জনমত জরিপে এগিয়ে জামায়াতে ইসলামী জোট

প্রিন্ট ভার্সন
১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২০

সোনার বাংলা রিপোর্ট : ২০২৪-এর ৩৬ জুলাই বিপ্লবের দিন বদলের পালায় অনেক কিছুই বদলে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে ভোটের হিসাবও। গত ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ জরিপে বিএনপি জোটের চেয়ে এগিয়ে জামায়াতে ইসলামীর জোট। গত ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনে চারটি প্রতিষ্ঠান প্রজেকশন বিডি, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি), জাগরণ ফাউন্ডেশন এবং ন্যারাটিভ যৌথভাবে পরিচালিত জরিপের ফলাফলে দেখাচ্ছে জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি : ৩৪.৭%, জামায়াতে ইসলামী : ৩৩.৬%, এনসিপি ৭.১%, ইসলামী আন্দোলন ৩.১% ও অন্যান্য ৪.৫%। অর্থাৎ বিএনপি ও জামায়াত কার্যত সমানে সমান অবস্থানে রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সাথে আছে এনসিপি (৭.১%), ইসলামী আন্দোলন (৩.১%)। যোগ করলে দাঁড়ায় ৪৩.৮ অর্থাৎ বিএনপির চেয়ে বেশি। বিএনপির সাথে যারা জোট করেছেন, তাদের পরিসংখ্যান এসেছে- অন্যান্য ৪.৫% এবং অনিশ্চিত : ১৭.০%-তে জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটে যুক্ত বাকি দলগুলোর সমর্থনও আছে। তাই নিসন্দেহে বলা যায়, বিএনপির চেয়ে জনসমর্থনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে আছে।
গত ১২ জানুয়ারি সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘প্রি-ইলেকশন পালস: ইন-ডেপথ অ্যানালাইসিস অব দ্য বাংলাদেশি ইলেকটোরেট’ শীর্ষক জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জরিপের ফলাফল তুলে ধরে আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহীন। জরিপের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক মুশতাক হোসেন খান, সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেসের ডিন এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক শিব্বির আহমেদ ও জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ওমর নাসিফ আব্দুল্লাহ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতার বিষয়টিকে সামনে রাখছেন জরিপে অংশ নেওয়া ৭২ দশমিক ১ শতাংশ। যারা জামায়াতকে ভোট দিতে চাইছেন, তারা দলটির সততা ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির কথা বলেছেন। জামায়াতকে সমর্থনের জন্য ৪৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ কারণ দেখিয়েছেন কম দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়া এবং ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ কারণ দেখিয়েছেন সততা। এনসিপিকে সমর্থনকারীদের ৩৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ ‘জুলাই বিপ্লবে ভূমিকা’র বিষয়টি মাথায় রেখেছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া যে ১৭ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন, তাদের মধ্যে ৩০ দশমিক ১৭ শতাংশ কোনো রাজনৈতিক দলকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো মতামত দেননি। এই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের যারা বিএনপিকে ভোট দেবেন, তাঁরা অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন; যারা জামায়াতকে ভোট দেবেন, তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন কম দুর্নীতিগ্রস্ততা ও সততাকে। এ ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেনÑ বলেন শফিউল আলম।
‘স্ট্রার্টিফায়েড স্যাম্পলিং ডিজাইন’ অনুসরণ
গত বছরের ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ জরিপটি হয়। এতে মতামত নেওয়া হয় বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার ২৯৫টি সংসদীয় আসনের ২২ হাজার ১৭৪ জন ভোটারের। জরিপের নমুনা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থান, শহর-গ্রাম ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে ‘স্ট্রার্টিফায়েড স্যাম্পলিং ডিজাইন’ অনুসরণ করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
তরুণ ভোটার : ১৮-২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন তুলনামূলক কম (প্রায় ২৮-৩০ শতাংশ) এবং অনিশ্চিত ভোটারের হার বেশি। তরুণরা মূলত পরিবর্তন, দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি ও কর্মসংস্থানের প্রশ্নে সংবেদনশীল।
নগর-গ্রাম বিভাজন : গ্রামীণ এলাকায় বিএনপির সমর্থন ৩৫.৯ শতাংশ, শহরে ৩১.৯ শতাংশ। শহরে অনিশ্চিত ভোটারের হার ২১.৫ শতাংশ যা নগর মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নির্দেশ করে।
আঞ্চলিক শক্তির মানচিত্র
ময়মনসিংহ ও বরিশাল : বিএনপি শক্তিশালী (৪২-৪৭%)। রাজশাহী ও খুলনা : বিএনপি-জামায়াত প্রায় সমান। ঢাকা ও সিলেট : অনিশ্চিত ভোটার বেশি। চট্টগ্রাম : বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা
শিক্ষা ও পেশাভিত্তিক প্রবণতা: নিম্ন শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন বেশি (৩৯-৪০%)। উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির প্রতি ঝোঁক লক্ষণীয়। শিক্ষার্থী ও বেকার তরুণদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন সবচেয়ে কম।
অনিশ্চিত ভোটারদের দ্বিধার কারণ : কোনো দলের ওপর আস্থা নেই ৩৮.৬%; রাজনীতিতে আগ্রহ কম ৩০.১%; রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। ১৮.১%; ইশতেহার দেখার অপেক্ষা ১০.২%; অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তার ঝুঁকি।
পরিবর্তন বনাম স্থিতিশীলতা : মূল দ্বন্দ্ব
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের ড. মুশতাক হোসেন খান বলেন, আগের জরিপে বিএনপি জামায়াতের চেয়ে এগিয়ে ছিল, কিন্তু বর্তমান জরিপে জামায়াত-এনসিপি-ইসলামী আন্দোলনের সম্মিলিত শক্তি বিএনপির চেয়ে এগিয়ে। তরুণ, শিক্ষিত ও শহুরে ভোটাররা পরিবর্তনের রাজনীতির দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণি স্থিতিশীলতার কারণে বিএনপির দিকে ঝুঁকছে।
তার মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি বৈপ্লবিক মোড় তৈরি করেছে। একটি অংশ মৌলিক পরিবর্তন চায়, অন্য অংশ চায় দ্রুত স্থিতিশীলতা। এ দ্বন্দ্বই আসন্ন নির্বাচনের মূল রাজনৈতিক চালিকাশক্তি।
মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন মনে করেন, ভারতের আধিপত্যবাদী প্রভাবের প্রশ্নে যেসব দল আপসহীন অবস্থানে থাকবে, তারাই ভোটে সুবিধা পাবে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেসের ডিন এ কে এম ড. ওয়ারেসুল করিম বলেন, ১৯৯৬ সালের পর এ প্রথম বিএনপি ও জামায়াত আলাদাভাবে নির্বাচন করছে এবং প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ নির্বাচনের মাঠে নেই। নতুন শক্তি হিসেবে এনসিপির উত্থানও রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিচ্ছে।
কোন পথে বাংলাদেশ
জরিপ যে বড় তিনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা, তা হলো- ১) দ্বিদলীয় রাজনীতি ভেঙে এখন দ্বিশক্তির প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে। ২) নৈতিকতা ও দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতি ভোটারের প্রধান প্রত্যাশা হয়ে উঠছে। ৩) তরুণ ও শহুরে ভোটারদের আস্থার সঙ্কট ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক আদর্শ ও রাষ্ট্রচিন্তার পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠতে পারে।

জামায়াতে ইসলামী জোট

বাংলা সাহিত্যে রোজা
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৬

আল মাহমুদের গল্পে প্রেম ও প্রকৃতি
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৫

প্রেরণার বাতিঘর : আল মাহমুদ
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৪

বাবারা এমনই হয়
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৩

সম্পর্কিত খবর