সংকট উত্তরণে জনকল্যাণের বাজেট
৪ জুন ২০২৫ ১১:৪০
॥ উসমান ফারুক॥
দরিদ্র, স্বল্প ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাপনকে সহজ করতে চাল, ডাল, গম, চিনি, আলু, জ্বালানি তেল, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, ক্যান্সারের ওষধুসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য ও সেবার খরচ কমিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো জনকল্যাণের বাজেট দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। খাদের কিনারায় রেখে যাওয়া অর্থনীতিকে টেনে তুলতে বিশেষ গোষ্ঠী-শ্রেণির ব্যবসায়ীদের অনৈতিক সুবিধা বন্ধ করার উদ্যোগ এসেছে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে। ধনী ও আর্থিক খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিগোষ্ঠীর বদলে সার্বিকভাবে জনকল্যাণ হয়- এমন বাজেট দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা। স্বাস্থ্য ও খাদ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধাভোগীদের সংখ্যা বাড়ানো হয়। দরিদ্র গোষ্ঠীর খাদ্য নিশ্চিতে ওএমএস কার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রথমবারের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষ তহবিল গঠন। ব্যাংকে আমানত রাখার খরচ কমানো, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়ে ও ক্রেডিট কার্ডের ঋণে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া লাগবে না। কৃষি আয় ও বেসরকারি খাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে কর দিতে হবে না। করমুক্ত সীমা ২৫ হাজার বাড়িয়ে পৌনে চার লাখ টাকা করা হয়। কর ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনতে সাহসী পদক্ষেপ থাকছে বাজেটে। এবারের বাজেটে ব্যয় কমিয়ে আয় বাড়াতে অপচয়, লুটপাট ও বিশেষ গোষ্ঠীর করছাড় সুবিধা পর্যায়ক্রমে বাতিলের উদ্যোগ শুরু করেছে সরকার। কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দিতে মালিকপক্ষকে কর সুবিধা। সংস্কারের যে কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার, তার ছাপ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পেল বাজেটে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদরা। এতে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সুশাসন বাড়বে আশা করছে সরকার।
গত ২ জুন সোমবার ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৭ হাজার কোটি টাকা কম। নতুন বাজেটে ঘাটতি ধরা হয় দুই লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতির অংক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ।
এবারই প্রথম ব্যয় কমিয়ে বাজেট দিল সরকার। গত ১৪ বছর আগে বাজেট ঘাটতি জিডিপির চার শতাংশের নিচে ছিল। এরপরের সরকার শুধু ঘাটতি বাজেট বাড়িয়ে চলেছে।
বাজেট বাস্তবায়ন হলে অর্থবছর শেষে জিডিপির আকার দাঁড়াবে ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরা হয় সাড়ে ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি আগামী অর্থবছরে সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয় বাজেটে।
বাজেটে আয় হবে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। ব্যয়ের সর্বোচ্চ খাত হচ্ছে পরিচালন খাতে ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) আকার কমিয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা করা হয়। নতুন কোনো মেগা প্রকল্প নেয়া হয়নি।
প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে ব্যতিক্রমধর্মী বলে অভিহিত করে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমাদের এবারের বাজেট কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা বিগত বাজেটের চেয়ে ছোট আকারের বাজেট আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাব করছি। প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক ধারণা থেকে সরে এসে আমরা চেষ্টা করেছি সামগ্রিক উন্নয়নের ধারণায় জোর দিতে।’
অর্থনীতির সংস্কারে পথচলা শুরু হয়েছে, তাতে আশাবাদী অর্থ উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমি স্বস্তি এবং আনন্দের সাথে জানাতে চাই, মাত্র ১০ মাসেরও কম সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে সে লক্ষ্য পূরণে অনেকদূর এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান এরপর যে আশায় আমরা বুক বেঁধেছিলাম, তা খুব শিগগিরই পূরণ করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।’
মূল্যস্ফীতির চাপমুক্ত হবে সাধারণ মানুষ
‘বৈষম্যহীন ও টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয়’ শীর্ষক বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের দিনেই খবর এলো গত ২৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতি হয় গত মে মাসে। দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ শতাংশে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ২০২২ সাল থেকে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়তে বাড়তে দুই অংকের ঘরে নিয়ে যায়। কোনোভাবেই মূল্যস্ফীতির পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানা যাচ্ছিল না।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজের আত্মীয়-স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। এরপর জনগণের সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। দায়িত্ব নিয়েই আর্থিক খাতের সংস্কার ও মূল্যস্ফীতির চাপে চিড়েচ্যাপ্টা মানুষকে স্বস্তি দেয়ার ঘোষণা দেয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নানামুখী উদ্যোগের পর তাতে সাফল্য আসতে শুরু করে গত ডিসেম্বর মাস থেকে। এরপর লাগাতার কমে আসছে মূল্যস্ফীতি।
আয় বাড়াতে বিশেষ গোষ্ঠীর সুবিধা বন্ধ শুরু
খাদের কিনারা থেকে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার গঠনের ১১ মাসের মাথায় যে বাজেট দেওয়া হলো, তাতে দেশের অর্থনীতির খোলনলচে বদলে যাবে। যে দেশের অর্থনীতি সাজানো হতো বিশেষ গোষ্ঠী ও ধনিকশ্রেণিকে সুবিধা দিতে, তা এখন সার্বিক কল্যাণে কাজ করবে। বাজেটে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে দরিদ্র, মধ্যবিত্ত শ্রেণির ব্যয়কে সহজ করা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে।
ব্যয়ের বেলা সংযত কৌশল নেয়া হয়। সরকার শুধু আগামী অর্থবছরের বাজেটই দেয়নি, সংস্কারের যে ধারা শুরু হয়েছে, তাতে আগামী তিন অর্থবছরের অর্থনীতি কোন পর্যায়ে যাবে, বছরওয়ারি তার ধারণাও দিয়েছে। আগামী অর্থবছর শেষে নতুন সরকার দায়িত্ব এলেও তাদের অর্থনীতি ও বাজেট নিয়ে ভাবতে হবে না। আগামী তিন বছরের অর্থনৈতিক কৌশল ও তার প্রভাব বিষয়ে বিস্তারিত পথনকশা দিয়েছে সরকার। ব্যাংক খাতে সীমাহীন দুর্নীতি ও লোপাট হওয়ায় তারল্য সংকটে থাকা আর্থিক খাত, অর্থ পাচারে টালমাটাল হয়ে নড়বড়ে অর্থনীতির সময়ে এর চেয়ে ভালো বাজেট দেওয়া সম্ভব ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেছেন, সরকার গতানুগতিক ধারায় ব্যয় পরিকল্পনা করেছে। সংযত হয়ে সেখানে বাড়তি ব্যয় কমিয়েছে। কিন্তু চমক দেখিয়েছে আয় বৃদ্ধির কৌশলে। যারা করছাড় সুবিধা নিত, তাদের পথ বন্ধ করতে শুরু করেছেন। ধীরে ধীরে আমাদের সেই পথেই যেতে হবে। সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া ও দিন আনে দিন খায় তারা পুরো ভ্যাট ও কর দেয়। সেখানে ব্যবসার নামে একটি গোষ্ঠী দিনের পর দিন কর ছাড় পাবে তা হবে না।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নেয়ার পর করছাড় বা কর মওকুফ সুবিধা বাতিল করার শর্ত দেয়। সেই চাপে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৪ সালে একটি গবেষণাপত্র তৈরি করে। সেখানে উঠে আসে, শুধু ২০২৩ সালে করছাড় বা করসুবিধা নিয়েছে ব্যবসায়ীরা দুই লাখ কোটি টাকার, যা আমাদের বাজেটের ঘাটতির প্রায় সমান।
এ করছাড়ের মধ্যে অর্ধেকও আদায় করা গেলে নতুন করে কর বাড়ানো লাগে না। ঘাটতি বাজেট দিয়ে সরকার পরিচালনায় ব্যাংক ঋণ করা লাগে না। সরকার অর্থ ঘাটতিতে না পড়লে টাকার বিপরীতে ডলারের দামও বাড়ত না। এবারের বাজেটে সেই সুবিধা বাদ দেয়ার ঘোষণা এসেছে। চলতি জুন মাসে বেশকিছু শিল্প খাতে করছাড় সুবিধার মেয়াদ শেষ হবে। বাজেটে তা বাড়ানো হয়নি।
স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ
এবারের বাজেটে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংকে জমা রাখলে কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হবে না। এতদিন ব্যাংকে বছরের কোনো একসময়ে জমা এক লাখ টাকা হলেই ১৫০ টাকা কেটে নিত সরকার। অন্যদিকে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।
কৃষি থেকে বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে কোনো কর দিতে হবে না। বেসরকারি চাকরিতে বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকা হলে কোনো কর দিতে হবে না। এসব সুবিধা স্বল্প ও মধ্যবিত্তরা পাবেন।
জীবনযাপনের খরচ কমাতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতালের যন্ত্রাংশ, কৃষি যন্ত্রপাতি, পোশাকসহ পাটের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য চাল, ডাল, গম, আলু, পাটের মতো পণ্যে শুল্ক কমিয়েছে। এতে এসব পণ্যের পেছনে মানুষের ব্যয় কমে যাবে।
সরকারের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের বাজার ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরী।
শুধু বাজার ব্যবস্থায় সিন্ডিকেট ও অসাধু রাজনৈতিক ও আমলাদের আঁতাতে গত দেড় দশক ধরে পণ্যের দাম বেড়ে হয় আকাশচুম্বী। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বাজারে পণ্য সরবরাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দামও কমেছে। প্রতিবারই কুরবানির ঈদের সময়ে মসলার দাম বাড়ে। এবারই গত বছরের তুলনায় উল্টো মসলার দাম কমেছে।
মোস্তফা মুজেরী বলেন, পণ্য ধরে ধরে উৎপাদন পর্যায় থেকে গ্রাহক পর্যন্ত কীভাবে যায়, কারা বাধা দেয় তার হিসাবটা করতে হবে। যতই ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী হোক, তাদেরকে ধরতে হবে। এ সরকারের যেহেতু রাজনৈতিক অভিলাষ নাই, তাই তারাই পারবে এমন সাহসী উদ্যোগ নিতে।
কর্মসংস্থান বাড়াতে বেসরকারি চাকরিতে যেসব কর্মকর্তা মূল বেতনের বাইরে সুবিধা পান তাদের জন্য নিয়োগকর্তা এতদিন ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘পারকুইজিট’ হিসেবে আয়করমুক্ত ছিল, এটা বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয়। ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে টার্নওভার করের আওতামুক্ত সীমা তিন কোটি টাকা হতে বাড়িয়ে চার কোটি টাকা করা হয়। সম্পদের সারচার্জের ক্ষেত্রেও বিধানে শিথিলতা এসেছে। এসব সুবিধা যাবে স্বল্পআয়ের মানুষের কাছে।
সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বাড়ছে
অর্থ বিভাগ প্রকাশিত সামাজিক নিরাপত্তা বাজেট প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে বয়স্কভাতার সুবিধাভোগী সংখ্যা বাড়ানো হবে ৯৯ হাজার জন। বিধবা ও স্বামীনিগৃহীতা মহিলা সুবিধাভোগী বাড়ানো হবে ১ লাখ ২৫ হাজার জন। প্রতিবন্ধী ভাতা ও প্রতিবন্ধী শিক্ষাবৃত্তির সুবিধাভোগী বাড়ানো হবে ১ লাখ ৯৭ হাজার জন। অনগ্রসর জনগোষ্ঠী খাতে সুবিধাভোগী বাড়ানো হবে ৯৪ হাজার জন।
প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের সুবিধাভোগী বাড়বে ২ লাখ। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী বাড়বে ১ লাখ ১৬ হাজার জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির সুবিধাভোগী বাড়বে ২ লাখ ও কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের উপবৃত্তির সুবিধাভোগী বাড়বে ৯ লাখ ৯০ হাজার জন।
এছাড়া বর্তমানের চেয়ে ১১ লাখ ৪৭ হাজার ব্যক্তিকে ওএমএস সুবিধা বাড়ানো হবে। খাদ্যবান্ধব কর্মসুচিতে ৩ লাখ ৩৭ হাজার জনকে নতুন করে তালিকায় নিয়ে আসা হবে। আর আগামী অর্থবছরে ৫০ হাজার মানুষ পেনশন সুবিধা পাবেন।
দাম কমবে: আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে ১১০টি পণ্যে। ই-বাইক, অ্যাম্বুলেন্স, বাস ও ক্যান্সারের ওষুধসহ বেশকিছু তৈজসপত্রের দাম কমবে। এছাড়া এলএনজি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, পাতা, ফুল বা বাকলের তৈরি প্লেট ও বাটিসহ সব ধরনের তৈজসপত্র, হাতে তৈরি মাটির তৈজসপত্র, টেক্সটাইল গ্রেড ডেট চিপসের উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
তরল দুধ, স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে যেসব পণ্যে ভ্যাট অব্যাহতি প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন, প্যাকেটজাত তরল দুধ ও বলপয়েন্ট কলমের স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম কমতে পারে।
এছাড়া ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত কম্পিউটার মনিটর, চিনি, কোল্ডস্টোরেজ, কৃষি যন্ত্রপাতি, টায়ার, বাস-মাইক্রোবাস, ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি-মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্সসহ টায়ার ও প্লাস্টিক পণ্যের দাম কমবে।
দাম কিছুটা বাড়বে বিলাসী পণ্যে
মোবাইল ফোন, ওয়াশিং মেশিন, ব্লেন্ডার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, জুসার, আয়রন, রাইস কুকার, প্রেসার কুকার, এলপিজি সিলিন্ডার, বিদেশি চকলেট, লিপস্টিক, ঠোঁট, চোখ ও মুখমণ্ডলে ব্যবহৃত প্রসাধন তথা কসমেটিকস, ব্লেড। এ বাজেট প্রস্তাব পাস হবে ৩০ জুন; ১ জুলাই শুরু হবে নতুন অর্থবছর। কর সংক্রান্ত বিষয়গুলো গত সোমবার থেকেই কার্যকর হবে। অন্যান্য বিষয়ে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে জুনের ৩০ তারিখে। সংসদ না থাকায় এবার সব আদেশ রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে স্বাক্ষর হবে।
বাজেটকে স্বাগত
এবারের বাজেটকে সংযত ও কৌশলী বলে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই), বিদেশি প্রতিষ্ঠানদের ব্যবসায়িক সংগঠন ফিকি, পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। সংগঠনগুলো বলেছে, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য পণ্যের দাম কমলে ব্যবসার জন্য ভালো। এতে ব্যবসার খরচ কমে যাবে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে সামনে এনে বলেছে, কর ছাড় তুলে নেয়ার সময়টা বাড়িয়ে দিতে। দেশি ও আমদানি পর্যায়ে পণ্যের দামে পার্থক্য রাখতে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, বাজেটে কাঠামোগত পরিবর্তনটা শুরু হয়েছে। কিছু পদক্ষেপ আছে। প্রত্যাশাটা বেশি ছিল এবারের বাজেটে। সেই প্রত্যাশা পূরণে বৈষম্যহীন সমাজ তৈরিতে আরো পদক্ষেপ প্রয়োজন। বাজেটে শুল্ক সুবিধা তুলে দেয়ায় শিল্প খাত কিছুটা চাপের মুখে পড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ফ্যাসিবাদী সরকার পরবর্তীতে দেশে যে অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা চলছে তা উত্তরণে এ বাজেট হচ্ছে জনকল্যাণের বাজেট।