁদোনা মা! তুমি আজ শুধু একজন মুগ্ধের মা নয় , তুমি আজ বীরের জাতি বাংলা দেশের প্রতিটি সাহসী সন্তানের গর্বিত মা। অন্যায় অসত্যের বিরুদ্ধে, মজলুমের পক্ষে রুখে দাঁড়িয়েছিল তোমার ছেলে! আমায় ক্ষমা কোরো মা! তোমার শেষ আব্দারটি পূরন করার সময় হলোনা ! দেখা হবে জান্নাতে!”
মুহূর্তে শাহানা চৌধুরী নিজেকে শামলে নিলেন।দেশের অগনিত সন্তানের জন্য শোককে শক্তিতে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয়ে শপথ বদ্ধ হলেন!
▪️মীর মুগ্ধের মৃত্যু কোটা সংস্কার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। “পানি লাগবে পানি! “ তার এই উক্তিটি যেন আন্দোলনে ফুয়েল হয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল স্বৈরাচারের তখতে তাউসকে ।তার মৃত্যুতে গোটা দেশে আন্দোলন প্রানশক্তি পেয়েছিল!
মৃত্যুর পূর্বে উচ্চারিত তার শেষ ডায়লগটি এখন বিস্ময়করভাবে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস হয়ে গেছে।উত্তরার আযমপুরে তার পানি বিতরনের ধারনকৃত ভিডিওটি বিশ্বের অগনিত মানুষকে যেমন অশ্রু সিক্ত করেছিল তেমনি কাঁপিয়ে দিয়েছিল স্বৈরাচারের মসনদ! যার ফলশ্রুতিতে তা এক দফার আন্দোলনে রুপ নেয়। অবশেষে স্বৈরাচারের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে।
▪️মুগ্ধ একজন সফল ফ্রিল্যান্সার ছিল। মৃত্যু পূর্ব পর্যন্ত ফাইভারে তার এক হাজারেরও বেশী কাজ সম্পন্ন করেছিল। টপ রেটের একজন বেষ্ট সেলার ছিল মুগ্ধ ।প্রায় ৫০ হাজার ডলারের ও বেশি উপার্জন করে দেশের অর্থনীতিতে সে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিল।
মুগ্ধর কাজের প্রশংসা করে ফাইভার (৩১ জুলাই’২৪) সন্ধ্যায় তাদের ভেরিফাইড অফিশিয়াল পোস্টের মাধ্যমে জানায়, মুগ্ধ ছিল একজন প্রতিভাবান মার্কেটার। বিশেষ করে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও) এবং সোশ্যাল মিডিয়া বিষয়ে অসাধারণ দক্ষতা ছিল তার। সেই সাথেভালো ফুটবলার এবং বাংলাদেশ স্কাউটেরও একজন গর্বিত সদস্য ছিল।
▪️ একজন ভ্রমণপিপাসু তরুন, মুগ্ধ দেশের বিভিন্ন স্হানে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসতো।।ঘটনার দুদিন পর টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরতে যাবার কথা ছিল তাদের ,টিকেটও কাটা হয়েগিয়েছিল।পরের মাসে তিন ভাই মিলে ৬৪ টি জেলা সফরে বের হবারও পরিকল্পনা আর স্বপ্ন ছিল!
কিন্তু মহান আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন।
তিনি মুগ্ধকে এমন এক জগৎ পরিভ্রমন করাবেন- যে চোখ কখনো তা দেখে নি, যে হৃদয় তা উপলব্ধি করেনি, যে মন কখনো কল্পনাও করেনি ,সে অনিন্দ সুন্দর স্হান জান্নাত,জান্নাতের সফর॥
তাইতো জুলাই বিপ্লবের শহীদ মুগ্ধ এখন জান্নাতের পাখি হয়ে গোটা জান্নাতের বাগান দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন! ছেলেকে বিয়ে দেবার যে স্বপ্নে বিভোর ছিলেন মা শাহানা চৌধুরী ,অন্তরে লালন করেছিলেন অনেক দিন ধরে, সে স্বপ্নও অপূর্ন রাখবেন না মহান রব!মহান আল্লাহ্ মায়ের স্বপ্ন পূর্ন করবেন জান্নাতে ।আমরা আশাকরি স্বয়ং আল্লাহ তাদের বিয়ে দেবেন জান্নাতের কোন এক হুরীর সাথে ।কারন মহান আল্লাহ মুমিনের কোন স্বপ্নই অপূর্ন রাখেন না।একজন প্রতিবেশী হিসেবে মুগ্ধর মাকে সেদিন এসব বলেই শ্বান্ত্বনা দিয়েছিলাম।
▪️মীর মুগ্ধর সাথে মসজিদে প্রায় দেখা হতো আমার ছেলেদের ।সে শুধু আমার ছেলেদের কাছে এলাকার একজন সিনিয়র ভাই ই ছিলনা, তার শাহাদাতের পর আমার ছেলেসহ ইংলিশ মিডিয়ামের হাজারো ছেলেরা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল! মুগ্ধর মৃত্যু কোটা সংস্কার আন্দোলনের একটি প্রতীকী ঘটনা হিসেবে আন্দোলনকারীদের মাঝে শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছিল!
▪️সেদিন সরকারী পেটোয়া বাহিনীএতচাই নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছিল যে , তারা মুগ্ধর লাশকে তার গ্রামের বাড়ীতেও নিতে দেয়নি,বাড়ীর পাশের কবরস্তানেও কবরস্হ করার কোন ক্লিয়ারেন্স দেয়নি! পরবর্তিতে অনেক চেষ্টা করে উত্তরা কামার পাড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি কবরস্তানে মুগ্ধকে দাফন করা হয়েছিল !
অথচআজ গোটা পৃথিবীতে দেশপ্রেমিক শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ – নব প্রজন্মের কাছে এক কিংবদন্তীর নাম ,যে শাহাদাত জুলাই আগষ্টের বিপ্লবে শত সহস্র তরুনকে উদ্দীপ্ত করে তুলেছিল।!সদা হাস্যমুখী এ তরুন ছোট বড় সবার কাছে এতটাই জনপ্রিয় ছিল যে , তার এ সাহসিকতা আজ কোটি কোটি প্রানে ,জনে জনে- প্রেরণার ভাস্মর হয়ে থাকবে,৩৬ জুলাই আন্দোলনে ইতিহাসের প্রাণভোমরা হয়ে থাকবে।
আমরা তোমাদের ভুলবো না!
এ জাতি কখনো তোমাদের ভুলতে দেবেনা।
(লেখক, গবেষক, আইনজীবী,
নির্বাহী সদস্য, লিগ্যাল এইড বাংলাদেশ)