সংবাদ শিরোনামঃ

জাতীয় ঐক্য! ** ন্যায়ের পক্ষে তুরস্ক সাথে আছে মজলুমের দোয়া : জাতির উদ্দেশ্যে এরদোগান ** সন্ত্রাস ও হতাশাগ্রস্ত যুব সমাজ ** জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন খালেদা জিয়া : মির্জা ফখরুল ** জঙ্গিবাদী কার্ড ও ক্ষমতাসীনদের রাজত্বের মেয়াদ ** সুন্দরবন বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ চায় জনগণ ** দলীয় সরকারের অধীনেই আগাম নির্বাচন! ** যারা জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত তারা ইসলাম ও মানবতার দুশমন ** টার্গেট না থাকায় কর্মসূচিতে স্থবিরতা ** পার্শ্ববর্তী দেশ পানি দিলে আমাদের নদীগুলো ভেসে যায়, না দিলে শুকিয়ে যায় ** জঙ্গিবাদ : মুসলমানরা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার ** দল মত নির্বিশেষে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান ** বন্যায় ভাসছে দেশ, খবর নেই তেনাদের ** ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার ধর্ম ** আইবিসিএফ এর সভা ** বন্যায় ভাসছে শাহজাদপুর॥ পানিবন্দী লাখো মানুষের দুর্ভোগ ** কুষ্টিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কার্যক্রম ** হরিপুরে গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশা ** সত্যের সৈনিক মুজাদ্দিদে আলফেসানী **

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৩, ১ জিলকদ ১৪৩৭, ৫ আগস্ট ২০১৬

শূন্যের কোঠায় সাবেক ছিটমহলবাসী

ক্ষুব্ধ-অতিষ্ঠরা ফিরতে চায় বাংলাদেশে

স্টাফ রিপোর্টার : ছিটমহল বিনিময়ের ঐতিহাসিক মুহূর্ত স্মরণ করতে বাংলাদেশ ও ভারতের সাবেক ১৬২ ছিটমহলবাসী ৩১ জুলাই মধ্যরাতে একযোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও তারা খুশি নন। সাবেক ছিটমহলবাসীরা মুক্ত আকাশে বাতাসে ঘুরে বেড়ানো ও স্বাধীনতাভাবে চলাচলের প্রকৃত সুখভোগে আর কত অপেক্ষা করতে হবে তা তাদের জানা নেই। মুক্ত জীবনের এক বছর পর এখন সকলেই লাভ-ক্ষতির হিসাব মিলাতে শুরু করেছে। তবে বাংলাদেশের সাবেক ছিটমহলবাসীরদের মধ্যে যারা ভারতে চলে গেছেন তারা ক্ষুব্ধ। ভালো নেই। ভারত সরকার প্রয়োজনীয় সুবিধা দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছে অনেকে। সাবেক এসব ছিটমহলবাসীদের একটা বড় অংশই এখন মনে করছেন, ভারতে চলে আসার সিদ্ধান্ত হয়তো ভুল ছিল। তাদের অভিযোগ, যেসব প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল নাগরিত্বের ‘তকমা’ ছাড়া আর উল্লেখযোগ্য কিছুই পূরণ করেনি ভারত। এ অবস্থায় কেউ কেউ ভারত ছাড়ার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেছেন।  ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল! ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সাবেক ছিটমহল বিনিময়ের পর নয়শর বেশি মানুষ ভারতীয় ছিটমহলগুলো থেকে মূল ভূখণ্ডে চলে গিয়েছিলেন। তাদের একটা বড় অংশই এখন ভাবছেন, ভারতে চলে আসার সিদ্ধান্ত হয়তো ভুল ছিল। তাদের অভিযোগ, যেসব প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল তার প্রায় কিছুই পূরণ করেনি ভারত। বাংলাদেশী ছিটমহলগুলোর যেসব মানুষ ভারতের নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন তারা নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র পেয়েছেন ঠিকই; কিন্তু জমির দলিল, রাস্তা, বিদ্যুৎসহ নাগরিকদের সব সুবিধাই প্রায় বঞ্চিত! উল্টো স্থানীয় রাজনীতির ফলে ঢুকে পড়েছে অশান্তি। ৫১টি ছিট মহলের প্রায় নয়শ’ মানুষের স্থায়ী বাসস্থান তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাখা হয়েছে কয়েকটি অস্থায়ী শিবিরে। সারি দেওয়া টিনের ঘরে খুব গরম বা বেশি ঠাণ্ডায় থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এরইমধ্যে কয়েকজন বৃদ্ধ গত শীতে ঠাণ্ডায় কাবু হয়ে মারাও গেছেন। এছাড়া অস্থায়ী শিবিরগুলোতে যে পরিমাণ রেশন দেওয়া হয়, তাতে পরিবার চালানো প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে রোজগারের বন্দোবস্তও নেই তাদের। তাই বাংলাদেশের ভেতরে ভারতীয় ছিটমহল থেকে চলে আসার আগে জমি জায়গা বা গবাদিপশু বেচে দিয়ে যে টাকা আনতে পেরেছিলেন, তা দিয়েই সংসার চলছে তাদের।  সাবেক ভারতীয় ছিটমহল দহলা খাগড়াবাড়ীর লক্ষ্মী বর্মণ নামের একজন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ওখানে সাজানো সংসার নষ্ট করে দিয়ে চলে এলাম। অনেক আশা নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুইতো পেলাম না। যদি সরকার কিছু না দিতে পারে, তাহলে আমাদের ফেরত পাঠিয়ে দিক।’লক্ষ্মী বর্মণের মতো, হরি বর্মণ, সন্তোষ রায়, মানিক হেমব্রম, দিনহাটার মুহম্মদ উমর ফারুকরা বলছিলেন, ভারত সরকার যদি প্রতিশ্র“তি পালন করতে না পারে, তাহলে যেন বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। সেখানে নাগরিকত্ব যদি না-ও পাওয়া যায়, কোনো মতে জীবিকা নির্বাহ করে নেবেন তারা। অস্থায়ী শিবির থেকে কবে স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে, সেটাও বুঝতে পারছেন না এখানকার বাসিন্দারা। আর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাই বা কি হবে, সেটাও অজানা।সাবেক বাংলাদেশী ছিটমহলের বাসিন্দা আঞ্জুয়ারা বিবি গণমাধ্যমকে অক্ষেপ করে বলেন, ‘সরকার মুরগির বাচ্চা দিয়েছে। প্রায় সবাইকেই ভোটের কার্ড দিয়েছে। কিন্তু তাতেও বাবার নামের জায়গায় স্বামীর নাম লেখা হয়েছে। এরকম ভুল প্রায় সবার কার্ডেই। কিন্তু সরকার রাস্তা, বিদ্যুৎ, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সেচের ব্যবস্থা কিছুই করেনি। এক বছরের প্রাপ্তি সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যমে পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে একজন ক্ষুব্ধ হয়ে বললেন, ‘এক বছরে জমির কাগজই পেলাম না, আর জানতে চাইছেন কী পেয়েছি?’ সাবেক ছিটমহলগুলোতে এখনও জমি জরিপ শুরু হয়নি। আর তার ফলে ছিটমহলগুলোর জমির মালিকানা এখন কারোরই নেই। সব জমিই স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী সরকারের হয়ে গেছে। আগে অর্থের প্রয়োজনে অন্তত জমি বন্ধক রাখা যেত, এখন সেটাও বন্ধ। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী যা বললেন :  ভারতে যোগ দেওয়া সাবেক বাংলাদেশী ছিটমহলগুলো থেকে কেন এতো অভিযোগ ‘বিবিসি বাংলার’ পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী এবং কোচবিহার জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস দলের সর্বোচ্চ নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এর কাছে। জবাবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ তোলার জন্যই অভিযোগ করা হচ্ছে। বাইরের কিছু লোক গিয়ে ওদের উস্কাচ্ছে। সবে তো একবছর হয়েছে, তার মধ্যে ওরা ভোটাধিকার তো পেয়েছে। একশ’ দিনের কর্ম সুনিশ্চিতকরণ প্রকল্পের কার্ড পেয়েছে। আর কাজ করা সম্ভব কিভাবে হবে? তিনমাস ভোটের জন্য রাস্তা, বিদ্যুৎ কিছু করা যায়নি। তারপর চারমাস ধরে বর্ষা চলছে। কেন্দ্র থেকে ১৭০ কোটি টাকা এসেছে। বর্ষার পরেই কাজ শুরু হবে।’সাবেক ভারতীয় ছিটমহলগুলো থেকে যারা চলে এসেছেন তারা এখন ভাবছেন নিজেদের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কী না! তাদের অভাব-অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, ‘আর্থিক প্যাকেজ দেওয়া হবে, এরকম ঘোষণা কোথাও করা হয়নি। ওদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা আমরা করব। শিবিরগুলোতে ওদের জন্য অনেক রকম সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে। অধৈর্য হলেতো হবে না। সময় দিতে হবে।’ভারতে গিয়ে তারা আশাহত : ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের পরে নয়শ'র কিছু বেশি মানুষ ভারতের মূল ভূখণ্ডে চলে গিয়েছিলেন। প্রথমে তারা মনে করেছিলেন একটি দেশের পরিচয় বহন করবেন। মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেন। স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারবেন। কিন্তু, এখন তারা সেই সব স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ। কষ্ট করে হলেও বাংলাদেশে থাকতে চান তাদের কেউ কেউ।  বাংলাদেশে ফিরতে চাইছেন ভারতে যাওয়া ছিটবাসীরা! কোচবিহারের নাগরিকত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ছিটবাসীরা। কিন্তু দুর্ভোগ পিছু ছাড়েনি তাদের। সূর্য ডুবলে এখনো ঘন অন্ধকারে ডুবে থাকে সাবেক ছিটমহল। বর্ষায় এক হাঁটু কাদা-পানি ভাঙা ছাড়া উপায় নেই। অথচ নাগরিকত্ব পাওয়ায় এক বছর আগে উল্লাস করেছিলেন তারা। সেই ছিটবাসীরদের স্বাস্থ্য পরিষেবা বলতে কিছু নেই। স্কুলের তো প্রশ্নই ওঠে না। কোচবিহার জেলায় এক বছর আগে যুক্ত ৫১টি সাবেক বাংলাদেশী ছিটমহলের প্রকৃত চিত্র এমনই। সবকিছুই যেন আগের মতোই। কোনও পরিবর্তন নেই, শুধু ভারতীয় নাগরিকের তকমাটি জুটেছে। ভারতীয় ছিটমহল থেকে আসা নাগরিকদের জন্য ভারত সরকার শিবির গড়ে দিলেও মোটেই ভালো নেই তাঁরা। কার্যত সরকারি রেশনের ভরসায় বন্দিজীবন তাদের। তারা বলছেন, নাগরিকত্ব না থাকলেও যাদের ভিটে ছিল, জমি ছিল, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার মোটা টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করলেও তাদের পুনর্বাসনে গত এক বছরে কোনো উদ্যোগই নেয়া হয়নি। জমিজিরাত থেকে বিচ্ছিন্ন প্রায় উদ্বাস্তুর জীবনে অতিষ্ঠ ভারতীয় ছিটমহলের এই প্রাক্তন বাসিন্দারা এখন অনেকেই বাংলাদেশেই ফিরতে চান।প্রসঙ্গত, এক বছর আগে, ১ আগস্ট থেকে ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় সম্পন্ন হয়। তারমধ্যে ৫১টি বাংলাদেশী ছিটমহল ভারতের সঙ্গে এবং ১১১টি ভারতীয় গ্রাম বাংলাদেশের অঙ্গ হিসেবে বিনিময় হয়। বাংলাদেশী ছিটমহল এই গ্রামে ঠিক এক বছর আগের এই দিনে কতই না আনন্দ হুল্লোড় হয়েছিল। ৩১ জুলাই ও পয়লা আগস্টের মাঝরাতে জাতীয় পতাকা উঠেছিল, ঘরে ঘরে মোমবাতি জ্বালানো হয়েছিল, মিষ্টি বিতরণ হয়েছিল। পোয়াতুরকুঠি ছিটমহলের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ‘সেদিন আনন্দ করেছিলাম। আর এখন তো নিরানন্দ। আগে পরিচয়পত্র ছিল না, কিন্তু গ্রামে শান্তি ছিল। এখন তা নেই।এর আগে ভারতের লোকসভায় দীর্ঘ প্রতিক্ষিত বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি ১৯৭৪ এবং প্রটোকল পাস হয়। এরপর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরকালে ওই চুক্তির দলিল হস্তান্তর হয়। চুক্তির ফলে বাংলাদেশে ভারতের ১১১টি ছিটমহলে ৩৭ হাজার ৩৬৯ জন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক এবং ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলে ১৪ হাজার ২১১ জন ভারতের নাগরিক হয়।

এ পাতার অন্যান্য খবর

অন্যান্য মিডিয়া bdnews24 RTNN Sheersha News barta24 Prothom Alo Daily Nayadiganta Jugantor Samakal Amardesh Kaler Kantho Daily Ittefaq Daily Inqilab Daily Sangram Daily Janakantha Amader Shomoy Bangladesh Pratidin Bhorerkagoj Daily Dinkal Manob Zamin Destiny Sangbad Deshbangla Daily Star New Age New Nation Bangladesh Today Financial Express Independent News Today Shaptahik 2000 Computer Jagat Computer Barta Budhbar Bangladesherkhela Holiday Bangladesh Monitor BBC Bangla Redio Tehran
homeabout usdeveloped by

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ মো. তাসনীম আলম।

মহীউদ্দীন আহমদ কর্তৃক জাতীয় মুদ্রণ ১০৯, ঋষিকেশ দাস রোড, ঢাকা - ১১০০ হতে মুদ্রিত ও ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা - ১১০০ হতে প্রকাশিত। যোগাযোগের ঠিকানাঃ ৪২৩ এলিফেন্ট রোড, বড় মগবাজার, ঢাকা - ১২১৭। ফোনঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৯০৬৫, বার্তা - ৮৮ ০১৬৭০৮১৩২৭৬, সার্কুলেশন - ৮৮ ০১৫৫২৩৯৮১৯০, বিজ্ঞাপন - ৮৮ ০১১৯৯০৯০০৮৫, ফ্যাক্সঃ ৮৮ ০২ ৮৩১৫৫৭১, ওয়েবসাইটঃ www.weeklysonarbangla.net, ইমেইলঃ weeklysonarbangla@yahoo.com