নজরদারি নেই নিত্যপণ্যের বাজারে

অস্থিরতা কাটেনি পেঁয়াজের বাজারে, নিম্নমুখী ব্রয়লার মুরগি ও ডিম

প্রিন্ট ভার্সন
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৩৮

স্টাফ রিপোর্টার : নিত্যপণ্যের বাজার আসলে কে বা কারা নিয়ন্ত্রণ করছে, তার কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। রাজধানীসহ সারা দেশে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কোনো নজরদারি নেই, তদারকি নেই, কেউ সরকারি নির্দেশনা ভাঙলে তার বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নেই। বরং এ খাতে সরকারের ব্যয় হওয়া টাকা জলে যাচ্ছে। ঢাকার বাজারগুলোয় খবর নিয়ে দেখা যায়, সেখানে বিক্রেতারা দোকানে কোনো মূল্যতালিকা ঝোলাচ্ছে না। অথচ নিয়ম হচ্ছে সকল বিক্রেতা পণ্যের ক্রয় রসিদ সঙ্গে রাখবেন এবং বিক্রিয় মূল্যতালিকা ঝুলিয়ে রাখবেন। কিন্তু ঢাকার বাজারগুলোর এক-শতাংশ দোকানেও মূল্যতালিকা প্রদর্শন করা হচ্ছে না। এর বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে না। ফলে বিক্রেতারা যে যার মতো করে মূল্য হাঁকিয়ে তা আদায় করে নিচ্ছে অসহায় ভোক্তার কাছ থেকে।
রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজের দামে অস্থিরতা এখনো কাটেনি। নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ এখনো যথেষ্ট না থাকায় এ অস্থিরতা কাটছে না। পুরোনো পেঁয়াজ কিনতে গেলে এখনো প্রতি কেজি গুনতে হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নতুন পেঁয়াজ ঢাকার বাজারে ৮০ থেকে শুরু করে ১২০ টাকা। বাজারে নতুন আলুর দাম কমেছে। আর আগের মতো নিম্নমুখী রয়েছে মুরগি ও ডিমের দাম।
এবারে আলুর বাজারে শুরু থেকেই দামে নিম্নমুখী। প্রতি কেজি নতুন আলু গত সপ্তাহে বাজারভেদে ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এখন আরও কমে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩০ টাকা কেজি। আর পুরোনো আলু বিক্রি হচ্ছে আগের মতো ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে।
শুধু আলুই নয়, দাম কমেছে শীতের বেশিভাগ সবজির। এর মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপির দাম এখন ৩০-৩৫ টাকায় নেমেছে, যা গত সপ্তাহেও বেশি ছিল। প্রতি কেজি বেগুন পাওয়া যাচ্ছে ৬০-৮০ টাকার মধ্যে। এর মধ্যে লম্বা জাতের বেগুনের দাম কম। গোলাকৃতির বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে। শিমের আবার জাতের ভিন্নতার কারণে দামেও কমবেশি দেখা গেছে। সাধারণ মানের সবুজ শিম ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যেখানে রঙিন শিমের কেজি বাজারভেদে ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এর বাইরে কয়েক সপ্তাহ ধরে তলানিতে নেমেছে ডিম ও মুরগির গোশতের দাম। ব্রয়লার মুরগির ডিম বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকা ডজন হিসেবে। গত সপ্তাহেও একই দামে ডিম বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকার মধ্যে। ডিম ও মুরগির বিক্রেতারা বলছেন, ডিম মুরগির দাম কমে যাওয়ায় সাধারণ খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। খামারিরা বিক্রেতাদের জানান, বাজারে দাম কমে যাওয়ায় খামারিরা এখন উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে লোকসান বাড়ছে এবং সরবরাহ চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ক্রেতারা বলছেন, সরকার বাজার মনিটর করছে না। ফলে কোনো কোনো সময় ক্ষগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদকরা, ফলে তারা আগ্রহ হারান। আবার বেশিভাগ সময় বাড়তি টাকা দিয়ে পণ্য কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কিন্তু ব্যবসায়ীদের লাভ ছাড়া কোনো ক্ষতি নেই।