জুলাই সনদ : জাতীয় স্বার্থেই সাংবিধানিক স্বীকৃতি অপরিহার্য


২১ আগস্ট ২০২৫ ১৪:৪৫

॥ জামশেদ মেহদী ॥
গত ৫ আগস্ট মঙ্গলবার জুলাই ঘোষণাপত্রের পর জুলাই সনদও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন চূড়ান্ত করেছে। গত ১৬ আগস্ট শনিবার রাজনৈতিক দলসমূহের কাছে ঐ চূড়ান্ত খসড়া পৌঁছানো হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট রোববার এমন দুজন রাজনৈতিক নেতার সাথে আমার কথা হয়েছে। আমাকে তারা খসড়াটি দেখালেনও। জুলাই সনদ আসলে একগুচ্ছ সংস্কার প্রস্তাব। সংস্কার সম্পর্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো যদি কম সংস্কার চায়, তাহলে তাড়াতাড়ি নির্বাচন হবে। আর বেশি সংস্কার চাইলে দেরিতে নির্বাচন হবে। এখন রাজনৈতিক দলগুলো; বিশেষ করে বিএনপি কম সংস্কার চাচ্ছে। ড. ইউনূসের ইচ্ছে ছিল আগামী জুন মাসের শেষের দিকে ইলেকশন দেবেন। কিন্তু বিএনপি জেদ ধরলো যে, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ইলেকশন দিতে হবে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল যখন বললো যে, ডিসেম্বরের মধ্যে ইলেকশন করতে গেলে তো বেশি সংস্কার করা যাবে না, তখন বিএনপি নেতারা যেসব যুক্তি দেন, সেগুলো শুনে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের আক্কেল গুড়ুম।
দীর্ঘ ৯ বছর ভারতের মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে রাজারহালে থেকে ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন যে, শুধুমাত্র ইলেকশন দেওয়া ছাড়া ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আর কোনো ম্যান্ডেট নাই। আসলে সালাহউদ্দিন আহমেদ তো এরকম কথা বলবেনই। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ‘গুম’ হন বলে প্রচারিত হয়। তারপর থেকে তিনি ৯ বছর ইন্ডিয়াতেই ছিলেন। এখানকার খবরাখবর বড়জোর তিনি টেলিভিশনে দেখেছেন বা পত্রিকায় পড়েছেন। সেখানেও কথা রয়েছে। সালাহউদ্দিন সাহেবকে গুমকারীরা একটি স্থানে ফেলে দেয়। তিনি সেখানকার সাইনবোর্ড দেখে বুঝতে পারেন, তিনি ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এসেছেন। তারপরের কথা সকলেই জানেন।
তবে কিছু কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেনÑ পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি প্রভৃতি সংস্থা কাউকে গুম করলে তাদের হয় জেলে নেওয়া হয়, না হয় আয়নাঘরে নেওয়া হয়। যারা সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি, তাদের আয়নাঘরে নেওয়া হয়েছিলো। সেখানে ৩ ফুট বাই ৩ ফুট রুমে বছরের পর বছর থাকতে হয়েছিলো। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অত্যন্ত মেধাবী অফিসার সোর্ড অব অনারপ্রাপ্ত সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমান আযমীকে ঐ ৩ ফুট বাই ৩ ফুটের আয়নাঘরে ৮ বছর থাকতে হয়েছিলো। থাকতে হয়েছিলো ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেমকে। আরো থাকতে হয়েছিলো সাবেক লে. কর্নেল হাসিনুর রহমানকে।
কিন্তু সালাহউদ্দিন আহমেদকে উত্তরার একটি বাড়ি থেকে গুম করেছিলো কে বা কারা? কোন সংস্থা? এ বিষয়টি আজও পরিষ্কার করা হয়নি। বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে শত শত নেতা এবং মাহমুদুর রহমান মান্না থেকে শুরু করে বিরোধীদলের আরো অনেক নেতাকে রাতের আঁধারে গুম করা হয়। তাদের গ্রেফতার বা গুম করে পুলিশ, ডিবি, র‌্যাব প্রভৃতি বাহিনী। গ্রেফতার বা গুম হওয়ার পর তারা বাংলাদেশের জেলখানা বা আয়নাঘরেই ছিলেন। কিন্তু সালাহউদ্দিনকে গুম করলো কারা? করলো তো করলো তাকে ইন্ডিয়ায় নেওয়া হলো কেন? কারা নিয়ে গেল?
তার বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা হয়। সেই মামলার নিষ্পত্তি হতে কি ৯ বছর লাগে? যাই হোক, এগুলো আমাদের প্রশ্ন নয়। সামাজিকমাধ্যমে এ ধরনের অসংখ্য প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। সালাহউদ্দিন আহমেদ কি জুলাই বিপ্লবকে বুকে ধারণ করেন? ধারণ করলে বলতে পারতেন না যে, এ সরকারের ম্যান্ডেট শুধুমাত্র নির্বাচন করা। সালাহউদ্দিন আহমেদের কথার অর্থ তো এই দাঁড়ায় যে, ১৪শত ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত দিয়েছেন এবং ২৬ হাজার মানুষ বুলেটবিদ্ধ হয়েছেন হাসিনাকে তাড়িয়ে আর কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতাকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য। এ ধারণা ভুল, সবই ভুল।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ইলেকশন ছাড়া বিএনপি আর কিছু বোঝে না। বুঝবেন কীভাবে? আন্দোলনের পিক টাইমে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ছাত্রদের এ আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট নই। তবে আমাদের নৈতিক সমর্থন রয়েছে।
৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তারেক রহমানকে বিকেলবেলা ফোন করেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই শীর্ষনেতা। তারা তাকে বলেছিলেন, আপনি ঢাকায় আসুন এবং একটি জাতীয় সরকার গঠনে শরিক হোন। এ কথা শুধুমাত্র নাহিদ ইসলাম যে দিন ১৫ আগে বলেছেন তাই নয়, ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত বইয়ে সেই কথা উল্লেখ করেছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষনেতা এবং বর্তমানে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। কথাটি বলেছেন তিনি তাঁর রচিত পুস্তক ‘জুলাই-মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু’তে।
এজন্য কিনা জানি না, হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার একদিন পর অর্থাৎ ৭ আগস্ট বিএনপি নয়াপল্টন অফিসের সামনে জনসভা করে এবং নির্বাচন দাবি করে। সেই থেকে বিএনপির সামনে আর কোনো এজেন্ডা নেই। এক বছরে তাদের কলের গানে সেই একই রেকর্ড বেজে চলেছে, ‘ইলেকশন চাই ইলেকশন চাই’।
বিএনপির চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছেন ড. ইউনূস। আগামী বছরের জুন থেকে ইলেকশন এগিয়ে এনেছেন ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে। ৫ আগস্ট তিনি যে ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন, দুর্মুখরা বলেন, ঐ ঘোষণাপত্রটি বিএনপির কোনো পণ্ডিত ব্যক্তি লিখে দিয়েছেন। তাই সেখানে বিএনপির ৭ নভেম্বর থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সংসদীয় পদ্ধতিতে রূপান্তর সবগুলো পয়েন্টই স্থান পেয়েছে, যদিও পরোক্ষভাবে। এসব বিষয় পরোক্ষভাবে উল্লেখ করে জুলাই বিপ্লবের গভীরতা এবং গুরুত্বকে খাটো করা হয়েছে।
এখন জুলাই সনদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে রয়েছে ৮৪টি খসড়া সুপারিশ। পাঠানো হয়েছে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে বলা হয়েছে যে, ২০ আগস্টের মধ্যে মতামত দিতে হবে।
কিন্তু অন্তত ২টি বিষয় এ জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বলা হয়েছে, কী কী সংস্কার হবে। সংলাপে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দল এতে সই করে সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করবে। অঙ্গীকারনামার শুরুতে বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গ্রহণ করা হয়। একাত্তরের ২৬ মার্চ থেকে ঐ সময় পর্যন্ত সংবিধান না থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মধ্যবর্তী সময়ের সব কাজকে আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়।
একইভাবে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন শেষে প্রধান বিচারপতির পদে ফিরে যাওয়া আইনে না হলেও রাজনৈতিক অঙ্গীকারে বৈধতা দেওয়া হয়। এ ধরনের বৈধতা জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে সাংবিধানিক কনভেনশন এবং গণতন্ত্রকে সংহত করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কারের জনআকাক্সক্ষাকে একইভাবে বৈধতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সনদের খসড়ায়।
৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে অনেকগুলোয় রাজনৈতিক দল সমূহের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অনেকগুলোয় হয়নি। এখন দেখা যাচ্ছে যে, ঐকমত্যে পৌঁছানো বা না পৌঁছানো বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হলো, এ সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে? এ বিষয়টি সুদীর্ঘ সনদের খসড়ায় পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন। সেটিও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
এর আগে ড. ইউনূস কথা দিয়েছিলেন যে, জুলাই সনদের ভিত্তিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কয়েক পৃষ্ঠা লিখে দিলেই কি সেটি সনদ হয়ে গেল? সনদের তো অবশ্যই আইনি ভিত্তি থাকতে হবে এবং সাংবিধানিক স্বীকৃতি থাকতে হবে। বলা হয়েছে, জনগণের অভিপ্রায়ই হলো দেশের সর্বোচ্চ আইন। জনগণের অভিপ্রায় মোতাবেক এ সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। তাই এ সরকার নির্বাচিত না হলেও নির্বাচিত সরকারের চেয়েও বেশি আইনি সরকার।
জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে গণভোট। না হলে আইনগত কাঠামো বা খবমধষ ভৎধসবড়িৎশ ড়ৎফবৎ (খঋঙ), না হলে একটি প্রেসিডেনশিয়াল প্রোক্লামেশনের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ৩টিই হলো আইনি পন্থা। তবে সময় সংক্ষেপ করা এবং খরচ কমানোর জন্য প্রেসিডেনশিয়াল প্রোক্লামেশনই জুলাই সনদকে বাস্তবায়িত করার সবচেয়ে সহজ এবং সরল পন্থা।
কিন্তু বিএনপি এসবের একটিতেও রাজি নয়। তাদের কথা হলো, নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্ট ঠিক করবে, কীভাবে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হবে? এর আগে বিএনপির আবদার মেনে ড. ইউনূস জুলাই ঘোষণাপত্রকে আগামী পার্লামেন্টের জন্য রেখে দিয়েছেন। বলা হয়েছে যে, আগামী পার্লামেন্ট ২ বছরের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্রের আইনগত কাঠামো দেবে। সম্ভবত একই পদ্ধতি তারা অনুসরণ করতে চাচ্ছে জুলাই সনদের বেলায়ও। তাহলে ইলেকশন হবে কীসের ভিত্তিতে? বর্তমান সংবিধান মোতাবেক যদি ইলেকশন হয় এবং ইলেকশনের আগে যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়িত না হয়, যদি সাংবিধানিক স্বীকৃতি না পায়, তাহলে এত এত সংস্কার কমিশন করেই-বা কী লাভ হলো?
এ প্রশ্নে জামায়াত অনড়। চরমোনাই পীরসাহেবের ইসলামী আন্দোলন এবং এনসিপিও একমত (যদিও তারা নতুন সংবিধান চায় এবং এজন্য গণপরিষদের নির্বাচন আগে দাবি করে)। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে অংশ নেয়া পরিবারগুলোও চায়, কারণ এর সাথে তাদের জীবন-মরণ প্রশ্ন জড়িত। এর আগে শেখ হাসিনার বাবা মুজিবের ফ্যাসিজম থেকে যারা জাতিকে মুক্তি দিয়েছিল, তাদের পরিণতি এবং তাদের সাথে বিএনপির আচরণের ইতিহাস পর্যালোচনা করে তারা প্রতি মুহূর্তে দুঃস্বপ্ন দেখে। তারাও বার বার ড. ইউনূসের কাছে এ বিষয়ে আইনগত সমাধান চায়। ফ্যাসিবাদের কোনো দোসর এসে তাদের সোনালি স্বদেশ গড়ার স্বপ্ন নষ্ট করুক, তা তারা চায় না। যেকোনো মূল্যে জুলাইয়ের চেতনা রক্ষায় তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এবারও কি ড. ইউনূস বিএনপির দাবির কাছে নতি স্বীকার করবেন?
জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বাইপাস সার্জারির পর চিকিৎসকদের পরামর্শ মোতাবেক বিশ্রাম নিচ্ছেন। গত ১৭ আগস্ট রোববার এক আলোচনা সভায় জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমীর ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন যে, পিআর আদায় করেই ছাড়বো। জামায়াতের জেনারেল সেক্রেটারি ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন যে, নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে এবং একমাত্র তার পরেই নির্বাচন হতে পারে।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন তথা সাংবিধানিক স্বীকৃতির প্রশ্নে দেশের ২টি বৃহৎ রাজনৈতিক শিবির মুখোমুখি অবস্থানে এসেছেন। একদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন অন্যান্য দল ও জোট এবং অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন এনসিপিসহ অন্যান্য ইসলামী রাজনৈতিক দল। এবার ড. ইউনূস কোন দিকে যাবেন?
প্রধান উপদেষ্টা আসলে প্রধানমন্ত্রীর পদ। এটি একটি রাজনৈতিক পদ। এ পদে থেকে অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অবয়ব ধারণ করা সম্ভব নয়। তিনি দলনিরপেক্ষ হতে পারেন। কিন্তু তার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে নিরপেক্ষতা অবলম্বন করা সম্ভব নয়। সকলকে খুশি করে আর যাই হোক, দেশ চালানো যায় না।
এ অরাজনৈতিকতা এবং তথা কথিত নিরপেক্ষতা দেশকে একটি লক্ষ্যহীনতা এবং অরাজকতার দিকে অনেকখানি ঠেলে দিয়েছে। জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জুলাই সনদের যদি সঠিক এবং আইনসম্মত সমাধান না হয় এবং যদি শুধুমাত্র বিএনপির দিকেই এ সরকার ঝুঁকে থাকে তাহলে আশঙ্কা হচ্ছে, দেশ পয়েন্ট অব নো রিটার্নের দিকে ধাবিত হবে।