সংবাদ শিরোনামঃ

জাতীয় ঐক্য! ** ন্যায়ের পক্ষে তুরস্ক সাথে আছে মজলুমের দোয়া : জাতির উদ্দেশ্যে এরদোগান ** সন্ত্রাস ও হতাশাগ্রস্ত যুব সমাজ ** জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন খালেদা জিয়া : মির্জা ফখরুল ** জঙ্গিবাদী কার্ড ও ক্ষমতাসীনদের রাজত্বের মেয়াদ ** সুন্দরবন বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ চায় জনগণ ** দলীয় সরকারের অধীনেই আগাম নির্বাচন! ** যারা জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত তারা ইসলাম ও মানবতার দুশমন ** টার্গেট না থাকায় কর্মসূচিতে স্থবিরতা ** পার্শ্ববর্তী দেশ পানি দিলে আমাদের নদীগুলো ভেসে যায়, না দিলে শুকিয়ে যায় ** জঙ্গিবাদ : মুসলমানরা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার ** দল মত নির্বিশেষে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান ** বন্যায় ভাসছে দেশ, খবর নেই তেনাদের ** ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার ধর্ম ** আইবিসিএফ এর সভা ** বন্যায় ভাসছে শাহজাদপুর॥ পানিবন্দী লাখো মানুষের দুর্ভোগ ** কুষ্টিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কার্যক্রম ** হরিপুরে গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশা ** সত্যের সৈনিক মুজাদ্দিদে আলফেসানী **

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৩, ১ জিলকদ ১৪৩৭, ৫ আগস্ট ২০১৬

এইচ. এম. মুশফিকুর রহমান
সৃষ্টির সেরা মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠে, নীতি-নৈতিকতা ভুলে যায়, রাজনৈতিক নিপীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনে লিপ্ত হয়- তখনই শান্তি বিনষ্ট হয়। আসলে সামাজিক ভেদাভেদ, পেশী শক্তির মহড়া থেকে মুক্তি পেতে হলে মানুষের মাঝে পরস্পরে হিংসা-মারামারি ও শত্রুতার দেয়াল ভাঙতে হবে। পাপ-পঙ্কিলতার পথ পরিহার করতে হবে। সমাজে শান্তি বজায় রাখতে হলে-নম্রতা, ভদ্রতা, বিনয়, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বাড়াতে হবে। শান্তি  প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত- জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ৪টি মৌলিক দায়িত্ব সম্পর্কে কুরআনে কারীমে ইরশাদ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “তারা এমন যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত দেবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে।” [সূরা আল হজ্জ : ৪১] সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরো যে সকল কাজ করা যেতে পারে : ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া : ভ্রাতৃত্ব আল্লাহ প্রদত্ত এক পরম নিয়ামত, তিনি প্রিয় বান্দা ও নির্বাচিত বন্ধুদের তা দান করেন। ভ্রাতৃত্ব হচ্ছে ফুল ও পল্লবে শোভিত এক বরকতপূর্ণ বৃক্ষ, নানাভাবে নিরবধি যা ফলদায়ক। সৎ ভ্রাতৃত্ব মানুষের আদি স্বভাবের গভীরে প্রোথিত, যা পর্যবসিত হয় নিজের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দেয়ায়। ভ্রাতৃত্বের মৌল ভিত্তি হচ্ছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালোবাসা। আর ‘আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালোবাসা’-র মৌল ভিত্তি হচ্ছে প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ যা পছন্দ করেন, তা নির্বাচন করা। আল্লাহর জন্য ভ্রাতৃত্ব, যা ব্যতীত ঈমান কখনো পূর্ণতা লাভ করে না, তার মৌলিক মানদণ্ড হচ্ছে-যা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অবগত করেছেন এই বলে-সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের কেউ ততক্ষণ মোমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে যে-কল্যাণ নিজের জন্য পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করে। [মুত্তাফাকুন আলাইহি ] কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে, “তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো : তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু এবং তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করেন, ফলে তার অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে।” [ সূরা আলে ইমরান : ১০৩]প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান ও দয়া প্রদর্শন করাবিতর্ক করা হবে সত্য প্রকাশ ও মানুষের প্রতি দয়া-মমতার জন্য। যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া (র.) বিতর্কের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেছেন, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত অনুসারীরা বাতিল পন্থীদের সাথে বিতর্ক করে তবে তাদের উদ্দেশ্য হলো, ‘তারা সত্য প্রকাশ করেন ও সৃষ্টি জীবের প্রতি দয়া করেন।’সাহাবী আবু উমামা আল-বাহেলি যখন দেখলেন, খারেজি মতাদর্শের প্রায় সত্তর জন লোককে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে তাদের মাথা দামেশকের মসজিদের সম্মুখে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তখন তিনি বললেন, শয়তান এদেরকে কোথায় নিয়ে গেল! এরপর তিনি কাঁদলেন। অন্য লোকেরা বলল, আপনি এদের মতো মানুষের জন্য কাঁদছেন? তখন তিনি বললেন, ‘কেন কাঁদব না? তারাতো ইসলামের অনুসারী ছিল।’ [আল-ইতেসাম, ইমাম শাতেবি র.]বিতর্কে একপক্ষ অপর পক্ষকে মূর্খ বা অজ্ঞ বলে থাকে। কিন্তু  প্রতিপক্ষ যদি মূর্খও হয় তবুও তাকে তা বলতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বরং না বলাটাই ইসলামের শিক্ষা।  আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, ‘‘আর রাহমানের বান্দা তারাই যারা জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদের সম্বোধন করে তখন বলে ‘সালাম।’’ [সূরা ফুরকান : ৬৩]যখন মূর্খদেরকে সালাম বলতে বলা হয়েছে, তখন প্রতিপক্ষ যারা আসলে মূর্খ নয়, অজ্ঞ নয় তাদেরকে উক্ত বিশেষণে সম্বোধন করা তো আরো জঘন্য। তারা যদি আসলেই মূর্খ বা অজ্ঞ হত তাহলে তো আপনি তাদের সাথে আলোচনা বিতর্কে বসতেন না।কারো ওপর জুলুম না করা : আদল বা ন্যায়বিচারের বিপরীত হলো জুলুম। যার যা প্রাপ্য তাকে তা না দেয়া হলো জুলুম। একে অবিচারও বলা হয়। অবিচার হলো বড় জুলুম। অবিচারের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যক্তিগণ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। জুলুম বা অত্যাচার হলো কারও প্রতি অন্যায় আচরণ করা। এটা ব্যক্তির সম্পদ আত্মসাত, শারীরিক আক্রমণ বা সম্মানহানির মাধ্যমেও হতে পারে। ইসলামে জুলুম মস্ত বড় অন্যায় বলে বিবেচিত। ইসলাম সব সময় জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ইসলাম বলেছে, আল্লাহর হক আদায় না করলে আল্লাহ ক্ষমা করলেও বান্দার হক বিনষ্টকারীকে আল্লাহ কখনও ক্ষমা করবেন না যতক্ষণ না যার ওপর জুলুম করা হয়েছে, সে ক্ষমা করে দেয়। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “হে আমার বান্দা, আমি নিজের ওপর জুলুম হারাম করেছি এবং তোমাদের জন্যও একে হারাম করেছি। অতএব তোমরা একে অপরের ওপর জুলুম করো না।’’ [মুসলিম : ৬৭৪০] ইনসাফ করা : ইসলামের পরিভাষায় সমাজে যার যা প্রাপ্য তাকে তা প্রদান করাকে আদল বলে। অন্যভাবে বলা যায় কোনো বস্তু তার হকদারদের মধ্যে এমনভাবে বণ্টন করে দেয়া যাতে কারও ভাগে বিন্দুমাত্র কম বেশি না হয়। এর নাম আদল বা ন্যায়বিচার। আর আদল বা ন্যায়বিচার করার প্রক্রিয়াটাকেই বলে ইনসাফ। অর্থাৎ ন্যায়বিচার করাটাই হলো ইনসাফ। ধরার বুকে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার কায়েম নিয়ে আসে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও শান্তির ফল্গুধারা। এর বিপরীতে জুলুম, নিপীড়ন ও অন্যায় নিয়ে আসে নিরাপত্তাহীনতা, অস্থিতিশীলতা ও অশান্তির সয়লাব। ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জিন্দেগীর সকল পর্যায়ে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে ইসলাম সমধিক গুরুত্ব প্রদান করেছে। ইনসাফের  মর্যাদা ইসলামে অতি বিশাল। এর পুরস্কারও অতি মহান। ইনসাফের রয়েছে বিভিন্ন স্তর ও মর্যাদা। সকল পর্যায়ে ইনসাফ কায়েম করা সংশ্লিষ্টদের প্রতি দায়িত্ব।  সর্বাবস্থায় মু’মিনদেরকে ইনসাফ কায়েম করতে হবে। এমনকি মুসলমানদের সাথে কাফিরদের লেনদেন ও সম্পর্কের  ক্ষেত্রেও ইনসাফের নীতিতে অবিচল থাকতে হবে। কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাথে সাক্ষ্যদানকারী হিসেবে সদা দণ্ডায়মান হও। কোনো কওমের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে কোনোভাবে প্ররোচিত না করে যে, তোমরা ইনসাফ করবে। তোমরা ইনসাফ কর, তা তাকওয়ার নিকটতর এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় তোমরা যা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।” [সূরা আল-মায়েদা : ৮]সৎকাজের আদেশ করা ও অসৎকাজের নিষেধ করা : ‘আমর বিল মা‘রূফ এবং নেহি আনিল মুনকার’ ইসলামের একটি অত্যবশ্যকীয় দায়িত্ব। একটি মৌলিক স্তম্ভ এবং এ ধর্মের অনন্য বৈশিষ্ট্য। সংস্কার ও সংশোধনের বিশাল মাধ্যম। তার মাধ্যমে সত্যের জয় হয় এবং মিথ্যা ও বাতিল পরাভূত হয়। তার মাধ্যমে শান্তি ও সমৃদ্ধির বিস্তার ঘটে। কল্যাণ ও ঈমান বিস্তৃতি লাভ করে। যিনি আন্তরিকতা ও সততার সাথে এ দায়িত্ব পালন করেন তার জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার ও মর্যাদাপূর্ণ পারিতোষিক। কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে, “আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত, যারা সৎকাজের প্রতি আহ্বান করবে, নির্দেশ করবে ভালো কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে। আর তারাই হলো সফলকাম।” [সূরা আলে ইমরান : ১০৪]দ্বীনী শিক্ষা অর্জন ও তা প্রসার : সকল সৃষ্টির মধ্যে বিশেষভাবে মানুষকেই আল্লাহ তা’আলা জ্ঞান অর্জনের যোগ্যতা দান করেছেন। এর মাধ্যমে মানুষ যেমন তার পার্থিব প্রয়োজন পূরণের উত্তম পন্থা আবিষ্কার করতে পারে তেমনি আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি এবং আখিরাতের সফলতা-ব্যর্থতার জ্ঞানও ধারণ করতে পারে। ন্যায়-অন্যায়বোধ এবং আসমানী ইলমের উপযুক্ততার কারণেই মানুষের জন্য এসেছে হালাল-হারামের বিধান। মানুষ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীর এই যোগ্যতা নেই। দুনিয়ার নিযাম ও ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখার জন্য যেমন জাগতিক শিক্ষার প্রয়োজন তেমনি দ্বীনের হিফাজতের জন্য এবং দুনিয়ার সকল কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক হওয়ার জন্য দ্বীনী শিক্ষার প্রয়োজন। কুরআন-সুন্নাহর চর্চা ও অনুসরণের অভাব হলে সমাজের সকল অঙ্গনে দুর্নীতি ও অনাচার দেখা দেয়। দেখা দেয় অশান্তি। শিক্ষিত মানুষ পথভ্রষ্ট হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমাজ যতই উন্নতি লাভ করুক ঈমান ও আল্লাহভীতি না থাকলে তা মানুষের ক্ষতি ও অকল্যাণে ব্যবহৃত হয়। মানুষের সকল আবিষ্কারকে অর্থপূর্ণ ও কল্যাণমুখী করার জন্যই অপরিহার্য প্রয়োজন ইলমে ওহীর চর্চা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আল্লাহ তা’আলা যাকে প্রভূত কল্যাণ দিতে চান তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন।’’ [সহীহ বুখারী ১/১৬]আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব এবং আল্লাহর জন্য শত্রুতা পোষণ করা : ‘দ্বীনের পূর্ণতা, জিহাদী ঝাণ্ডার প্রতিষ্ঠা অথবা সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের প্রতিরোধ মিশন সফল হবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব, আল্লাহর জন্য শত্রুতার নীতি গ্রহণ করা হবে। শত্রু-মিত্রের বিচার না করে সব মানুষ যদি সঠিক পথের অনুসারী হতো তবে হক্ব-বাতিল, ঈমান-কুফর, আল্লাহর বন্ধু এবং শয়তানের বন্ধুর মাঝে কোনো পার্থক্য যুগ যুগ ধরে চলে আসত না'’। তাই বন্ধু নির্বাচন ও শত্রুতা পোষণ আল্লাহর জন্য হওয়া উচিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ঈমানের অধিকতর নিরাপদ বন্ধন হলো আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব এবং আল্লাহর জন্য শত্রুতা। [আবূ দাউদ : ৪৫৯৯]জবাবদিহিতার মানসিকতা থাকাসমাজে প্রত্যেক মানুষ তার কর্মফলের জন্য নিজেই দায়ী। পার্থিব জীবন শেষে আল্লাহর কাছে প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। কোনো লোকের দুর্নীতি, অপকর্ম বা পাপে অন্য কেউ বা তার আত্মীয়স্বজন বা বংশ দায়ী হবে না। মানুষকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য অত্যন্ত সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতার সঙ্গে যথাযথভাবে পালন করতে হবে। বিভিন্ন কাজকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের প্রকাশের উপযুক্ত তত্ত্ব-তথ্য, আয়-ব্যয়, হিসাব-নিকাশ ও  লেনদেনকে সুস্পষ্টভাবে জানার জন্য উন্মুুক্ত করাই হলো স্বচ্ছতা। আর প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিজ নিজ অধীন ব্যক্তিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হওয়াই জবাবদিহি। ইসলামে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ইহকালীন ও পারলৌকিক উভয় জগতেই লক্ষ করা যায়। পবিত্র কুরআনে বাণী, ‘অনন্তর যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিপালকের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে (জবাবদিহি) ভয় করে এবং প্রবৃত্তি  থেকে নিজেকে বিরত রাখে, জান্নাতই হবে তার আবাস।’’ [সূরা নাজিয়াত : ৪০]আল্লাহর নিকট  সাহায্য প্রার্থনা করা : ইসলাম হচ্ছে তাওহীদ বা একত্ববাদের দীন। তা হলো অন্তরে দৃঢ়ভাবে এ ঈমান পোষণ করা যে, এক স্রষ্টা সমস্ত জগতকে সৃষ্টি করেছেন, তা বাস্তব সত্য, যা প্রতিটি বুদ্ধিমান ও চিন্তাশীল লোকের বুদ্ধিবৃত্তিক কথা। আর এ স্রষ্টাই হচ্ছেন সত্যিকারের মাবুদ; তাই একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করা কর্তব্য। এছাড়া একমাত্র তাঁর নামেই হতে হবে জবেহ করা, নজর-নেওয়াজ দেয়া। আর বিশেষ করে কিছু চাওয়া ও পাওয়ার ক্ষেত্রে তো কথাই নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুকে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, “যখন কিছু চাও একমাত্র আল্লাহর নিকট চাও, আর সাহায্য চাইলেও তাঁর নিকটেই চাও।”  [ সুনান তিরমিযী, হাদীস নং ২৫১৬] সবশেষে বলা যায়, সংঘাতপূর্ণ মানব সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পথ ও মত অনুসরণ করতে হবে। এক আল্লাহর বিশ্বাস, তিনি জগতের সৃষ্টিকর্তা ও তিনি ইবাদাতের মালিক এ কথা মেনে চলতে হবে। কার সাথে মানুষের শান্তিপূর্ণ আচরণ কি হবে, তা রাসূল (সা.) প্রয়োগিক পদ্ধতিতে শিখিয়ে দিয়েছেন। মানব রচিত কোনো সমাজ দর্শনে এর কোনো নজির নেই। তাই বর্তমানের সংঘাতময় মানব সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো, ইসলাম ও রাসূল (সা.)-এর আদর্শে সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।লেখক : প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক

এ পাতার অন্যান্য খবর

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com