নিষিদ্ধ আ’লীগ দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত
২২ মে ২০২৫ ১৭:০৩
॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নভেম্বরে নিষিদ্ধ করা হয় ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’খ্যাত বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে। এরপর রাজপথে আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গত ১২ মে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। দল নিষিদ্ধ হলেও বসে নেই নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এদের একটি অংশ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অপর অংশটি ষড়যন্ত্র করছে। দুর্নীতি-লুটপাট, অর্থ পাচার, গণহত্যা, খুন-গুমসহ সব মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত আওয়ামী লীগের পলাতক সভাপতি শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের পলাতক অন্য নেতারা কিন্তু চুপ হয়ে গেছে- এমনটা ভাবার কোনো কারণ বা যুক্তি নেই বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, দুই ধরনের ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ। একটি হচ্ছে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব শক্তির মধ্যে বিভেদ তৈরি করা; অন্যটি হচ্ছে গোপনে নিজেদের শক্তিশালী করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করা।
নাটোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অডিও কথোপকথন সম্প্রতি ফাঁস হয়। ওই কথোপকথনে শোনা যায়, শেখ হাসিনা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সকলকে সংগঠিত হওয়ার নির্দেশ দেন। জেলা-উপজেলাগুলোর সামর্থ্যরে আলোকে কর্মসূচি পালনের নির্দেশও দেন তিনি। বিএনপি-জামায়াত যাতে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে, সেই নির্দেশনাও ছিল ফাঁস হওয়া ওই অডিও রেকর্ডে।
রাজধানীতে আত্মগোপনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা
রাজধানীর ডেমরার একটি বাসায় নোয়াখালী থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে আছে একটি পরিবার। যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের গ্রামের বাড়ি জ¦ালিয়ে দিয়েছে। ফলে তারা সেখানে আত্মগোপনে আছে। গত ৫ আগস্টের পর রাজধানীর মাতুয়াইলের একটি বাসায় ভাড়ায় ওঠে একটি পরিবার। ওই পরিবারের লোকেরা খুবই জরুরি কোনো প্রয়োজন ছাড়া ঘরের দরজা খোলে না বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। প্রতিবেশীদের ধারণা, তারা নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। হয়তো এজন্যই তারা নীরবে-নিভৃতে থাকে। রাজধানীর মিরপুরে থাকে ভোলার লালমোহনের একাধিক পরিবার, যারা গত সরকারের সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। খিলগাঁওয়ে থাকেন মহিলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেত্রী, যারা আওয়ামী লীগের সাবেক এক সংসদ সদস্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেন বলে জানা গেছে। এছাড়া রাজধানীর মতিঝিলে হকারি ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় এখন আর এলাকায় থাকছেন না। ঢাকায় ছোট-খাটো ব্যবসা করে চলছেন। অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। অনেক নেতা আগেই ঢাকায় বাড়ি করেছেন। তারা সেই সম্পদের ওপর ভর করে ভালোই রয়েছেন।
দেশ ছেড়েছেন কমসংখ্যক নেতাকর্মী
বিপ্লবের পর হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান আর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা গা-ঢাকা দেন। এরপর সুযোগ বুঝে বেশিরভাগই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এদের মধ্যে কেউ ভারতে, কেউ বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, আমেরিকা, দুবাই, তুরস্কে, আবার কেউ মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যান। তবে সবচেয়ে বেশি গেছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। এদের বেশিরভাগই বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় অবস্থান করছেন। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ কলকাতায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। যারা পালিয়েছেন, তারা নিষিদ্ধ এ দলটির নেতাকর্মীর তুলনায় সংখ্যায় খুবই কম।
অনলাইনে গোপন মিটিং এবং হচ্ছে ঝটিকা মিছিল
ঢাকায় আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঝেমধ্যে ঝটিকা মিছিল বের করছেন ও গোপন মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ সরাসরি, আবার কেউ অনলাইনে মিটিংয়ে যোগ দিচ্ছেন। অনেকেই ধারণা করছেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বেশিরভাগ দেশ ছেড়েছেন। বাস্তবে তা কিন্তু নয়। অনেকে ফেসবুকে দেশ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে অবস্থান করছেন ঢাকায়। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা শাহে আলম মুরাদ হঠাৎ গত ৬ এপ্রিল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ঝটিকা মিছিল বের করেন। ওই ঝটিকা মিছিলের পর ১৭ এপ্রিল ডিবি পুলিশ তাকে উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে। আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে জানা যায়, যারা ভারতে পালাতে পারেননি, তারা ঢাকাতেই অবস্থান করছেন। জেলা পর্যায়ের চেয়ে ঢাকা শহর অনেক বেশি নিরাপদ মনে করছেন তারা। ঢাকায় জনসংখ্যা বেশি, কারো খবর কেউ নেয় না। সারা দিন বাসায় থাকলেও কেউ খোঁজ করবে না। মোবাইল ফোনের পুরনো সিম কার্ড পাল্টে নতুন সিম কার্ড নিয়ে তারা ঢাকাতেই অবস্থান করছেন।
জানা গেছে, ‘সাবেক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. মোতাহার হোসেন ৫ আগস্টের পর থেকেই ঢাকায় রয়েছেন। তার বড় ছেলে হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লালমনিরহাট-১ আসনের অঘোষিত বরপুত্র মাহমুদুল হাসান সোহাগও ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। অথচ এলাকার মানুষ জানে, তিনি ভারতে রয়েছেন। সম্প্রতি ঢাকায় তিনি একটি গাড়িও বিক্রি করেছেন।’ ‘মাহমুদুল হাসান সোহাগ হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম (লালমনিরহাট-১) এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য চালাতেন। তার কথায় সবকিছু হতো। সবকিছু একাই নিয়ন্ত্রণ করতেন। এমনকি তার কারণে আওয়ামী লীগে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দেয়। অসংখ্য মানুষকে তিনি মামলা দিয়ে হয়রানি এবং হামলা করে নির্যাতন চালাতেন।’ লালমনিরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান গণঅভ্যুত্থানের পাঁচ মাস পর রংপুর মহানগরের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার হন। তবে তার পুত্র রাকিব হাসান লালমনিরহাট আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। রাকিব কালীগঞ্জ-আদিতমারী (লালমনিরহাট-২) উপজেলায় অঘোষিত সভাপতি ছিলেন। তার কথায় সরকারি-বেসরকারি সব অফিসের টেন্ডার-চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ হতো। একইভাবে সারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই রাজধানী ঢাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এরা নিজস্ব পরিসরে বসে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
জামিনে বেরিয়ে সংঘবদ্ধ হচ্ছে আ’লীগ
৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যার ঘটনায় থানায় হওয়া মামলায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থাকা আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সংঘবদ্ধ হচ্ছেন বলে একাধিক প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে। গত জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী-কাজলা এলাকায় শহীদ হওয়া পরিবারের মামলায় জামিনে বের হয়ে আসা এক আসামির ভাষ্য, ‘জেলখেটে এসেছি, এখন আর জেলের ভয় নেই, এখন সক্রিয়ভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে অংশ নেব’। গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও গাজীপুর কাঁচামাল আড়তদার মালিক গ্রুপের সভাপতি আব্দুস সোবহানকে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাকে বাসন থানায় দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যা মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সে ওই মামলায় জামিনে বেরিয়ে এসে রাজনৈতিকভাবে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা করছে। গাজীপুর মহানগরীর ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল্লাহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দায়ের করা হত্যা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন। শহীদুল্লাহর বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল করে জাল দলিলের মাধ্যমে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
পালিয়ে থাকা নেতাকর্মীরা ছড়াচ্ছে গুজব
গত দুই সপ্তাহ ধরে সরকার ও একটি বিশেষ বাহিনী নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় নানা গুজব ছড়ানো হয়েছে। এর আগেও এমন গুজব ছড়ানো হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। দুই-চার বছর আগের ভিডিও পোস্ট করে এখনকার বলে চালিয়েছে অনেক গুজবকারী। লক্ষ করলে দেখা যায়, রাত হলেই বাড়ে গুজবের সংখ্যা। অনেক আওয়ামী লীগের মতাদর্শে বিশ্বাসী সাংবাদিকও তার ফেসবকু পোস্টে গুজব ছড়াচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের পলাতকরা গুজবেই মগ্ন। গুজব ছড়ানোর সবচেয়ে বড় মাধ্যম এখন ফেসবুক। কোনো নিউজ চ্যানেল বা সাইটের ফটোকার্ড নকল করেও প্রচুরসংখ্যক গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি যাচাই করে দেখা যায়, সম্প্রতি ছড়ানো প্রায় সবই রাজনৈতিক ইস্যুভিত্তিক গুজব বা অপতথ্য। পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন বাহিনীসহ স্পর্শকাতর বিষয় নিয়েও এসব গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনেক অপতথ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা দিতে জনপ্রিয় গণমাধ্যমের নামে ‘ফটোকার্ড’ বানানো হচ্ছে। গত ২৩ মার্চ রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, ‘সোমবার সকাল থেকে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হচ্ছে।’ এরপর যে যেভাবে খুশি নিজেদের মতো বিশ্লেষণ করে ছড়িয়ে দেয় ফেসবুকে। এটি যে অপতথ্য বা অপপ্রচার বা গুজব, তা বুঝতে বেশি সময় লাগেনি। যদিও বিষয়টি নিয়ে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। গত ২৮ মার্চ ছড়িয়ে পড়ে, কুমিল্লা জেলার হাসানপুরে ট্রেন দুর্ঘটনার তথ্য। কুমিল্লার হাসানপুর রেলওয়ে স্টেশনে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা সংক্রান্ত একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখা যায়। পরে পুলিশ জানায়, প্রকৃতপক্ষে এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। ফেসবুক পোস্টে ব্যবহৃত ভিডিওটি গত বছরের ১৭ মার্চ কুমিল্লার হাসানপুরে ঘটে যাওয়া বিজয় এক্সপ্রেস টেন দুর্ঘটনার। এর আগে গত ২২ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়, গত দুদিনে ৩৩ জন বিজিবি সদস্য নাফ নদীতে মিশনে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন। যেটি পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর নিশ্চিত করে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এ তথ্যটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এমন অসংখ্য গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়ায় প্রতিদিন। আওয়ামী লীগ কর্মী এবং সাধারণ মানুষের একটি অংশ এগুলো সত্য ভেবে দিচ্ছেন শেয়ার, করছেন মন্তব্য। বেশকিছু গুজবের পোস্ট ভাইরাল হতেও দেখা যায়। এসব গুজব যারা ছড়ায়, তারা বেশিরভাগ জেনে-বুঝেই ছড়ায়। আবার কিছুসংখ্যক মানুষ শেয়ার করেন না জেনেই। ২০ মে এ রিপোর্ট লেখার দুইদিন আগে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না তার ফেসবুকে পোস্ট করেন, ‘কিছু একটা ঘটছে নিশ্চিত’। তার ওই পোস্টে ৭২ কমেন্ট পড়েছে এবং শেয়ার করেছেন ১৩ জন। কিন্তু কিছুই ঘটেনি। গত ২৩ মার্চ মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ আটক হয়েছেন। এছাড়া ছড়িয়ে দেওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শত শত সদস্য দলবেঁধে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। যেটি দিয়ে কেউ কেউ ছড়িয়ে দেন যে, ঢাকার রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নেমে পড়েছেন। ফ্যাক্ট চেকাররা নিশ্চিত করেছেন, ওই ভিডিওটি গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাজশাহীতে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অনুষ্ঠানের। এছাড়া কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় ‘প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন, জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠিত হচ্ছে বলেও অপপ্রচার চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। নিজেদের কর্মীদের চাঙা রাখতে এবং জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা হিসেবে নানা ধরনের অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ওই রাজনৈতিক গ্রুপটি দেশে অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়Ñ এমন গুজবও ছড়াচ্ছে, যা ভয়ংকর। গুজব ছড়ানো অন্য একটি গ্রুপ রয়েছে, যারা টাকা কামানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের উসকানিমূলক তথ্য বা ভিডিও ছড়াচ্ছে। এরা মূলত ভিউ ব্যবসায়ী। এ দুই গ্রুপের ছড়ানো গুজব তৃতীয় পক্ষ না বুঝেই ছড়িয়ে দিচ্ছে বা শেয়ার করছে।
গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবের ‘মহোৎসবের’ জন্য জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ‘পলাতক অপশক্তিকে’ দায়ী করে সামগ্রিক ঐক্য দিয়ে সব ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান।