শরীফ ওসমান বিন হাদি : বিদায় নয়, অমরত্ব

প্রিন্ট ভার্সন
২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:২০
সোনার বাংলা রিপোর্ট : আপস নয়, সংগ্রামই ছিল শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির জীবনের লক্ষ্য। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মিছিল থেকে রক্তাক্ত দেহ আর মুষ্টিবদ্ধ হাতে শাহাদাতের মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে তার সাক্ষাৎ লাভের প্রত্যাশা ছিলো ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির স্বপ্ন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এ মৃত্যুর মানে বিদায় নয়, তিনি এদেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন চিরদিন। শাহাদাতের মৃত্যু তাঁকে দিয়েছে অমরত্ব।
গত ১২ ডিসেম্বর পবিত্র শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে তিনি রিকশাযোগে গণসংযোগের কাজে বের হয়েছিলেন। রাজধানী ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন এবং গত ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ৯:৩০টায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহাদাতবরণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসি টিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘাতক শনাক্ত হয়। ডিবি পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গুলি চালানো যুবক কার্যক্রম নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন পতিত আওয়ামী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী। তার নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ খান। তিনি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা এবং রাজধানীর আদাবর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ফয়সাল ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আদাবরে একটি ডাকাতির ঘটনায় র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করে এবং তার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ওই মামলায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। এক কর্মকর্তা বলেন, শুটার হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত এবং তাকে গ্রেফতারের খুব কাছাকাছি রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী- যদিও বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ফয়সাল দেশে নেই। ডিবির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন শিকদার জানান, জড়িতদের ধরতে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং দ্রুতই অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।
পতিত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আওয়ামী লীগের টার্গেট কিলিং
এটি যে একটি টার্গেট কিলিংয়ের অংশ এবং এর নেপথ্যে পতিত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তাদের আশ্রয়দাতা দেশের গোয়েন্দারা জড়িত- এমন আশঙ্কা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। আশঙ্কার কারণ শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত রোববার (২১ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সিআইডি। সিআইডি বলছে, প্রাথমিকভাবে পাওয়া এ তথ্যের ভিত্তিতে ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার-সংক্রান্ত পৃথক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে তারা।
সিআইডি জানিয়েছে, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে এসব অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে। এ লেনদেন মানিলন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে- এমন সন্দেহ থেকে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিআইডির প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফয়সাল করিম ও তাঁর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার জন্য দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব অর্থের মূল সরবরাহকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করতেও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই ঘটনাটির নানা দিক নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডি। ঘটনার পর দ্রুত ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, ঘটনাস্থল থেকে ঘাতকের ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার এবং পরবর্তী সময়ে পাওয়া বিভিন্ন আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় গ্রেপ্তার অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বইয়ের তথ্যও গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করে সিআইডি। এতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের একাধিক চেক বইয়ে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ উল্লেখ রয়েছে।
ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ নামে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এর আগে বলেছিলেন, ফয়সাল করিম সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে গেছেন বলে তারা ধারণা করছেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফয়সাল করিম দেশে আছেন নাকি বিদেশে চলে গেছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। ইতোমধ্যে ফয়সাল করিমের মা-বাবা, স্ত্রী, শ্যালকসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তার সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারলেন না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
‘সখ্য’ থেকে ‘শুটার’ : সাত দিনের ভয়ংকর পরিকল্পনা
গোয়েন্দা তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। হত্যার আগে মাত্র সাত দিনের মধ্যে ওসমান হাদির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে ফয়সাল। নির্বাচনী প্রচার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত যাতায়াত; এমনকি হাদির টিমের অংশ হয়ে ওঠে সে। তদন্ত অনুযায়ী, ৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে প্রথম বৈঠকে ফয়সালকে দেখা যায়। নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে ৯ ডিসেম্বর আবারো আলোচনা করা হয়। ১২ ডিসেম্বর সেগুনবাগিচায় সরাসরি নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করে ফয়সাল। একই দিন দুপুরে হাদিকে বক্স কালভার্টে গুলি করে ফয়সাল। একই ধারাবাহিকতায়ই প্রশ্ন আসে, এতদিন অনুসরণ, রেকি ও পরিকল্পনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কোথায় ছিল?
শাহীন চেয়ারম্যান কী মাস্টারমাইন্ড
জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যানের নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের মূল জোগানদাতা ছিলেন শাহীন নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসেবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। যাদের কয়েকজন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল একটি সূত্র।
সূত্র জানায়, শাহীন চেয়ারম্যান ছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী হাদির ওপর হামলার পর ঘাতকদের ঢাকা থেকে সীমান্ত পর্যন্ত পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এই হামিদ। জুলাই বিপ্লবে শরীফ ওসমান হাদির ভূমিকা এবং গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ চরম ক্ষুব্ধ ছিল। দলটি হাদিকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের জন্য বড় বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর হিটলিস্টের প্রথম টার্গেট হিসেবে হাদিকে হত্যার ছক কষা হয়।
শাহীন আহমেদের পরিচয় শুধু একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি নয়। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘মাফিয়া ডন’ হিসেবেও পরিচিত। দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং একাধিক সন্ত্রাসী মামলার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকের মতো শাহীন চেয়ারম্যানও সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যেতে সক্ষম হন। সেখানে পলাতক অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকলেও গত ৩-৪ মাস থেকে খোলস ছেড়ে পুরোনো চেহারায় আবির্ভূত হন। সম্প্রতি তিনি দেশের মধ্যে আওয়ামী লীগের হিটলিস্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন অ্যাপসে মুঠোফোনে দেশে থাকা স্লিপার সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদেবার্তার (এসএমএস) সূত্রে হাদি হত্যায় শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে ও পরে কিলারদের সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের একাধিকবার যোগাযোগ করার প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া ভারতে পলাতক থাকা আরও কয়েকটি গ্রুপ অ্যাপস ব্যবহার করে ঢাকায় জড়ো স্লিপার সেলের সদস্যদের কাজ সমন্বয় করছে। যাদের অনেকে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে চলে এসেছে।
সূত্র বলছে, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এজন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার টিমসহ যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া পলাতক শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জ জেলার দুজন ছাত্রলীগ নেতাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত করছি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করি, খুব শিগগির এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ডসহ পরিকল্পনাকারীদের সবার নামই জানা সম্ভব হবে। তবে এখানেও প্রশ্ন- যদি এত গুরুতর অভিযোগ ও তথ্য থাকে, তাহলে এখনো কেন ওই পরিকল্পনাকারীরা গ্রেপ্তার বা প্রত্যর্পণের আওতায় আসেননি?
জাতীয় কবির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শহীদ ওসমান হাদি
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শরীফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মী এবং পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো শোকাহত মানুষ জানাজায় শরিক হন। দুপুর আড়াইটায় জানাজা শেষ হওয়ার পর তার লাশবহনকারী কফিন দাফনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে নেওয়া হয়। গত ২০ ডিসেম্বর শনিবার সকাল থেকেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মানুষের ঢল নামে। সকাল ১০টার দিকে মানিক মিয়া এভিনিউতে অপেক্ষমাণ ছাত্র-জনতাকে দক্ষিণ প্লাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। চীন থেকে আনা আটটি আর্চওয়ে গেট দিয়ে সারিবদ্ধভাবে হাজারো মানুষ প্লাজায় প্রবেশ করেন। দুপুর ২টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ মিছিল নিয়ে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে জড়ো হন। এর আগে দুপুর সোয়া ১১টায় রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শরীফ ওসমান হাদির লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে লাশ মর্গে নেওয়া হয়। এ সময় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। লাশ বহনকারী কফিনের সঙ্গে ছিলেন হাদির স্বজন, সহযোদ্ধা ও সহকর্মীরা। শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোয় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছিল।

অমরত্ব শরীফ ওসমান বিন হাদি : বিদায় নয়

সম্পর্কিত খবর