সংবাদ শিরোনামঃ

জাতীয় ঐক্য! ** ন্যায়ের পক্ষে তুরস্ক সাথে আছে মজলুমের দোয়া : জাতির উদ্দেশ্যে এরদোগান ** সন্ত্রাস ও হতাশাগ্রস্ত যুব সমাজ ** জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন খালেদা জিয়া : মির্জা ফখরুল ** জঙ্গিবাদী কার্ড ও ক্ষমতাসীনদের রাজত্বের মেয়াদ ** সুন্দরবন বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ চায় জনগণ ** দলীয় সরকারের অধীনেই আগাম নির্বাচন! ** যারা জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত তারা ইসলাম ও মানবতার দুশমন ** টার্গেট না থাকায় কর্মসূচিতে স্থবিরতা ** পার্শ্ববর্তী দেশ পানি দিলে আমাদের নদীগুলো ভেসে যায়, না দিলে শুকিয়ে যায় ** জঙ্গিবাদ : মুসলমানরা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার ** দল মত নির্বিশেষে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান ** বন্যায় ভাসছে দেশ, খবর নেই তেনাদের ** ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার ধর্ম ** আইবিসিএফ এর সভা ** বন্যায় ভাসছে শাহজাদপুর॥ পানিবন্দী লাখো মানুষের দুর্ভোগ ** কুষ্টিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কার্যক্রম ** হরিপুরে গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশা ** সত্যের সৈনিক মুজাদ্দিদে আলফেসানী **

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৩, ১ জিলকদ ১৪৩৭, ৫ আগস্ট ২০১৬

মতিউর রহমান আকন্দ
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
আমাদের সম্পর্কে হজরত মুহাম্মদ (সা.) কি মনোভাব গ্রহণ করেছেন? শিশু মহিলাদের কান্নাকাটিতে হজরত আবু লুবাবা (রা.) এমনি বিহবল হয়ে পড়েছিলেন যে হঠাৎ এক অসতর্ক মুহূর্তে নিজের হাত ছুরি চালাবার মতো গলায় চালিয়ে বুঝিয়ে দিলেন সকলকে হত্যা করা হবে। এমন ইঙ্গিত করেই উপলব্ধি করলেন যে তিনি নবী (সা.)-এর গোপনীয়তা জনসমক্ষে প্রকাশ করে দিয়ে এক মহাঅপরাধে অপরাধী হয়েছেন। সুতরাং সেই মুহূর্ত থেকে তাঁর মধ্যে দেখা দিল এক অচিন্তনীয় ঈমানী অনুশোচনা। তার এ অনুশোচনা ও অন্তর্দাহের চিরস্বাক্ষী মসজিদুন নববী। আসন্ন ধ্বংসের অনিবার্য ও স্পষ্ট পরিণাম উপলব্ধি করেও বেইমান ইহুদির দল হুজুর আকরাম (সা.)-এর দরবারে জানমালের নিরাপত্তার জন্য ক্রমাগত আবেদন নিবেদন পেশ করে যেতেই থাকল। এ ব্যাপারে তারা এবার নির্বাচিত করল শাস ইবনে কায়সকে। এঁর মাধ্যমে তারা যে কাতর নিবেদন পাঠাল তাতে বলা হলো বনি নাজিরের মতো সমরাস্ত্র ব্যতীত এক উটে বহনযোগ্য সম্পদ নিয়ে তারা মদীনাত্যাগ করে অন্যত্র নির্বাসনে যেতে প্রস্তুত, নবী (সা.) যেন অনুমতি দেন। শোনামাত্রই হুযুর আকরাম (সা.) তাদের এ প্রস্তাব নাকচ করে দিলেন। শাস ইবনে কায়সের মাধ্যমে তারা মীমাংসার যে শেষ সন্ধিপ্রস্তাব পাঠাল তাতে বলা হলো, কেবলমাত্র জীবন নিয়ে তারা মদীনা ছেড়ে যেতে প্রস্তুত, এ প্রস্তাবও নাকচ করে দিলেন সিপাহসালার সাইয়েদুল মুরসালীন (সা.)। তিনি স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিলেন, নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া আমি কোনো প্রস্তাব মানতে রাজি নই। সুতরাং পাঁচ বছর ধরে বহু অহঙ্কার বহু চক্রান্ত বহু ষড়যন্ত্র বহু কূটনৈতিকচাল বহু আক্রমণ ও নিপীড়নের নায়ক বনি কুরাইযাগোত্রকে শেষ পর্যন্ত অপমানজনক লাঞ্ছিত নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের পথই বেছে নিতে হলো। এছাড়া উপায় ছিল না। সকল লাঞ্ছনাকারীই শেষ পর্যন্ত এমনি করেই হীনবল ও অসহায় হয়ে যায়। দুর্গের খিল খুলে সকলে বাইরে এসে আত্মসমর্পণ করল। পরদিন সন্ধ্যার পূর্বেই তাদের আনা হলো মদীনায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর আদেশক্রমে একটি দল হলো পুরুষদের এবং অন্যদলটি হলো নারী ও শিশুদের। এদের পর্যবেক্ষণের ভার দেয়া হলো হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)-এর উপর। পুরুষ দলটিকে পৃথকভাবে আটক করে রাখা হলো হজরত উসামা বিন যায়েদ (রা.)-এর গৃহে আর নারী ও শিশুদের দলটি রইল কাইসাহ বিনতে হারিসের বাড়িতে। তারপর সকলে মহানবী (সা.)-এর ফায়সালা অবগত হবার জন্য গভীর উৎকণ্ঠার সঙ্গে অপেক্ষা করতে থাকল।হজরত সাদ ইবনে মুয়ায (রা.)-র বিচারখায়বারগোত্রের সঙ্গে মিত্রতাসূত্রে আবদ্ধ ছিল বনি কাইনুকা। ইহুদিগোত্র বনি কাইনুকা যখন পরাজিত হয়, খাযরায কওমের আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলুলের অনুরোধে রাসূলুল্লাহ (সা.) অনুকম্পাপ্রদর্শন করে বনি কাইনুকাকে কঠোরতর শাস্তি না দিয়ে দেশান্তরী হবার নির্দেশ দেন। আউস কবিলার মিত্র ছিল বনি কুরাইযা। এই আউসগোত্রের সর্দার হলেন বিখ্যাত সাহাবী হজরত সাদ ইবনে মুয়ায (রা.)। সুতরাং আউসগোত্রের লোকজন সাইয়েদুল মুরসালীন (সা.)-এর নিকটে এসে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! খায়রাযের অনুরোধে আপনি বনি কাইনুকার প্রতি সদয় হয়েছিলেন। বনি কুরাইযা আমাদের দোস্ত। এদের প্রতি যদি অনুগ্রহ করে একটু সদয় হতেন। মদীনায় আগমনের পর থেকে এই পাঁচ বছর সমানভাবে বনি কুরাইযার প্রতি অনুগ্রহ করে আসছেন হুজুর আকরাম (সা.). কিন্তু তার বিনিময়ে ষড়যন্ত্র, মুসলিম হত্যা ও আক্রমণে সমানে অংশগ্রহণ করেছে এই ইবলিশের দল, চরমশিক্ষা হয়েছে খন্দকযুদ্ধে। সুতরাং আর নয়, সকল টানাপোড়েনের ইতি হোক এবার। আউস কবিলার আবেদনের উত্তরে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নবী (সা.) বললেন, এদের প্রতি অনুকম্পার আর  কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এবার হোক ন্যায্য বিচার। একটু থেকে তিনি বললেন, হে আউস কওম! তোমাদের গোত্রের কারও উপর যদি এদের বিচার মীমাংসার ভার দিই তাহলে কি তোমরা খুশি হও না? এ প্রস্তাবে আউস কওমের প্রতিটি মানুষ খুশি হলেন এবং সমস্বরে বললেন, হাঁ, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সর্বসম্মতিক্রমে বিচারকের নাম ঘোষিত হলো। সকলের মতামত নিয়েই মহানবী (সা.) বললেন, এদের বিচার করবে সাদ ইবনে মুয়ায। কেবল আউস কবিলার লোকেরা নয়, এ ঘোষণায় খুশি হলো বনি কুরাইযার বন্দীরাও। আউসগোত্রের লোকজন এত আনন্দিত হয়েছিলেন যে তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশে সাদ ইবনে মুয়ায (রা.)-কে আনার জন্যে তাঁবুর দিকে ছুটে চললেন, আহত অবস্থায় এই তাঁবুতেই তাঁর শুশ্রƒষা হচ্ছিল। অবশেষে “একটি গাধার পিঠে আরোহণ করে” (বুখারী শরীফ : ৩৮১৫) এলেন হজরত সাদ (রা.)। আসার পথে আউসগোত্রের লোকজন তাঁকে বার বার অনুরোধ করলেন বিচারে তিনি যেন তাঁদের মিত্র বনি কুরাইযাদের প্রতি কিছুটা অনুকম্পাপ্রদর্শন করেন। সওয়ারী “মসজিদে নববীর কাছে এসে পৌঁছুলে নবী (সা.) আনসারদের বললেন, তোমাদের নেতাকে অথবা সর্বোত্তম ব্যক্তিকে স্বাগত (অভ্যর্থনা) জানাতে এগিয়ে যাও।” “তোমাদের নেতাকে অভ্যর্থনা (করে নামিয়ে নিতে) দাঁড়িয়ে যাও।” (বুখারী শরীফ: ২৮১৬) তারপর তিনি নবী (সা.) সাদকে লক্ষ্য করে বললেন, এরা (বনি কুরাইযাগোত্রের লোকেরা) তোমার ফায়সালা মেনে নিতে সম্মত হয়ে দুর্গ থেকে বেরিয়ে এসেছে।” (বুখারী শরীফ : ৩৮১৫)হজরত সাদ (রা.) সওয়ারী থেকে নেমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পাশে উপবেশন করে বললেন, ফায়সালা দেবার মালিক আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল। নবী (সা.) বললেন, এ ব্যাপারে ফায়সালার ভার আল্লাহ তোমাকেই অর্পণ করেছেন। হজরত সাদ (রা.) তখন বনি কুরাইযার দিকে দৃষ্টিক্ষেপ করে বললেন, আল্লাহর নামে কসম করে তোমরা কি বলতে পার যে আমার রায় নির্দ্বিধায় সকলে মেনে নেবে? প্রতিটি ইহুদি  সানন্দে বলল, হ্যাঁÑ মেনে নেব। মুসলমানদের দিকে দৃষ্টিক্ষেপ করে এবার হজরত সাদ (রা.) শুধালেন, আপনারা কি আমার দেয়া রায় মানতে সম্মত আছেন? সকলের হয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হ্যাঁ। “তখন সাদ বললেন : (এদের ব্যাপারে আমার ফায়সালা হলো) যুদ্ধ করতে সক্ষম সব পুরুষকে হত্যা করতে হবে, নারী ও শিশুদের বন্দী করতে হবে এবং সব সম্পদ মুসলমানদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হবে।” (বুখারী শরীফ: ৩৮১৫, ৩৮১৬, ৫৮১৯) ইত্যাদি। হজরত সাদ ইবনে মুয়ায (রা.)-এর এ রায় শুনে নবী করীম (সা.) সঙ্গে সঙ্গে বললেন: “হে সাদ! তুমি আল্লাহর হুকুম মুতাবিক ফায়সালা করেছ।” কোনো কোনো সময় তিনি বলেছেন, “সার্বভৌম আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী ফায়সালা করেছ।” (বুখারী শরীফ : ৩৮১৫)অর্থাৎ সাত আসমানের উপর মহান আল্লাহ পাক যে ইচ্ছা করেছেন, তোমার ইচ্ছা তাঁর ইচ্ছার সঙ্গে মিলে গেছে। বিচারের রায় শুনে, বলাই বাহুল্য, ইহুদিদের মনমানসে সেই উজ্জ্বল সকালে অনিবার্যভাবে নেমে এল অমানিশার ঘোর অন্ধকার। তবুও এ ফায়সালাই নত শিরে মেনে নিল ইহুদিরা, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তো দূরের কথা, একটি শব্দও উচ্চারণ করল না তারা। কেননা তাদের ধর্মগ্রন্থ তৌরাতের নির্দেশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ হয়েছিল এ বিচার। দলিলের ভিত্তিস্বরূপ তাওরাত থেকে কিছু অংশ উদ্ধৃত করছি আমরা : “জিহাদের উদ্দেশ্যে যখন তুমি মদীনা থেকে যাত্রা করবে, প্রথমত: তখন তাদের সন্ধির প্রতি আহ্বান কর। যদি তারা এতে সাড়া দেয় আর তোমার বিজয় হয়, তবে সেখানকার প্রতিটি সম্প্রদায় তোমার আজ্ঞাবহ গোলামে পরিণত হবে। কিন্তু যদি তোমার নিকট আত্মসমর্পণের পরিবর্তে তারা যুদ্ধের আশ্রয় নেয়, তবে তাদের অবরোধ কর। অতঃপর তোমার ‘রব’ তোমার প্রভু তোমার হাতে তাদের সোপর্দ করে দিলে তরবারির আঘাতে তাদের সকল পুরুষের গর্দান উড়িয়ে দাও আর তাদের নারীশিশু চতুষ্পদ জন্তু এবং মদীনায় তাদের সহায় সম্পত্তি তোমার জন্য গনিমত স্বরূপ। কাজেই তোমার ‘রব’ ও তোমার ইলাহ প্রদত্ত গনিমত তুমি ভোগ কর।’ বাবুত তাসনিয়াহ: ১০-১৫, মহানবী : পৃ: ১৩৩ হতে উদ্ধৃত। দ্রষ্টব্য: সীরাতুন নবী, প্রথম খণ্ড, পৃ: ৩৩৪।পরদিন ফজরের নামাজের পর নবী করীম (সা.) গেলেন মদীনার বাজারে এবং সেখানে বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি গর্ত খোঁড়ার নির্দেশ দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে পালিত হলো সে নির্দেশ, বাজারের (বর্তমানেও যেটি মদীনার বাজার) বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি খন্দক খনন করা হলো। তারপর এখানেই ইহুদিদের আনার নির্দেশ দিলেন রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং একে একে কাতল করে দুশমনদের অনেক লাশকে একসঙ্গে খন্দকের মধ্যে মাটিচাপা দেয়া হলো। সর্বপ্রথম কাতল করা হলো সরদার কাব ইবনে আসাদ আর ষড়যন্ত্রের মূলহোতা হুয়াই ইবনে আখতাবকে।  (চলবে)

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com