দিল্লির সেবাদাসদের সমন্বিত অব্যাহত নির্লজ্জ মিথ্যাচার এক সূত্রে গাঁথা
২৩ আগস্ট ২০২৫ ২২:২৩
আধিপত্যবাদী ভারত ও তাদের দেশ-বিদেশের সেবাদাসদের আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ক্রমাগত নির্লজ্জ মিথ্যাচার অব্যাহতভাবে চলছেই। তাদের এসব নির্লজ্জ মিথ্যা প্রচারণা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবর্তে নীতি বিবর্জিত ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ঠান্ডা মাথায় হলুদ সাংবাদিকতা ও তাদের বিকৃত মানসিকতার প্রতিফলন। বাংলাদেশী এসব তথাকথিত সাংবাদিক যে ভারতের এবং বিগত ফ্যাসিবাদের দোসর তা দেশবাসী ভাল করেই জানে। জেন-যি’কে আর বোকা বানানো যাবেনা। আপনাদের প্রভূদের দেশবাসী ঝাটাপেটা করে বিদায় করেছে তা ভুলে যাবেন না।
এবারে, ভারতের পাকিস্তানি এজেন্ট তাবাসসুম মোয়াজ্জেম খান সম্পর্কে। দি ক্যাচলাইনে তার প্রতিবেদনটি কতটা পাগলের প্রলাপ তা প্রকাশের কোন ভাষা নেই। আমি এদেশে জন্মগ্রহণ করে এদেশে বড় হয়েছি। এদেশে লেখাপড়া করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করি। ১৯৮১ সাল রেকর্ড ফলাফল অর্জন করে কমিশন লাভ করি, যা আজ পর্যন্ত কেউ ভঙ্গ করতে পারেনি। প্রায় ত্রিশ বছর একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক হিসেবে পেশাদারিত্বের উৎকৃষ্ট নমুনা দেখিয়ে সকলের সামনে আদর্শ স্থাপন করতে পেরেছি। দেশসেবায় নিজেকে উজাড় করে দিয়ে সকল অফিসারের নিকট অকুন্ঠ শ্রদ্ধা অর্জন করেছি। সেই সাথে উন্নত নৈতিক গুণাবলীরও দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এসেছি। সেনাবাহিনীতে আমার অবস্থান সর্বজনবিদিত, যা এসব অন্ধ ও কালা ছাড়া কারো অজানা থাকার কথা নয়। আমি সকলকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, আমার জীবনে কখনো আমার কোন কথা, কাজ বা আচরণে অণু পরিমাণ “পাকপ্রেমি”র কোন নজির কেউ দেখাতে পারবেনা। এদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমতব ও অখণ্ডতা রক্ষায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতে আমি সামান্যতম কুন্ঠিত ছিলাম না। বিগত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের কোন ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠী বা গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিগত ৪৫ বছরে সেনাবাহিনীর কোন সেনাপ্রধান, কোন জেনারেল, কোন অফিসার বা সদস্য আমার মাঝে সামান্যতম “পাকপ্রেম” দেখতে পেলনা! আর ৫৪ বছর পরে পাকিস্তানী এই নারী এবং তারই মত এদেশে র’ এর মাষ্টার রোলের একশ্রেনীর সাংবাদিক নামধারী কুলাঙ্গার হঠাত করে র’ এর “খোয়াবনামা” থেকে এই তত্ত্ব আবিষ্কার করে আমার মত এক দেশপ্রেমিকের বিরুদ্ধে এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমি এসব মিথ্যাবাদীদের কাছে জানতে চাই, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এই তত্ত্ব তারা কোথায় পেল? প্রতিবেদনে এবং ইউটিউবে “বয়ান” দিলেই কি “মিথ্যা”কে সত্যতে পরিণত করা যায়? কেবলমাত্র গলাবাজি ছাড়া আমার ব্যাপারে তাদের অভিযোগসমূহ সম্পর্কে সামান্যতম একটা উদাহরণও তো এই বেহায়ারা দিতে পারেনি! ফ্যাসিবাদের দোসররা তো “গোয়েবলসের থিওরি” দিয়ে আজীবন মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করার চেষ্টা করেই আসছিল। এর সাথে এখন যুক্ত হয়েছে পাকিস্তানী নারী! “সব শিয়ালের এক রা” বলা ছাড়া ওদের এই নির্লজ্জ মিথ্যাচার সম্পর্কে আর কিছু বলার নেই।
আমি দৃঢ় কন্ঠে বলতে চাই – তাবাসসুম মোয়াজ্জেম খান, মনজুরুল আলম পান্না, সাজ্জাদ কাদির, নবনীতা চৌধুরী, আতিক রহমান, তৌফিক মারুফসহ আরো যারা আমার বিরুদ্ধে এ যাবত যা যা বলছে সেসব মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা বিদেশী প্রভূদের অর্থে লালিত পালিত এবং কেবল মাত্র প্রভূদের খুশী করার লক্ষ্যেই আমার মত একজন দেশপ্রেমিকের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর তারা এসব তত্ত্ব নতুন আবিষ্কার করছে। ওদের নির্লজ্জ মিথ্যাচার সম্পর্কে কথা বলতেও লজ্জা হয়। রক্তে-মাংসে গড়া মানুষ বিদেশী প্রভূর অর্থ খেয়ে বিবেক বিসর্জন দিয়ে দেশের বিরুদ্ধে কত ন্যাক্কারজনক কাজ করতে পারে, এই এজেন্টদের না দেখলে তা কল্পনা করাও সম্ভব নয়। সংবাদ হবে প্রকৃত ঘটনা; “উর্বর মস্তিষ্কের কারখানায়” প্রস্তুত করা নয়। আমাকে নিয়ে তাদের নির্লজ্জ মিথ্যাচারসমূহ যে র’ এর কারখানায় “প্রস্তুত করা”, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। এসব পাপিষ্ঠ আমার সাথে তাদের কথিত “রেভ্যুলশনারী আর্মি”, “সুইসাইড স্কোয়াড”, “আইএসআই”, “আনসার আল ইসলাম”, “সেনাবাহিনীতে মৌলবাদী”, “জঙ্গি প্রশিক্ষণ”, “আমার সহকারী আইএসআই এর সাবেক এক সেনা কর্মকর্তা”, “বিচারপতির বাসায় আমার পারিবারিক সদস্যসহ আলোচনা”, “আমার প্রেসিডেন্ট বা প্রধান উপদেষ্টা” হবার খায়েশ – এগুলোর কোনটার সাথে আমার ন্যূনতম সম্পৃক্ততার বা সংশ্লিষ্টতার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ দিতে পারেনি। ওরা সাংবাদিক নামের কলঙ্ক। “বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা” কি তাই তারাই জানেনা। বিদেশী পত্রিকার খবরের সত্যতা যাচাই না করে “এই রিপোর্ট কতখানি সত্য”, “যদি সত্য হয়েও থাকে”, “আমরা পুরোপুরি সত্য হিসেবে সম্পূর্ণটা হয়তো গ্রহণ করছিনা” বলার দ্বারাই প্রমাণিত হয়ে যায় তাদের সকল বক্তব্যই কল্পকাহিনী। এটা বুঝার জন্য কোন অতিরিক্ত মেধার প্রয়োজন হয়না। এই পেশায় নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আয়-রোজগার করতে না পারলে অন্য কোন পেশায় সন্মানজনকভাবে আয়-রোজগারের ব্যবস্থা করার জন্য তাদের পরামর্শ দিচ্ছি। মহান সাংবাদিকতা পেশাকে কলঙ্কিত না করাই কাম্য।
ওদের এই অপচেষ্টার উদ্দেশ্য হলো, সেনাবাহিনীর মাঝে অস্থিরতা সৃষ্টি করা, আমাকে হয়রানি করা, আমার ব্যাপারে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করে বিদেশী প্রভূদের ফায়দা হাসিল করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র। এছাড়া, আমার নামে কিছু বলে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে “ভিউ” বাড়ানোর মাধ্যমে “অর্থিক লাভ” করার জন্যও তারা ন্যাক্কারজনকভাবে এই ধরণের মিথ্যা প্রচার করছে বলে ধারণা করা যায়।
সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্দেশ্যে বলছি, নির্লজ্জের মত অনেক মিথ্যাচার করেছেন। আত্মসন্মানবোধ থাকলে আর চেঁচামেচি (কটু ভাষা ব্যবহার করলাম না) করবেন না। নিজের প্রতি দয়া করুন – হ্যাভ সাম মার্সি অন ইউ।
লেখক: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ)
আব্দুল্লাহিল আমান আযমী