ঊর্ধ্বমুখী মাছ-মাংসের দাম, পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশের বেশি
৮ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:১০
দীর্ঘদিন ঊর্ধ্বগতি থাকার পর কিছুটা নাগালে এসেছে সবজির দাম। শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় মানভেদে তা ৪০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে মিলছে। তবে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের বাজার।
দীর্ঘদিন ঊর্ধ্বগতি থাকার পর কিছুটা নাগালে এসেছে সবজির দাম। শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় মানভেদে তা ৪০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে মিলছে। তবে লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের বাজার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৬০ শতাংশের বেশি বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে। পেঁয়াজের পাশাপাশি মাছের দামও ঊর্ধ্বমুখী। কারওয়ান বাজার ঘুরে গতকাল এ তথ্য মিলেছে। যদিও রাজধানীর বেশির ভাগ বাজারের সঙ্গে কারওয়ান বাজারের দামের ভিন্নতা রয়েছে। অন্যান্য বাজারে আরো বেশি দামে পণ্য বিক্রি হয়।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী রাজধানীতে গত শনিবার পেঁয়াজের কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন দাম ছিল ৭০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৮০ টাকা। কারওয়ান বাজারে গতকাল তা ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়। পাইকারি বাজারে পাল্লা (পাঁচ কেজি) বিক্রি হয়েছে ৫৪০ থেকে ৫৬০ টাকায়। অর্থাৎ পাইকারি বাজারেই পণ্যটি কিনতে হয়েছে ১১২ টাকা কেজিতে। এক সপ্তাহ আগে আমদানি করা আদা (বড়) ১৩০ থেকে ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও গতকাল ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা। দেশী রসুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে আমদানি করা বড় জাতের রসুনের দাম কিছুটা বেড়েছে। আগের সপ্তাহে সর্বনিম্ন ১৩০ টাকা কেজি হলেও এখন তা ১৬০ টাকা। তবে দেশী জাতের রসুনের কোয়া ৬০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে।
বেড়েছে মাছ-মাংসের দামও। সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের আকার ও প্রকারভেদে কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। ছোট পাঙাশ গতকাল বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা কেজি দরে। তবে বড় পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। নদীর পাঙাশ (বড়) বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত। চাষের কই মাছ কিনতে হয়েছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়। বড় জাতের রুই-কাতলার দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। গত শনিবার রাজধানীতে সর্বনিম্ন ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে রুই মাছ। তবে গতকাল ২৮০ থেকে আকারভেদে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যায়। পাবদা মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪২০ টাকা।
এছাড়া ছোট আকারের ইলিশ বিক্রি হয় ৮০০ টাকা কেজি। তিন-চারটিতে কেজি এমন ইলিশের দাম ছিল ১ হাজার টাকা। আর ছয়শ থেকে সাতশ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। বড় ইলিশ আড়াই হাজার টাকায়ও বিক্রি হয়েছে।
লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজনপ্রতি ১৩০ টাকায় এবং সাদা ডিম ১২০ টাকা। সোনালি মুরগি ২৬০ থেকে ৩০০, ব্রয়লার মুরগি ১৭৫ থেকে ১৮০, দেশী মুরগি ৫৫০ থেকে ৬২০ টাকা কেজি ছিল গতকাল। এছাড়া লেয়ার কিংবা কক মুরগি ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়। গরুর মাংস গত সপ্তাহের মতো ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরেই কিনতে হয়েছে। ছাগলের মাংস কেজিপ্রতি ১ হাজার ১০০ এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।