জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট মৃত্যুকূপ

হারুন ইবনে শাহাদাত
৬ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৩৫

আবু সাঈদ, মুগ্ধ, আনাস, সৈকতসহ প্রায় দুই হাজার শহীদের রক্তঋণ এবং কোটি কোটি তরুণ ছাত্র-জনতার জীবন-মরণের প্রশ্ন জড়িয়ে আছে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি এবং পলাতক ও পতিত ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ করার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর। কিন্তু যারা ক্ষমতা দখল করে নব্য ফ্যাসিস্ট হওয়ার স্বপ্নে বিভোর, তারা বিষয়টিকে পাত্তা দিচ্ছে না। এদেশের ইতিহাস এবং জার্মানি ও ইতালির ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে এ পাত্তা না দেয়ার ফলাফল জাতির সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
১৯৭৫ সালে ফ্যাসিস্ট বাকশালের কবল থেকে জাতিকে যে বীর সন্তানরা মুক্ত করেছিলেন, তাদের পরিণতি কী? বাকশাল এবং যে আওয়ামী লীগের ভ্রুণ থেকে বাকশালের জন্ম হয়েছিলে তা নিষিদ্ধ না করায় আরো বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসে ক্ষমতায় আসার আগে অর্ধশতাব্দী এবং দুবার ক্ষমতা দখল করে প্রায় আড়াই দশকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, খুন, গুম, শীর্ষনেতাদের ফাঁসি, অর্থ পাচার এবং দেশকে ভারতের সেবাদাসে পরিণত করার ইতিহাস কারো অজানা নয়। কিন্তু ইতিহাস থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছে বলে মনে হয় না। বরং ভারতের কূটচাল ও জালে বন্দি হয়ে কলুর বদলের মতো অন্ধ চোখে সেই একই পথে আবারও ঘুরপাক খাচ্ছে। অথচ ইতালি ফ্যাসিস্ট পার্টি এবং জার্মানি নাৎসি পার্টি নিষিদ্ধ করে গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধির পথে চলছে। গোটা ইউরোপ-আমেরিকাকে পথ দেখাচ্ছে। ফ্যাসিজমের কুফল বোঝার কারণে তারা পেয়েছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি। তাই রাজনীতি বিশ্লেষকদের অভিমত হলো, যারা দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির বদলে নিজেদের জমিদারি কায়েম এবং দিল্লির আনুগত্য মেনে ক্ষমতা দখল করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করতে চায়, তারাই জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিতে গণভোটের বিরোধিতা করতে জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে একই দিন গণভোটের কথা বলছে। তারাই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, তাদের দোসর ১৪ দল ও জাতীয় পার্টির নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে গোপন ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত। রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারা আসলে মীরজাফরের ইতিহাসও অধ্যয়ন করেনি অথবা পড়লেও উপলব্ধি করতে পারেনি। মীরজাফর ক্ষমতার লোভে ইংরেজদের সাথে আঁতাত করে দেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই ব্রিটিশ বেনিয়ারা তাকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছিলো। তাই তাদের নিরাপত্তার জন্যও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের বিকল্প নেই। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে করার চিন্তা প্রতারণা ষড়যন্ত্রের অংশ এবং রাজনৈতিক দলের নেতা, জুলাইযোদ্ধা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আত্মহত্যার শামিল।
একদিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অংশ : একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, একই দিন গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আয়োজন হলে তা জনগণের মাঝে ধোঁয়াশা তৈরি করতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, গণভোটে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমতের প্রস্তাবগুলো সমন্বয় না হলে গণভোট গৌণ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে সংস্কারবিরোধী অপশক্তি রুখতে ও সরকারের ব্যয় সংকোচন করতে জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোটের পক্ষে মত অনেক রাজনীতিবিদের। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের লক্ষ্যে চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। যেখানে দীর্ঘ আট মাসের যাত্রায় দুই পর্বের আলোচনায় উঠে আসে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব। এর মধ্যে ১৪টি প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি আনে দলগুলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গণভোটই ঐকমত্যে পৌঁছানোর একমাত্র মঞ্চ। তবে গণভোট জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে সমন্বয় করা হলে তা জনগণের মাঝে ধোঁয়াশা তৈরি করবে।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, ‘সংস্কার প্রস্তাবগুলোকে সংস্কার প্রস্তাব হিসেবেই জনগণের কাছে নিয়ে যেতে হবে। জনগণের কাছে বলতে হবে যে, আপনি পিআর পদ্ধতি উচ্চকক্ষ চান কি না? বলা যাবে না যে, এখানে আরও পাঁচটি দলের নোট অব ডিসেন্ট আছে বা একটি দলেরও নোট অব ডিসেন্ট আছে। কিন্তু অবশ্যই আপনি জনগণকে জানাবেন যে, এ সংস্কার প্রস্তাব আপনি জনগণের কাছে নিয়েছেন, কিন্তু এ ব্যাপারে কিছু রাজনৈতিক দলের বা নাম দিয়েই যে এ দলের সব বিষয়ে ভিন্নমত আছে। তাহলেই গণভোটটা ট্রান্সপারেন্ট হবে এবং গণভোটটা একটা অর্থপূর্ণ গণভোট হবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘গণভোট একই দিনে কেন হতে হবে? একদিনে হওয়ার কারণটা কী? মানে খরচ বাঁচানোর জন্য। বাংলাদেশের কত টাকা কত দিকে খরচ হচ্ছে, তার কোনো হিসাব নেই। গণভোট হলো ডিরেক্ট ডেমোক্রেসি, মানে সরাসরি জনগণ বলছে আমি এটা চাই আর এটা চাই না। এটার ওপরে আর কোনো কথা হতে পারে না। যখন গণভোটে একটা জিনিস পাস হয়ে যায়, সেটাকে সংযোজন, বিয়োজন করার অধিকার সংসদের নেই।’
গণভোট ছাড়া জাতীয় নির্বাচন ও অন্তর্বর্তী সরকারই বৈধ হবে না
অনেক রাজনীতি বিশ্লেষক মনে করেন, জনগণই সর্বোচ্চ সংবিধান। তাঁর ওপর কোনো আইন বা সংবিধান নেই। জনগণের ইচ্ছা হলো অলিখিত সংবিধান। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ইচ্ছা ও সামাজিক রীতিমতো অলিখিত সংবিধান মেনেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলছে সংসদীয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত গ্রেট ব্রিটেন। ৮ আগস্ট ২০২৪-এ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতার শপথ গ্রহণ করেছে জনগণের ইচ্ছায় অর্থাৎ অলিখিত সংবিধান মেনে। এ সরকারের শপথ পতিত ও পলাতক হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া সংবিধানে হয়নি। ঐ সরকারের সংবিধান মেনে নিলে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ও তার সকল কার্যক্রম, এমনকি আসন্ন নির্বাচনও অবৈধ হবে বলে মনে করেন এডভোকেট আবু হেনা রাজ্জাকী।
জুলাই সনদ গণভোটে পাস হলে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার, তার অধীনে জাতীয় নির্বাচন এবং তার সরকারের কার্যক্রম নিয়ে আর কোন প্রশ্ন থাকবে না। কারণ এ দুনিয়ায় আল্লাহর খলিফা হিসেবে জনগণই সমস্ত ক্ষমতার উৎস। এ সত্য ধারণ স্বতঃসিদ্ধ- এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।
জুলাই সনদে এ সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়েছে, ‘১৮. যেহেতু অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের পতন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জনগণ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে, পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ পরিচালনা করে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনরত সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র-জনতা তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণি, পেশার আপামর জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং ১৯. যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসঙ্গত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং ২০. যেহেতু জনগণের দাবি অনুযায়ী এরপর অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের মতামতের আলোকে সাংবিধানিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একটি অন্তর্বতীকালীন সরকার গঠন করা হয় …।’
বিয়ের আগে সন্তান নেয়ার মতো হবে
রাজনীতিবিদ ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া জাতীয় নির্বাচন বৈধ হবে না। গায়ের জোরে করলে তা হবে বিয়ের আগে সন্তান নেয়ার মতো অবৈধ কাজ। সাবেক এক নির্বাচন কমিশনার তো আরো কঠিন কথা বলেছেন, ‘তা হবে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।’
এ সত্য উপলব্ধি করেই নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে আন্দোলন করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও ডেভেলপমেন্ট পার্টি- এ আটটি রাজনৈতিক দল। কিন্তু বিএনপি চায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে, যা আসলে অন্তর্বর্তী সরকার ও জুলাইযোদ্ধাদের মৃত্যৃর মুখোমুখি করার ষড়যন্ত্র। ১৫ আগস্ট বিপ্লবী- যাদের অবদানে বিএনপির জন্ম, তাদেরও জীবন দিতে হয়েছে বিপ্লবের পর বিএনপির এমন রাজনৈতিক ভুলের জন্য বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আদর্শগত অবস্থান ছিল। বর্তমানে দেশ এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছে, হয় আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে, নয়তো বিলীন হয়ে যেতে হবে। কারণ আমাদের পরিচয়গত সংকট তৈরি হয়েছে। আমাদের এ সমাজকে শেখ মুজিবুর রহমান বিভক্ত করেছেন। তিনি দেশে এসেই স্বাধীনতা যুদ্ধকে আওয়ামী লীগের বলে ভাগ করে দিয়েছিলেন। তিনি তখন দেশ ত্যাগ না করলে স্বাধীনতার ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলন হয়েছে জনগণের কল্যাণ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। এ বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল নতুন করে রাষ্ট্রকে গঠন করা। তবে সেদিন সেনানিবাসে বসে একটি সরকার গঠন করা হয়েছে। যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও ছিল। তখন বিল্পবী সরকার গঠন করতে পারেনি, এটা একটা ভুল ছিল। তখনই সরকার ব্যবস্থার সংকট তৈরি হয়ে গেছে। তখন অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল ১৯৭২ সালের সংবিধান ভেঙে দিয়ে নতুন করে ঢেলে সাজানো, কিন্তু তা হয়নি। সেদিন সেনানিবাসে বসে চক্রান্ত হওয়ার কারণে এখন আমরা সমস্যায় পড়ে গেছি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুটি ভুল করেছেনÑ বিপ্লবী সরকার গঠন করেননি এবং গণপরিষদ নির্বাচন দেননি।’
কারণ জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি পেলেই ৫ আগস্টের বিপ্লব, অন্তর্বর্তী সরকার এবং তার কার্যক্রম বৈধতা পাবে। বুঝতে হবে, এখানে বর্তমান সংবিধান কার্যত অকার্যকর। কারণ বর্তমান সংবিধান অনুসারে নির্বাচন করার কথা তিন মাসের মধ্যে। বাংলাদেশে সংসদ ভেঙে দেয়ার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। তবে সাংবিধানিক সেই বাধ্যবাধকতা বর্তমান পরিস্থিতিতে কার্যকর নয় বলে মনে করেন আইন বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক নেতাদের একাংশ। বাস্তবতার নিরিখেই তা বিবেচনা করছেন তারা।
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল এক নিবন্ধে বলেছেন, ‘সংবিধান যদি বহাল থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশনকে সংবিধানের ১২৩(৩)(খ) অনুচ্ছেদের বিধান মতে, তৎপরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। যদি না করেন, তাহলে সে ক্ষেত্রে ৭খ অনুচ্ছেদের বিধান মতে কমিশনাররা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ করে থাকবেন।’ যদি সময় বদলে যায়, তাহলে এ অপরাধে শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, অন্তর্বর্তী সরকার এবং জুলাই সনদ আইনি বৈধতা পাওয়ার আগে যারা গোঁজামিলের নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হবেন, তারাও মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে অপরাধী হবেন। বলা যায় না, চল্লিশ বছর পর ক্ষমতা দখল করে যেমন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশে এদেশের জনপ্রিয় ও শীর্ষনেতাদের জুডিশিয়াল কিলিং করেছে, তাদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটাবে।
তাই রাজনীতি পর্যক্ষেকরা মনে করেন, যারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির আগে ক্ষমতার লোভে পিপীলিকার মতো আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছেন, তাদের পরিণতিও ঐ পিপীলিকার মতোই হবে। অর্থাৎ তারা নিজেরাই নিজের মৃত্যুকূপ খনন করছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্ম একটি অনিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যাওয়ার বন্দোবস্ত করছেন। অথচ তারা দায়িত্ব নিয়েছিলেন, নতুন বন্দোবস্ত এবং নিরাপদ বাংলাদেশ উপহার দেয়ার মুলা ঝুলিয়ে। কিন্তু তারা সে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার পথে হাঁটলে ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।

জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট মৃত্যুকূপ হারুন ইবনে শাহাদাত

সম্পর্কিত খবর