দেশটা কি মগের মুল্লুক?


১৯ জুন ২০২৫ ১১:০৩

॥ জামশেদ মেহদী॥
দেশটা কি মগের মুল্লুকে পরিণত হলো? নাকি ইংরেজিতে যেটাকে বলা হয় Free for all, অর্থাৎ যার যা খুশি তাই করতে পারবে? সরকার বলছে, বিরোধীদলসমূহও বলছে, আইনের শাসন চাই। কিন্তু কোথায় সেই আইনের শাসন? ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে গত ১৩ মে থেকে অর্থাৎ ১ মাস ৭ দিন হলো অচলাবস্থা চলছে। নগর ভবনে কমপক্ষে ৫৭টি তালা মারা হয়েছে। এ ৫ সপ্তাহ ধরে সাধারণ মানুষ নগর ভবনে ঢুকতে পারছেন না। কারণ কী? বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ পাঠ করানো হচ্ছে না কেন? ঈদের অনেক আগে থেকেই ইশরাক ঘোষণা দিয়েছেন, যতদিন তাকে শপথ পড়ানো না হবে, ততদিন এ অচলাবস্থা চলবে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রেগুলার অফিসে যাচ্ছেন। কিন্তু তারা কেউ অফিস করছেন না। সাধারণ মানুষের বক্তব্য হলো, ঢাকা মহানগরীর অর্ধেক অংশের প্রশাসন এভাবে চলতে পারে না। সরকারের তরফ থেকে কোনো অ্যাকশন নেই কেন? যদি তাকে শপথ না পড়ানোর কোনো যুক্তিসংগত কারণ থেকে থাকে, তাহলে সেটি পরিষ্কার দেশবাসীকে জানানো হোক। তারপর সরকারের যা করণীয়, তাই করুক। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ করে স্বাভাবিক অবস্থা আনতে হবে।
আর যদি সরকারের কাছে আইনসিদ্ধ কোনো কারণ না থাকে, তাহলে অবিলম্বে ইশরাককে মেয়রের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হোক। নির্বাচন কমিশন ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করেছে।
সেই ঘোষণা মোতাবেক তাকে শপথ পড়ানো হোক। এর বাইরেও যদি কোনো কারণ থেকে থাকে, তাহলে সরকার হয় আইনের আশ্রয় নিক অথবা আইনের আলোকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। কিন্তু দিনের পর দিন মাসাধিককাল এভাবে চলতে পারে না।
সরকারের একটি মহল অনানুষ্ঠানিকভাবে বলছেন যে, গত মেয়র ফজলে নূর তাপস শপথ গ্রহণ করেছিলেন ২০২০ সালের ২০ জুন। আজ ২০২৫ সালের ২০ জুন। অর্থাৎ পুরো ৫ বছর পার হয়ে গেল। ফজলে নূর তাপসের নির্বাচন হয়েছিল ৫ বছরের জন্য। এটিই সিটি করপোরেশন বা বাংলাদেশের সমস্ত পৌর করপোরেশেনের মেয়রের মেয়াদ। তাহলে সরকার বলুক যে, ৫ বছর শেষ হয়ে গেছে। এখন আর অন্য কাউকে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে বসানো যায় না। তাই সরকার প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। দ্রুত নির্বাচন ঘোষণা করা হবে। নির্বাচিত মেয়রের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।
এখানে একটি কথা বলতে চাই। সেটা হলো, আমরা দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনের মেয়র বিতর্কে কোনো পক্ষ অবলম্বন করছি না। আমাদের বক্তব্য হলো আইনের আলোকে যেটি সঠিক হয় সেটিই করুন।
অরাজকতা বা অস্পষ্টতা রাজনীতির ক্ষেত্রেও প্রবল। এ লেখার সময় গত ১৬ জুন সোমবার দৈনিক পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে দেখলাম, নাগরিক ঐক্যের এক সেমিনারে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ শক্ত ভাষায় দাবি করেছেন যে, লন্ডনে ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, সেটি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হোক। এটিও একটি অসম্পূর্ণ বা গায়ের জোরের কথা। লন্ডন বৈঠকে আসলে কি কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে? একটি কথা মনে রাখা দরকার যে, সরকার যখন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখন সেটি লিখিত আকারে হয় এবং সেটি অফিসিয়ালি ঘোষণা করা হয়।
লন্ডন বৈঠকের পর কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। কোনো গেজেট নোটিফিকেশন হয়নি। এমন সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তও হয়নি যে, ১০ ফেব্রুয়ারি বা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেটি যদি সরকারের অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত হতো, তাহলে সেই সিদ্ধান্তটির অনুলিপি (কপি) নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠাতে হতো। লন্ডন বৈঠকে তো সুনির্দিষ্টভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি যে, নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হবে। বরং বলা হয়েছে যে, শর্তসাপেক্ষে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ইলেকশন হতে পারে। বলা হয়েছে যে, ওয়ান টু ওয়ান বৈঠকের সূচনায় তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের কাছে জানতে চান যে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন করা যায় কিনা। উত্তরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন যে, তিনি গত ৬ জুন জাতির উদ্দেশে প্রদত্ত ঈদ ভাষণে ঘোষণা করেছিলেন যে, আগামী বছরের এপ্রিলের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন এগিয়ে এনে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেও করা সম্ভব, যদি প্রথমত, ঐ সময়ের মধ্যে ইলেকশন করার সক্ষমতা ইলেকশন কমিশনের থাকে। দ্বিতীয়ত, এ সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত সংস্কার করা যায়। তৃতীয়ত, এ সময়ের মধ্যে যদি বিচারের পর্যাপ্ত এবং দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়। সরকারের তরফ থেকে এর বেশি বা কম কিছু বলা হয়নি।
এখন ড. ইউনূসের এ বক্তব্যকে যদি সরকারি সিদ্ধান্ত বলা হয়, তাহলে দেশে আবার নতুন বিতর্ক উসকে দেওয়া হবে। বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমেদের আলোচ্য দাবি ড. ইউনূসের বক্তব্যের বিকৃত ব্যাখ্যা।
এরপরও কথা আছে এবং সেগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা। ড. ইউনূস ডে ওয়ান থেকে বলছেন যে, সবকিছু ঐকমত্যের ভিত্তিতে করা হবে। ছাত্রদের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল ছাত্র-জনতার সফল জুলাই বিপ্লব। তারাই ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টার পদে বসিয়েছেন। তারপর থেকেই ড. ইউনূস ক্রমাগত বলে যাচ্ছেন যে, সবকিছু ঐকমত্যের ভিত্তিতে হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। যেমন ছাত্রদের দাবি ছিল প্রেসিডেন্ট চুপ্পুকে অপসারণ। বিএনপি এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে, তাই চুপ্পুকে অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। ছাত্ররা চেয়েছিলেন বর্তমান সংবিধান বাতিল করতে। বিএনপি বিরোধিতা করেছে, তাই সংবিধান বাতিল হয়নি। বিএনপি চেয়েছে সংবিধান সংস্কার করতে। ছাত্ররা সেটি না চাইলেও বিএনপির দাবিই মানা হয়েছে। ছাত্ররা দাবি করেছিল, নির্বাচন ঠিকই হবে, তবে সেটি জাতীয় সংসদের নয়, সেটি হবে গণপরিষদ নির্বাচন। সেই গণপরিষদ একাধারে জাতীয় সংসদ হিসেবে কাজ করবে; অন্যদিকে তেমনি গণপরিষদ হিসেবেও সংবিধান প্রণয়নের কাজ করবে। বিএনপি সেটি মানেনি। তারা সর্বাগ্রে চেয়েছে সংসদ নির্বাচন। সেটিই এখন হতে চলেছে। ছাত্ররা চেয়েছিল জুলাই প্রোক্লামেশন। সেই জুলাই প্রোক্লামেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ঘোষণা করা হবে সেকেন্ড রিপাবলিক হিসেবে। বিএনপি বাধা দিয়েছে। ছাত্ররা চেয়েছিল গত ৩১ ডিসেম্বর জুলাই প্রোক্লামেশনের ঘোষণা করতে। বিএনপির বাধায় প্রধান উপদেষ্টা সেটি করতে দেননি এবং বলেছিলেন যে, এক মাসের মধ্যে সরকারই জুলাই চার্টার ঘোষণা করবে। এক মাসের জায়গায় ৬ মাস পার হয়ে গেছে। জুলাই চার্টার এখনো সোনার হরিণ রয়ে গেছে।
ড. ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ঘোষণা করেন যে, এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এনসিপি, জামায়াত এবং অন্যান্য ইসলামী দল সেটি সমর্থন করেছিল। বিএনপি সেটির বিরোধিতা করেছিল। তারা ডিসেম্বরেই নির্বাচনের দাবিতে অটল ছিল। কিন্তু সেখানে হঠাৎ করে অন্য কোনো দলের সাথে আলোচনা না করে ড. ইউনূস লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে আলোচনায় বসেন এবং ঐ বৈঠকে শর্তসাপেক্ষে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনকে এগিয়ে আনার কথা বলা হয়।
স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, যে পদ্ধতিতে নির্বাচন এগিয়ে আনার কথা হলো, সেই পদ্ধতিতে কি কোনো ঐকমত্য ছিল? এপ্রিল থেকে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন মাত্র দুই মাস এগিয়ে আনার জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে- যিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত, সুদূর লন্ডনে উড়ে যেতে হলো কেন? বিদেশের মাটিতে দেশের ইলেকশনের একটি বিবৃতি দিতে হলো কেন? একটি দেশের প্রধান উপদেষ্টা (প্রধানমন্ত্রী) কি কখনো একটি রাজনৈতিক দলের সাথে যৌথ ঘোষণা বা ইশতেহার জারি করতে পারেন? এখন তো দেখা যাচ্ছে, শুধুমাত্র বিএনপিকে খুশি করার জন্য সরকার রাজনীতির প্রচলিত সমস্ত নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে দলটির সাথে এক ধরনের সমঝোতা করেছেন। এর অবধারিত ফল যা হবার, তাই হয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের ভ্যানগার্ড ছাত্র-জনতা (এনসিপি), জুলাই বিপ্লবে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী, রক্তদানকারী ইসলামী ছাত্রশিবির, জামায়াতে ইসলামী, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী ইসলামী আন্দোলন, বিপ্লবের সাথী খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট প্রভৃতি রাজনৈতিক দল লন্ডন বৈঠক এবং তার ফলাফলের তীব্র সমালোচনা করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের কার্যনির্বাহী পরিষদের বৈঠক শেষে প্রদত্ত বিবৃতিতে বলেছে, একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিদেশে যৌথ সংবাদ সম্মেলন ও বৈঠকের বিষয় সম্পর্কে যৌথ প্রেস ব্রিফিং নৈতিকভাবে কিছুতেই যথার্থ নয়; যৌথ বিবৃতি দেওয়া দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যত্যয়। এর মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা একটি দলের প্রতি বিশেষ অনুরাগ প্রকাশ করেছেন, যা তাঁর নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করেছে।
পীরসাহেব চরমোনাই বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি বহুদলীয় রাজনীতি। বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে দেশের বহুসংখ্যক রাজনৈতিক সংগঠন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অংশ নিয়েছে। আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে সকলকে সমান গুরুত্ব ও মর্যাদা প্রদান করা নৈতিক কর্তব্য। লন্ডন বৈঠকের চরিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অবমূল্যায়নের ধারণা জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন আয়োজনের সময় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নানারকম দাবি থাকা সত্ত্বেও সব উপেক্ষা করে প্রধান উপদেষ্টা ঈদের আগের দিন জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে একটা সংক্ষিপ্ত সময়সীমা ঘোষণা করেছিলেন। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে যে সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা একটি একান্ত বৈঠকের পরে পুনর্বিবেচনা করার যৌথ ঘোষণা দেয়া রাজনীতিতে অস্বস্তি তৈরি করেছে। সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি নির্মাণের স্বার্থেই এ অস্বস্তি দূর করা উচিত।
গত বছরের ৫ আগস্টে বিপ্লবের অগ্রপথিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আন্দোলন যখন সাফল্যের চূড়ায়, তখন এ আন্দোলনের নেতারাই সেই সময় প্যারিসে অবস্থানরত ড. ইউনূসকে বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান। সেজন্যই ড. ইউনূস সবসময় বলেন যে, তার নিয়োগদাতা হলো ছাত্ররা। অথচ সেই ছাত্ররা লন্ডন বৈঠক এবং তার ফলাফলকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা বলে আখ্যায়িত করেছেন। এনসিপির অন্যতম নেতা নাসিরুউদ্দিন পাটোয়ারী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এ ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সেটি নতুন অভ্যুত্থানের জন্ম দিতে পারে। তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া নির্বাচনের সময় ঘোষণা করা জনমতকে উপেক্ষা করা এবং দেশকে পেছনে নিয়ে যাওয়ারই একটি পদক্ষেপ। তিনি আরো বলেন, বিদেশের মাটিতে এ ধরনের বৈঠক গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের প্রতি অবমাননা। আজও যখন হাজার হাজার অভ্যুত্থানকারী আহত হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন, তখন এ ধরনের কাজ সেই সব আহতকে অবমাননারই শামিল।
লন্ডন বৈঠকের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বাংলাদেশ খেলাত মজলিসের আমীর ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, আহম্মদ আব্দুল কাদেরের খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী ঐক্যজোট।
রাজনৈতিক দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। যারা ছিল ড. ইউনূসের সমর্থক, আজ আদর্শের ভিত্তিতে তারাই তার বিরোধী। আর যারা ছিল ঘোরবিরোধী, ক্ষমতার রাজনীতির কারণে তারাই তার সমর্থক। তবে এনসিপি ও জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলো জানতে চায় যে, সুদীর্ঘ ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে ড. ইউনূস এবং তারেক রহমান যে ওয়ান টু ওয়ান বৈঠক করেছেন, সেখানে আর কী আলোচনা হয়েছে? জাতি আজ বিএনপি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট থেকে সেটি জানতে চায়।
জাতি আরো জানতে চায়, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জুলাই চার্টার হবে কিনা? এখন এটিই মুখ্য ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বিএনপি জুলাই চার্টারের বিরোধী ছিল। এর হিসেবে পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন, জুলাই বিপ্লবে দলটির তেমনি ভূমিকা ছিল না। তাই তারা এর বিরোধিতা করছে।