ড. ইউনূসের অঙ্গীকার ও স্বস্তির কাল
৪ জুন ২০২৫ ১১:৩৮
॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার কী করেছে? আগেই ভালো ছিলাম- এমন অবান্তর বয়ান তৈরি করতে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশ-বিদেশে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। লুটের টাকায় তারা এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সাধারণ মানুষ নিয়ন্ত্রিত দ্রব্য, লোডশেডিংমুক্ত স্বস্তির রমজান, নিয়ন্ত্রিত চাঁদাবাজি, ঘুষ-দুর্নীতি, অহেতুক পুলিশি হয়রানি থেকে মুক্তি পেয়ে ড. ইউনূস সরকারের পক্ষে কথা বলছে। কিন্তু মিডিয়ায় পজিটিভ প্রচারণা কম। বিশেষ করে একটি রাজনৈতিক দলের দ্রুত নির্বাচনের জন্য চাপ এবং দাবি আদায়ের নামে বিভিন্ন ব্যানারে ফ্যাসিস্ট ও তার দোসরদের এ কয় মাসে দুবারেও বেশি প্রতিবিপ্লবের অপচেষ্টা প্রতিহত করে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে চলছে এ সরকার।
কিন্তু এ সরকারের ইতিবাচক দিকগুলো মিডিয়ায় খুব একটা আসছে না। কারণ সরকারের কোনো নিজস্ব মিডিয়া নেই। অধিকাংশ মিডিয়াই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মিডিয়াগুলোর ওপরও সরকারের তেমন প্রভাব নেই বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু ইতিবাচক সত্য প্রচারণা ও সাফল্য তুলে না ধরলে ফ্যাসিস্টদের অব্যাহত অপপ্রচারে জনগণ বিভ্রান্ত হতে পারে- এমন আশঙ্কা অমূলক নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
পাঁচটা পর্যায়ে ফিল্টার
এ প্রসঙ্গে নোম চমস্কি এবং এডওয়ার্ড হারমান আমেরিকান মিডিয়ার একটা প্রোপাগান্ডা মডেল তুলে ধরেছেন। এতে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে প্রভাবশালীরা তাদের বিরুদ্ধে যাওয়া একটি খবর হাওয়া করে দেয়। তিনি দেখিয়েছেন পাঁচটা পর্যায়ে ফিল্টার করে একটি সত্য খবর প্রভাবশালীরা হাওয়া করে দেয়। এ ফিল্টার হলো- ১. মালিকানা, ২. বিজ্ঞাপন, ৩. সেসর্স অব ইনফো, ৪. কমিউনিজমভীতি (ফোবিয়া) ও ৫. ফ্ল্যাক (FLAK)। ফ্ল্যাক শব্দটার অনেক অর্থ আছে। একটা অর্থ হচ্ছে, নিন্দাবাদ বা গালাগালি করে কাউকে নিরস্ত করার চেষ্টা। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ মিডিয়ার মালিক রহস্যজনক খেলা খেলছেন। তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার নিকট থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন। এখন ধরা পড়ার ভয়ে তারা এমন আচরণ করছেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বাকি চারটি ব্যাখ্যা না করেলও কারো বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। মানে ফ্যাসিস্ট ও তার দোসরদের উল্লেখিত খেলার মোকাবিলা করতে সরকার ব্যর্থ হলে তাদের সব অজর্নই প্রতিপক্ষ নাই করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে মিডিয়ায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তাই জাতিকে দেয়া অঙ্গীকার রক্ষা এবং তাদের অর্জন তুলে ধরতে এক্ষেত্রে নজর দেয়ার বিকল্প নেই।
কী সেই অঙ্গীকার
দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণ অভিষিক্ত করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বধীন অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে গত বছরের ৮ আগস্ট দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছে। হাসিনার দেড় দশকের দুঃশাসনে খুন, গুম, গ্রেফতার, রিমান্ডের শিকার লাখ লাখ নির্যাতিত এবং ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট)-এর প্রায় দুই হাজার শহীদ ও গুরুতর আহত ২২ হাজার বনিআদমের রক্তঋণ মাথায় নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বা দায়িত্ব নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শহীদের স্বপ্ন ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্য, দুর্নীতি, ঘুষ, চাঁদাবাজি, দখলবাজিমুক্ত একটি দেশ। যে দেশে আর কোনোদিন শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট বিনা ভোটে নির্বাচনের নাটক সাজিয়ে ক্ষমতায় বসবে না। এ সরকারের ওপর আরেকটি বড় দায়িত্ব হাসিনাসহ গণহত্যার মাস্টারমাইন্ডদের বিচার। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ক্ষমতা দখলের নীলনকশার অংশ হিসেবে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার গঠনের পর ২০০১ সাল থেকেই ষড়যন্ত্র শুরু করে। এ ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত ফ্যাসিস্টরূপ বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টন মোড়ে। এ দিন তারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর নির্মম গণহত্যা চালায়। এ পথ ধরে আসে ১/১১-এর সেনাশাসিত সরকার। তাদের প্রযোজিত ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনে ক্ষমতা দখলের পর তারা বিডিআর বিদ্রোহের নামে পিলখানায় সেনা হত্যা, শাপলা চত্বর গণহত্যা, জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির শীর্ষনেতাদের হত্যা করেছে। হাসিনা সরকারের তারপরের দুঃশাসনের দিনলিপি লিখতে গেলে একটি স্ট্র্যাটেজিক মহাকাব্যও শেষ হবে না। ফ্যাসিস্ট সরকারের একটি দৃশ্যমান বিচারও অন্তর্বর্তী সরকারের অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার রক্ষা করতে সরকার বিরোধীদলগুলোর কাছে সংস্কার ও বিচারের জন্য আগামী বছরের জুনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেয়ার কথা বলছে। সংস্কার ও বিচারকাজ এগিয়ে নেয়ার সাথে সাথে হাসিনার ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনে ফোকলা করা দেশের উন্নয়ন ও জনগণের সুখ-সমৃদ্ধির জন্য কাজ করছে।
উন্নয়ন ও জনগণের সুখ-সমৃদ্ধির সংক্ষিপ্ত ফিরিস্তি
আগস্টে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এমন একসময়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছেন, যখন চারদিকে ছিল চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা, প্রশাসন অচল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিষ্ক্রিয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অরাজকতা, জনজীবনে অনিশ্চয়তায় ভার ছিল। কিন্তু তিনি ও তার সরকার দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশকে পৃথিবীর মানচিত্রে অন্যরকম এক উচ্চতায় নিয়েছেন।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ও সরকারের নেওয়া রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ, কূটনৈতিক অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা হয়েছে। ইউনূস সরকারের ১০ মাসের অন্যতম বড় সাফল্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং মানবাধিকার ইস্যুতে সরকার তার নীতি তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন ও জাপানের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার নতুন ধারা শুরু হয়েছে। গত মার্চে অ্যান্তোনিও গুতেরেসের পাশে বসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘রোহিঙ্গারা যেন আগামী বছর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে জাতিসংঘের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছি।’
এ লক্ষ্যে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন- এ ছয়টি ক্ষেত্রে সংস্কার আনার জন্য পৃথক পৃথক কমিশন গঠন করা হয়। সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত কমিশন ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে সংসদীয় ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার জন্য বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচন কমিশন সংস্কারের লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিচার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে বিচারকদের নিয়োগ ও প্রেষণনীতিতে পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হয়েছে। বিএনপি নেতা তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারসহ জামায়াতে ইসলামী ও বিরোধীদলের বিরুদ্ধে হাসিনার করা রাজনৈতিক মামলাগুলো এক এক করে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এটিএম আজহার এখন কারামুক্ত। বেআইনিভাবে বাতিল করা জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের রায়ে ফেরত দেয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যকারিতা বাড়াতে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। দুর্নীতি, ঘুষ, চাঁদাবাজি অনেক কমেছে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার এ সংস্কারগুলোকে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের শাসন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও অন্তর্বর্তী সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা এবং মুদ্রানীতিতে কিছু কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ফলে উল্লেখিত প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে বিগত মে মাসে ২৪ কোটি ডলারের ওপর রেমিট্যান্স এসেছে। ঈদ উপলক্ষে আরো বাড়বে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনগণের মতামতের প্রতিফলন পাওয়া যায়। একজন লিখেছেন, ‘হাসিনার ১৬ বছর ধরে দ্রব্যমূল্য জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। ড. ইউনূস দায়িত্ব নেয়ার আগে ১৫ টাকা পিস দরে লোকজন ডিম কিনে খেয়েছে। এখন সেই ডিম কেনা যাচ্ছে আট-দশ টাকা পিস দরে! মানে দাম প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি! এত সস্তায় যে ইহজন্মে আমরা ডিম খেতে পারব, সেটা কি ছয় মাস আগেও ভেবেছিলাম আমরা?’ এ প্রসঙ্গে একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, ঈদ বা রোজার মতো কোনো উপলক্ষ্য এলেই দামের সেঞ্চুরি বা ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলে পেঁয়াজ। এখন সেই পেঁয়াজ ৪৫ টাকার আশপাশে! লাল চিনি মাস ছয়েক আগেও ছিল ১৭০ টাকা। এখন সেই চিনি কেনা যায় ১৪০ টাকার নিচে। দু-একটি নিত্যপণ্য বাদে সব পণ্যেরই দাম স্থিতিশীল রয়েছে বা কমেছে। বাজার হিসাবের ফর্দ নিয়ে রোজার মাসজুড়েই একরকমের স্বস্তি নিয়ে কাটিয়েছে দেশের মানুষ।
এবারের ঈদে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িফেরা মানুষের প্রধান রুট ঢাকা-উত্তরবঙ্গের মহাসড়কে কোনো যানজট নেই। হাইওয়ে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা কঠোর শ্রম দিয়ে মহাসড়ক যানজটমুক্ত রেখেছে। একই দৃশ্য দেখা গেছে অন্যান্য মহাসড়কেও। প্রশাসনের আন্তরিক তদারকির কারণে মহাসড়কে নেই যানবাহনের বাড়তি চাপ, দু-একটি ঘটনা ছাড়া স্বস্তির ঈদযাত্রা দেখা গেছে রাজধানীর সবচেয়ে বড় বাসস্ট্যান্ডগুলোয়। গাবতলী, মহাখালী বাস টার্মিনালের যাত্রীদের অনেকে বলছেন, সড়কে যা ঘটেছে, তা বিশ্বাসই হচ্ছে না তাদের। লাইফে এত নির্বিঘ্নে ঈদযাত্রা তারা করতে পারেনি কখনো। ঈদের মধ্যে গত ৪০ বছরেও এমন দৃশ্য দেখেনি দেশের মানুষ।
সড়কের সঙ্গে সঙ্গে রেলেও দেখা গেছে সুশৃঙ্খলা। এতে করে যাত্রীদের মধ্যেও প্রশান্তির ছোঁয়া বিরাজ করছে। নিয়ম করে ঠিক সময়ে ছেড়ে গেছে সব ট্রেন। আন্তঃজেলা যোগাযোগ উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। সড়কে শৃঙ্খলা আনতে সংস্কার ও চাঁদাবজি বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপের সুফল পাচ্ছে দেশবাসী। দেশের ২৮টি জেলায় বিমান যোগাযোগের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার। ইতোমধ্যেই লালমনিরহাটে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ধুঁকতে থাকা নাজুক ব্যাংকগুলোকেও সরকার দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বুক উঁচু করে। সমস্যায় পড়া ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের স্বার্থ বাংলাদেশ ব্যাংক দেখছে বলে জানিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকটির গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের পাশে সরকার আছে। ব্যাংকগুলোর অবস্থা উন্নয়নে এগুলোর পর্ষদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এরপরই আস্থা ফেরে ব্যাংকগুলোয়। ব্যাংক খাত থেকে গত ১৭ বছরে বিভিন্নভাবে বড় ধরনের অর্থ পাচার হয়ে গেছে। মূলত সাত-আটটি ব্যাংক থেকেই এ অর্থ বের হয়ে গেছে। ফলে এসব ব্যাংক তারল্যসংকটে পড়েছিল। সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগের মতো টাকা ছাপিয়ে এসব ব্যাংককে দেয়নি। টাকা ছাপিয়ে দিলে তাতে করে দুই লাখ কোটি টাকা ছাপাতে হতো। এতে মূল্যস্ফীতি, ডলারের দাম-সবকিছু ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যেত। এর বদলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্যসংকটে পড়া ব্যাংকগুলোকে সীমিত আকারে টাকা দিয়েছে। এসব ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে টাকা আমানত হিসেবে পেয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে টাকার নিশ্চয়তা (গ্যারান্টি)। এভাবেই ব্যাংক খাতের বড় রকমের ঝুঁকি কাটিয়ে তুলেছে ইউনূস সরকার।
সামাজিক মাধ্যমে অনেকে ড. ইউনূস প্রসঙ্গে লিখছেন, ‘এই লোক রোজায় দ্রব্যমূল্য ঠিক রেখেছেন; সারা বছর যেখানে এ সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে, সেখানে উনি থাকায় বরং দ্রব্যমূল্য আশাতীতভাবে কমেছে। ঈদের আগের চারদিন বাড়ি ফেরে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ; মানে প্রতিদিন ৩০ লাখ মানুষ… কিন্তু এবার কোথাও নেই ভোগান্তি, নেই ট্রেন-বাস-লঞ্চের কোনো শিডিউল বিপর্যয়। এই ইয়াং হার্টের ৮৫ বছরের মানুষটা বেঁচে থাকুক অনেকদিন…। তার ক্ষমতায় থাকতে পারাটাই যে দেশের জন্য এক সংস্কার।’
ইসলামী অনুষ্ঠান উপস্থাপনার পরিচিত মুখ এটিএন বাংলার সিনিয়র সহ-সভাপতি আরকান উল্লাহ হারুনী বলেছেন, ‘এবারের হজযাত্রা হয়েছে স্বস্তির। বিমান ভাড়া কমেছে। ভিসা জটিলতা নেই। শেষ ফ্লাইটের দিন অন্যান্য বছরের মতো কাউকে বিমানবন্দরে কাঁদতে দেখা যায়নি।’ ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতাও কমেছে। অন্যান্য বছরের মতো সামান্য বৃষ্টিতেই রাজপথে নৌকা চলাচলের মতো অবস্থা দেখা যায়নি।
রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, সংস্কার ও বিচারের আগে নির্বাচন করলে দেশের উন্নয়নের এ গতি থেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিরোধীদলগুলোর দায়িত্ব রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারের পর দ্রুত নির্বাচনে সরকারকে সহযোগিতা করা। এর আগে প্রতিবিপ্লবীদের আন্দোলন এবং অহেতুক বিতর্ক বন্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাজে স্বস্তি ফিরিয়ে এনে জনমনে বিদ্যমান স্বস্তির ধারাকে আরো বেগবান করা।